সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সম্পন্ন

রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্তে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রধান এই আয়োজন।ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় ঈদগাহ প্রাঙ্গণ মুসল্লিদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনীতিবিদ, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সর্বস্তরের মানুষ এই জামাতে শরিক হন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ মালেক জামাতে ইমামতি করেন। নামাজ শেষে খুতবা পাঠের পর সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে শুরু হয় মোনাজাত।মোনাজাতে মহান আল্লাহর কাছে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি প্রার্থনা করার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জুলুম ও নির্যাতনের শিকার মুসলিম উম্মাহর মুক্তি ও হেফাজত কামনা করা হয়। ঈদের মূল শিক্ষা—ত্যাগ, সংযম ও মানবিকতা—ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিফলনের জন্য মুসল্লিরা আল্লাহর দরবারে তৌফিক প্রার্থনা করেন।ঈদগাহ ঘিরে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মূল প্যান্ডেলের ভেতরে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল। নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ এবং বসার সুবিধার পাশাপাশি অজু, সুপেয় পানি ও জরুরি চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কুশল বিনিময়ের এই দৃশ্যে ঈদগাহের পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর আবহ ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবারের ঈদের প্রধান জামাত।

বিরল অ্যালবিনো মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঠাঁই হল ঢাকার চিড়িয়াখানায়

বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের ইতিহাসে আজ এক অনন্য ঘটনা যুক্ত হলো। রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থান হয়েছে অত্যন্ত বিরল প্রজাতির এক ‘অ্যালবিনো’ মহিষের যা ইতোমধ্যে অনলাইন দুনিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প নামে খ্যাত।  প্রকৃতি যেন আপন খেয়ালে সাজিয়েছে এই প্রাণীটিকে, যার গাত্রবর্ণ প্রথাগত কালচে রঙের নয়, বরং অদ্ভুত সুন্দর গোলাপি আভার। বিরল এই মহিষটির আগমনে চিড়িয়াখানার সংগ্রহশালায় যুক্ত হলো নতুন এক মাত্রা।প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে, প্রাণীটির শরীরে ‘মেলানিন’ নামক রঞ্জক পদার্থের ঘাটতি থাকায় এমন বৈশিষ্ট্যের দেখা মেলে। পৃথিবীব্যাপী এ ধরনের প্রাণী সচরাচর চোখে পড়ে না। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ১০ হাজার মহিষের মধ্যে মাত্র একটির ক্ষেত্রে এমন অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। তাই কেবল কৌতূহলের নয়, বরং গবেষণা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রেও এই মহিষটি এক অমূল্য সম্পদ।এই বিরল প্রাণীকে নিরাপদ আবাসে রাখতে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বিশেষ শেড প্রস্তুত করেছে। সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, মহিষটির আগের মালিক মনিরুজ্জামান যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। তাকে পশুর ন্যায্য মূল্য প্রদানের পাশাপাশি কোরবানির জন্য বিকল্প একটি গরুর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।পুরো বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবগত করা হলে, তিনি বিরল এই প্রাণী সংরক্ষণের উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চলমান কার্যক্রম আরও বেগবান করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ আজ অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রাণিসম্পদ সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। এই ঘটনা থেকে এটাই প্রমাণিত হল যে সরকারের লক্ষ্য কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন নয়, বরং মানুষ, প্রকৃতি ও প্রাণিসম্পদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এই অ্যালবিনো মহিষটি কেবল মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হবে না, বরং ভবিষ্যতে বৈজ্ঞানিক গবেষণায়ও এক নতুন দুয়ার খুলে দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

কৃষিতে বিপ্লব: দেশীয় ন্যানো ইউরিয়ায় কমবে উৎপাদন খরচ

এক বিঘা জমিতে ফসল চাষে যেখানে সাধারণ ইউরিয়া সারে খরচ হয় ৪২০০ টাকা, সেখানে মাত্র ২৩০ টাকায় পাওয়া যাবে সমতুল্য ফলাফল। কৃষিতে ব্যয় সাশ্রয়ের এমন অভাবনীয় সুযোগ নিয়ে এসেছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ন্যানো ইউরিয়া’। যশোরের বিজ্ঞানীর হাত ধরে দেশের মাটিতেই উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি একদিকে যেমন আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনবে, তেমনি কৃষিখাতে নিয়ে আসবে আমূল পরিবর্তন।ন্যানো প্রযুক্তির কল্যাণে তৈরি এই সার গাছের পাতার ক্ষুদ্র ছিদ্র বা স্টোমাটা দিয়ে সরাসরি ও দ্রুত শোষিত হতে পারে। সাধারণ ইউরিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যাওয়া কিংবা বাষ্পীভূত হওয়ার কারণে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ সার অপচয় হয়। কিন্তু ন্যানো ইউরিয়া গাছের নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণ করে অত্যন্ত কার্যকরভাবে। সার প্রয়োগের পরিমাণ কম হলেও গাছের পুষ্টি জোগাতে এটি অনেক বেশি শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।এই যুগান্তকারী উদ্ভাবনের নেপথ্যে রয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান। দীর্ঘ সাত বছরের নিরলস গবেষণার ফসল এই ন্যানো ইউরিয়া। যদিও তিনি এই প্রযুক্তির একক উদ্ভাবক নন, তবে দেশীয় উপাদান ও পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি ল্যাবরেটরিতে এর সফল উৎপাদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছেন। তাঁর এই মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি এখন মিলছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জৈব সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ড. জাভেদের এই গবেষণার ব্যাপক প্রশংসা করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় 'কোলা বায়ো' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন। এই চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছর তাঁরা যৌথভাবে ন্যানো ইউরিয়ার গবেষণা ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবেন। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক প্রসারে সফল হতে পারলে তা জাতীয় অর্থনীতি ও কৃষকদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

নতুন সরকারের ক্ষমতার ১০০ দিন: সাফল্যের তালিকা প্রকাশ করল বিএনপি

ক্ষমতার ১০০ দিনের মাইলফলক স্পর্শ করল বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এই অল্প সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজেদের অর্জন ও কর্মকৌশল মূল্যায়ন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলটি ২৬টি প্রধান সাফল্যের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। আজ বুধবার দুপুরে দলের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে সরকারের এই ‘হাইলাইটস’ বা উল্লেখযোগ্য কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত একশ দিনে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে যেমন গতিশীলতা এসেছে, তেমনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে।সরকারের এই মূল্যায়ন অনুযায়ী, অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোতে স্থিতিশীলতা ফেরানোই ছিল তাদের বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা অনেকটাই সফল বলে দাবি করছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমে এসেছে। রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। এছাড়া অর্থপাচার রোধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। সবমিলিয়ে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর বার্তা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পগুলোকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছে সরকার। বিশেষ করে ৫৫ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করা এবং জুলাই আন্দোলনে আহত ১৫২ জন যোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। শ্রমিকদের ঈদ স্বস্তিতে কাটানোর লক্ষ্যে শিল্পকারখানায় বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করাকেও বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে সরকার। এছাড়া শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতেও গতি এনেছে বর্তমান প্রশাসন; ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ এবং ভূমিসেবা অটোমেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন এর প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে।জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট। ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডারের মাধ্যমে সমুদ্রসীমা ও আকাশসীমা নজরদারিতে নতুন সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বাদ পড়া ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি আবার পাসপোর্টে ফিরিয়ে আনাকে একটি বড় কূটনৈতিক ও জাতীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নের তালিকায় স্থান পেয়েছে পদ্মা ব্যারাজের চূড়ান্ত অনুমোদন।সরকার পরিচালনার ধরণ নিয়ে বিএনপির দাবি, রাষ্ট্রযন্ত্র এখন আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বন্দি নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যপ্রণালী ও জনসম্পৃক্ততার উদাহরণ হিসেবে তারা বলছে, এখন ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ছোটাছুটি করেন না, বরং প্রধানমন্ত্রী নিজেই জনগণের দুয়ারে পৌঁছানোর সংস্কৃতি চালু করেছেন। একশ দিনের এই ‘সফলতার খতিয়ান’ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকার যেমন অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিয়েছে, তেমনি প্রান্তিক মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্পগুলোতেও নজর রেখেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই একশ দিনের কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার মূলত দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের একটি রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে, যার প্রতিফলন আগামী দিনগুলোতে আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে।

ইরান সংকটের আঁচ: আইএমএফের নতুন সহায়তার অপেক্ষায় ঢাকা

ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা দানা বেঁধেছে, তার আঁচ সরাসরি এসে লেগেছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় তৈরি হওয়া নতুন এই সংকট এবং বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে বাংলাদেশ সরকার এখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দ্বারস্থ হয়েছে। সংস্থাটির কাছ থেকে নতুন একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ পেতে এখন জোর তৎপরতা চালাচ্ছে ঢাকা।সাধারণত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি কিংবা বৈশ্বিক কোনো বড় অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হলে আইএমএফ সদস্যদেশগুলোকে ‘র‍্যাপিড ফিন্যান্সিং ইনস্ট্রুমেন্ট’ বা আরএফআইয়ের মাধ্যমে দ্রুত ঋণ সহায়তা দিয়ে থাকে। এই সুবিধার বড় বৈশিষ্ট্য হলো, ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচির তুলনায় শর্ত অনেক সময় শিথিল থাকে অথবা জরুরি বিবেচনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে অর্থ ছাড় করা হয়। বাংলাদেশ এখন সেই আরএফআইয়ের আওতায় সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যেই আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান আর্থিক সম্পর্কের বিষয়টিও এখন পর্যালোচনার দাবি রাখে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়, যা পরে বিভিন্ন শর্ত ও সংস্কার কর্মসূচির ভিত্তিতে বেড়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। এখন পর্যন্ত সংস্থাটির কাছ থেকে পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পাওয়া গেলেও, ষষ্ঠ কিস্তির ১৩০ কোটি ডলার নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে এই কিস্তি পাওয়ার কথা থাকলেও তা আটকে আছে। তবে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আগামী জুন বা জুলাই মাসের মধ্যে এই অর্থ পাওয়ার বিষয়ে নতুন করে আশার কথা শোনানো হচ্ছে।এর আগে ২০২০ সালে কোভিড মহামারির চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশ আইএমএফ থেকে আরএফআইয়ের মাধ্যমে ২৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার সহায়তা পেয়েছিল। সেই অর্থ সেসময় বাজেট–ঘাটতি পূরণ, স্বাস্থ্য খাতের জরুরি ব্যয় নির্বাহ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সচল রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। এবারও ইরান সংকটের কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি ও পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে একই ধরনের আর্থিক সুরক্ষা চায় ঢাকা।বাংলাদেশে নিযুক্ত আইএমএফের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি এবং নীতিগত অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। ভূ-রাজনৈতিক সংকটে সৃষ্ট এই নতুন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ঢাকা কতটা দ্রুত এই সহায়তা পায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউক্রেন ও ইরান সংকট: রাশিয়ার ‘কৌশলগত জোটের’ অগ্নিপরীক্ষা

রাশিয়া ও ইরানের বর্তমান সম্পর্ককে অনেকেই পোক্ত ‘কৌশলগত জোট’ মনে করলেও, ভূ-রাজনীতির গভীর বিশ্লেষণে এটি মূলত একটি সাময়িক বোঝাপড়া ছাড়া আর কিছুই নয়। চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে মস্কো ও তেহরানের এই অংশীদারত্ব এখন এক বড় অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, এটি আস্থা বা বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি ছিল পরিস্থিতির প্রয়োজন। আজ থেকে প্রায় ১৯৭ বছর আগে তেহরানে রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকসান্দর গ্রিবোয়েদভ নিহত হওয়ার যে করুণ ইতিহাস, তা দীর্ঘদিন দুই দেশের মধ্যে এক অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করে রেখেছিল। এমনকি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান তখন সোভিয়েত ইউনিয়নকে ‘ছোট শয়তান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল।তবে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণ বদলে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে রাশিয়া ইরানকে কাছে টেনে নেয়। জাতিসংঘে ইরানের পক্ষে ভেটো দেওয়া থেকে শুরু করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কিংবা বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বাণিজ্য—সবই ছিল পশ্চিমা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানানোর একটি সম্মিলিত প্রয়াস। ব্রিকস প্লাস জোটে ইরানের অন্তর্ভুক্তি কিংবা সিরিয়ার যুদ্ধে আসাদ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে দুই দেশের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর এই সমীকরণ নতুন রূপ নেয়। তেহরান থেকে মস্কোর কাছে ড্রোন ও গোলাবারুদ যাওয়ার পর পশ্চিমা দুনিয়া নতুন করে সোচ্চার হয়। বিনিময়ে রাশিয়াও তাদের স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে ইরানকে বড় ধরনের সহায়তা দিয়েছে।কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটাও এখন স্পষ্ট হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ওয়াশিংটন যদি কোনো বড় সুবিধা বা ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, তবে ক্রেমলিন যে নির্দ্বিধায় তেহরানের সাথে সম্পর্ক ত্যাগের ঝুঁকি নিতে পারে—এমন গুঞ্জন এখন আন্তর্জাতিক মহলে বেশ জোরদার। বিশেষজ্ঞ ও সাবেক রুশ কূটনীতিকদের মতে, ইউক্রেন নিয়ে পুতিনের যে বড় লক্ষ্য, তার কাছে তেহরানের সাথে এই কৌশলগত সম্পর্ককে কেবল একটি দরকষাকষির সরঞ্জাম হিসেবেই দেখা হয়। ইউক্রেন সংকটে রাশিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপে অনাগ্রহ এবং সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল ইস্যুতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় মস্কোর পরিবর্তে ইসলামাবাদের উত্থান—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে বিশ্বমঞ্চে রাশিয়ার প্রভাব ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে।ক্রিমিয়া দখলের পর থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার যে নৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি হয়েছে, তা তাদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অকার্যকর করে তুলেছে। এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনকে স্যাটেলাইট তথ্য দেওয়া বন্ধ করে, তবেই রাশিয়া হয়তো ইরানকে দেওয়া সামরিক গোয়েন্দা সহায়তা সংকুচিত করতে পারে। বাস্তবতার এই কঠিন সমীকরণে মস্কো ও তেহরান এখন একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকলেও, ক্ষমতার এই খেলায় ‘স্থায়ী বন্ধু’ নয়, বরং ‘স্বার্থই’ যে শেষ কথা—তা আরও একবার প্রমাণ করছে বৈশ্বিক অস্থিরতা।

ফখরুল ইসলাম রাজীব

রামিসা হত্যা: জনরোষের মুখেও কেন দ্রুত বিচার অসম্ভব?

রামিসার মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, তা অত্যন্ত যৌক্তিক। বিচারপ্রার্থী মানুষের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক—অপরাধী যখন ধরা পড়েছে, তার দোষও অনেকের চোখে স্পষ্ট, তবে কেন আজকেই বিচার শেষ করে রায় কার্যকর করা যাচ্ছে না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের কেবল আবেগের জায়গা থেকে বের হয়ে আইনের জটিল ও দীর্ঘ যাত্রাপথটি বুঝতে হবে। কারণ, আইন কোনো ব্যক্তিগত বিচার নয়, এটি রাষ্ট্রের একটি সুশৃঙ্খল কাঠামো, যা নির্দোষকে রক্ষা এবং অপরাধীকে যথাযথ শাস্তি দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয়।যেকোনো ফৌজদারি মামলার শুরুতেই পুলিশকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এগোতে হয়। অপরাধের পর ঘটনাস্থল থেকে শুরু করে সুরতহাল প্রতিবেদন, মামলা দায়ের, আসামিকে গ্রেপ্তার এবং তার স্বীকারোক্তি—এই প্রতিটি পর্যায় হলো একটি বিশাল আইনি দালানের ভিত। পুলিশ যখন ডিএনএ রিপোর্ট, জব্দ-তালিকা, খসড়া মানচিত্রের সূচি বা ১৬১ ধারার জবানবন্দি প্রস্তুত করে, তখন প্রতিটি শব্দ ও প্রতিটি তথ্য যেন নিরেট হয়, তা নিশ্চিত করতে হয়। সামান্য ভুলের কারণে আদালতে পুরো মামলাটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই তদন্তকারী সংস্থাকে ১৭০ ধারার মুচলেকা বা পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ফাঁকফোকর না থাকে।তদন্ত পর্ব শেষে বিচারিক আদালতে মামলাটি যখন আমলে নেওয়া হয়, তখন শুরু হয় আইনি লড়াইয়ের মূল পর্ব। চার্জ গঠন থেকে শুরু করে সাক্ষীর জবানবন্দি, জেরা এবং দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক—এই পর্যায়গুলো আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিচারক চাইলেই ব্যক্তিগত অনুভূতির ভিত্তিতে রায় দিতে পারেন না; তাকে অকাট্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে আইনি ভাষায় রায় লিখতে হয়। সাক্ষীর জেরায় যদি কোনো ত্রুটি থাকে, তবে সেই মামলার রায় উচ্চ আদালতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। তাই বিচারিক আদালত কোনো তাড়াহুড়ো করে রায় দেওয়ার ঝুঁকি নিতে পারেন না।অনেকেরই ক্ষোভ থাকে বিচারিক আদালতের রায়ের পরেও কেন উচ্চ আদালতের আপিলের প্রয়োজন হয়। এটি আমাদের বিচার ব্যবস্থার একটি রক্ষাকবচ। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে যখন মামলাটি ওঠে, তখন রাষ্ট্র ও আসামি উভয় পক্ষই তাদের আইনি যুক্তি উপস্থাপন করে। হাইকোর্টে শুনানি এবং রায়ে সাজা বহাল থাকার পর আসামি যখন আপিল বিভাগে যান, সেটি তার আইনি অধিকার। আপিল বিভাগে শুনানি, রিভিউ আবেদন এবং সেই রিভিউয়ের রায়—এই স্তরগুলো অতিক্রান্ত হওয়ার অর্থ হলো, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত বিষয়টি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে। এমন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেলে রায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও চূড়ান্ত রূপ পায়, যাতে ভবিষ্যতে কেউ রায়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে।সর্বশেষ পর্যায় হলো রাষ্ট্রপতির নিকট ক্ষমা বা সাজা মওকুফের প্রার্থনা। এটি সাংবিধানিক অধিকার। রাষ্ট্রপতি যখন এই আবেদন নামঞ্জুর করেন, কেবল তখনই আইনগতভাবে সব দুয়ার বন্ধ হয়। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমার প্রতিটি স্তরের উদ্দেশ্য একটাই—যেন কোনোভাবেই নিরপরাধ মানুষ সাজা না পায়, আবার অপরাধীও কোনো আইনি অসংগতির সুযোগ নিয়ে পার পেয়ে না যায়। রামিসা হত্যার বিচারপ্রার্থীদের ক্ষোভ অমূলক নয়, তবে একটি সভ্য রাষ্ট্র কেবল আবেগের বশবর্তী হয়ে বিচার করতে পারে না। দীর্ঘ এই আইনি প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় নিশ্চিত করে।

ফখরুল ইসলাম রাজীব

'ককরোচ জনতা পার্টি'; তেলাপোকার রাজনীতি: ব্যঙ্গ থেকে বিদ্রোহের পথে ভারতের তরুণ প্রজন্ম

কয়েক বছর আগের কথা মনে করুন। কোনো বিচারপতি যদি তরুণদের 'তেলাপোকা' বলতেন, পত্রিকায় দু'দিন সমালোচনা হতো, তারপর চুপ। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। সেই অবজ্ঞাটুকুকেই লাখো তরুণ হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছে—আর সেই হাতিয়ারের নাম 'ককরোচ জনতা পার্টি'।ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত গত সপ্তাহে কিছু বেকার তরুণকে তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। বলেছিলেন, এরা চাকরি পায় না, পেশায় জায়গা করতে পারে না, তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাক্টিভিজম করে বেড়ায়। পরে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ভুয়া ডিগ্রিধারীদের কথা বলেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ধরে গেছে।অভিজিৎ দিপকে নামে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র ও রাজনৈতিক কৌশলবিদ সেই মন্তব্যকে উল্টো ব্যবহার করলেন। তেলাপোকাকেই প্রতীক বানালেন। আর পাঁচ দিনের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে দেড় কোটি অনুসারী—যেখানে বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল দাবিদার বিজেপির অনুসারী মাত্র ৯০ লাখের কম।এটা কি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার খেলা? নাকি এর ভেতরে অন্য কিছুর ইঙ্গিত আছে?  হাস্যরস যখন হয়ে ওঠে প্রতিরোধরাজনৈতিক ব্যঙ্গ ইতিহাসের পুরনো অস্ত্র। কিন্তু ডিজিটাল যুগে এর গতি ও বিস্তার আগের সব হিসাব উল্টে দিয়েছে।২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় মিসর, তিউনিসিয়া বা লিবিয়ার তরুণেরা ফেসবুক-টুইটার ব্যবহার করে রাস্তায় নেমেছিল। সেই আন্দোলনগুলো নিয়ে পরে অনেক সমালোচনা হয়েছে—কোথাও গণতন্ত্র এসেছে, কোথাও আসেনি। কিন্তু একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছিল: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম জনমত গঠনের মানচিত্র পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।কোরিয়াতেও দেখা গেছে এমন দৃষ্টান্ত। ২০১৬-১৭ সালে প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হাইর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে মিম ও অনলাইন ব্যঙ্গ বড় ভূমিকা রেখেছিল। তরুণেরা মোমবাতি হাতে রাস্তায় নেমেছিল, কিন্তু সেই নামার আগে অনলাইনে মাসের পর মাস আলোচনা ও ব্যঙ্গাত্মক কন্টেন্ট তৈরি হয়েছিল। একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনে কিংবা ব্রাজিলে বলসোনারো-সমালোচনায় মিম কালচার রাজনৈতিক চেতনাকে ছড়িয়ে দেওয়ার হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল।সিজেপির ঘটনাটা এই ধারারই সর্বশেষ বড় উদাহরণ। তবে এটি একটু আলাদা—কারণ এটি শুধু কোনো নেতার বিরুদ্ধে নয়, একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।  ভারতের তরুণ: সংখ্যায় বিশাল, সুযোগে বঞ্চিতভারতের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি তরুণ। বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। কাগজে-কলমে এটা একটা বিশাল 'ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড'। কিন্তু বাস্তবে?প্রতি বছর প্রায় এক কোটি তরুণ চাকরির বাজারে আসে। সরকারি তথ্যই বলছে, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান হচ্ছে না। ডেলয়েট গ্লোবালের সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে, ভারতের জেন-জি প্রজন্ম ভয়াবহ আর্থিক চাপে আছে—বাড়িভাড়া মেটানো কঠিন, সঞ্চয় করা তো দূরের কথা।এর ওপরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাগুলো রীতিমতো মনোবল ভেঙে দিয়েছে। জাতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার (নিট) প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় প্রায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থীর বছরের পর বছরের পরিশ্রম বৃথা গেছে। এই একটি ঘটনা ভারতের কোটি পরিবারে যে হতাশা ছড়িয়েছে, তা পরিমাপ করার কোনো উপায় নেই।তাহলে ক্ষোভটা কোথায় যাবে? কার দিকে অভিযোগের তীর ছোঁড়া হবে? রাজনৈতিক দলের দিকে? সেখানে  তরুণদের জায়গা কই? ভোটে? সেটা পাঁচ বছরে একবার। রাস্তায়? সেখানে ঝুঁকি আছে। তাই এই প্রজন্ম খুঁজে নিয়েছে ইনস্টাগ্রাম, মিম আর ব্যঙ্গের ভাষা। দক্ষিণ এশিয়ার প্যাটার্ন: বাংলাদেশ থেকে নেপালবাংলাদেশের কথা আমরা নিজেরাই জানি। ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু হয়েছিল ছোট একটি দাবি নিয়ে। কিন্তু যখন সেই দাবি উপেক্ষা করা হলো, যখন ছাত্রদের ওপর বল প্রয়োগ হলো—তখন সেই আন্দোলন রূপ নিল এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে। নেতৃত্বে ছিল সেই একই জেন-জি প্রজন্ম, যারা ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে বড় হয়েছে, মিম বানাতে জানে, কিন্তু প্রয়োজনে রাস্তায়ও নামতে পারে।নেপালেও গত কয়েক বছরে তরুণদের নেতৃত্বে সরকারবিরোধী আন্দোলন দেখা গেছে। শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালে অর্থনৈতিক সংকটের সময় তরুণেরা রাষ্ট্রপতির বাড়িতে ঢুকে পড়েছিল। সেই দৃশ্যগুলো সারা বিশ্ব দেখেছে।সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে নিজে অবশ্য সতর্ক করছেন—ভারতের আন্দোলনকে বাংলাদেশ বা নেপালের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক হবে না। তিনি বলছেন, এটি সংবিধানের গণ্ডির মধ্যে থেকে, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পথে এগোবে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ-ক্ষোভের যে ভূকম্পন, তা ইতিমধ্যেই ভারতেও পৌঁছে গেছে—এটা আর অস্বীকার করার উপায় নেই।  'তেলাপোকা' কেন এত শক্তিশালী প্রতীকতেলাপোকা বেঁচে থাকে। যেকোনো পরিবেশে, যেকোনো বিপদে। পারমাণবিক বিস্ফোরণের পরেও তেলাপোকা বেঁচে থাকে—এই মিথটা বৈজ্ঞানিকভাবে পুরো সত্য না হলেও লোকস্মৃতিতে গেঁথে আছে।লক্ষ্ণৌর ২৬ বছর বয়সী সিদ্ধার্থ কানৌজিয়া বলেছেন ঠিক কথাই: তেলাপোকা স্থিতিস্থাপকতার প্রতীক। প্রতিটি চ্যালেঞ্জের পর আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে।যে প্রধান বিচারপতি এই তুলনাটা করেছিলেন অবজ্ঞার ভাষায়, তরুণেরা সেটাকেই গৌরবের ব্যাজ বানিয়ে বুকে লাগিয়ে নিল। এই রূপান্তরটাই সিজেপির সবচেয়ে চমৎকার দিক। অপমানকে উৎসবে বদলে দেওয়ার এই ক্ষমতাটা নতুন প্রজন্মের নিজস্ব। যেমন বাংলাদেশের জেন-জি রা নিজেদেরকে রাজাকার ব্যাজে মুড়ে নিয়ে রাস্তায় নেমে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দিয়েছিলো।  ডিজিটাল প্রতিবাদ কি আসল পরিবর্তন আনতে পারে?সমালোচকেরা বলছেন, এটা নিছক একটা ভাইরাল ট্রেন্ড। কদিন পরে মিলিয়ে যাবে। অনলাইন ফলোয়ার রাজনৈতিক ভোটে পরিণত হয় না।এই সমালোচনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ভারতের নির্বাচনী রাজনীতি এখনো মাঠপর্যায়ের সংগঠনের ওপর নির্ভরশীল। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেড় কোটি ফলোয়ার মানেই লোকসভায় একটা আসন নয়।কিন্তু এই যুক্তিটা অসম্পূর্ণ।প্রথমত, সিজেপি ইতিমধ্যে গুগল ফর্মের মাধ্যমে চার লাখের বেশি স্বেচ্ছাসেবক পেয়েছে। এদের ৭০ শতাংশেরও বেশির বয়স ১৯ থেকে ২৫ বছর। এতটুকু একটা বাস্তব রাজনৈতিক সংগঠনের ভিত্তি হয়ে উঠার জন্য যথেষ্ঠ।  দ্বিতীয়ত, আন্দোলনটি রাজপথে গড়াচ্ছে। তরুণেরা তেলাপোকার পোশাক পরে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। অনলাইন থেকে অফলাইনের এই যাত্রাটা গুরুত্বপূর্ণ।তৃতীয়ত, সরকারের প্রতিক্রিয়া দেখুন। ভারতে সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে। রাষ্ট্র বিজ্ঞানে একটা ধারণা আছে, যে আন্দোলনকে অর্থহীন মনে করা হয়, তাকে সরকার চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে না। চতুর্থত—এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এই আন্দোলন একটা আলোচনার জায়গা তৈরি করছে। দুর্নীতি, বেকারত্ব, প্রশ্নপত্র ফাঁস, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা—এই বিষয়গুলো এখন কোটি মানুষের নিউজফিডে। এটা ছোট অর্জন নয়।একটা বট বৃক্ষের বীজ হতেও পারে।  বাংলাদেশের জন্য কী শিক্ষা?এই ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের জন্য নিছক প্রতিবেশীর গল্প নয়।আমাদের দেশেও একইরকম প্রেক্ষাপট বিরাজ করছে। শিক্ষিত বেকার তরুণের সংখ্যা বাড়ছে। নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। রাজনৈতিক পরিসরে তরুণদের অংশগ্রহণ সীমিত। আর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে।বাংলাদেশ ২০২৪-এ দেখিয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংগঠিত তরুণ প্রজন্ম কী করতে পারে। সেই অভিজ্ঞতা এখন নীতিনির্ধারকদের কাছে বড় সংকেত হওয়া উচিত।তরুণদের ক্ষোভকে উপেক্ষা করলে তা জমতে থাকে। একটা সময় গিয়ে সেই ক্ষোভ আর হাস্যরসের ছলে থাকে না, রাস্তায় নেমে আসে।বাংলাদেশ সরকারের—এবং রাজনৈতিক দলগুলোর—উচিত তরুণ প্রজন্মের জন্য কার্যকর কর্মসংস্থান নীতি, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বাস্তব সুযোগ নিশ্চিত করা। শুধু ভোটের আগে তরুণ মুখ দিয়ে বক্তৃতা দিলে হবে না। দুই একটা আসন আর মন্ত্রীত্ব দিয়ে পুরো প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয় না।  তেলাপোকা যখন ফিরে আসেসিজেপির এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে অভিজিৎ নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে পোস্ট দিলেন: "তেলাপোকা ফিরে এসেছে। ভাবলেন আমাদের সরিয়ে দিতে পারবেন?"এই একটি মন্তব্যে পুরো আন্দোলনের দর্শন আছে। দাবিয়ে রাখার চেষ্টা এই প্রজন্মকে আরও শক্তিশালী করে। অবজ্ঞা এদের আরও সংগঠিত করে। এটা বোঝার সময় হয়েছে।ভারতের তরুণেরা এখন বলছে: আমরা আছি, আমরা থাকব, আমরা কথা বলব। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিকদের জন্য এটা একটা সতর্কবার্তা। আর বাকি সবার জন্য এটা একটা নতুন যুগের সংকেত—যেখানে তরুণদের উপেক্ষা করার সুযোগ আর নেই।

এম কে আই কানন খান

রামিসা হত্যাকাণ্ডে আতঙ্কিত নগরজীবন; বিপর্যস্ত শৈশব ও অভিভাবকত্বের সংকট

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের পার্কে গত শুক্রবারের একটি দৃশ্য আমাদের নগরজীবনের এক রূঢ় ও পীড়াদায়ক বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। চার বছর বয়সী শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক অভিভাবকের চোখেমুখে যে শঙ্কা, অস্বস্তি এবং নিরাপত্তার চরম হীনম্মন্যতা ফুটে উঠেছিল, তা কেবল একজনের ব্যক্তিগত ভীতি নয়; বরং এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত মানসিক বিপর্যস্ততার একটি প্রতিচ্ছবি।সাম্প্রতিক ‘রামিসা হত্যাকাণ্ড’ দেশজুড়ে যে নৃশংসতার বার্তা দিয়েছে, তা কেবল একটি পরিবারকে নিঃস্ব করেনি, বরং সমাজতাত্ত্বিকভাবে এক গভীর ‘কালেক্টিভ ট্রমা’ বা সামাজিক ট্রমার সৃষ্টি করেছে। যখন একটি শিশু কোনো অপরাধের শিকার হয় , তখন তা প্রতিটি অভিভাবকের মনে এমন এক অদৃশ্য আতঙ্কের জন্ম দেয়, যা তার নিত্যদিনের স্বাভাবিক চিন্তা ভাবনা আর জীবনধারাকে ব্যহত। মোহাম্মদপুরের ওই পার্কের ঘটনাটি তারই একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ মাত্র। নিজের সন্তানকে কোল থেকে নামাতে ভয় পাওয়া কিংবা অন্যান্য শিশুদের দিকে তাকিয়ে বারংবার রামিসার স্মৃতি রোমন্থন—এগুলো কেবল আবেগের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এক গভীর নিরাপত্তাহীনতার বহিঃপ্রকাশ।মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা ‘হাইপার-ভিজিল্যান্স’ বা অতি-সতর্কতার কবলে পড়েন। বাস্তব ঝুঁকির সীমানা পেরিয়ে তারা তখন প্রতিটি মুহূর্তকে সম্ভাব্য বিপদের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেন। এর ফলে খেলার মাঠ, স্কুল কিংবা সামাজিক পরিসরগুলো আর নিরাপদ মনে হয় না। শিশু তার স্বাভাবিক শৈশব ও বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, আর অভিভাবক নিমজ্জিত হন এক অবর্ণনীয় মানসিক চাপের সাগরে।সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, রামিসার মতো ঘটনাগুলো কেবল আইন-শৃঙ্খলার অবনতির সূচক নয়, এগুলো নাগরিক আস্থার ভিতকেও দুর্বল করে দেয়। একটি শিশু যখন তার নিজের পাড়ায় বা পরিবেশে নিরাপদ বোধ করে না, তখন পুরো নগর সভ্যতার নৈতিক ও সামাজিক কাঠামো প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আমরা এমন এক নগরে বাস করছি, যেখানে প্রতিটি শিশুর অভিভাবকদের চোখে মুখে থাকে এক অদৃশ্য আতঙ্ক ।এই আতঙ্ক দিনে দিনে হয়ে উঠছে একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সংকট। এই পরিস্থিতি উত্তরণে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শিশুনির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান ও দ্রুত বাস্তবায়ন। একই সঙ্গে সামাজিকভাবে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা জরুরি।যে সমাজে শিশুরা তাদের খেলার মাঠের স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলে এবং অভিভাবকরা প্রতিটি পদক্ষেপে ভীতির সম্মুখীন হন, সেই সমাজ কখনোই তার সুস্থ স্বাভাবিক বিকাশের পথ খুঁজে পেতে পারে না। রামিসার মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, কেবল আইন দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না, বরং একটি মানবিক ও সচেতন সমাজব্যবস্থাই পারে শিশুদের জন্য ভীতিহীন একটি পরিবেশ উপহার দিতে। জনগণের এই উঠকন্ঠা যেন রাষ্ট্র ও সমাজের নীতিনির্ধারকদের কাছে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে—তারা যেন  শিশুদের একটি নিরাপদ আগামীর প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ  না হয়।

আসছে মৌসুমি বায়ু, বর্ষার বৃষ্টির আভাস

​প্রকৃতি যেন এখন দুই রূপে হাজির। একদিকে মৌসুমি বায়ুর আগমনী বার্তা, অন্যদিকে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ। আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩১ মে থেকেই কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার ওপর দিয়ে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করেছে, যা ঐতিহাসিক নিয়ম মেনেই টেকনাফ দিয়ে তার যাত্রা শুরু করেছে। এই বায়ুর প্রভাবে সোমবার সকাল ১০টার পর থেকে রাত ১২টার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বজ্রসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, বান্দরবানসহ সিলেট ও সুনামগঞ্জের বাসিন্দারা কিছুটা স্বস্তির বৃষ্টির দেখা পেতে পারেন।​তবে বৃষ্টির এই সুখবর সব অঞ্চলের জন্য নয়। একদিকে যখন বৃষ্টির পূর্বাভাস, অন্যদিকে তখন দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিত্র কিছুটা রুক্ষ। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের প্রতিটি জেলা এবং খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দেশের আকাশজুড়ে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য বিরাজ করছে, যেখানে একপ্রান্তে বর্ষার শীতল ছোঁয়া আর অন্যপ্রান্তে রোদ ও গরমের অস্বস্তি।

রামিসা হত্যা: 'ধর্ষণ করেছি আমি, খুন করেছে ডলার', আদালতে অদ্ভুত দাবি সোহেলের

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজ সোমবার থেকে চার্জ গঠন শুনানি শুরু হয়েছে। সকাল ১১টার দিকে যখন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে হাজির করা হয়, তখন পুরো আদালত চত্বরে এক চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আসামি সোহেল রানা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি চিৎকার করে দাবি করেন, এই খুনের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। সোহেলের ভাষ্যমতে, ‘আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর দোষ নেই। সব দোষ ডলারের। আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার।’ এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার নেপথ্যে ডলার নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি তাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছিলেন। এছাড়া ফরেনসিক রিপোর্টের ডিএনএ টেস্টের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। যদিও মিরপুর ১১ নম্বরের এই রহস্যময় 'ডলারের' কোনো পরিচয় তিনি স্পষ্ট করেননি।এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে এই নৃশংস অপরাধে সহায়তার সুস্পষ্ট প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। মামলার নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, এতে ১৮ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত দ্রুতই চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি আজিজুর রহমান দুলু জানান, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা তারা নিশ্চিত করবেন। তবে মামলার চূড়ান্ত রায় কার্যকর হওয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে অনেকেরই। ঢাকার জেলা লিগ্যাল এইডের আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুইয়ের মতে, নিম্ন আদালতে বিচার দ্রুত শেষ হলেও ডেথ রেফারেন্সসহ উচ্চ আদালতের আইনি জটিলতা নিরসনে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, প্রধান বিচারপতির বিশেষ হস্তক্ষেপ থাকলে এই দীর্ঘসূত্রতা এড়ানো সম্ভব।উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পপুলার মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার্থী রামিসাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যান স্বপ্না আক্তার। এরপরই ঘটে ইতিহাসের জঘন্যতম এক ঘটনা। ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে প্রতিবেশীরা রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির ভেতরে তার কাটা মাথা উদ্ধার করেন। এই ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালা কেটে পালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি; নারায়ণগঞ্জ থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে এর আগেও আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল, তবুও আজ চার্জ গঠনের শুনানিতে সোহেলের এই নতুন নাটকীয় দাবি স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

বিটিভির আনন্দমেলায় নজিরবিহীন লুটপাট: বিল বাড়াতে কারসাজি

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ঈদের বিশেষ আয়োজন ‘আনন্দমেলা’ নিয়ে উঠেছে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটিতে ৫০ মিনিটের একটি অনুষ্ঠানকে কারিগরি কৌশলে ২০০ মিনিটের বলে দেখানো হয়েছে শুধুমাত্র বাড়তি বিল তোলার উদ্দেশ্যে। এই আয়োজনে সম্মানী বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা, যার পেছনে রয়েছে সুস্পষ্ট অনিয়ম ও বিধিবদ্ধ নিয়মনীতির চরম লঙ্ঘন।অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিটিভির ঈদ আনন্দমেলার পরিকল্পনা ও গ্রন্থনায় ছিলেন কবির বকুল এবং অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা করেছেন অভিনেতা আফরান নিশো। অনুষ্ঠানটি ৫০ মিনিটের হলেও কাগজ-কলমে এটিকে ২০০ মিনিটের অনুষ্ঠান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই জালিয়াতির মাধ্যমে শিল্পী ও কলাকুশলীদের সম্মানী অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এমনকি অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও বিস্ময়করভাবে অনেক খ্যাতিমান শিল্পীর নামে মোটা অঙ্কের সম্মানী বরাদ্দ করা হয়েছে।অনিয়মের চিত্র এখানেই শেষ নয়। অনুষ্ঠানটির সহযোগী প্রযোজক ইয়াসমিন আখতার স্বীকার করেছেন, অভিনেতা এম এ আলমগীর অনুষ্ঠানে অংশ না নিলেও তার নামে ১ লাখ ১১ হাজার ২০০ টাকা সম্মানী ধরা হয়েছে। এছাড়া অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্ট রাইটার কবির বকুলকে মৌলিক রচনার জন্য ৫৯ হাজার ১২৫ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি নৃত্যনাট্যের জন্য অতিরিক্ত ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬০ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। এমন বিপুল অঙ্কের সম্মানী বিটিভির ইতিহাসে নজিরবিহীন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার ক্ষেত্রেও ৩ লাখ টাকার সম্মানী দিতে স্বামী ও স্ত্রীর নামে আলাদা আলাদা বিল দেখানো হয়েছে।বিটিভির ভেতরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর একচ্ছত্র দাপট রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যারা বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় ছিল। এই গোষ্ঠীর তৈরি করা তালিকা ও পরিকল্পনা অনুযায়ীই বিটিভির অনুষ্ঠানমালা সাজানো হয়। এ বিষয়ে বিটিভির মহাপরিচালক মাহবুবুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ আয়োজনের সঙ্গে দাপ্তরিক কোনো সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে দায় এড়িয়ে গেছেন।বিটিভির সাবেক উপমহাপরিচালক কামরুন্নেসা হাসান এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘অনৈতিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, শিল্পী ও লেখকদের সম্মানী দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিবদ্ধ নিয়ম রয়েছে, যা এখানে চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনগণের অর্থ এভাবে হরিলুটের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাষ্ট্রের অর্থ সাশ্রয়ে এবং বিটিভির স্বচ্ছতা ফেরাতে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্তের দাবি উঠেছে।

আসিফ-হাসনাতের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কুমিল্লা জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব খাত থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া। তিনি দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ১৫ কোটি টাকা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা এই তহবিল থেকে নিয়েছেন।শনিবার বিকেলে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মোস্তাক মিয়া এই অভিযোগ করেন। সভায় তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদ মুরাদনগরে ১৫ কোটি টাকা এবং হাসনাত আবদুল্লাহ দেবিদ্বারে ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। যারা সমন্বয়ের রাজনীতির কথা বলতেন, তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সমন্বয়ের অভাব ছিল। তিনি মন্তব্য করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাদের চরিত্র এমনই ছিল।জনসভায় মোস্তাক মিয়া দাবি করেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। অর্থনীতির চাকা সচল করতে সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করছে এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে ইতিমধ্যে অনেক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।এদিকে, এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে বা অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আবদুল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকীর ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন। এছাড়া সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিমসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ। জেলা পরিষদের প্রশাসকের এমন বিস্ফোরক অভিযোগের পর কুমিল্লার রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

টেসলার দাপট শেষ, বৈদ্যুতিক গাড়ির সিংহাসনে এখন চীনের বিওয়াইডি

অটোমোবাইল শিল্পের গত একশো বছরের ইতিহাস উল্টে দিয়ে বিশ্ববাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। জার্মানি, জাপান এবং আমেরিকার দীর্ঘদিনের দাপটকে ম্লান করে ইলন মাস্কের টেসলাকে সিংহাসনচ্যুত করেছে এই চীনা জায়ান্ট। কেবল সাশ্রয়ী গাড়ি নির্মাণেই নয়, চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতেও প্রতিষ্ঠানটি এখন নতুন বিশ্বশক্তি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি ও ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের বার্ষিক বিক্রির হিসাবে টেসলাকে পেছনে ফেলে বিওয়াইডি এখন বিশ্বের এক নম্বর বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা। এক বছরে টেসলার বিক্রি যেখানে ৯ শতাংশ কমেছে, সেখানে বিওয়াইডির ব্যাটারিচালিত গাড়ির বিক্রি ২৮ শতাংশ বেড়ে ২২ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে।মূলত টেসলার আভিজাত্য বনাম বিওয়াইডির সাশ্রয়ী মূল্যের লড়াইয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি ক্রমশ বাজার হারাচ্ছে। টেসলার একটি গাড়ির গড় মূল্য যেখানে ৪৫ হাজার ডলার, সেখানে বিওয়াইডির গড় মূল্য মাত্র ২২ হাজার ৪০০ ডলার। বিশেষ করে মাত্র ১০ হাজার ডলারের ‘সিগাল’ মডেলটি এখন বৈশ্বিক গাড়িশিল্পে বড় এক আতঙ্কের নাম। যুক্তরাজ্যের বাজারেও গত এক বছরে বিওয়াইডির বিক্রি বেড়েছে ৮৮০ শতাংশ। ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকদের মতে, বারবার দাম কমিয়েও টেসলা আর বাজার ধরে রাখতে পারছে না।বিওয়াইডির এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের মূলে রয়েছে তাদের ‘ভার্টিক্যাল ইন্টিগ্রেশন’ বা স্বনির্ভর কৌশল। জনপ্রিয় ‘সিল’ মডেলের ৭৫ শতাংশ যন্ত্রাংশ প্রতিষ্ঠানটি নিজের কারখানায় তৈরি করে। চিপসেট থেকে শুরু করে গাড়ির সিট ও ব্যাটারি—সবই তারা নিজেরা তৈরি করায় করোনা মহামারির মতো বৈশ্বিক সংকটেও তাদের উৎপাদন ব্যাহত হয়নি। ব্যাটারি প্রযুক্তিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিওয়াইডি বাজারে এনেছে অত্যাধুনিক ব্লেড ব্যাটারি। এছাড়া, তাদের ফ্ল্যাশ চার্জিং সিস্টেমের মাধ্যমে মাত্র ৫ মিনিট চার্জেই ৪০০ কিলোমিটার পথ চলা সম্ভব। বিশ্বজুড়ে গাড়ি পৌঁছে দিতে ‘বিওয়াইডি এক্সপ্লোরার ১’-এর মতো নিজস্ব কার্গো জাহাজও তৈরি করেছে তারা, যা পরিবহন খরচ বিপুল পরিমাণে কমিয়ে এনেছে।টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক যখন জাঁকজমকপূর্ণ জীবন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে ব্যস্ত, তখন বিওয়াইডির প্রতিষ্ঠাতা ওয়াং চুয়ানফু চলেন একেবারেই প্রচারের আড়ালে। ব্লুমবার্গ তাঁকে ‘অ্যান্টি-ইলন মাস্ক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ১৯৯৫ সালে মাত্র ৩ লাখ ডলার ঋণ নিয়ে যাত্রা শুরু করা চুয়ানফু আজও কারখানার সাধারণ ক্যানটিনে কর্মীদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার খান। ২০১১ সালে এক সাক্ষাৎকারে বিওয়াইডির গাড়ি দেখে মাস্ক তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলেও, আজ সেই মিতব্যয়ী প্রকৌশলীর কাছেই বাজার হারিয়েছে টেসলা।লন্ডনের ডাবল-ডেকার বাস থেকে শুরু করে মেক্সিকো সিটি, হংকং কিংবা নয়াদিল্লির ট্যাক্সি—সবখানেই এখন বিওয়াইডির শক্তিশালী উপস্থিতি। এই অগ্রযাত্রা রুখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চীনা ইভির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। তবে বিওয়াইডি এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের উদীয়মান বাজারগুলোতেই বেশি মনোযোগী।এই বাণিজ্য যুদ্ধের পেছনে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুতর প্রশ্নও। পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, ডজনখানেক ক্যামেরা, রাডার ও সেন্সরযুক্ত এই আধুনিক ইলেকট্রিক গাড়িগুলো আসলে চাকার ওপর একেকটি স্মার্টফোন। এগুলো মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ডেটা ও চালকদের কথোপকথন রেকর্ড করে বেইজিংয়ের কাছে পাঠাতে পারে এবং দূর থেকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে গাড়িগুলো অকেজো করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির করে দেওয়া সম্ভব।প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় বিওয়াইডির প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড ‘ইয়াংওয়াং ইউ-এইট’ গাড়িটি জরুরি অবস্থায় পানির ওপর নৌকার মতো ভাসতে পারে এবং এক জায়গায় দাঁড়িয়েই ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে সক্ষম। এর ছাদে রয়েছে ড্রোন স্টেশন। ২০২৭ সালের মধ্যেই পুরোপুরি চালকহীন গাড়ি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে ছাড়তে কারিগরিভাবে প্রস্তুত বিওয়াইডি; এখন কেবল চীন সরকারের আইনি অনুমোদনের অপেক্ষা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আভিজাত্যের গণ্ডি থেকে বের করে সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসাই বিওয়াইডিকে বৈশ্বিক পরিবহন বিপ্লবের মূল কারিগরে পরিণত করছে।

যৌন সহিংসতার অভিযোগে জাতিসংঘে কালো তালিকাভুক্ত ইসরায়েল

যুদ্ধক্ষেত্রে ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতার গুরুতর অভিযোগে ইসরায়েলকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করেছে জাতিসংঘ। এই সিদ্ধান্তের পরপরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের এই পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে আনেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কার্যালয়ের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।মূলত ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিন পরিস্থিতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আসছিল। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং সংবাদমাধ্যমের তদন্তে এসব তথ্য উঠে আসার পরই জাতিসংঘ এই কঠোর অবস্থানে গেল। জাতিসংঘের সংঘাত-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতা (সিআরএসভি) বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষকে (আইপিএস) আনুষ্ঠানিকভাবে এই কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে আরও বেশ কিছু ইসরায়েলি সংস্থাকে নজরদারিতে রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তকে ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘ মহাসচিব ইসরায়েলকে হামাস ও আইএসআইএস-এর মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের কাতারে বসিয়েছেন। ড্যাননের ভাষ্যমতে, এই তালিকাভুক্তি জাতিসংঘের অবশিষ্ট বিশ্বস্ততা ও নৈতিক অবস্থানের চূড়ান্ত পতন নির্দেশ করে।দীর্ঘ সময় ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান নির্যাতন ও যৌন সহিংসতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল, এই কালো তালিকাভুক্তির মাধ্যমে জাতিসংঘ তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ইসরায়েলের এই কঠোর কূটনৈতিক পাল্টা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে সংস্থাটির ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিল কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন বিশ্লেষণ।

 ইরান যুদ্ধ

হরমুজ উত্তপ্ত: মার্কিন ট্যাংকার লক্ষ্য করে ইরানের গুলি

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত জলসীমায় ফের যুদ্ধের উত্তাপ। হরমুজ প্রণালির সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি মার্কিন তেল ট্যাংকার লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাতে এই সংঘাতের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত মূলত ট্যাংকারটির চলাচল নিয়ে। আইআরজিসির দাবি, মার্কিন এই তেল ট্যাংকারটি রাডার সিস্টেম ও যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ও নিরাপত্তা প্রোটোকল উপেক্ষা করার জের ধরেই ইরানি বাহিনী এ ব্যবস্থা নেয়। এ ঘটনার কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরানি বাহিনীর গুলির জবাবে মার্কিন নৌবাহিনীও পাল্টা গুলি ছুড়ে কড়া জবাব দেয়।এই সংঘাতের জেরে বন্দর আব্বাসের পূর্বাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। তাসনিম নিউজের টেলিগ্রাম বার্তায় জানানো হয়, মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দর আব্বাস শহরের পরিত্যক্ত একটি এলাকায় পাল্টা হামলা চালায়। তবে সৌভাগ্যবশত, এই গোলাগুলির ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির বিচারে এই ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও নিরাপত্তা ইস্যুতে এই মুখোমুখি অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

লাইভ / হরমুজে নতুন মার্কিন হামলা: থমকে শান্তি আলোচনা

কাতারের দোহায় যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা জট খোলার চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই হরমুজ প্রণালির কাছে নতুন করে মার্কিন হামলার ঘটনা পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা আত্মরক্ষার তাগিদেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও মাইন বসাতে যাওয়া ইরানি নৌকায় হামলা চালিয়েছে। কিন্তু ওয়াশিংটনের এই ‘আত্মরক্ষা’র আড়ালে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যেন আরও উসকে দিল।মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বর্তমানে ভারত সফরে থাকলেও তার নজর এখন হরমুজ প্রণালির ওপর। তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিশ্বের জ্বালানি চলাচলের এই প্রধান পথটি যেকোনো উপায়ে খোলা রাখতে হবে। ওদিকে তেহরানও ছেড়ে কথা বলছে না। ইরানের দাবি, তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী ড্রোন ও যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে তারা পালটা গুলি ছুঁড়েছে। সেই সঙ্গে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও জানিয়েছে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান এখানে বেশ কড়া। তার মতে, চুক্তি হবে দুর্দান্ত নয়তো হবে না—মাঝামাঝি কোনো পথ নেই। দোহায় ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি শান্তি আলোচনার ক্ষীণ আশা দেখালেও, ট্রাম্পের এই ‘সরাসরি যুদ্ধ’ বা ‘পূর্ণাঙ্গ চুক্তি’র আল্টিমেটাম পুরো বিষয়টিকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে আব্রাহাম চুক্তির মতো ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোকে এই শান্তি আলোচনার সঙ্গে জুড়ে দেওয়াতে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা—চুক্তি না হলে সংঘাতের মাত্রা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বাড়বে।বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা আর মধ্যপ্রাচ্যের এই রণকৌশল এখন সাধারণ মানুষের জীবনকেও বিপন্ন করে তুলছে। একদিকে আলোচনার টেবিলে সমঝোতার হাতছানি, অন্যদিকে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে যুদ্ধের ঘনঘটা—এই দুই বিপরীতমুখী স্রোতে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ ঠিক কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়েই এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের শেষ নেই।

লাইভ / ছয়টি মুসলিম দেশকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে বাধ্য করতে চাইছেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনার টেবিলে বসে নতুন এক কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের এই জটিল সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য তিনি এবার নতুন এক শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, এই সমঝোতার অংশ হিসেবে অন্তত ছয়টি মুসলিম প্রধান দেশকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের চুক্তি ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ স্বাক্ষর করতে হবে। তার এই আকস্মিক অবস্থানে নতুন করে সরগরম হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গন।সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে, তবে এটি সবার জন্যই একটি ‘ভালো চুক্তি’ হতে হবে। নতুবা কোনো চুক্তিই হবে না। আলোচনার ফলাফল নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই সমঝোতা সফল না হলে বিকল্প হিসেবে আগের চেয়ে আরও বড় ও শক্তিশালীভাবে যুদ্ধের পথে হাঁটা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় ট্রাম্প এই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের প্রসঙ্গটি সামনে নিয়ে আসেন। তিনি বিশেষভাবে সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর ও জর্ডানের নাম উল্লেখ করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র যে ভূমিকা রাখছে, তার বিপরীতে এসব দেশের একযোগে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করা উচিত। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি সৌদি আরব ও কাতারের দ্রুত স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দরকার। পরবর্তীতে অন্য দেশগুলোরও এগিয়ে আসা বাঞ্ছনীয়। কেউ যদি এতে অংশ নিতে না চায়, তবে সেটি তাদের ‘খারাপ উদ্দেশ্যের’ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।ট্রাম্পের এই আবদার বা শর্তকে ঘিরে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এর আগে তার প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল। এবার ট্রাম্প চাইছেন সেই তালিকায় আরও বড় বড় দেশের নাম যুক্ত হোক। যদিও ট্রাম্পের এই দীর্ঘ পোস্টের কোথাও সরাসরি ইসরায়েলের নাম নেওয়া হয়নি, তবুও আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের প্রসঙ্গটি সরাসরি সেই রাজনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গেই জড়িত।কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বার্তা আসলে একাধারে অনুরোধ এবং চাপ। বিশেষ করে সৌদি আরব ও কাতারকে তিনি সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণের পথে আসার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি হলো, ট্রাম্প যাদের নাম উল্লেখ করেছেন, তাদের কেউই এখনো পর্যন্ত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বা ইতিবাচক অবস্থান জানায়নি। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পথ পরিহার নাকি নতুন এই কূটনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার—কোন পথে হাঁটবে মুসলিম বিশ্বের এই প্রভাবশালী দেশগুলো, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব রাজনীতি।

ইরান চুক্তিতে সতর্ক ট্রাম্প: তাড়াহুড়ো না করে চূড়ান্ত সমাধান চাইছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটাতে আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক হাওয়া বইলেও এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি পদক্ষেপ সতর্কতার সঙ্গে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রবিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তায় ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজের ওপর মার্কিন অবরোধ ততক্ষণই বহাল থাকবে, যতক্ষণ না একটি অকাট্য ও চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন হচ্ছে।তিন মাস ধরে চলা এই অস্থিরতা প্রশমনে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তা তাকে কিছুটা স্তিমিত করে দিয়েছে। যদিও তিনি আলোচনার সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদী। ট্রাম্পের ভাষায়, এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্কের চিত্র আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি পেশাদার ও গঠনমূলক। তবে দীর্ঘমেয়াদী এই জটিল সংকটের সমাধানে কোনো ধরনের ভুল পদক্ষেপ নেওয়া চলবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সতর্কতার পেছনে রয়েছে আলোচনার টেবিলে অমীমাংসিত থাকা একগুচ্ছ জটিল ইস্যু। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, এবং বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা কয়েক হাজার কোটি ডলারের তেলের রাজস্ব পুনরুদ্ধারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো রয়েছে। এছাড়া লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের বর্তমান সংঘাতকেও এই আলোচনার একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।এর ঠিক একদিন আগেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তির সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনার অগ্রগতির খবর চাউর হয়েছিল। ওই আলোচনার মূল লক্ষ্যই ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, যে পথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজির এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের জাহাজের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার বদলে ইরান জলপথটি উন্মুক্ত করে দেবে। তবে সেই সমঝোতা কি কেবল একটি অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ নাকি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ—তা নিয়ে এখন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন ও তেহরান তাদের বিপরীতমুখী অবস্থান থেকে কতটা নমনীয় হয়ে এই জটিল গোলকধাঁধা থেকে বের হয়ে আসতে পারে।

রাজনীতি

শারীরিক অসুস্থতায় মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন দীপেন দেওয়ান

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সোমবার সচিবালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।পদত্যাগপত্রপদত্যাগপত্রে রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন। এই অসুস্থতা মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কাজের স্বাভাবিক গতিতে বাধা সৃষ্টি করছে। সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা ধরে রাখার স্বার্থেই তিনি নিজ থেকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়াকে যথার্থ মনে করছেন। এ অবস্থায় তার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আসা দীপেন দেওয়ানের এই পদত্যাগের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎক্ষণিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার পদত্যাগপত্রটি গৃহীত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নতুন কোনো পরিবর্তন আসে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে জল্পনা-কল্পনা।

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকীতে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও শিক্ষার মূল ভিত্তিই হলো আর্তমানবতার সেবা। তাই দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দেন তিনি।শনিবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জিয়াউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গত ৪৫ বছর ধরে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপি নেতাকর্মীরা ধারাবাহিকভাবে অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে আসছেন। তিনি বলেন, “আসুন, সবাই শপথ করি—যার যার অবস্থান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী আর্তমানবতার সেবায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব। আজকের দিনে এটিই হোক আমাদের প্রত্যাশা, এটিই হোক আমাদের বড় অর্জন।”অনুষ্ঠানমালার প্রাক্কালে খিলগাঁওয়ের জোড় পুকুর মাঠে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নগর পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, “সিটি করপোরেশনের কর্মীরা দিনরাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, কিন্তু নাগরিক হিসেবে শহরকে পরিষ্কার রাখা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। শহরটা পরিষ্কার থাকলে পরিবেশ সুন্দর ও বাসযোগ্য থাকে, যা সবার হাঁটাচলার জন্য আরামদায়ক।”গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের প্রদত্ত রায়কে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে গুরুদায়িত্ব জনগণ আমাদের কাঁধে অর্পণ করেছেন, জনগণের সমর্থনই আমাদের ক্ষমতার মূল উৎস। দেশের স্বচ্ছল ব্যক্তিরা যদি এগিয়ে আসেন এবং সরকার যদি পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণের সহায়তা পায়, তবে দ্রুতই আমরা সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সক্ষম হব।”তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান এই দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যেই রাজনীতি শুরু করেছিলেন। তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সরকারপ্রধান।এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা ‘ভিত্তিহীন’, জাতিসংঘকে চ্যালেঞ্জ হাসিনার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) দেওয়া তথ্যকে ‘ভিত্তিহীন ও অত্যন্ত ভুল’ বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২৮ মে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক বরাবর পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারের আইনজীবী স্টিভেন পাউলস কেসি এই দাবি জানান।চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টে ১,৪০০ জন নিহত হওয়ার যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আইনি দলের পক্ষ থেকে পাল্টা যুক্তি হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গত ১৫ জানুয়ারি প্রকাশিত অফিসিয়াল গেজেটের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ওই গেজেটে নিহতের সংখ্যা ৮৩৪ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা জাতিসংঘের দাবিকৃত সংখ্যার প্রায় অর্ধেক। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিজস্ব হিসেবে এই সংখ্যা ছিল ৬৫০ জন।আইনজীবী স্টিভেন পাউলস কেসি তার চিঠিতে অভিযোগ করেছেন, নিহতের এই অতিরঞ্জিত সংখ্যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। তার মতে, নিহতের সংখ্যা বড় করে দেখিয়ে শেখ হাসিনাকে একজন ‘গণহত্যাকারী’ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা মূলত তার সরকার উৎখাতের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান অজুহাত হিসেবে কাজ করেছে।চিঠিতে জাতিসংঘের এই তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও গভীর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যেহেতু এই তদন্তটি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমন্ত্রণে পরিচালিত হয়েছিল, তাই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা। চিঠিতে ড. ইউনূসের একটি পুরোনো মন্তব্যকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তিনি আন্দোলনটিকে একটি ‘সুপরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল অপারেশন’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। আইনজীবীদের দাবি, যেসব সরকারের বিরুদ্ধে খোদ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের অধীনে পরিচালিত তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনার আইনজীবীরা এই বিচার প্রক্রিয়াকে ধারাবাহিকভাবে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে আসছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ ট্রাইব্যুনাল তাকে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।চিঠির শেষ অংশে আইনজীবী স্টিভেন পাউলস জাতিসংঘকে এই ‘ভুল তথ্য’ সংশোধন করে একটি প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বিশ্ব সংস্থাটি কোনো মিথ্যা বয়ান প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত না হয়। তবে এখন পর্যন্ত ওএইচসিএইচআর-এর পক্ষ থেকে এই চিঠির কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক

যৌন সহিংসতার অভিযোগে জাতিসংঘে কালো তালিকাভুক্ত ইসরায়েল

যুদ্ধক্ষেত্রে ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতার গুরুতর অভিযোগে ইসরায়েলকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করেছে জাতিসংঘ। এই সিদ্ধান্তের পরপরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের এই পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে আনেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কার্যালয়ের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।মূলত ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিন পরিস্থিতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আসছিল। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং সংবাদমাধ্যমের তদন্তে এসব তথ্য উঠে আসার পরই জাতিসংঘ এই কঠোর অবস্থানে গেল। জাতিসংঘের সংঘাত-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতা (সিআরএসভি) বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষকে (আইপিএস) আনুষ্ঠানিকভাবে এই কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে আরও বেশ কিছু ইসরায়েলি সংস্থাকে নজরদারিতে রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তকে ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘ মহাসচিব ইসরায়েলকে হামাস ও আইএসআইএস-এর মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের কাতারে বসিয়েছেন। ড্যাননের ভাষ্যমতে, এই তালিকাভুক্তি জাতিসংঘের অবশিষ্ট বিশ্বস্ততা ও নৈতিক অবস্থানের চূড়ান্ত পতন নির্দেশ করে।দীর্ঘ সময় ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান নির্যাতন ও যৌন সহিংসতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল, এই কালো তালিকাভুক্তির মাধ্যমে জাতিসংঘ তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ইসরায়েলের এই কঠোর কূটনৈতিক পাল্টা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে সংস্থাটির ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিল কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন বিশ্লেষণ।

 মহাকালের আয়না

বদলে যাচ্ছে বিশ্বব্যবস্থা: আসছে ‘জঙ্গলের আইন’

ইতিহাসের পাতায় প্রতিটি ক্ষমতার উত্থান যেমন ধ্রুব সত্য, তেমনি তার পতনও অনিবার্য। এক সাম্রাজ্যের ধ্বংসাবশেষের ওপর দাঁড়িয়ে অন্য শক্তির উত্থান—মানব সভ্যতার এই চিরায়ত ধারা বর্তমান সময়ে এসে এক জটিল মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিংয়ের যৌথ ঘোষণা বিশ্বরাজনীতির সেই অস্থিরতা ও উদ্বেগেরই প্রতিচ্ছবি। তারা সতর্কবার্তা দিয়েছেন, বিশ্বব্যবস্থা ক্রমশ ‘জঙ্গলের আইন’ বা আইনহীন অরাজকতার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যেখানে বলপ্রয়োগই হয়ে উঠছে সর্বশেষ মানদণ্ড।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বৈশ্বিক কাঠামো—জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তি—মূলত তৈরি হয়েছিল অরাজকতা প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু গত এক দশকে ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের বহুমুখী সংঘাত, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই এই কাঠামোকে কেবলই দুর্বল করেছে। পুতিন ও শির ভাষায়, ঔপনিবেশিক মানসিকতা নিয়ে কিছু রাষ্ট্রের এককভাবে বিশ্ব পরিচালনার চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে। এই অতিকথনের ভেতরেই লুকিয়ে আছে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার আসল সংকট—একক কেন্দ্রিকতা ভেঙে বহুমুখী (multipolar) শক্তির উত্থান।কি এই ‘জঙ্গলের আইন’? আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ‘জঙ্গলের আইন’ বলতে এমন একটি পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্রসমূহ তাদের জাতীয় স্বার্থকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির ঊর্ধ্বে রাখে সবসময়। যখন বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজের কার্যকারিতা হারায়, তখনই রাষ্ট্রগুলো জোটবদ্ধ বিভাজনের পথ বেছে নেয়। বর্তমানে বিশ্ব যে সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা কি সত্যিই আইনের শাসনের সমাপ্তি ঘটাচ্ছে?বিশ্লেষকদের মতে, পৃথিবী এখন এক ভয়াবহ সন্ধিক্ষণে।বৈশ্বিক ক্ষমতাধরেরা  কেবল সামরিক প্রতিযোগিতার সেই পুরনো ধারায় ফিরে যাচ্ছে। দখল সাম্রাজ্যবাদ আর যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নানা রকম চুক্তি,সমঝোতা, সংঘ, পরিষদ আর জোট হল। এই শতাব্দীতে এসে যেন সবগুলো সভ্য প্রক্রিয়াই তাদের গৌরব হারিয়ে তাচ্ছিলের খোরাক যোগাচ্ছে। ঠিক নতুন কোন শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা তৈরির মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি পুণ:প্রতিষ্ঠিত হবে তা এখন ভাবনার বিষয়।সভ্যতার ভবিষ্যৎ: শক্তি নাকি নীতি?ইতিহাসে দেখা যায় শক্তির দাপট বা অর্থনৈতিক আধিপত্য কোনো সভ্যতার স্থায়িত্বের একমাত্র নিশ্চয়তা দিতে পারে নি। একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই বিশ্বব্যবস্থা গড়ে ওঠে মূলত ন্যায়বিচার, সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে। রাশিয়া–চীনের এই যৌথ হুংকার কিংবা পশ্চিমাদের পাল্টা প্রতিক্রিয়া—উভয়ই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা হবে অত্যন্ত জটিল।পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা কি কেবল শক্তির লড়াইয়ের আখড়া হবে, নাকি মানুষ কোনো বৃহত্তর নৈতিক ও মানবিক নীতিকে কেন্দ্র করে তার ভবিষ্যৎ নতুন করে নির্মাণ করবে? এই উত্তরটিই নির্ধারণ করবে একুশ শতকের পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ। আমরা কি ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি সহযোগিতার নতুন কোনো মেরুকরণ সম্ভব? এই উত্তর খুঁজছে আজকের পুরো পৃথিবী।

বিশ্বব্যবস্থার মোড়বদল: ‘জঙ্গলের আইন’ বনাম নতুন মেরুকরণ

ইতিহাসের পাতায় প্রতিটি ক্ষমতার উত্থান যেমন ধ্রুব সত্য, তেমনি তার পতনও অনিবার্য। এক সাম্রাজ্যের ধ্বংসাবশেষের ওপর দাঁড়িয়ে অন্য শক্তির উত্থান—মানব সভ্যতার এই চিরায়ত ধারা বর্তমান সময়ে এসে এক জটিল মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিংয়ের যৌথ ঘোষণা বিশ্বরাজনীতির সেই অস্থিরতা ও উদ্বেগেরই প্রতিচ্ছবি। তারা সতর্কবার্তা দিয়েছেন, বিশ্বব্যবস্থা ক্রমশ ‘জঙ্গলের আইন’ বা আইনহীন অরাজকতার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যেখানে বলপ্রয়োগই হয়ে উঠছে সর্বশেষ মানদণ্ড।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বৈশ্বিক কাঠামো—জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তি—মূলত তৈরি হয়েছিল অরাজকতা প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু গত এক দশকে ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের বহুমুখী সংঘাত, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই এই কাঠামোকে কেবলই দুর্বল করেছে। পুতিন ও শির ভাষায়, ঔপনিবেশিক মানসিকতা নিয়ে কিছু রাষ্ট্রের এককভাবে বিশ্ব পরিচালনার চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে। এই অতিকথনের ভেতরেই লুকিয়ে আছে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার আসল সংকট—একক কেন্দ্রিকতা ভেঙে বহুমুখী (multipolar) শক্তির উত্থান।কি এই ‘জঙ্গলের আইন’? আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ‘জঙ্গলের আইন’ বলতে এমন একটি পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্রসমূহ তাদের জাতীয় স্বার্থকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির ঊর্ধ্বে রাখে সবসময়। যখন বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজের কার্যকারিতা হারায়, তখনই রাষ্ট্রগুলো জোটবদ্ধ বিভাজনের পথ বেছে নেয়। বর্তমানে বিশ্ব যে সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা কি সত্যিই আইনের শাসনের সমাপ্তি ঘটাচ্ছে?বিশ্লেষকদের মতে, পৃথিবী এখন এক ভয়াবহ সন্ধিক্ষণে।বৈশ্বিক ক্ষমতাধরেরা  কেবল সামরিক প্রতিযোগিতার সেই পুরনো ধারায় ফিরে যাচ্ছে। দখল সাম্রাজ্যবাদ আর যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নানা রকম চুক্তি,সমঝোতা, সংঘ, পরিষদ আর জোট হল। এই শতাব্দীতে এসে যেন সবগুলো সভ্য প্রক্রিয়াই তাদের গৌরব হারিয়ে তাচ্ছিলের খোরাক যোগাচ্ছে। ঠিক নতুন কোন শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা তৈরির মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি পুণ:প্রতিষ্ঠিত হবে তা এখন ভাবনার বিষয়।সভ্যতার ভবিষ্যৎ: শক্তি নাকি নীতি?ইতিহাসে দেখা যায় শক্তির দাপট বা অর্থনৈতিক আধিপত্য কোনো সভ্যতার স্থায়িত্বের একমাত্র নিশ্চয়তা দিতে পারে নি। একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই বিশ্বব্যবস্থা গড়ে ওঠে মূলত ন্যায়বিচার, সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে। রাশিয়া–চীনের এই যৌথ হুংকার কিংবা পশ্চিমাদের পাল্টা প্রতিক্রিয়া—উভয়ই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা হবে অত্যন্ত জটিল।পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা কি কেবল শক্তির লড়াইয়ের আখড়া হবে, নাকি মানুষ কোনো বৃহত্তর নৈতিক ও মানবিক নীতিকে কেন্দ্র করে তার ভবিষ্যৎ নতুন করে নির্মাণ করবে? এই উত্তরটিই নির্ধারণ করবে একুশ শতকের পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ। আমরা কি ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি সহযোগিতার নতুন কোনো মেরুকরণ সম্ভব? এই উত্তর খুঁজছে আজকের পুরো পৃথিবী।

ইতিহাসের অজানা গল্প: আসাম কেন বাংলাদেশের হয়নি?

১৯৪৭ সালের দেশভাগ শুধু দুটি রাষ্ট্রের জন্ম দেয়নি, বদলে দিয়েছিল গোটা উপমহাদেশের মানচিত্র। সেই উত্তাল সময়ে এমন অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যেগুলোর প্রভাব আজও টের পাওয়া যায়। কিন্তু ইতিহাসের ভাঁজে চাপা পড়ে থাকা একটি সত্য হলো—এক সময় আসামও পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়ে যেতে পারত। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। আর তার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল একজন মানুষের দৃঢ় অবস্থানের।সেই মানুষটি গোপীনাথ বর্দলৈ।গোপীনাথ বর্দলৈ(ছবি- উইকিপিডিয়া)স্বাধীনতার ঠিক আগে, যখন ভারতজুড়ে বিভাজনের রাজনীতি তুঙ্গে, তখন মুসলিম লিগের পরিকল্পনায় আসাম ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বাধীন মুসলিম লিগ মনে করত, পূর্ব পাকিস্তানকে টেকসই ও কৌশলগতভাবে শক্তিশালী করতে হলে আসামকে সঙ্গে রাখা জরুরি। বিশেষ করে সিলেট ও গোয়ালপাড়ার মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে সামনে এনে তারা পুরো আসামের ওপর দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিল।শুধু ধর্মীয় হিসাব নয়, ভৌগোলিক কারণেও আসাম ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আসাম যুক্ত হলে পূর্ব পাকিস্তানের সীমানা আরও বিস্তৃত হতো এবং তা বার্মা সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যেত। উপরন্তু, বিশ শতকের প্রথম ভাগে পূর্ব বাংলা থেকে বিপুল সংখ্যক মুসলিম কৃষকের আসামে বসতি স্থাপন মুসলিম লিগকে রাজনৈতিকভাবে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। ১৯১১ থেকে ১৯৩১ সালের মধ্যে আসামে মুসলিম জনসংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়াকে তারা তাদের দাবির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছিল।এই প্রেক্ষাপট বুঝতে হলে সিলেটের ইতিহাসও জানা জরুরি।১৮৭৪ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রশাসনিক সুবিধার জন্য সিলেটকে বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে আসামের সঙ্গে যুক্ত করে। অথচ ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিচয়ে সিলেট ছিল সম্পূর্ণ বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই সিলেটের মানুষের মধ্যে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি কাজ করছিল। তারা নিজেদের বাঙালি মনে করলেও প্রশাসনিকভাবে ছিল অসমিয়া-শাসিত প্রদেশের অংশ।দেশভাগের আলোচনা শুরু হলে তাই সিলেট প্রশ্নটি দ্রুতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকারের পাঠানো ক্যাবিনেট মিশন ভারত বিভাজনের একটি প্রস্তাব দেয়। সেই পরিকল্পনায় বাংলা ও আসামকে একসঙ্গে ‘গ্রুপ সি’-তে রাখা হয়। মুসলিম লিগ এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানায়, কারণ এর মাধ্যমে বাংলার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রভাব ব্যবহার করে আসামকেও পাকিস্তানের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছিল।এই পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় বিপদ ছিল—আসামের নিজস্ব প্রতিনিধিরা সংখ্যায় কম হয়ে পড়তেন। বাংলার বিশাল প্রতিনিধিদলের সামনে আসামের মতামত কার্যত গুরুত্ব হারাত। অনেকেই মনে করছিলেন, এভাবে চলতে থাকলে একসময় পুরো আসামই পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়ে যেতে পারে।ঠিক তখনই দৃঢ় অবস্থান নেন গোপীনাথ বর্দলৈ।তিনি ছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী এবং কংগ্রেসের নেতা। কিন্তু এই প্রশ্নে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গেও আপস করেননি। স্বাধীনতার স্বার্থে কংগ্রেসের কিছু শীর্ষ নেতা যেখানে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতার কথা ভাবছিলেন, সেখানে বর্দলৈ মনে করতেন—আসামকে বাংলার সঙ্গে জোর করে যুক্ত করা মানে প্রদেশটির স্বাতন্ত্র্য ও মানুষের অধিকার বিসর্জন দেওয়া।জওহরলাল নেহরু পর্যন্ত বর্দলৈর অবস্থানে বিরক্ত হয়েছিলেন বলে ইতিহাসে উল্লেখ আছে। কিন্তু বর্দলৈ পিছু হটেননি। তিনি সরদার বল্লভভাই পটেলের সমর্থন পান এবং আসামজুড়ে গণমত গড়ে তুলতে শুরু করেন। আসাম প্রদেশ কংগ্রেস গ্রুপিং পরিকল্পনার বিরোধিতা করে কঠোর অবস্থান নেয়। বর্দলৈ উপজাতীয় নেতা, অসমিয়া জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী এবং অ-মুসলিম রাজনীতিকদের এক প্ল্যাটফর্মে আনেন।তার লক্ষ্য ছিল একটাই—আসামকে বাংলার নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে রাখা।পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে ১৯৪৭ সালে। ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন নতুন বিভাজন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। সেখানে বলা হয়, সমগ্র আসাম ভারতেই থাকবে; শুধু সিলেট জেলার ভাগ্য নির্ধারণ হবে গণভোটের মাধ্যমে।৬ ও ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত সেই গণভোটে অধিকাংশ ভোটার পূর্ব বাংলার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে মত দেন। ফলাফল হিসেবে সিলেটের বেশিরভাগ অংশ পূর্ব পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত হয়। শুধু করিমগঞ্জ মহকুমা ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যায়।মজার বিষয় হলো, আসামের অনেক কংগ্রেস নেতা সিলেট হারানোকে বড় ক্ষতি হিসেবে দেখেননি। কারণ সিলেট থাকলে আসামে বাংলাভাষীর সংখ্যা আরও বেশি থাকত এবং অসমিয়ারা নিজেদের প্রদেশেই ভাষাগতভাবে সংখ্যালঘু হয়ে পড়তেন। এমনকি তৎকালীন দৈনিক আসাম ট্রিবিউন সিলেটের বিদায়কে এক ধরনের স্বস্তির খবর হিসেবেই প্রকাশ করেছিল।তবে মুসলিম লিগের মূল লক্ষ্য ছিল পুরো আসাম। সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় মূলত দুটি কারণে—ক্যাবিনেট মিশনের গ্রুপিং পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়া এবং গোপীনাথ বর্দলৈর অনমনীয় অবস্থান।এই গল্পে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম সৈয়দ সাদউল্লাহ। তিনি মুসলিম লিগের নেতা এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর আমলে পূর্ব বাংলা থেকে আসা বহু মুসলিম কৃষককে আসামে বসতি স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। সমালোচকদের মতে, এই নীতির পেছনেও ছিল দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক হিসাব—আসামে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়িয়ে ভবিষ্যতে পাকিস্তানের দাবিকে শক্তিশালী করা।বর্দলৈ ক্ষমতায় এসে সেই নীতিতে পরিবর্তন আনেন। তিনি ভূমি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেন।তবু দেশভাগ আসামের জন্য সহজ ছিল না। সিলেট হারানোর পাশাপাশি আসাম হারায় চট্টগ্রাম বন্দরের সরাসরি যোগাযোগ। ব্রিটিশ আমল থেকে চট্টগ্রামই ছিল আসামের সমুদ্রপথের প্রধান প্রবেশদ্বার। দেশভাগের পর আসাম কার্যত একটি ভূবেষ্টিত অঞ্চলে পরিণত হয়। ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে তার সংযোগ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে মাত্র একটি সরু করিডরে—যেটি পরে ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত হয়।                                                                                                                                                                          অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতি হয় ব্যাপক। চা শিল্প, চুনাপাথর এবং সিমেন্ট ব্যবসার একটি বড় অংশ সিলেটের সঙ্গে হারিয়ে যায়।তারপরও ইতিহাসের বিচারে সবচেয়ে বড় সত্য হলো—আসাম ভারতের অংশ হিসেবেই থেকে যায়। আর সেই সিদ্ধান্তের পেছনে একজন মানুষের রাজনৈতিক সাহস ছিল নির্ণায়ক শক্তি।পরবর্তীকালে সরদার পটেল বলেছিলেন, “গোপীনাথ বর্দলৈ না থাকলে আজ আসাম ভারতের অংশ থাকত না।”১৯৯৯ সালে ভারত সরকার তাঁকে মরণোত্তর ভারতরত্ন প্রদান করে। গুয়াহাটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নামও রাখা হয় তাঁর নামে।ইতিহাসে অনেক বড় পরিবর্তন যুদ্ধ বা চুক্তি দিয়ে আসে। আবার কখনো কখনো একজন মানুষের অটল অবস্থানই মানচিত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয়। গোপীনাথ বর্দলৈর গল্প সেই বিরল ইতিহাসগুলোরই একটি।

সাম্রাজ্য যখন শেষ লড়াইয়ে নামে

দুই হাজার বছর আগের কথা। গ্রিক ইতিহাসবিদ প্লুটার্ক একটি মজার জিনিস খেয়াল করেছিলেন। যে সাম্রাজ্য পড়তে শুরু করে, সে প্রায়ই একটা কাজ করে — হঠাৎ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যেন একটা শেষ চেষ্টা। হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার মরিয়া প্রচেষ্টা। কিন্তু এই যুদ্ধ গৌরব ফেরায় না — বরং পতনকে আরও দ্রুত করে।ইতিহাসবিদরা এর একটা নাম দিয়েছেন — 'মাইক্রো-মিলিটারিজম'। বাংলায় বললে, ক্ষুদ্র সামরিক দুঃসাহস।আজকের প্রশ্ন হলো — ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা কি সেই একই পথে? অ্যাথেন্সের শেষ বাজিখ্রিস্টপূর্ব ৪১৫ সাল। অ্যাথেন্স তখন ক্ষমতার শীর্ষ পেরিয়ে এসেছে। স্পার্টার সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধে ক্লান্ত, প্রভাব কমছে।এই সময় নেতৃত্বে এলেন নিসিয়াস। বংশে বড়, ব্যক্তিত্বে নয়। সিদ্ধান্তহীন এই মানুষটি নগরবাসীকে একটি বড় স্বপ্ন দেখালেন — সিসিলির সিরাকিউসে শত্রুদের আঘাত করো, সব বদলে যাবে।দুইশো জাহাজ, বারো হাজার সৈন্য পাঠানো হলো।ফিরে এলো না।পুরো বহর ধ্বংস হলো। যারা বেঁচে ছিলেন তাদের পাথর খনিতে বন্দী করে রাখা হলো, পরে দাস হিসেবে বিক্রি করা হলো। অ্যাথেন্স আর সেই ধাক্কা সামলাতে পারেনি। এক দশকের মধ্যে শহর আত্মসমর্পণ করল।একটা যুদ্ধ। একটা সিদ্ধান্তহীন নেতা। একটি সাম্রাজ্যের শেষ। পর্তুগালের তরুণ রাজার ভুল১৫৭৮ সাল। পর্তুগাল তখনো একটি সাম্রাজ্য — কিন্তু আগের জৌলুস নেই।রাজা সেবাস্তিয়ান তরুণ, উগ্র, ধর্মীয় উন্মাদনায় মত্ত। তিনি স্থির করলেন — মরক্কোতে গিয়ে মুসলিম শক্তিকে চূর্ণ করবেন। এটাই হবে তাঁর মহান অভিযান।আলকাসার কুইবিরের যুদ্ধে পুরো সেনাবাহিনী শেষ হয়ে গেল।আট হাজার পর্তুগিজ সৈন্য মাটিতে পড়ল, পনেরো হাজার বন্দী হলো। মাত্র একশো জন পালাতে পারল।এরপর? পর্তুগাল টানা ষাট বছর স্পেনের অধীনে চলে গেল। আর সমুদ্রপথে যে একচেটিয়া ব্যবসা ছিল, তা আর কখনো ফিরে পেল না। স্পেনের পর্বতে আটকে যাওয়া১৯২০ সাল। স্পেন সবে ১৮৯৮ সালে আমেরিকার কাছে হেরে কিউবা, ফিলিপাইন হারিয়েছে। রাজা তেরোতম আলফনসো সেই ক্ষত ভুলতে চাইলেন মরক্কোতে নতুন জয়ের স্বপ্নে।হলো উল্টো।মরক্কোর পাহাড়ে বারবার যোদ্ধারা স্পেনের বারো হাজার সৈন্য মেরে ফেলল। তার পরও স্পেন আরও দেড় লক্ষ সৈন্য পাঠাল। বিষাক্ত গ্যাস দিয়ে গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হলো।শেষ পর্যন্ত জয় এলো — কিন্তু দেশের ভেতরে আসল ক্ষতিটা হয়ে গিয়েছিল। সেই যুদ্ধ থেকে জন্ম নেওয়া জেনারেল ফ্রাঙ্কো পরে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ফিরে এলেন গৃহযুদ্ধ নিয়ে। স্পেনে চল্লিশ বছরের স্বৈরশাসন শুরু হলো।একটা পর্বতের লড়াই। একটা গণতন্ত্রের মৃত্যু। সুয়েজে ব্রিটেনের মুখ পুড়ল১৯৫৬ সাল। মিশরের প্রেসিডেন্ট নাসের সুয়েজ খাল নিজের দেশের হাতে নিলেন।ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ইডেন ক্ষেপে গেলেন। তাঁর মুখে এলো — "আমি তাকে ধ্বংস করতে চাই।" গোয়েন্দা সংস্থা নাসেরকে হত্যার চেষ্টা করল, ব্যর্থ হলো। তারপর ফ্রান্স আর ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে সামরিক হামলা হলো।নাসের চুপ করে বসে রইলেন না। তিনি পাথর-ভরা পুরনো জাহাজ সুয়েজ খালের মুখে ডুবিয়ে দিলেন। তেলের পথ বন্ধ হলো।ব্রিটেন জাতিসংঘে তিরস্কৃত হলো। পাউন্ড ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছে হাত পাততে হলো। একসময়ের 'যে সাম্রাজ্যে সূর্য অস্ত যায় না' — সে অস্তে গেল। এবার হরমুজে আমেরিকা২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায়। শুল্কযুদ্ধে চীন তাঁকে পিছু হটিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড দাবি ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা শুরু হলো।প্রথম সপ্তাহে মার্কিন বোমা ইরানের নেতৃত্ব, নৌবাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষা ধ্বংস করল। মনে হলো — দ্রুত জয় আসছে।কিন্তু ইরান ঠিক নাসেরের মতো কাজ করল।হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হলো। ড্রোন দিয়ে পাঁচটি জাহাজে আঘাত। পারস্য উপসাগর থেকে তেল, গ্যাস, সার — সব আসা বন্ধ। বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সংকট শুরু।মার্চের শেষে ইরান জাহাজ চলাচলের অনুমতির বিনিময়ে 'টোল' আদায় শুরু করল।সোজা কথায় — বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী একটি সরু সমুদ্রপথ খুলতে পারছে না।ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন — "আজ রাতে একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।" ইউরোপ-সহ ঘনিষ্ঠ মিত্ররা সাহায্য করতে অস্বীকার করল। ট্রাম্প তাদের "কাপুরুষ" বললেন।আর বিশ্ব ভাবতে শুরু করল — চীন হয়তো আরও নির্ভরযোগ্য। ইতিহাস যা বলেঅ্যাথেন্স, পর্তুগাল, স্পেন, ব্রিটেন — প্রতিটি ঘটনায় একটাই প্যাটার্ন।ক্ষমতা কমছে। নেতা ঘাবড়ে যাচ্ছেন। একটা বড় যুদ্ধে নেমে পড়ছেন — মনে করছেন এটাই সব ঠিক করে দেবে। কিন্তু এই যুদ্ধ শুধু দেখিয়ে দেয় — সাম্রাজ্য আসলে কতটা দুর্বল হয়ে গেছে।হরমুজে বোমার শব্দ যখন থামবে, তখন দুনিয়া দেখবে — জোট ভেঙেছে, বিশ্বাসযোগ্যতা কমেছে, আর আমেরিকার 'পৃথিবীর পুলিশ' হওয়ার দিন শেষ হয়েছে।আড়াই হাজার বছর আগে প্লুটার্ক যা লিখেছিলেন, সেটা আজও সত্যি — পড়তে থাকা সাম্রাজ্যের শেষ যুদ্ধটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক।

মারাকানায় গোলবন্যা: বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রস্তুতিতে নতুন সুর

মারাকানায় গোলবন্যা: বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রস্তুতিতে নতুন সুর

মারাকানার গ্যালারি তখন কানায় কানায় পূর্ণ। বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতিটা যে এতটা দাপুটে হবে, তা হয়তো পানামাও ভাবেনি। কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা যেন গোল উৎসবের মেজাজেই মাঠে নেমেছিল। পানামার জালে ছয়বার বল জড়িয়ে ৬-২ গোলের বড় জয় তুলে নিল ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র থেকে শুরু করে কাসেমিরো, রায়ান, লুকাস পাকেতা, ইগর থিয়াগো ও দানিলো—ম্যাচে ছয় ভিন্ন খেলোয়াড়ের গোল বুঝিয়ে দিল দলের আক্রমণভাগ কতটা কার্যকর ছন্দে রয়েছে।তবে এই জয়ের আড়ালে লুকিয়ে ছিল কোচের ছোটখাটো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ম্যাচের প্রথমার্ধে ৪-২-৪ ছকে গিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিল দলটি। ব্রুনো গিমেরেস ও কাসেমিরোকে নিয়ে গড়া মাঝমাঠ বেশ চাপের মুখেই পড়ে গিয়েছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আনচেলত্তি যখন কৌশল বদলে ৪-৩-৩ ফরমেশনে দল সাজালেন, তখন যেন মাঠের চেহারাই বদলে গেল। ফ্যাবিনিও, পাকেতা ও দানিলোর রসায়নে মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ ফিরে এল, আর আক্রমণের ধারও বাড়ল কয়েক গুণ। দ্বিতীয়ার্ধেই এলো চারটি গোল, যা বুঝিয়ে দিল আনচেলত্তি তার দলের ভারসাম্য খুঁজে পাওয়ার পথে।কোচ আনচেলত্তি অবশ্য পুরো আত্মতৃপ্তিতে ভুগছেন না। দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্স দলের জন্য ইতিবাচক হলেও তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে কিছু সংশয়, যা বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য হয়তো ভালোই। সাংবাদিকদের সাথে রসিকতা করতে ছাড়েননি এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। তবে ম্যাচে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি ছিল নেইমারকে ঘিরে। পুরোপুরি ফিট না থাকায় মাঠে নামতে না পারলেও মারাকানার সমর্থকরা নেইমারকে যেভাবে করতালিতে বরণ করে নিয়েছে, তা ছিল ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য দৃশ্য।প্রস্তুতি পর্বের এই উচ্ছ্বাসকে পেছনে ফেলে এখন চোখ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানে। পরিবারের সাথে কয়েক ঘণ্টার ছুটি কাটিয়ে বিকেলেই দলের সদস্যরা রওনা হচ্ছেন মার্কিন মুলুকে। সেখানে হাঙ্গেরি থেকে সরাসরি যোগ দেবেন চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে খেলা মার্কিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস ও মার্তিনেল্লিরা। পূর্ণশক্তির এই ব্রাজিল দল বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ের আগে নিজেদের আর কতটা শানিয়ে নিতে পারে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

অনলাইন জরিপ
৩১ মে ২০২৬, ১২:০২ এএম
 হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,"বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।"
আপনি কি তার সাথে একমত?

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,"বিএনপির একজন কর্মী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।" আপনি কি তার সাথে একমত?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
মোটরসাইকেলের দামেই এবার টাটার নতুন প্রাইভেট কার

মোটরসাইকেলের দামেই এবার টাটার নতুন প্রাইভেট কার

মোটরসাইকেলের দামেই আস্ত একটি প্রাইভেট কার—এই বিষয়টি এতদিন অনেকের কাছেই কল্পনাতীত ছিল। সেই অচলায়তন ভাঙতে সাশ্রয়ী দামের নতুন ফেসলিফ্ট সংস্করণ নিয়ে হাজির হয়েছে টাটা মোটরস। জনপ্রিয় হ্যাচব্যাক মডেল ‘টাটা টিয়াগো’র এই নতুন রূপে কেবল বাহ্যিক জৌলুসই নয়, নিরাপত্তার দিক থেকেও আনা হয়েছে বড় ধরনের পরিবর্তন। প্রিমিয়াম মোটরসাইকেলের মূল্যে গাড়িটি বাজারে পা রাখায় অটোমোবাইল মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।গাড়িটির সবচাইতে বড় চমক এর নিরাপত্তা কাঠামো। সাধারণত বাজেট গাড়িতে যে মানের সুরক্ষা পাওয়া যায়, টিয়াগোর এই মডেলে তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এর প্রতিটি ভ্যারিয়েন্টেই স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে রাখা হয়েছে ৬টি এয়ারব্যাগ। সেই সাথে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি প্রোগ্রাম, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল ও ক্রুজ কন্ট্রোলের মতো আধুনিক সব ফিচার যুক্ত করা হয়েছে, যা সচরাচর উচ্চমূল্যের গাড়িতে দেখা যায়। এএমটি ভ্যারিয়েন্টে ড্রাইভিংয়ের সুবিধার্থে যোগ করা হয়েছে প্যাডেল শিফটারও।নান্দনিকতার ক্ষেত্রেও গাড়িটি বেশ আধুনিক। সামনের লুকে নতুন হেডল্যাম্পের সাথে ডিআরএল-এর সংমিশ্রণ একে দিয়েছে এক সতেজ চেহারা। পেছনের টেললাইটে কানেক্টেড এলইডি সেটআপ গাড়িটির প্রিমিয়াম ভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ভেতরের অংশে যুক্ত করা হয়েছে ১০.২৫ ইঞ্চির ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম এবং ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার। ওয়ারলেস ফোন চার্জিং ও রিয়ার এসি ভেন্টের মতো সুবিধাগুলো আধুনিক প্রজন্মের চালকদের কথা ভেবেই রাখা হয়েছে।পারফরম্যান্সের জায়গায় টাটা তাদের আস্থার প্রতীক ১.২ লিটারের শক্তিশালী পেট্রল ইঞ্জিনটিই বহাল রেখেছে। ৫-স্পিড গিয়ারবক্সের এই ইঞ্জিন থেকে সর্বোচ্চ ৮৫ বিএইচপি শক্তি এবং ১১৩ এনএম টর্ক উৎপন্ন হয়। গাড়ির আকার বা গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্সে কোনো পরিবর্তন না আনলেও নতুন তিনটি রঙ—প্যাংগং পালস, বারানসি ভাইব্রেন্স এবং সোবো সার্জ যোগ করা হয়েছে।ভারতীয় বাজারে টাটা টিয়াগো স্মার্ট পেট্রল ম্যানুয়াল ভ্যারিয়েন্টটির এক্স-শোরুম দাম শুরু হচ্ছে ৪.৬৯ লাখ রুপি থেকে। সাশ্রয়ী দামের মধ্যে প্রিমিয়াম ফিচারের এই সমন্বয় মধ্যবিত্তের গাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণে নতুন পথ দেখাবে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

মক্কার মসজিদে হারামে ঈদুল আজহার ইমামতি ও খুতবা দেবেন শায়খ ড. বানদার বালিলাহ

মক্কার মসজিদে হারামে ঈদুল আজহার ইমামতি ও খুতবা দেবেন শায়খ ড. বানদার বালিলাহ

শায়খ ড. বানদার বালিলাহ মসজিদে হারামের ইমাম হিসেবে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নিয়োগ ও আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের বিষয়টি মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। ১৯৭৫ সালে সৌদি আরবের মক্কায় জন্মগ্রহণ করা এই ইসলামি ব্যক্তিত্ব শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী। তিনি মক্কার উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটি থেকে ইসলামি আইনে স্নাতক ও ইসলামি ফিকহে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।২০১৩ সালে তিনি মসজিদে হারামের ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হন। এর আগে মক্কার বিভিন্ন মসজিদে তিনি ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন।প্রতি বছর ঈদুল আজহার নামাজ ও খুতবা বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মসজিদুল হারামে আয়োজিত এই জামাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মুসল্লি অংশ নেন। বিশেষ করে ইমামের প্রদত্ত খুতবা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি বিশেষ আধ্যাত্মিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

সব বিভাগের খবর

কুরবানির গোশত সংরক্ষণে ভুল করবেন না: সতেজ ও পুষ্টিকর রাখার কার্যকর উপায়

কুরবানির গোশত সংরক্ষণে ভুল করবেন না: সতেজ ও পুষ্টিকর রাখার কার্যকর উপায়

পবিত্র ঈদুল আজহা দরজায় কড়া নাড়ছে। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই দিনে সামর্থ্যবান মুসলমানরা কুরবানি করেন, যা একই সঙ্গে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের মাধ্যম। কুরবানির গোশত তিন ভাগে ভাগ করে নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও গরিব-অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টন করা সুন্নত। তবে কুরবানির বিপুল পরিমাণ গোশত দেখে অনেকে ঘাবড়ে যান। সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি জানা না থাকলে গোশতের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ দুইই নষ্ট হতে পারে। একটু সচেতনতা আর সঠিক নিয়ম মেনে চললে এই গোশত দীর্ঘদিন সতেজ ও স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব।কুরবানির গোশত সংরক্ষণের প্রথম ধাপ হলো সঠিকভাবে পানি ঝরিয়ে নেওয়া। জবাইয়ের পর গোশত ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নেওয়া জরুরি, কারণ রক্ত বা পানি লেগে থাকলে গোশতে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। অনেকেই বড় প্লাস্টিকের ব্যাগে গাদা গাদা গোশত ভরে ফ্রিজে রেখে দেন, যা মোটেও সঠিক নয়। গোশত সংরক্ষণের জন্য ফুড-গ্রেড পলিথিন অথবা ঢাকনাযুক্ত কন্টেইনার ব্যবহার করা উচিত। সবচেয়ে ভালো হয় যদি এক বেলার রান্নার প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ছোট ভাগে বা ‘ফ্যামিলি প্যাক’ তৈরি করে রাখা যায়। এতে বারবার বড় প্যাকেট বের করার ঝামেলা থাকে না এবং গোশতের মানও ঠিক থাকে।অনেকেই ভুলবশত ফ্রিজ থেকে একবার গোশত বের করে বরফ গলানোর পর, তা রান্না না করে আবার ফ্রিজে রেখে দেন। এটি গোশতের গুণমান ও পুষ্টি নষ্ট করে দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। বরফ গলানো গোশত পুনরায় ফ্রিজে না রেখে ব্যবহারের সুবিধামতো ভাগ করেই রাখা উচিত। এছাড়া ফ্রিজের ভেতরে গোশত রাখার ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। কাঁচা গোশত কখনো আগে থেকে রান্না করা খাবার, ফলমূল বা মিষ্টি জাতীয় খাবারের পাশে রাখা উচিত নয়। এগুলোতে অন্য খাবারের গন্ধ মিশে যাওয়ার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকে। ডিপ ফ্রিজে সঠিক তাপমাত্রায় এবং নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করলে গরুর গোশত ছয় মাস পর্যন্ত সতেজ ও খাওয়ার উপযোগী থাকে।কুরবানির আনন্দ যেন অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে ম্লান না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। সঠিক নিয়ম মেনে গোশত সংরক্ষণ করলে যেমন এর পুষ্টিগুণ বজায় থাকে, তেমনি পরিবারের সদস্যরাও সুস্থ ও নিরাপদ থাকেন। তাই এবারের ঈদে কুরবানির গোশত সংরক্ষণের প্রতিটি ধাপ মেনে চলুন, যাতে আপনার পরিবার থেকে সুস্থ্য।

আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপের দারুণ নতুন আপডেট

আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপের দারুণ নতুন আপডেট

স্মার্টফোনের মেসেজিং দুনিয়ায় হোয়াটসঅ্যাপের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। তবে এবার আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এক দারুণ খবর নিয়ে এল এই জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মটি। ছবি, ভিডিওসহ নানা ধরনের মিডিয়া ফাইল শেয়ারিংয়ের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও আনন্দদায়ক করতে হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে এসেছে এক নতুন আপডেট, যা আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কার্যকর হবে।নতুন এই আপডেটে বদলে যাচ্ছে ফাইল শেয়ারিংয়ের পুরো প্রক্রিয়া। এখন থেকে চ্যাটের ‘প্লাস’ (+) বাটনে ট্যাপ করলেই ব্যবহারকারীরা নতুন এক ‘মিডিয়া অ্যাটাচমেন্ট শিট’ দেখতে পাবেন। এর ফলে কথোপকথনের মাঝপথে আর গ্যালারিতে হারিয়ে যেতে হবে না। স্ক্রিনের ওপরের দিকে ডকুমেন্ট, লোকেশনসহ বিভিন্ন অপশন থাকবে এবং নিচের দিকে দেখা যাবে সাম্প্রতিক তোলা ছবি বা ভিডিওর প্রিভিউ।নতুন এই ডিজাইনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর ব্যবহারকারী-বান্ধব ইন্টারফেস। আগে কোনো ফাইল পাঠাতে গেলে পুরো গ্যালারি খুলে দীর্ঘ সময় ধরে খুঁজতে হতো। এখন ৪×৪ গ্রিড আকারে সাম্প্রতিক ফাইলগুলো চোখের সামনেই ভেসে উঠবে, ফলে প্রয়োজনীয় ছবিটি দ্রুত বাছাই করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ছবি বা ভিডিও শেয়ার করেন, তাদের জন্য এই ফিচারটি আশীর্বাদ হয়ে আসবে। সবচেয়ে চমৎকার ব্যাপার হলো, ফাইল শেয়ারিংয়ের সময়ও চ্যাট স্ক্রিনটি ব্যাকগ্রাউন্ডে দৃশ্যমান থাকবে, যার ফলে কথোপকথনের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।অ্যাপের আইওএস সংস্করণ ২৬.১৯.৭৫-এ প্রথম এই সুবিধা নজরে এসেছে। হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে সীমিত সংখ্যক আইফোন ব্যবহারকারীর জন্য ফিচারটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পারফরম্যান্স ও স্থিতিশীলতা যাচাই শেষে পর্যায়ক্রমে সব আইওএস ব্যবহারকারীর জন্য এটি চালু করা হবে। তাই আপনার ফোনে যদি এখনো ফিচারটি না এসে থাকে, তবে অ্যাপল স্টোর থেকে হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণটি আপডেট করে কিছুদিন অপেক্ষা করতে পারেন। ধীরে ধীরে সবার জন্য এই আপডেট উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। 

গ্লোবাল টিচার প্রাইজঃ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় ফেরাতে এক মিলিয়ন ডলার জিতলেন ভারতের রুবল নাগি

গ্লোবাল টিচার প্রাইজঃ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় ফেরাতে এক মিলিয়ন ডলার জিতলেন ভারতের রুবল নাগি

মুম্বাইয়ের কোলাবার সরু গলি। একপাশে রঙের খেলায় মেতে ওঠা উজ্জ্বল লাল, নীল আর হলুদে রাঙানো বস্তিঘর, অন্যপাশে দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত জীবন। এই দুই জগতের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে রুবল নাগি দেখিয়েছেন, শিক্ষার আলো ছড়াতে সব সময় ইট-কাঠের দেয়াল বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজন হয় না। শিল্পের তুলি আর ভালোবাসার স্পর্শে কীভাবে হাজারো প্রান্তিক শিশুর ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়া যায়, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি জিতে নিয়েছেন এবারের ‘গ্লোবাল টিচার প্রাইজ’। শিক্ষা খাতের অস্কারখ্যাত এই পুরস্কারের মূল্যমান এক মিলিয়ন ডলার।প্রায় তিন দশক ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় ফেরাতে কাজ করা রুবল নাগি এবার ১৩৯টি দেশের পাঁচ হাজার মনোনয়ন ও আবেদনকারীকে পেছনে ফেলে সেরা নির্বাচিত হয়েছেন। মার্চের শুরুতে ভার্কি ফাউন্ডেশন ও ইউনেসকোর সহযোগিতায় দশমবারের মতো দেওয়া এই পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে তাঁর উদ্ভাবনী শিক্ষাদান পদ্ধতির বিশ্বস্বীকৃতি মিলল। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘রুবল নাগি আর্ট ফাউন্ডেশন’ (আরএনএএফ)-এর মাধ্যমে ভারতের ১০০টিরও বেশি সুবিধাবঞ্চিত কমিউনিটিতে গড়ে তোলা হয়েছে ৮০০টির বেশি শিক্ষাকেন্দ্র। ‘লিভিং ওয়ালস অব লার্নিং’ বা জীবন্ত শিক্ষণ দেয়াল প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি এক মিলিয়নেরও বেশি শিশুর কাছে শিক্ষার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।রুবল নাগির এই যাত্রার শুরুটা ছিল একদমই অপ্রত্যাশিত। তিন দশক আগে মুম্বাইয়ের এক কর্মশালায় আসা এক শিশুর সঙ্গে কথোপকথন থেকে তিনি উপলব্ধি করেন, স্কুলের সুযোগ নেই বলেই বস্তির শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এরপর থেকেই তিনি বস্তিগুলোকে শুধু আবাস হিসেবে নয়, বরং ‘উন্মুক্ত আকাশের শ্রেণিকক্ষ’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। তাঁর মতে, কোনো শিশুই শিখতে অনাগ্রহী নয়; কেবল শিখনের মাধ্যমটিকে আকর্ষণীয় করে তোলাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। তাই তিনি শিল্পভিত্তিক শিক্ষার পথ বেছে নিয়েছেন, যেখানে শিশুরা মাদুর বা কার্পেটে বসেও আনন্দ নিয়ে শিখতে পারে।এই দীর্ঘ পথচলায় রুবল নাগির কাছে শিক্ষার্থীরা শুধু বইয়ের অক্ষর শেখে না, বরং একজন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। তার ফাউন্ডেশনের শিক্ষকরা কেবল পাঠদান করেন না, প্রয়োজনে অভিভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। কোনো শিক্ষার্থী যদি কয়েক দিন কেন্দ্রে না আসে, স্বেচ্ছাসেবকরা সরাসরি তাদের বাড়িতে খোঁজ নিতে যান। রুবল বিশ্বাস করেন, বস্তিতে কাজ করতে হলে শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, পুরো কমিউনিটির আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে হয়। তাঁর ‘মিসাল’ বা উদাহরণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেয়ালে শিক্ষামূলক চিত্র এঁকে বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বস্তির বাসিন্দাদের জীবনধারায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।পুরস্কারের এক মিলিয়ন ডলারের অর্থ দিয়ে রুবল নাগি তাঁর কার্যক্রম ভারতের আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে দিতে চান। বিশেষ করে নিজের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত জম্মু ও কাশ্মীরে একটি অত্যাধুনিক কম্পিউটারসম্ভব দক্ষতা ও শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলাই তাঁর এখনকার বড় লক্ষ্য। কোলাবার সেই শিক্ষাকেন্দ্রের দেয়ালে আঁকা প্রাণী আর উদ্ভিদের ছবির দিকে তাকিয়ে যখন সাত বছরের শিশু খুশি স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে সে নিজেই শিক্ষক হবে, তখন রুবল নাগির সাফল্যের আসল সার্থকতা যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঝরে পড়া বা পিছিয়ে পড়া শিশুদের হাত ধরে যখন ভবিষ্যতে এক শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে উঠবে, সেই স্বপ্নই প্রতিদিন তাঁকে নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগায়।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবহেলা: দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবহেলা: দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে চরম ব্যর্থতা ও দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃত দুই কর্মকর্তা হলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জোন-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জোন-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির। তারা দুজনেই উপ-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, ঈদের পর রাজধানীর হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিনরোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য এবং ময়লা দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় পড়ে ছিল। শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জরুরি দায়িত্ব পালনে এ ধরনের উদাসীনতা ও গাফিলতি বরদাশত করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশে তাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটিতে রাজধানীবাসীর ভোগান্তি কমাতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা থাকলেও, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বর্জ্য অপসারণের চিত্র ছিল হতাশাজনক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার পর নড়েচড়ে বসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাজে গতি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বার্তা দিচ্ছে সরকার। 

কেহস কালচারঃ সোশ্যাল মিডিয়ার জৌলুশ খুঁজছে বাস্তবতার স্পর্শ

কেহস কালচারঃ সোশ্যাল মিডিয়ার জৌলুশ খুঁজছে বাস্তবতার স্পর্শ

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ট্রেন্ড হলো ‘কেহস কালচার’(Chaos Culture) বা বিশৃঙ্খল বা একেবারে অপরিশোধিত জীবনকে সাদরে গ্রহণ করা। আগে ফিল্টার আর এডিটিংয়ের আড়ালে নিজেকে বা নিজের কাজকে নিখুঁত করার যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ছিল, মানুষ এখন তা থেকে মুক্তি চাইছে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে স্ক্রিপ্ট দেখে কথা বলার চেয়ে, নিজের অগোছালো ঘর বা দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো ভুল-ত্রুটিগুলো এখন বেশি এনগেজমেন্ট তৈরি করছে। এটি প্রমাণ করে যে, দর্শক এখন ‘পারফেক্ট’ কনটেন্টের চেয়ে ‘রিলেটেবল’ বা নিজের সাথে মেলানো যায় এমন কনটেন্টকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আমাদের দৈনন্দিন কাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঠিকই, তবে এর ব্যবহারিক দিকটি বদলেছে। এখন আর কেবল এআই দিয়ে সবকিছু তৈরি করে ফেলাটা মূল লক্ষ্য নয়; বরং এআইকে ব্যবহার করে মানুষের সৃজনশীলতাকে আরও ধারালো করা হচ্ছে। এআই এখন একজন ডিজিটাল সহকারীর মতো—যা ভিডিও এডিটিং বা আইডিয়া জেনারেশনে সময় বাঁচিয়ে দিচ্ছে, যাতে মূল নির্মাতা নিজের আবেগকে কনটেন্টে ঢালার জন্য সময় পাচ্ছেন। যারা কেবল এআই দিয়ে কনটেন্ট তৈরি করছেন, তাদের চেয়ে যারা এআই-কে টুল হিসেবে ব্যবহার করে মানুষের অনুভূতির সাথে মিশিয়ে ফেলছেন, তারাই এখন সফল।বাংলাদেশে বর্তমানে যে 'ক্রেয়ন স্টাইল প্রোফাইল ডিজাইন' বা হাতে আঁকা শৈল্পিক প্রোফাইল পিকচার ভাইরাল হয়েছে, তা এই পরিবর্তনেরই একটি বহিঃপ্রকাশ। নিখুঁত বা হাই-ডেফিনিশন ছবির ভিড়ে এই ক্রেয়ন আর্ট বা ডুল আর্ট স্টাইল এক ধরনের নস্টালজিয়া ও সৃজনশীলতার আরামদায়ক অনুভূতি তৈরি করছে। মানুষ এখন প্রযুক্তির উৎকর্ষের মধ্যেও সেই শৈশবের সারল্যকে খুঁজে নিতে চাইছে। এই প্রবণতাটি এটাই নির্দেশ করে যে, কনটেন্টের আড়ম্বর যত কম হবে, মানুষের সাথে সংযোগ তত বাড়বে।সোশ্যাল মিডিয়ার এই ট্রেন্ডগুলো কিন্তু একটি বার্তাই দেয়—এখন আর বড় প্ল্যাটফর্ম বা অনেক বেশি ফলোয়ারের প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট কিছু মানুষের কাছে নিজের কথা বা সৃজনশীলতা পৌঁছে দেওয়াই হলো আসল সার্থকতা। ছোট বা মাঝারি প্ল্যাটফর্মে যে এনগেজমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে, তা বৃহৎ পরিসরের প্রচারণার চেয়ে অনেক বেশি গভীর ও কার্যকর।সুতরাং, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির এই নতুন যুগে সাফল্যের চাবিকাঠি হলো—নিখুঁত হওয়ার বদলে সৎ থাকা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গতি আর মানুষের হৃদয়ের উষ্ণতাকে মিলিয়ে যারা চলতে পারবেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় তারাই হবেন আগামী দিনের প্রকৃত জয়ী।

বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শোলাকিয়ায় সম্পন্ন ১৯৯তম ঈদ জামাত

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সাক্ষী এই মাঠটি এবার যেন প্রকৃতির এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাঠের অবস্থা ছিল অনেকটা নাজেহাল, তবুও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অদম্য উৎসাহকে দমাতে পারেনি মেঘের গর্জন বা কাদামাখা পথ। সকাল নয়টায় যখন শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহর ইমামতিতে জামাত শুরু হলো, তখন আকাশটা ছিল বেশ মেঘলা। তবে দ্বিতীয় রাকাতের ঠিক আগ মুহূর্তে শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি। শরীর ভেজা, কাদায় জুবুথুবু হয়েও মুসল্লিরা তাদের পরম ইবাদত শেষ করেছেন অটুট একাগ্রতায়।জামাত শুরুর আগে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মুসল্লিদের শুভেচ্ছা জানান। বরাবরের মতো এবারও জামাত শুরুর ১০ মিনিট আগে শটগানের গুলির আওয়াজ প্রকম্পিত করে তোলে শোলাকিয়ার আকাশ। প্রথম তিনটি শটগান চালিয়ে সংকেত দেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবার ছিল চার স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ড্রোন ক্যামেরা, ওয়াচটাওয়ার, সিসিটিভি এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সমন্বয়ে আধুনিক প্রযুক্তির কড়া নজরদারিতে ছিল পুরো ঈদগাহ এলাকা। বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি ছিল গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা।ঈদুল আজহার দিনে কোরবানির ব্যস্ততার কারণে স্বাভাবিকভাবেই মুসল্লিদের সমাগম ঈদুল ফিতরের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। তবে দূরবর্তী জেলাগুলো থেকে আগত মুসল্লিদের কথা বিবেচনায় রেখে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়েছিল, যা ছিল যাতায়াতের ক্ষেত্রে এক বড় স্বস্তি। নামাজ শেষে মোনাজাতে ইমাম বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। একই সাথে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ, দেশের কল্যাণ এবং সরকার পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাফল্য কামনায় দোয়া করা হয়। সব মিলিয়ে, বৃষ্টিস্নাত এক সকালে প্রতিকূলতাকে জয় করে ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত সম্পন্ন হলো এক অনন্য আধ্যাত্মিক ও ঐতিহ্যবাহী আবহে।

বিস্তারিত

জনগণের আমানত রক্ষা করাকে নিজের প্রধান ইবাদত মনে করেন হবিগঞ্জ-৪ এর এমপি ফয়সল

ঈদের আনন্দের দিনে শান্তির বার্তার পাশাপাশি জবাবদিহিতার সুর শোনা গেল হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সলের কণ্ঠে। বৃহস্পতিবার সকালে মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া আল-আরাফাহ ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় শেষে তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের সামনে এলাকার উন্নয়ন ও সুশাসনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।জনগণের আমানত রক্ষা করাকে নিজের প্রধান ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করে এমপি ফয়সল বলেন, তার নির্বাচনি এলাকায় দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। আগের মতো বরাদ্দকৃত অর্থের হিসাব নিয়ে ধোঁয়াশা আর নেই; এবার ঈদ উপলক্ষে বরাদ্দ অর্থের স্বচ্ছ বণ্টন নিশ্চিত করা হয়েছে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি জবাবদিহিতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে দাবি করেন।এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও শান্তি বজায় রাখা নিয়ে এমপি ফয়সল স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে এবং রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে, সেজন্য প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান।মাধবপুর ও চুনারুঘাটের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কোনো কিছুই রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়, তবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ ও রাস্তাঘাটের সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে সমাধান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় গত তিন মাসে এলাকায় যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে, তা তার সততা ও সাহসেরই বহিঃপ্রকাশ।ঈদের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ঈদের শিক্ষা কেবল আনন্দ ভাগাভাগির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের মধ্যেই এর প্রকৃত সার্থকতা। ভ্রাতৃত্ববোধ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সমাজ ও মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। স্থানীয় আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ঈদগাহ প্রাঙ্গণে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করে।

বিস্তারিত

কর্মকর্তার চেয়ারে সাতক্ষীরার এমপির বসার দৃশ্য নিয়ে তোলপাড়

সরকারি অফিসের দাপ্তরিক চেয়ারে জনপ্রতিনিধির বসে পড়ার ঘটনা নতুন নয়, তবে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের ক্ষেত্রে এই দৃশ্যটি নেটদুনিয়ায় বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে দেবহাটার সখিপুর মোড় এলাকায় সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-জোনাল অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান এমপি। তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও পুলিশের কর্মকর্তারা। অফিসের কার্যক্রম খতিয়ে দেখার এক পর্যায়ে তিনি সরাসরি বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম-এর জন্য নির্ধারিত চেয়ারে গিয়ে বসেন এবং চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।মুহূর্তের মধ্যেই এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই শুরু হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একপক্ষের দাবি, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি অফিস পরিদর্শন করতে পারেন, কিন্তু সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ারে বসাটা প্রশাসনিক শিষ্টাচারবহির্ভূত। অন্যদিকে তার সমর্থকদের মতে, বিদ্যুতের বেহাল দশা ও গ্রাহক ভোগান্তি নিরসনের লক্ষ্য নিয়েই এমপি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন, তাই চেয়ারে বসার বিষয়টি নিয়ে অহেতুক জলঘোলা করা হচ্ছে।প্রশাসনিক ও আইনগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী কামরুজ্জামান ভুট্টো। তিনি মনে করেন, পদমর্যাদা ও ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্যের অবস্থান অনেক ঊর্ধ্বে হলেও সরকারি দপ্তরের পেশাদারিত্ব বজায় রাখা জরুরি। তার মতে, পরিদর্শনে গেলে সাধারণত আলাদা সম্মানজনক আসনের ব্যবস্থা করা হয়। এভাবে হুট করে কর্মকর্তার চেয়ারে বসে পড়াটা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচারের সঙ্গে খুব একটা মানানসই নয়।ঘটনাটি নিয়ে বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃপক্ষের অবস্থানে কিছুটা অস্পষ্টতা লক্ষ্য করা গেছে। এজিএম মো. মাসুম বিল্লাহর সাথে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। আবার সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আজিজুর রহমান সরকার জানান, কেন এমপি মহোদয় দাপ্তরিক চেয়ারে বসলেন, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।সংসদ সদস্যের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. নজিবুল্লাহর দাবি ভিন্ন। তিনি জানান, দেবহাটা অঞ্চলের তীব্র বিদ্যুৎ সমস্যা ও গ্রাহক হয়রানি দূর করতেই এমপি মহোদয় অফিসে গিয়েছিলেন। তার ভাষ্যমতে, এজিএম সাহেবের অনুরোধেই তিনি ওই চেয়ারে বসেছিলেন। সব মিলিয়ে সরকারি অফিসের চেয়ারে জনপ্রতিনিধির বসা নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন সাতক্ষীরার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বিস্তারিত

টর্নেডোর আঘাতে লণ্ডভণ্ড মনপুরা, দিশেহারা পরিবারগুলো

​ঈদের আনন্দ উৎসবের ঠিক আগমুহূর্তে প্রকৃতির নিষ্ঠুর আচরণে লন্ডভণ্ড হয়ে গেছে ভোলার মনপুরা উপজেলার জনপদ। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে আকস্মিক এক টর্নেডোর আঘাতে তছনছ হয়ে গেছে ১ নম্বর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু বসতবাড়ি। মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।​এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, যারা প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের কবলে পড়েছেন, তাদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে অসচ্ছল। অভাবের সংসারে টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা এই মানুষগুলোর জন্য টর্নেডোর এই আঘাত যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত। মুহূর্তের ব্যবধানে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এই পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহায়তা প্রয়োজন।

বিস্তারিত

কোরবানিকে কেন্দ্র করে ফের সক্রিয় অজ্ঞানপার্টি: প্রাণ গেল এক ব্যক্তির

২১ মে ২০২৬, ০২:১৬ এএম
কোরবানিকে কেন্দ্র করে ফের সক্রিয় অজ্ঞানপার্টি: প্রাণ গেল এক ব্যক্তির

জলবায়ু পরিবর্তন নাকি কৃত্রিম হস্তক্ষেপ

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২১ এএম
জলবায়ু পরিবর্তন নাকি কৃত্রিম হস্তক্ষেপ

রামিসা হত্যাকাণ্ডে আতঙ্কিত নগরজীবন; বিপর্যস্ত শৈশব ও অভিভাবকত্বের সংকট

২২ মে ২০২৬, ০২:২০ পিএম
রামিসা হত্যাকাণ্ডে আতঙ্কিত নগরজীবন; বিপর্যস্ত শৈশব ও অভিভাবকত্বের সংকট

অনুমোদন পেল নতুন ৫ উপজেলা সহ বগুড়া সিটি করপোরেশন

৭ মে ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
 অনুমোদন পেল নতুন ৫ উপজেলা সহ বগুড়া সিটি করপোরেশন

মরা পদ্মার বুকে পঞ্চাশ বছরের কান্না

১৬ মে ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
মরা পদ্মার বুকে পঞ্চাশ বছরের কান্না

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের

৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
ফজলুর রহমানের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের

জনআকাঙ্ক্ষা বনাম ক্ষমতার রাজনীতি

৩ মে ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
জনআকাঙ্ক্ষা বনাম ক্ষমতার রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝড়, দুই বাংলার কপালে চিন্তার ভাঁজ

৫ মে ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝড়, দুই বাংলার কপালে চিন্তার ভাঁজ

কাঁটাতারে ঝুলে আছে বাংলাদেশের মান-মর্যাদা

১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
কাঁটাতারে ঝুলে আছে বাংলাদেশের মান-মর্যাদা

ইরানের বন্দর অবরোধের জেরে ২৮টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
ইরানের বন্দর অবরোধের জেরে ২৮টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আসছে মৌসুমি বায়ু, বর্ষার বৃষ্টির আভাস

১ জুন ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
আসছে মৌসুমি বায়ু, বর্ষার বৃষ্টির আভাস

শারীরিক অসুস্থতায় মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন দীপেন দেওয়ান

১ জুন ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
শারীরিক অসুস্থতায় মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন দীপেন দেওয়ান

রামিসা হত্যা: 'ধর্ষণ করেছি আমি, খুন করেছে ডলার', আদালতে অদ্ভুত দাবি সোহেলের

১ জুন ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
রামিসা হত্যা: 'ধর্ষণ করেছি আমি, খুন করেছে ডলার', আদালতে অদ্ভুত দাবি সোহেলের

মারাকানায় গোলবন্যা: বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রস্তুতিতে নতুন সুর

১ জুন ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
মারাকানায় গোলবন্যা: বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রস্তুতিতে নতুন সুর

ঈদুল আজহার ছুটিতে সড়ক দুর্ঘটনা: প্রাণ হারালেন ৭৯ জন

১ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
ঈদুল আজহার ছুটিতে সড়ক দুর্ঘটনা: প্রাণ হারালেন ৭৯ জন

বিটিভির আনন্দমেলায় নজিরবিহীন লুটপাট: বিল বাড়াতে কারসাজি

১ জুন ২০২৬, ০৮:২৯ এএম
বিটিভির আনন্দমেলায় নজিরবিহীন লুটপাট: বিল বাড়াতে কারসাজি

মোটরসাইকেলের দামেই এবার টাটার নতুন প্রাইভেট কার

৩১ মে ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
মোটরসাইকেলের দামেই এবার টাটার নতুন প্রাইভেট কার

রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ: সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

৩১ মে ২০২৬, ১১:২৭ এএম
রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ: সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

আসিফ-হাসনাতের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

৩০ মে ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
আসিফ-হাসনাতের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

টেসলার দাপট শেষ, বৈদ্যুতিক গাড়ির সিংহাসনে এখন চীনের বিওয়াইডি

৩০ মে ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
টেসলার দাপট শেষ, বৈদ্যুতিক গাড়ির সিংহাসনে এখন চীনের বিওয়াইডি
ডেটা অ্যানালিস্টের গাণিতিক বুদ্ধি

ডেটা অ্যানালিস্টের গাণিতিক বুদ্ধি

আজকাল সব কিছুই ডেটা দিয়ে মাপা হয়। অফিসের বস এক তরুণ ডেটা অ্যানালিস্টকে নিজের দক্ষতা প্রমাণের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন।বস: বল তো দেখি, আমার কোম্পানির গ্রোথ রেট যদি প্রতি মাসে ৫% হয় এবং আমরা যদি বছরে ১০ কোটি টাকা ট্যাক্স দিই, তাহলে আমার বর্তমান বয়স কত? অ্যানালিস্ট: (এক সেকেন্ডও না ভেবে) স্যার, আপনার বয়স ঠিক ৫০ বছর। বস: (পুরো অবাক হয়ে) চমৎকার! তুমি তো দেখছি জাদুকর! আমার ট্যাক্স ফাইল আর গ্রোথ রেট ক্যালকুলেশন করে নির্ভুল বয়স বের করে ফেললে? কীভাবে করলে?  অ্যানালিস্ট: আরে না স্যার, ওসব কোনো ব্যাপার না। আসলে আমার এক ভাই আছে, ও 'আধা' ফাঁকিবাজ, ওর বয়স ২৫। আর আপনি অফিসের সবাইরে যেভাবে খাটান, তাতে আপনি 'পুরা' ফাঁকিবাজ। তাই আপনার বয়স ২৫ এর ডাবল—৫০ বছর!