সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপ, চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

উত্তর বঙ্গোপসাগরে নতুন করে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে সংস্থাটি বলছে, এই লঘুচাপ নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টিপাত কিছুটা বাড়লেও চলতি মাসের শুরুতে হওয়া টানা ভারী বর্ষণের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম।সোমবার সকালে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-ওডিশা উপকূলসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস।এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশনা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ জানান, লঘুচাপের প্রভাবে সাগর কিছুটা উত্তাল থাকতে পারে। তবে এটি নিম্নচাপে রূপ নেবে না। সর্বোচ্চ সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে পরে ভারতের ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, এই সিস্টেমের প্রভাবে আগামী শুক্রবার ও শনিবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের কোথাও অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।এর আগে ৫ জুলাই সৃষ্ট একটি নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত শুরু হয়। প্রবল বর্ষণে অন্তত ১১ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১২ জুলাইয়ের মধ্যেই চলতি মাসে স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭৯ শতাংশ রেকর্ড হয়েছে।আবহাওয়াবিদদের মতে, নতুন লঘুচাপের কারণে বৃষ্টিপাত কিছুটা বাড়লেও আগের দফার মতো দীর্ঘস্থায়ী বা ব্যাপক ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা আপাতত নেই।

সংবিধান ইস্যুতে বিশেষ কমিটি বনাম সংস্কার পরিষদে রাজনৈতিক অচলাবস্থা

সংবিধান সংস্কারকে ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থান আরও মুখোমুখি হয়ে উঠেছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে সরকার বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংশোধনী আনার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দল এই প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে এবং আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংসদ গঠিত বিশেষ কমিটি রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশ তৈরি করবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে।সোমবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী কমিটিতে সদস্য থাকার কথা ছিল ১৭ জনের। বিরোধী দলকে পাঁচজনের নাম দিতে বলা হলেও তারা তা না দেওয়ায় পাঁচটি পদ আপাতত শূন্য রাখা হয়েছে।কমিটিতে বিএনপির আটজন সংসদ সদস্যের পাশাপাশি গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. অলিউল্লাহকে রাখা হয়েছে।তবে মো. অলিউল্লাহ জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, কমিটি গঠনের সময় তিনি সংসদে উপস্থিত ছিলেন না এবং পরে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন।ইসলামী আন্দোলনের এই সংসদ সদস্য বলেন, তাঁদের দল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষেই রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ যে মত দিয়েছেন, তা উপেক্ষা করা যায় না। সরকারের বর্তমান অবস্থান জনগণের সেই রায়ের প্রতি অমর্যাদা প্রদর্শনের শামিল।সংসদে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমানও বিশেষ কমিটির বিরোধিতা করে বলেন, তাঁরা সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। তাই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার থেকে বিশেষ কমিটির প্রস্তাব মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জনগণের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন হওয়া উচিত। সরকার যদি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসার বৈধতা গ্রহণ করে, তবে গণভোটে দেওয়া সংবিধান সংস্কারের রায়কেও সম্মান জানাতে হবে। অন্যথায় রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি সতর্ক করেন।সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিধান যুক্ত করতে হলেও আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার পরই পরবর্তী সাংবিধানিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। তাঁর মতে, এ বিষয়ে আলোচনার যথাযথ ক্ষেত্র হলো সংসদের বিশেষ কমিটি।এর আগে ২৯ এপ্রিল আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। তখনও বিরোধী দলকে সদস্য মনোনয়নের আহ্বান জানানো হলেও তারা এতে অংশ নেয়নি।বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া রাষ্ট্রব্যবস্থায় মৌলিক ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, সরকার সেই পথ এড়িয়ে গিয়ে দেশকে নতুন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান।বিরোধী জোটের নেতারা জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিবাদ শুধু সংসদে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সংসদের ভেতরে বিশেষ কমিটির বিরোধিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গণভোটের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন জাতীয় অঙ্গীকারে পরিণত হয়েছিল। সরকারের বর্তমান অবস্থান সেই অঙ্গীকার থেকে সরে আসার শামিল। তাই সংসদের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়েও আন্দোলন সংগঠিত করা হবে।জামায়াতের আরেক সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান প্রশ্ন তোলেন, অতীতে সংবিধান সংশোধনের সময় বিশেষ কমিটির প্রয়োজন হয়নি, এবার কেন হলো। তাঁর দাবি, আগের একাধিক সংশোধনী আদালতে বাতিল হয়েছে। সে অভিজ্ঞতা থেকেই বিরোধী দল মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য আলাদা সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।বিশেষ কমিটি গঠনের সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনও। এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গণভোটে জনগণ মৌলিক সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। সেই রায় উপেক্ষা করে সরকার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে।বর্তমান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংবিধান পরিবর্তনের দুই ভিন্ন পদ্ধতি। সরকার বিদ্যমান সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সংশোধনী আনার পক্ষে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিরোধী জোটের দাবি, জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে পৃথক সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সেখানে প্রস্তাবিত সাংবিধানিক পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের মতে, এটি কেবল সংবিধান সংশোধনের বিষয় নয়; বরং রাষ্ট্রের মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারের প্রশ্ন।

আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ, সরকারের আশ্বাস

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তুমুল আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দল আওয়ামী লীগের দলগত বিচার দ্রুত শুরু, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর এবং তাকে আশ্রয় দেওয়া ভারতের বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান জানানোর দাবি জানিয়েছে। জবাবে সরকার জানিয়েছে, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণের সুযোগ নয়, সরাসরি গ্রেপ্তার করা হবে।মঙ্গলবার সংসদে বিধি-৬৮ অনুযায়ী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ বিষয়ে জরুরি জনস্বার্থে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ বিষয়ে নোটিশ দেন এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে সরকার আন্তরিক। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে আইন প্রণয়নে সরকারই উদ্যোগ নিয়েছে এবং সংসদে তা পাস করতেও ভূমিকা রেখেছে। তাঁর ভাষায়, আওয়ামী লীগের বিচার দাবি তিনিই প্রথম সংসদে উত্থাপন করেছিলেন।সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। সেই রায়ের প্রতি সম্মান জানাতে হলে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নিয়ে আলোচনা করা উচিত ছিল। কিন্তু বিরোধী দল কমিটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে যেন দেশে আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সে লক্ষ্যেই সংবিধান ও রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করা হবে। এছাড়া বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে আহত জুলাই যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রতিবেশী দেশকে বদলানো যায় না। তাই জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতেই সরকার এগোচ্ছে বলে তিনি জানান।শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাগিদ দিচ্ছে। বিভিন্ন মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আরও কয়েকজন আসামিকেও ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই।বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই ছিল দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছরের নিপীড়নের চূড়ান্ত পরিণতি। এই সময়ে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার মানুষের বিচার নিশ্চিত না হলে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে। তিনি বলেন, বিচার হতে হবে দ্রুত, তবে অবশ্যই ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের একটি বড় অংশের গণমাধ্যম অতীতে স্বৈরাচারকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছিল। এখনো তারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি করে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ জানতে চান। সীমান্ত ইস্যুতেও সরকারের আরও দৃঢ় অবস্থান প্রত্যাশা করেন তিনি।আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৬টি তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে, চারটি মামলায় অভিযোগ গঠন এবং তিনটি মামলায় রায় হয়েছে। শাপলা চত্বরের ঘটনার তদন্তও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে এবং জুলাই হত্যাকাণ্ড নিয়ে জেলা পর্যায়ে তদন্ত বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি বলেন, দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের বক্তব্য এলেও বাংলাদেশের আইনে দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই। তিনি দেশে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেপ্তার হবেন—এটি সরকারের অঙ্গীকার।এনসিপির চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, যে রাজনৈতিক দল দুই দফা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে গণহত্যা, গণতন্ত্র ধ্বংস এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে, সেই আওয়ামী লীগের দলগত বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হওয়া উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এবং আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার চালিয়েছে। এমনকি সরকারের কিছু সদস্যের বক্তব্যেও সেই বয়ানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন প্রসিকিউশন টিম এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। দক্ষ আইনজীবী নিয়োগ এবং ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনাও জানতে চান তিনি।আলোচনার সূচনা করা আখতার হোসেন বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। তাই শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত শাস্তি কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরুর জন্য সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।গণ-অধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য নূরুল হক বলেন, ফ্যাসিবাদের বিচার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো স্বৈরাচারী শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে গণবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে জন্য আওয়ামী লীগের দলগত বিচার প্রয়োজন। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়েও সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট নীতিগত সমঝোতার আহ্বান জানান তিনি।আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম ও রোকেয়া বেগমও অংশ নেন।

বিক্ষোভের মুখে এইচএসসি নিয়ে নতুন ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে থাকা দুটি ভুল প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে বন্যা বা দুর্যোগের কারণে যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে পৃথক দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।মন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি ছিল। তাই ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থী পূর্ণ নম্বর পাবেন। পাশাপাশি যেসব কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণে অনিয়ম বা বড় ধরনের সমস্যা হয়েছে, সেসব বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষারও ব্যবস্থা রয়েছে।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। কীভাবে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায় এবং দুর্যোগের প্রভাব মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।সোমবার প্রবল বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেই দেশের বেশির ভাগ শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্য সব বোর্ডে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হয়।বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদে ব্যাখ্যা দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, পরীক্ষা শুরুর আগে ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকার তথ্য পাওয়ার পরই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।তবে সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে নিরাপদ ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। যেসব শিক্ষার্থী অসুবিধায় পড়েছিলেন, তাদের অতিরিক্ত সময়সহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।মন্ত্রী আরও বলেন, কোনো এলাকায় দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব না হলে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কেন্দ্র পরিবর্তন বা পরীক্ষা স্থগিতের ক্ষমতা রয়েছে। কোথাও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশনের কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। তারপরও ভুল শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞানের দুটি প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে একই অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশে প্রায় ২৫ হাজার কওমি মাদ্রাসায় প্রায় ৭০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন এবং এবতেদায়ি মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।

তিন দাবিতে শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের

টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। সড়ক অবরোধের পর তারা মিছিল নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা ঘেরাও করেন।মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে ‘২০২৬ ব্যাচ এইচএসসি পরীক্ষার্থী’ ব্যানারে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন। সেখানে কিছু সময় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন শেষে তারা মিছিল নিয়ে নীলক্ষেত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।মিছিলটি দুপুর প্রায় ১২টা ৫৫ মিনিটে ভিসি চত্বরের পূর্ব পাশে পৌঁছালে পুলিশ তাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ গেট দিয়ে বের হয়ে পলাশী মোড় হয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থানকালে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবিগুলো হলো—দেশের দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ।এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘দফা এক, দাবি এক—মিলনের পদত্যাগ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষামন্ত্রীকে লক্ষ্য করেও নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো শোনা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

বঙ্গোপসাগরে চীনের নতুন করিডোর: বাংলাদেশের বাস্তবতা ও কৌশলগত পথ

রাখাইনের কিয়াউকফিউ বন্দর ঘিরে ভারত মহাসাগরে আধিপত্য বিস্তারের যে কৌশল বেইজিং নিয়েছে, তাতে প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় করিডরে যুক্ত হওয়ার আগে ঢাকাকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিগুলো মূল্যায়ন করতে হবে।মিয়ানমারের রাখাইন উপকূলে কিয়াউকফিউ নামের ছোট্ট একটি বন্দর। বাইরে থেকে দেখলে একে নিতান্তই সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু সত্যি বলতে, এই একটি বন্দর ঘিরেই এখন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক দাবা খেলাটি চলছে। চীনের কাছে এটি নিছক পণ্য ওঠানো-নামানোর জায়গা নয়; বরং এটি ভারত মহাসাগরে সরাসরি পা রাখার সবচেয়ে নিরাপদ দরজা। আর এই দরজার পোশাকি নাম হলো চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর বা সিএমইসি।একটু তলিয়ে দেখলে বুঝবেন, একবিংশ শতাব্দীর অর্থনীতিতে টিকে থাকার লড়াইয়ে সড়ক ও রেল যোগাযোগের চেয়ে বড় কোনো কৌশলগত হাতিয়ার আর নেই। চীনের উচ্চাভিলাষী ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ বা বিআরআই-এর সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ হলো এই করিডোর। চীনের কুনমিং থেকে শুরু হয়ে মিয়ানমারের বুক চিরে সোজা বঙ্গোপসাগরে এসে মিশেছে এই পথ। কেন এই বিপুল বিনিয়োগ? সহজ উত্তর হলো, মালাক্কা প্রণালির ওপর বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমানো। যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের সঙ্গে কখনো সংঘাত বাধলে ওই সরু মালাক্কা প্রণালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এই ভয় চীনের সবসময়ের। তাই কিয়াউকফিউ বন্দর দিয়ে সরাসরি তেল ও গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে নিজেদের দেশে নেওয়ার এই বিকল্প পথটি তাদের জন্য আক্ষরিক অর্থেই লাইফলাইন।আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও আমাদের শিক্ষনীয়আমাদের নিজেদের প্রেক্ষাপট বোঝার আগে আন্তর্জাতিক দিকে একটু চোখ ফেরানো দরকার। এ ধরনের বৃহৎ অর্থনৈতিক করিডরের মডেল পৃথিবীতে নতুন নয়। আমরা যদি পাকিস্তানের দিকে তাকাই, সেখানে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) অধীনে গাদর বন্দর গড়ে তোলা হয়েছে। শুরুতে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বলা হলেও, বাস্তবতা হলো পাকিস্তান এখন বিশাল ঋণের বোঝায় ধুঁকছে এবং ওই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কেবল বেড়েছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরের পরিণতি আমাদের সবার জানা। ঋণের কিস্তি শোধ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত বন্দরটির নিয়ন্ত্রণই বেইজিংয়ের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়েছে কলম্বো।এই দুটি দেশের অভিজ্ঞতা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, পরাশক্তির বড় বিনিয়োগ সব সময় কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক মুক্তি আনে না। বরং অনেক ক্ষেত্রেই তা ঋণফাঁদ এবং কৌশলগত পরাধীনতার জন্ম দেয়। তাই চীনের নতুন কোনো করিডরে যুক্ত হওয়ার আগে এই আন্তর্জাতিক উদাহরণগুলো আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা।বাংলাদেশের বাস্তবতা ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার আসা যাক আমাদের নিজেদের স্বার্থ  সংশ্লিষ্ট বিষয়ে, গত জুন মাসে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি সফরের সময় এই করিডোরের আলোচনায় একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। চীন প্রস্তাব দিয়েছে, মিয়ানমারের এই করিডোরটি বাংলাদেশ পর্যন্ত সম্প্রসারণ করে একটি ত্রিপক্ষীয় ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ বা সিএমবিইসি গড়ে তোলার। প্রস্তাবটি শুনতে বেশ আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর যুক্ত হলে আমাদের বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, চীনের ইউনান প্রদেশ ও মিয়ানমারের বাজারে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু আমাদের স্থানীয় বাস্তবতা আসলে কতটা অনুকূল?প্রথমত, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এখন চরম বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে। রাখাইন রাজ্যসহ করিডোরটির বড় অংশই এখন জান্তা সরকারের হাতছাড়া। সেখানে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে তীব্র গৃহযুদ্ধ চলছে। এই অস্থিতিশীলতার ভেতর দিয়ে একটি নিরাপদ বাণিজ্যিক পথ তৈরি করা প্রায় অসম্ভব। দ্বিতীয়ত, আমাদের ঘাড়ে চেপে আছে রোহিঙ্গা সংকটের মতো একটি বিশাল বোঝা। মিয়ানমার যতক্ষণ না এই সংকটের সম্মানজনক সমাধান করছে, ততক্ষণ তাদের সঙ্গে কোনো বহুমাত্রিক ট্রানজিট বা অর্থনৈতিক চুক্তিতে যাওয়াটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।এর পাশাপাশি রয়েছে বড় শক্তিগুলোর স্নায়ুযুদ্ধ। বঙ্গোপসাগরে চীনের এই আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকে ভারত কখনোই ভালোভাবে নেবে না। কারণ, তারা এটিকে নিজেদের ঘিরে ফেলার কৌশল হিসেবেই দেখছে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ভারতও কালাদান প্রকল্পের মতো নিজস্ব অবকাঠামো নিয়ে এগোচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের কোয়াড মিত্ররাও ভারত মহাসাগরে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য ঠেকাতে মরিয়া। বাংলাদেশ যদি তড়িঘড়ি করে এই করিডরে যুক্ত হয়, তবে আমরা খুব সহজেই এই বৃহৎ শক্তিগুলোর রেষারেষির মাঝখানে চাপা পড়ে যাব।আমাদের করণীয় ও নীতি-প্রস্তাব তাহলে বাংলাদেশের পথ কোনটি? ভূরাজনীতিতে আবেগ বা তাড়াহুড়োর কোনো জায়গা নেই। আমাদের এগোতে হবে অত্যন্ত সুচিন্তিত এবং ধাপে ধাপে।আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত একটি স্বাধীন ও অত্যন্ত কঠোর অর্থনৈতিক সমীক্ষা পরিচালনা করা। প্রস্তাবিত করিডরে যুক্ত হলে আমাদের প্রকৃত অর্থনৈতিক লাভ কতটা হবে এবং ঋণের শর্তগুলো কেমন, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ ছাড়া কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করা যাবে না। আন্তর্জাতিক বাজারের অতীত অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে ঋণের ফাঁদে যেন আমরা পা না দিই, সেটি নিশ্চিত করাই হবে প্রধান কাজ।দ্বিতীয়ত, আমাদের স্পষ্ট নীতিগত অবস্থান নিতে হবে যে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারের সঙ্গে নতুন কোনো বৃহৎ অর্থনৈতিক সংযুক্তিতে ঢাকা জড়াবে না। করিডর সম্প্রসারণের এই চীনা প্রস্তাবটিকে আমরা বরং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বেইজিংকে দিয়ে নেপিদোর ওপর চাপ প্রয়োগের একটি কার্যকর কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারি।তৃতীয় এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল পদক্ষেপটি হলো ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখা। আমাদের বন্দরগুলো যেন কোনো নির্দিষ্ট পরাশক্তির একক ব্যবহারের ক্ষেত্র না হয়ে ওঠে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন—এই তিন শক্তিকেই বোঝাতে হবে যে বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশল সবার জন্য উন্মুক্ত, কিন্তু তা কোনোভাবেই কারও সামরিক বা কৌশলগত আধিপত্যের হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না। ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা পরিশেষে এটুকু বলা যায়, একুশ শতকের অর্থনীতিতে কানেক্টিভিটি বা সংযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর আঞ্চলিক বাণিজ্যের একটি নতুন দরজা খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা যেমন রাখে, ঠিক তেমনি এর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে ভূরাজনৈতিক দাবানলের ঝুঁকি। একটি উদীয়মান অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশ এই সুযোগ পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারে না, আবার অন্ধের মতো এতে ঝাঁপিয়েও পড়তে পারে না। আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আমরা কতটা দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে এই বৈশ্বিক রেষারেষি মোকাবিলা করতে পারি। আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে আমাদের অত্যন্ত ধীরস্থির, প্রজ্ঞাবান ও বাস্তবমুখী হতে হবে। কারণ, কূটনীতির এই টেবিলে একটি ভুল চাল আমাদের দীর্ঘমেয়াদি মাশুল গুনতে বাধ্য করতে পারে।

এম কে আই কানন খান

ইতিহাস কি আবার পারস্যের দিকেই ফিরছে?

ইতিহাসে এমন কিছু জাতি আছে, যাদের শক্তি কেবল সামরিক সক্ষমতা বা অর্থনৈতিক প্রভাব দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। তাদের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে সভ্যতার স্মৃতি, জাতীয় আত্মপরিচয় এবং দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায়। পারস্য—আজকের ইরান—সেই বিরল উদাহরণগুলোর একটি। বহু সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের সাক্ষী এই ভূখণ্ড আজও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির অন্যতম নির্ধারক শক্তি।ইরানের সমর্থকদের কাছে দেশটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আত্মমর্যাদাবোধ। তাদের বিশ্বাস, বহিরাগত চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিংবা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা—কোনোটিই ইরানকে তার মৌলিক অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি। সমালোচকেরা এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত না হলেও এটুকু অস্বীকার করা কঠিন যে, গত চার দশকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক সমীকরণে ইরান একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে।এই বাস্তবতার কেন্দ্রে রয়েছে আয়াতুল্লাহ খোমেনির রেখে যাওয়া রাজনৈতিক উত্তরাধিকার। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ছিল না; এটি ছিল মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার রাজনীতিতে একটি নতুন আদর্শিক অধ্যায়ের সূচনা। সেই বিপ্লবের পর থেকে ইরানকে ঘিরে সমর্থন ও বিরোধিতা—উভয়ই সমানভাবে তীব্র হয়েছে।খোমেনির মৃত্যু তাঁর রাজনৈতিক প্রভাবের অবসান ঘটিয়েছে—এমনটি বলা কঠিন। ইতিহাসে বহু নেতার মতোই মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকার নতুন করে মূল্যায়িত হচ্ছে। সমর্থকদের কাছে তিনি প্রতিরোধ, স্বাধীন সিদ্ধান্ত এবং জাতীয় মর্যাদার প্রতীক। অন্যদিকে সমালোচকেরা তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে খোমেনিকে ঘিরে বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি; বরং সময়ের সঙ্গে তা আরও বিস্তৃত হচ্ছে।ভবিষ্যতের পৃথিবী সম্ভবত একক পরাশক্তির বিশ্ব থাকবে না। বহুমেরুকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় ইরানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা, কৌশলগত বাণিজ্যপথ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আদর্শিক রাজনীতির প্রশ্নে ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেই পারে।তবে ভবিষ্যৎ ইতিহাস কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তা আজ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ইতিহাসের আদালত আবেগ নয়, দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা, অর্জন, ব্যর্থতা এবং মানবিক প্রভাবের সমন্বিত বিচার করে রায় দেয়। তাই আয়াতুল্লাহ খোমেনির উত্তরাধিকারও আগামী প্রজন্ম নতুন প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করবে।একটি বিষয় অবশ্যই স্পষ্ট—ইরানকে উপেক্ষা করে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কল্পনা করা কঠিন। আর খোমেনিকে বাদ দিয়ে আধুনিক ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাস লেখা প্রায় অসম্ভব। তিনি শেষ পর্যন্ত ইতিহাসে কী পরিচয়ে স্মরণীয় হবেন, তার চূড়ান্ত উত্তর দেবে সময়। তবে এতটুকু বলা যায়, তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার আগামী বহু বছর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভূরাজনীতি এবং রাষ্ট্রচিন্তার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়েই থাকবে।

ফখরুল ইসলাম রাজীব

মিয়ানমার হয়ে চীনে সরাসরি রেল ও সড়কপথ: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে চীন-করিডোর

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও বাণিজ্য কৌশলে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। চীনের প্রস্তাবিত নতুন এই কানেক্টিভিটি প্রকল্প—যা মিয়ানমারের বুক চিরে চীনের সঙ্গে সরাসরি রেল ও সড়কপথের সংযোগ স্থাপন করবে—তা বাস্তবায়িত হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি ও পর্যটন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর আওতাভুক্ত এই করিডোরটিকে অনেকেই তাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখছেন।বুলেট ট্রেনে চীনের পথেচীনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে গড়ে উঠবে সরাসরি রেল ও সড়ক নেটওয়ার্ক। বুলেট ট্রেনের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫০ কিলোমিটার হলে বাংলাদেশ থেকে মাত্র ৫-৬ ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হবে চীনের মূল ভূখণ্ডে। সড়কপথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা চালু হলে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পণ্য আনা-নেওয়া করা যাবে। আধুনিক লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইনের এই সক্ষমতা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন পথ খুলে দেবে। পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ভারত-নির্ভরতা কমিয়ে চীনের বিশাল সোর্সিং মার্কেটে সরাসরি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হলে ব্যবসায়িক খরচ অনেক কমে আসবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারে।রপ্তানির নতুন দুয়ারএই করিডোর শুধুমাত্র আমদানির পথ প্রশস্ত করবে না, বরং বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যকে বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। ভিয়েতনামের দিকে তাকালেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়। গত অর্থবছরে ভিয়েতনাম চীনে রপ্তানি করেছে ৬১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যার একটি বড় অংশই কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য। বাংলাদেশও যদি একইভাবে চীনের বাজারে কৃষি ও মৎস্যজাত পণ্য নিয়ে প্রবেশ করতে পারে, তবে রপ্তানি আয়ের খাতা দ্রুত বড় হবে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ থেকে আম রপ্তানি শুরু হয়েছে এবং কাঁঠালসহ অন্যান্য কৃষি পণ্য নিয়ে নতুন করে চুক্তি হয়েছে। কুঁচিয়া, কাঁকড়া ও চিংড়ির মতো উচ্চমূল্যের পণ্যগুলো সরাসরি চীনের বাজারে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন উৎস তৈরি হবে।আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুএই করিডোরটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ শুধু চীনের সঙ্গেই নয়, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গেও শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ পাবে। লাওস, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার সহজতর হবে। এটি দক্ষিণ এশীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভারতকে ছাড়িয়ে বাণিজ্যের নতুন মেরুকরণে দেশ একটি শক্ত অবস্থানে চলে আসবে।চিকিৎসা ও পর্যটনে বিপ্লবসাধারণ মানুষের যাতায়াত ও সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই করিডোর বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারত-নির্ভর চিকিৎসা ও পর্যটন ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষ খুব সহজেই চীনের আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও পর্যটন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা জটিলতায় অনেকেই বিকল্প হিসেবে চীনকে বেছে নিচ্ছেন। এই যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হলে সাধারণ নাগরিকের জন্য যাতায়াত খরচ ও সময়—দুটোই সাশ্রয় হবে। এটি ভারতের পর্যটন ও চিকিৎসা ব্যবসার ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কমাবে এবং একটি প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি করবে।বাস্তবায়নের গুরুত্ববিআরআই প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘমেয়াদী এই কানেক্টিভিটি কেবল একটি স্বপ্ন নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশের টিকে থাকার বড় অস্ত্র। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের সমন্বয়ে এই প্রকল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে। চীন-বাংলাদেশ এই করিডোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্যের নতুন মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে, যা বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি শক্তিশালী লজিস্টিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। এ প্রকল্পটি এখন কেবল সময়ের দাবি।

ফখরুল ইসলাম রাজীব

৫০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি: শুধুই কি পরিসংখ্যানের সাফল্য?

বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। স্বাধীনতার পর যে দেশটিকে একসময় দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ ও অনুন্নয়নের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো, সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির কাতারে নিজের অবস্থান শক্ত করেছে। এই দীর্ঘ পথচলা কোনো একক খাতের অবদান নয়; বরং কৃষক, শ্রমিক, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল আজকের এই বাংলাদেশ।তবে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের এই অর্থনীতি কেবল উদযাপনের বিষয় নয়, এটি একটি বড় দায়িত্বেরও সূচনা। অর্থনীতি যত বড় হয়, প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জও সেই হারে বৃদ্ধি পায়। উন্নয়নের আসল মানে কেবল জিডিপির আকার নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকারগুলোর সহজলভ্যতা। প্রবৃদ্ধি তখনই অর্থবহ হয়, যখন এর সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়।অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তিবাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক অগ্রগতির পেছনে কিছু খাত শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে:তৈরি পোশাক শিল্প: দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে এই খাত লাখো মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছে এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান শক্তিশালী করেছে।রেমিট্যান্স: প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অন্যতম প্রধান উৎস।কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি: খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির শক্তিশালী ভূমিকা দেশের ভিত্তিকে মজবুত করেছে।সেবা খাত: তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবহন ও ব্যাংকিং খাতের প্রসার নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।আগামীর চ্যালেঞ্জ ও আর্থিক শৃঙ্খলাএত বড় অর্থনীতি পরিচালনার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী আর্থিক কাঠামো, কিন্তু বর্তমানে দেশের সামনে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, খেলাপি ঋণ ও সুশাসনের অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি বড় অর্থনীতি কেবল দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থার ওপর ভর করে টিকে থাকতে পারে না। তাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন:ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা।ঋণ প্রদানে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রভাবের অবসান ঘটানো।খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।অর্থপাচার বন্ধে শক্তিশালী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা।ভবিষ্যৎ পথচলা: নতুন কর্মপরিকল্পনাবিশ্ব অর্থনীতি এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি ও উচ্চ দক্ষতাভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা মূল চালিকাশক্তি হবে। তাই শুধু কম খরচের শ্রমনির্ভর শিল্প দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী অগ্রগতি ধরে রাখা কঠিন হবে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের করণীয় হলো:প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নে জোর দেওয়া।গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানো।দক্ষ মানবসম্পদ ও কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করা।রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা।বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার বিপুল জনসংখ্যা, তবে তাদের আধুনিক ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা গেলেই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। ৫০০ বিলিয়ন ডলার থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের পথে যাত্রার এই মাহেন্দ্রক্ষণে, পরবর্তী লক্ষ্য হওয়া উচিত টেকসই প্রবৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমেই কেবল এই মাইলফলকের সার্থকতা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

ইরানের নতুন কৌশলে হরমুজের পর বন্ধ হতে যাচ্ছে বাব–এল-মান্দেব

হরমুজের পর বাব–এল-মান্দেব: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এখন আর শুধু ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান হামলা কিংবা সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যুদ্ধের নতুন ভাষা হয়ে উঠছে কৌশলগত সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ। হরমুজ প্রণালিতে চাপ সৃষ্টি করার পর এবার লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব–এল-মান্দেবকে ঘিরেও নতুন সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল আরেকটি সামরিক হুমকি নয়; বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহকে কেন্দ্র করে ইরানের বৃহত্তর কৌশলের অংশ।সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান জোরদার হওয়ার পাশাপাশি ইয়েমেনে হুতি বাহিনীর হামলাও বেড়েছে। এই দুই ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখছেন না মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, তেহরান এখন সংঘাতের ভৌগোলিক পরিধি বাড়িয়ে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে, যেখানে যুদ্ধক্ষেত্র শুধু ইরানের সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বিশ্বের প্রধান জ্বালানি করিডোরগুলোও এর অংশ হয়ে উঠবে।সমুদ্রপথ কেন ইরানের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্রসামরিক শক্তির বিচারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করা ইরানের পক্ষে সহজ নয়। কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থান তাকে এমন একটি কৌশলগত সুবিধা দিয়েছে, যা বহু বছর ধরে তেহরানের অন্যতম বড় হাতিয়ার।বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। অন্যদিকে বাব–এল-মান্দেব প্রণালি সংযুক্ত করেছে লোহিত সাগর, সুয়েজ খাল ও ভারত মহাসাগরকে। এ পথ দিয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ তেল, গ্যাস ও পণ্য পরিবহন হয়।ফলে এই দুটি প্রণালিতে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তেলের দাম বৃদ্ধি, জাহাজ চলাচলে বিলম্ব, বীমা ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন—সবকিছুর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিশ্বের ভোক্তাদের কাছেই পৌঁছায়।হুতিদের ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ইয়েমেনের হুতি আন্দোলন ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে, তারা লোহিত সাগরের নৌপথে চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতা রাখে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর তারা একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। এর ফলে বিশ্বের বৃহৎ শিপিং কোম্পানিগুলোকে সুয়েজ খাল এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে চলাচল করতে হয়। এতে পরিবহন সময় ও ব্যয়—দুই-ই বেড়ে যায়।এবার হুতিদের পক্ষ থেকে বাব–এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি নতুন করে সেই আশঙ্কাকেই সামনে এনেছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, হুতি নেতা মোহাম্মদ আল-ফারাহ বলেছেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখলে তাঁরা বাব–এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করতে প্রস্তুত। তাঁর দাবি, এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।যদিও এই ধরনের মূল্য পূর্বাভাস নিশ্চিতভাবে বাস্তবায়িত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই, তবে বাজারে আতঙ্ক তৈরি করার জন্য এমন বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।চাপের নতুন সমীকরণমধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক ফাওয়াজ গেরগেসের মতে, তেহরান এখন ওয়াশিংটনকে এমন একটি বার্তা দিতে চাইছে যে, সংঘাতের মূল্য শুধু ইরানকে নয়, পুরো বিশ্বকেই দিতে হবে।এ কৌশলের মূল দর্শন হলো—যদি ইরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়ানো হয়, তাহলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়বে। অর্থাৎ যুদ্ধের খরচ শুধু যুদ্ধরত পক্ষের নয়; বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও বর্তাবে।এই কারণেই অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরান এখন সরাসরি সামরিক শক্তির বদলে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশলকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের চেয়ে বড় উদ্বেগনিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়। বরং ধাপে ধাপে সংঘাতের বিস্তার।আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে একে বলা হয় 'মিশন ক্রিপ'—যেখানে কোনো পক্ষই শুরুতে সর্বাত্মক যুদ্ধ চায় না, কিন্তু প্রতিটি পাল্টা পদক্ষেপ সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে তোলে। একসময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখান থেকে পিছু হটা কঠিন হয়ে পড়ে।মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান বাস্তবতা অনেকটাই সেই দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।কূটনীতির সময় কি ফুরিয়ে আসছে?যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক শান্তি আলোচক ডেনিস রস মনে করেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কীভাবে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা যায়, যাতে ইরান আবার আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে এবং শুধু আলোচনায় বসাই নয়, একটি বাস্তবসম্মত সমঝোতায় পৌঁছানোর আগ্রহও দেখায়।অন্যদিকে সৌদি আরবভিত্তিক গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আবদুলআজিজ সাগেরের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো ক্রমেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তারা এটাও উপলব্ধি করছে, সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে এর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত মূল্য পুরো অঞ্চলকেই দিতে হবে।বিশ্ব অর্থনীতির সামনে নতুন অনিশ্চয়তাহরমুজ ও বাব–এল-মান্দেব—এই দুটি প্রণালি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতির অংশ নয়; এগুলো বৈশ্বিক অর্থনীতিরও অন্যতম প্রাণরেখা।যদি এই দুই সমুদ্রপথ একই সময়ে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে, তাহলে শুধু তেলের দামই বাড়বে না; বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও তার সরাসরি প্রভাব পড়বে।ফলে বর্তমান সংঘাতের গুরুত্ব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ধীরে ধীরে এমন এক বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিচ্ছে, যার প্রভাব বিশ্বের প্রায় প্রতিটি অর্থনীতিতে অনুভূত হতে পারে।এ কারণেই অনেক বিশ্লেষকের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের ঘটনাপ্রবাহ নয়, হরমুজ ও বাব–এল-মান্দেবকে ঘিরে নেওয়া রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে এবং বিশ্ব অর্থনীতি তার কী মূল্য দেবে।

আল-আরাফাহ ব্যাংকের পর্ষদে ফিরলেন উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডাররা

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনে ১৪ জন উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারকে নতুন করে পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে আগে থেকে দায়িত্বে থাকা পাঁচ স্বতন্ত্র পরিচালকসহ ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে।বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।তিনি জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে পাঁচ সদস্যের স্বতন্ত্র পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে ব্যাংকটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। তবে আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের সক্রিয় উপস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাদের আবারও পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।আরিফ হোসেন খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে ১৬টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছিল, তার মধ্যে আল-আরাফাহ ব্যাংকের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে উন্নত হয়েছে। অন্য কয়েকটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা পরিচালকদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু আল-আরাফাহ ব্যাংকের উদ্যোক্তারা সক্রিয় থাকায় তাদের আবার পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।নতুন উদ্যোক্তা পরিচালকদের মধ্যে কেডিএস গ্রুপের তিনজন রয়েছেন। তারা হলেন— কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ এবং কেডিএস টেক্সটাইলের প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এছাড়া কেওয়াই স্টিল মিলের প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে রয়েছেন শরিফ উদ্দিন তসলিম।পর্ষদের অন্য নতুন সদস্যরা হলেন— বদিউর রহমান, মো. এনায়াত উল্লা, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, মো. রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, মোহাম্মদ আবদুস সালাম এবং লিয়াকত আলী চৌধুরী।এদিকে বর্তমান স্বতন্ত্র পরিচালকরা— খাজা শাহরিয়ার, মো. শাহীন উল ইসলাম, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, ড. এম আবু ইউসুফ এবং মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান— নতুন পর্ষদেও দায়িত্ব পালন করবেন।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পুনর্গঠিত ১৯ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ নিজেদের মধ্য থেকে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন করবে।

রামমূর্তি বিতর্কে অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে চার দিনের রিমান্ডে হরিদাস তরণী

গাইবান্ধায় বিশাল আকৃতির একটি রামমূর্তি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে অর্থপাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে রোববার রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা থেকে তাকে আটক করা হয়।সোমবার তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে তদন্তকারী সংস্থা। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন, যাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়।সিআইডির দায়ের করা মামলায় হরিদাসের বিরুদ্ধে দেশি ও বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা তার বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমের উৎস ও বৈধতা খতিয়ে দেখছেন।গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্যরামচন্দ্রপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম হরিদাসের। তাকে গ্রেফতারের পর সিআইডি জানায়, তিনি ২০০৬ সালে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে এইচএসসি পাস করেছেন। তবে মঙ্গলবার সংস্থাটি জানিয়েছে, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কিত এই তথ্য এখনো যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হরিদাস দাবি করেছেন, তার অনুসারী ও ভক্তদের দেওয়া অনুদান থেকেই অর্থ এসেছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, একজন এসি মেকানিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা ব্যক্তি কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে শতকোটি টাকার আর্থিক লেনদেনে যুক্ত হলেন, সেই অর্থের উৎস ও লেনদেনের প্রকৃতি এখন তদন্তের মূল বিষয়।

শেখ হাসিনা ফিরলেই রায় কার্যকর হবে: নাহিদ ইসলাম

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায় কার্যকর করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না করায় ওই রায়ের বিরুদ্ধে এখন আর কোনো আইনি আপিলের সুযোগ নেই।বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফ্‌ফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে ‘স্মরণগাথায় জুলাই বিপ্লবের দিনগুলো’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণার পর আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ ছিল। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে তাঁর পক্ষে কোনো আপিল করা হয়নি। তাই এখন সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন।সম্প্রতি আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সেখানে তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের কথা বলেছেন। তবে তিনি কবে ফিরবেন, সেটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।তিনি আরও বলেন, সরকারও ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, মন্ত্রী আপিলের বিষয়টি আইনের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে তাঁর নিজের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ মামলায় আপিলের আর কোনো সুযোগ নেই।আলোচনা সভায় ২০২৪ সালের ১৫ জুলাইয়ের ঘটনাও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি ওই দিনের হামলায় জড়িতদের তালিকা প্রকাশ, দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে হামলাকে সমর্থন বা বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।সংস্কার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাঁর দাবি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।তিনি বলেন, গুমবিরোধী অধ্যাদেশ, পুলিশ সংস্কার, বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয়সহ বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন সংবিধান বা সাংবিধানিক পুনর্গঠনের পরিবর্তে কেবল সংশোধনের পথে হাঁটা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।বক্তব্যের এক পর্যায়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ঘিরেই নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি গড়ে উঠবে। তাঁর ভাষায়, দেশকে আর স্বৈরতন্ত্রের পথে নয়, গণতন্ত্র, বৈষম্যহীনতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের পথে এগিয়ে নিতে হবে।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দলের শৃঙ্খলা বিভাগের প্রধান ও সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ এবং জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শিশুদের জন্য একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আয়োজকেরা।

লুণ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনে সরকারের নতুন অঙ্গীকার

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে ঢেলে সাজিয়ে শিশুদের আগামীর বাংলাদেশ গড়ার মূল শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও লুণ্ঠনের শিকার শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যজ্ঞানেই নয়, মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণেও সমৃদ্ধ হবে।বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।মাহদী আমিন বলেন, দেশের সাতটি জেলা থেকে নানা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের ভালোবাসা ও উদ্দীপনা প্রমাণ করে যে, জনমুখী নেতৃত্ব মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলতে পারে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন-ভাবনাকে বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং সেই লক্ষ্যেই শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে।তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সক্ষমতা অর্জন করবে। আগামী দিনের সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে তারাই নেতৃত্ব দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে একটি উন্নত বাংলাদেশের যে রূপরেখা তুলে ধরেছেন, তার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই সারাদেশের বিদ্যালয়ে প্রায় দুই লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে। তিনি জানান, এই কর্মসূচি কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; শিক্ষার্থীরাই নিজ নিজ বিদ্যালয়ে গাছগুলোর পরিচর্যা করবে। এর মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের আগ্রহ ও যোগ্যতা অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা-ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সারা বছর দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এসব প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধাবী ও সৃজনশীল শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হবে।অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ইতোমধ্যে প্রাথমিক স্তরের প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স ফুটবল গোল্ড কাপ’ আয়োজনেও প্রধানমন্ত্রী পৃষ্ঠপোষকতা করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্পেনের কাছে হারের পর ফ্রান্সজুড়ে উত্তেজনা, আটক ১৬০-এর বেশি

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর রাজধানী প্যারিস এবং লিওঁসহ বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকদের একটি অংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান চালিয়ে দুই শহর থেকে মোট ১৬০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভি জানিয়েছে, আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শুধু প্যারিস থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪১ জনকে। পুলিশ প্রিফেকচারের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে পুলিশ সদস্য ও জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে আতশবাজির মর্টার ছোড়ার অভিযোগে।একই সময়ে লিওঁর প্লাস বেলকুর চত্বরে বড় পর্দায় শত শত ফুটবলপ্রেমী সেমিফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করেন। খেলা শেষ হওয়ার পরও সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ অবস্থান করছিলেন। পরে কয়েকটি ছোট দল নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে বিভিন্ন বস্তু, বিশেষ করে আতশবাজি ছুড়ে মারলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট সিআরএস ৮৩-এর সহায়তা নেয়। যৌথ অভিযানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার পাশাপাশি প্রায় ২০ জনকে আটক করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, আটক হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ২০০২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণ।তবে সংঘর্ষের মধ্যেও বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত হননি। একই সঙ্গে সরকারি বা বেসরকারি সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি।

 ইরান যুদ্ধ

লাইভ / ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: যুদ্ধের কিনারায় বিশ্ব, নাকি কৌশলের নতুন অধ্যায়?

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পর পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর পরপরই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একজন সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা হোয়াইট হাউসকে লক্ষ্য করে সরাসরি হুমকির ভাষা ব্যবহার করেন। দুই পক্ষের এমন অবস্থান বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা ও অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।ট্রাম্পের পদক্ষেপ: কৌশল নাকি রাজনৈতিক প্রয়োজন?ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থানকে শুধু সামরিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এর পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, কংগ্রেসের সঙ্গে ক্ষমতার টানাপোড়েন এবং মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা।১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘ সময় যুদ্ধ পরিচালনার সুযোগ সীমিত। এ বাস্তবতায় ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নকে সামনে এনে রাজনৈতিক সমর্থন বাড়ানো কিংবা আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি কঠোর বার্তা দেওয়াও এই কৌশলের অংশ হতে পারে।ইরানের হুমকি: বাস্তব সামরিক সক্ষমতা, নাকি মনস্তাত্ত্বিক চাপ?হোয়াইট হাউসে হামলার সক্ষমতা নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য এসেছে, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতে, যুদ্ধের সময় এ ধরনের বক্তব্য প্রায়ই প্রতিপক্ষের ওপর মানসিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।তবে এটিও বাস্তবতা যে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও স্বার্থকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দেবে অর্থনীতিএই সংকট পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিলে এর প্রভাব যুদ্ধক্ষেত্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি হবে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা।তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বাড়বে, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং খাদ্যপণ্যের দামও নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাবের ঝুঁকিও বাড়বে।সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাণিজ্যের ওপর বাড়ছে ঝুঁকিমধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক করিডর। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে শুধু জ্বালানি নয়, কাঁচামাল, শিল্পপণ্য ও খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপে পড়তে পারে।বিশ্বায়িত অর্থনীতিতে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের অভিঘাত খুব দ্রুতই ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বাজারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদরা।কূটনীতি কি এখনও কার্যকর হতে পারে?বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই উত্তেজনা কি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেবে, নাকি শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক আলোচনাই সংকট নিরসনের পথ তৈরি করবে।ইরান এই সংঘাতকে জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি একদিকে আন্তর্জাতিক প্রভাব ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলারও বিষয়। ফলে উভয় পক্ষের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন শুধু সামরিক নয়, বরং কৌশলগত ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের অংশ হয়ে উঠেছে।মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যদি পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়, তাহলে এর মূল্য শুধু যুদ্ধরত দুই দেশ নয়, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকেই বহন করতে হবে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্যও আগামী কয়েক মাস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

লাইভ / হোয়াইট হাউসে ঢুকে ট্রাম্পকে হত্যার সক্ষমতার দাবি ইরানি সাবেক কমান্ডারের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে কঠোর মন্তব্য করেছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-র সাবেক কমান্ডার হোসেন কানানী মোকাদ্দেম। ইরানের সংবাদমাধ্যম ফারারু-এর বরাতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি দাবি করেছেন—ইরান চাইলে হোয়াইট হাউসের ভেতরেই ট্রাম্পকে হত্যা করার সক্ষমতা রাখে।নিজের বক্তব্যে মোকাদ্দেম বলেন, ইরানের উদ্দেশ্য যদি কেবল ট্রাম্পকে হত্যা করা হতো, তাহলে তা বাস্তবায়ন করা তাদের জন্য কঠিন নয়। প্রয়োজন দেখা দিলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র সেই সক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে বলেও তিনি দাবি করেন। যদিও তার এই বক্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং ইরান সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের আলোচনার লক্ষ্য স্থায়ী সমঝোতা প্রতিষ্ঠা নয়; বরং বিদ্যমান উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং পারস্পরিক অবস্থান স্পষ্ট করা। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে তেহরান নিজেদের দাবি ও দৃষ্টিভঙ্গি ওয়াশিংটনের সামনে তুলে ধরছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দিচ্ছে।একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আলোচনা চললেও ট্রাম্প এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অবস্থান থেকে ইরান সরে আসেনি। তার এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌপথের নিরাপত্তা, সামরিক উপস্থিতি এবং পাল্টাপাল্টি হামলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ জোরদার করার পদক্ষেপ নেয়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক মহল থেকে ধারাবাহিকভাবে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রকাশ্য হুমকিমূলক বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক কূটনীতির ওপরও নতুন চাপ সৃষ্টি করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

লাইভ / যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে: উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। চলতি সপ্তাহে ইরানের ওপর টানা তিনবার মার্কিন হামলার পর, এবার উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একযোগে পাল্টা হামলা শুরু করেছে তেহরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এটি তাদের ধারাবাহিক অভিযানের তৃতীয় ধাপ। সাম্প্রতিক মার্কিন বোমা হামলার জবাব হিসেবেই তারা এই সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগের দাবি অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় তারা 'ভারী ও আকস্মিক' হামলা চালিয়েছে। ওমান: ওমানের দুকম বন্দরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর জন্য ব্যবহৃত রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এবং জ্বালানি ভরার স্থাপনায় আইআরজিসি হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এতে স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।কাতার: কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তাদের ভাষ্যমতে, এই হামলায় যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং ঘাঁটির কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে। তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।কুয়েত ও বাহরাইন: ইরান দাবি করেছে, বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে কুয়েতের মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদের গুদাম এবং রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানি বাহিনী।যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। তবে এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

লাইভ / হরমুজ প্রণালিতে কনটেইনার জাহাজে হামলা: লাইফবোটে আশ্রয় ক্রুদের, নিখোঁজ ১

হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পরপরই জাহাজটির সব ক্রু নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য লাইফবোটে স্থানান্তরিত হয়েছেন। যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) সামরিক কর্তৃপক্ষ এবং জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) অভিযোগ করেছে, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি’ লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলা চালিয়েছে।সেন্টকমের ভাষ্যমতে, হামলার ফলে জাহাজটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং এর ইঞ্জিন কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতির কারণে জাহাজটির স্বাভাবিক চলাচল ও যাত্রা স্থগিত করতে হয়েছে। মার্কিন সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, এই হামলায় একজন বেসামরিক নাবিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।তবে হামলার এই অভিযোগের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আল জাজিরার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

রাজনীতি

শেখ হাসিনা ফিরলেই রায় কার্যকর হবে: নাহিদ ইসলাম

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায় কার্যকর করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না করায় ওই রায়ের বিরুদ্ধে এখন আর কোনো আইনি আপিলের সুযোগ নেই।বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফ্‌ফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে ‘স্মরণগাথায় জুলাই বিপ্লবের দিনগুলো’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণার পর আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ ছিল। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে তাঁর পক্ষে কোনো আপিল করা হয়নি। তাই এখন সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন।সম্প্রতি আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সেখানে তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের কথা বলেছেন। তবে তিনি কবে ফিরবেন, সেটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।তিনি আরও বলেন, সরকারও ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, মন্ত্রী আপিলের বিষয়টি আইনের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে তাঁর নিজের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ মামলায় আপিলের আর কোনো সুযোগ নেই।আলোচনা সভায় ২০২৪ সালের ১৫ জুলাইয়ের ঘটনাও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি ওই দিনের হামলায় জড়িতদের তালিকা প্রকাশ, দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে হামলাকে সমর্থন বা বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।সংস্কার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাঁর দাবি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।তিনি বলেন, গুমবিরোধী অধ্যাদেশ, পুলিশ সংস্কার, বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয়সহ বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন সংবিধান বা সাংবিধানিক পুনর্গঠনের পরিবর্তে কেবল সংশোধনের পথে হাঁটা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।বক্তব্যের এক পর্যায়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ঘিরেই নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি গড়ে উঠবে। তাঁর ভাষায়, দেশকে আর স্বৈরতন্ত্রের পথে নয়, গণতন্ত্র, বৈষম্যহীনতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের পথে এগিয়ে নিতে হবে।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দলের শৃঙ্খলা বিভাগের প্রধান ও সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ এবং জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শিশুদের জন্য একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আয়োজকেরা।

সংবিধান ইস্যুতে বিশেষ কমিটি বনাম সংস্কার পরিষদে রাজনৈতিক অচলাবস্থা

সংবিধান সংস্কারকে ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থান আরও মুখোমুখি হয়ে উঠেছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে সরকার বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংশোধনী আনার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দল এই প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে এবং আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংসদ গঠিত বিশেষ কমিটি রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশ তৈরি করবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে।সোমবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী কমিটিতে সদস্য থাকার কথা ছিল ১৭ জনের। বিরোধী দলকে পাঁচজনের নাম দিতে বলা হলেও তারা তা না দেওয়ায় পাঁচটি পদ আপাতত শূন্য রাখা হয়েছে।কমিটিতে বিএনপির আটজন সংসদ সদস্যের পাশাপাশি গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. অলিউল্লাহকে রাখা হয়েছে।তবে মো. অলিউল্লাহ জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, কমিটি গঠনের সময় তিনি সংসদে উপস্থিত ছিলেন না এবং পরে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন।ইসলামী আন্দোলনের এই সংসদ সদস্য বলেন, তাঁদের দল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষেই রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ যে মত দিয়েছেন, তা উপেক্ষা করা যায় না। সরকারের বর্তমান অবস্থান জনগণের সেই রায়ের প্রতি অমর্যাদা প্রদর্শনের শামিল।সংসদে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমানও বিশেষ কমিটির বিরোধিতা করে বলেন, তাঁরা সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। তাই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার থেকে বিশেষ কমিটির প্রস্তাব মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জনগণের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন হওয়া উচিত। সরকার যদি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসার বৈধতা গ্রহণ করে, তবে গণভোটে দেওয়া সংবিধান সংস্কারের রায়কেও সম্মান জানাতে হবে। অন্যথায় রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি সতর্ক করেন।সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিধান যুক্ত করতে হলেও আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার পরই পরবর্তী সাংবিধানিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। তাঁর মতে, এ বিষয়ে আলোচনার যথাযথ ক্ষেত্র হলো সংসদের বিশেষ কমিটি।এর আগে ২৯ এপ্রিল আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। তখনও বিরোধী দলকে সদস্য মনোনয়নের আহ্বান জানানো হলেও তারা এতে অংশ নেয়নি।বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া রাষ্ট্রব্যবস্থায় মৌলিক ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, সরকার সেই পথ এড়িয়ে গিয়ে দেশকে নতুন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান।বিরোধী জোটের নেতারা জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিবাদ শুধু সংসদে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সংসদের ভেতরে বিশেষ কমিটির বিরোধিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গণভোটের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন জাতীয় অঙ্গীকারে পরিণত হয়েছিল। সরকারের বর্তমান অবস্থান সেই অঙ্গীকার থেকে সরে আসার শামিল। তাই সংসদের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়েও আন্দোলন সংগঠিত করা হবে।জামায়াতের আরেক সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান প্রশ্ন তোলেন, অতীতে সংবিধান সংশোধনের সময় বিশেষ কমিটির প্রয়োজন হয়নি, এবার কেন হলো। তাঁর দাবি, আগের একাধিক সংশোধনী আদালতে বাতিল হয়েছে। সে অভিজ্ঞতা থেকেই বিরোধী দল মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য আলাদা সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।বিশেষ কমিটি গঠনের সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনও। এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গণভোটে জনগণ মৌলিক সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। সেই রায় উপেক্ষা করে সরকার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে।বর্তমান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংবিধান পরিবর্তনের দুই ভিন্ন পদ্ধতি। সরকার বিদ্যমান সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সংশোধনী আনার পক্ষে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিরোধী জোটের দাবি, জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে পৃথক সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সেখানে প্রস্তাবিত সাংবিধানিক পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের মতে, এটি কেবল সংবিধান সংশোধনের বিষয় নয়; বরং রাষ্ট্রের মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারের প্রশ্ন।

আইনশৃঙ্খলা নয়, সংবিধানেই ব্যস্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: নাহিদ ইসলাম

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য সরকারের সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংবিধান সংশোধনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের দিকে নেই।মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয় নারীশক্তি আয়োজিত ‘জুলাই নারী সমাবেশে’ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেকের প্রত্যাশা ছিল দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যস্ত থাকলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই একটি ঐতিহাসিক দিন। সে সময় রাষ্ট্রপতির কাছে যে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল, সেই রাষ্ট্রপতি এখনো দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ১৪ জুলাই আন্দোলনে নারীদের সক্রিয় ভূমিকার কারণেই পরদিন ১৫ জুলাই তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় এবং সেই ঘটনার ছবি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।নাহিদ ইসলাম বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে নারী-পুরুষ সমানভাবে অংশ নিয়েছিলেন। নারীরা আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকায় বিভিন্নভাবে তাদের টার্গেট করা হয়েছিল। তবে আন্দোলনের পর রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে নারীদের জন্য কাঙ্ক্ষিত সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এরপরও নারীরা আন্দোলনের শক্তি হিসেবে পাশে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।নারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বিশেষ করে প্রান্তিক নারীদের দাবি ও সমস্যাগুলো সামনে এনে সেগুলো বাস্তবায়নে নারীশক্তিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।বক্তব্যে জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার কেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) সরিয়ে দিয়েছে, তা তাঁর জানা নেই। একই সঙ্গে ইনুর ১০ বছরের সাজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের শাস্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

আন্তর্জাতিক

রাখাইন উপকূলে দুই নৌকাডুবি, শত শত রোহিঙ্গা মৃত্যুর আশঙ্কা

মিয়ানমারের উপকূলে ৫০০ জনের বেশি আরোহী বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলছে, ঘটনাটি সংঘাত, নিপীড়ন ও নিরাপত্তাহীনতার মুখে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের চলমান মানবিক সংকটের আরেকটি মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত।বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, মিয়ানমারের উপকূলে দুটি নৌকাডুবির খবরে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও হতাহতের সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুটি নৌকাই জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করে। নৌকাগুলোর অধিকাংশ যাত্রী ছিলেন রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা করেছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।জাতিসংঘের দুই সংস্থার আশঙ্কা, এ ঘটনায় ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম নৌকাটিতে প্রায় ২৫০ জন আরোহী ছিলেন। মিয়ানমার ত্যাগের কিছু সময় পরই সেটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে প্রায় ২৮০ জন আরোহী বহনকারী দ্বিতীয় নৌকাটি ৮ জুলাই মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াডি উপকূলের কাছে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।যৌথ বিবৃতিতে ইউএনএইচসিআর ও আইওএম বলেছে, ঘটনার সত্যতা এবং প্রাণহানির সংখ্যা এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে থাকলেও সম্ভাব্য এই বিপুল প্রাণহানি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।নৌকায় থাকা যাত্রীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জানতে উদ্ধার তৎপরতা ও তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

 মহাকালের আয়না

সময়ের অপরাধ: যে নীরব ঘাতক প্রতিদিন খুন করছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

কমলাপুর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছেন একজন মধ্যবয়সী মানুষ। হাতে ঘড়ি, চোখে ক্লান্তি, মনে হিসাব— আজো না জানি পৌঁছাতে কত দেরি হবে। এরই মধ্যে মাইকে ভেসে আসে সেই চিরচেনা ঘোষণা, "যাত্রীসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, ট্রেনটি পাঁচ মিনিট বিলম্বে চলাচল করবে।" কেউ একটু বিরক্ত হন, কেউ কাঁধ ঝাঁকিয়ে মেনে নেন, বেশিরভাগ মানুষই কিছু বলেন না। কারণ এই পাঁচ মিনিট আমাদের কাছে আর খবর নয়, অভ্যাস। অথচ এই "সামান্য" পাঁচ মিনিটই যে আসলে একটি জাতির অর্থনীতি, রাজনীতি আর সামাজিক মূল্যবোধের গভীরে বসে থাকা এক পুরনো ব্যাধির লক্ষণ— সেটা আমরা কখনো ভেবে দেখি না।সমস্যাটা শুধু ট্রেনেরই এমনটা নয়। সচিবালয়ের ফাইল টেবিল থেকে টেবিলে ঘুরতে ঘুরতে মাস পার করে দেয়। ব্যাংক ঋণের একটি চিঠির জবাব আসতে লাগে সপ্তাহের পর সপ্তাহ। একটি সেতুর কাজ শুরুর কথা ছিল যেদিন, তার তিন বছর পর টেন্ডার হয়। মন্ত্রীর ভাষণে বলা "আগামী বছরের মধ্যে" আসলে মানে দাঁড়ায় অনির্দিষ্টকাল। আমাদের জাতীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে সময় একটি আপেক্ষিক ধারণা— যা মানা না-মানা দুটোই সমান স্বাভাবিক। আর এই সংস্কৃতিই ধীরে ধীরে গিলে খাচ্ছে আমাদের সম্ভাবনার একটা বিশাল অংশ।সময়ানুবর্তিতা আসলে একটি সমাজের পারস্পরিক বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি। যে সমাজে মানুষ একে অপরের কথা রাখবে বলে ভরসা করতে পারে, সেখানে সময়ও রক্ষা পায়। বাংলাদেশে সমস্যাটা উল্টো দিক থেকে শুরু হয়— আমরা ধরেই নিই, কেউ সময়মতো আসবে না, তাই আগেভাগেই নিজের প্রত্যাশা কমিয়ে রাখি। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের কার্ডে লেখা সময়ের সাথে বাস্তবের সময়ের ফারাক, একটি সভার নির্ধারিত সময় ও প্রকৃত শুরুর সময়ের ফারাক— এসব এখন রসিকতার বিষয়। কিন্তু এই রসিকতার আড়ালে লুকিয়ে আছে একধরনের সামষ্টিক আত্মসমর্পণ। আমরা মেনে নিয়েছি যে ব্যবস্থা বদলাবে না, তাই নিজেদের অভ্যাস দিয়েই সেই ব্যর্থতাকে ঢেকে রাখি।এই সংস্কৃতির মাশুল সবচেয়ে বেশি দিতে হয় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে। একজন পোশাক শ্রমিক যখন যানজটে আটকে কারখানায় দেরি করে পৌঁছান, তার বেতন থেকে কাটা যায় টাকা। একজন দিনমজুর কাজের জায়গায় দেরিতে পৌঁছালে হারান সেদিনের পুরো মজুরি। অথচ যে কারণে তিনি দেরি করেছেন— অপরিকল্পিত সড়ক, অনিয়মিত গণপরিবহন, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা— সে দায় তার নয় । এখানেই সামাজিক সংকটের আসল রূপ ফুটে ওঠে: ব্যবস্থার ব্যর্থতার মূল্য পরিশোধ করতে হয় সবচেয়ে কম ক্ষমতাবান মানুষদের।রাজনীতির মাঠে সময় একটি প্রতিশ্রুতির নাম— এবংএ ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি করাই হয় যেন তা ভাঙার জন্য। সরকারি কর্মকান্ডে যেন সময় অসীম এককে মাপা হয়। যদি বলে "একনেকে অনুমোদিত হয়েছে,বাস্তবায়ন ছয় মাসে", বাস্তবে লাগে তিন বছর। মেগা প্রকল্প উদ্বোধনের তারিখ পিছিয়ে যায় বারবার, অথচ প্রতিবার নতুন তারিখ ঘোষণার সময় জনগণকে তা মেনে নিতে বলা হয় স্বাভাবিক নিয়তি হিসেবে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো জবাবদিহিতার অভাব। একটি প্রকল্প দেরিতে শেষ হলে কে দায় নেবে, তা নির্ধারণের কোনো স্বচ্ছ ব্যবস্থা আমাদের নেই। ফাইল আটকে থাকলে কর্মকর্তা বলেন উপরের নির্দেশের অপেক্ষা, উপরওয়ালা বলেন নীতিগত জটিলতা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব বলেন আমলাতান্ত্রিক বাধা— শেষ পর্যন্ত দায় কারো ঘাড়ে বসে না, ভাসতে থাকে হাওয়ায় আর ভোগান্তিতে প্রান্তিক জনগণ। রাজনৈতিক দলবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পের অগ্রাধিকারও বদলে যায়— একটি সরকারের শুরু করা কাজ পরের সরকার অগ্রাধিকার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেয়, ফলে বছরের পর বছর একই প্রকল্প অর্ধেক অবস্থায় পড়ে থাকে। এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থাতেও চিড় ধরায়— কারণ কেউ জানে না, আজকের নীতি আগামীকাল টিকবে কি না।বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক লজিস্টিকস পারফরম্যান্স ইনডেক্সে বাংলাদেশ ১৩৯টি দেশের মধ্যে ৮৮তম অবস্থানে রয়েছে, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারত ৩৮তম ও শ্রীলঙ্কা ৭৩তম স্থানে। উন্নতি হয়েছে ঠিকই, বিশেষত কাস্টমস ব্যবস্থাপনা ও সময়ানুবর্তিতার ক্ষেত্রে, কিন্তু অবকাঠামোর মান এবং পণ্য ট্র্যাকিং-ট্রেসিং সক্ষমতায় বাংলাদেশ বরং পিছিয়েছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শীর্ষে থাকা দেশগুলোর দিকে তাকালে পার্থক্যটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে— সিঙ্গাপুর ও ফিনল্যান্ড ৫-এর মধ্যে ৪.৩ ও ৪.২ স্কোর নিয়ে শীর্ষে, আর বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ২.৬। এই পার্থক্যটুকুই আসলে প্রতিদিনের সেই পাঁচ মিনিট দেরির সামষ্টিক রূপ।সময়ের এই অদক্ষতা সরাসরি প্রভাব ফেলে রপ্তানি প্রতিযোগিতায়। একটি কনটেইনার নির্ধারিত সময়ে বন্দর থেকে বের হতে না পারলে জাহাজ ধরতে ব্যর্থ হয়, আর তখন উদ্যোক্তাকে বাধ্য হয়ে আকাশপথে পণ্য পাঠাতে হয়— যার খরচ সমুদ্রপথের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। একবার এমন ঘটনা ঘটলে ক্রেতার আস্থা নষ্ট হয়, পরের অর্ডারটি হয়তো চলে যায় প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো দেশে। এভাবে একটি ছোট বিলম্ব ধীরে ধীরে রূপ নেয় বাজার হারানোর গল্পে। ঢাকার যানজটের কারণে বছরে যে বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়, তার একটি বড় অংশই আসলে এই ধরনের হারানো সুযোগের মূল্য— যা কোনো হিসাবের খাতায় সরাসরি দেখা যায় না, কিন্তু জাতীয় প্রবৃদ্ধির গতি রোধ করে দেয় নিঃশব্দে।বাংলাদেশে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের বিলম্ব নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মূল কমিটিগুলো— প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি ও প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি— অনেক সময় সঠিকভাবে গঠিতই হয় না। অল্প সংখ্যক জনবল অতিরিক্ত সংখ্যক প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রস্তুতিতে যুক্ত থাকায় নথির মানও প্রভাবিত হয়, যা পরবর্তীতে বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আরও চমকপ্রদ তথ্য হলো, সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ মনে করেন, প্রকল্প পরিচালকের ঘন ঘন বদলিই প্রকল্পের গতি নষ্ট করার একটি বড় কারণ।এই চিত্র শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটি একটি সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি— যেখানে "প্রপার চ্যানেল", "প্রপার স্বাক্ষর", "প্রপার সংযুক্তি"র নামে একটি ফাইল টেবিল থেকে টেবিলে ঘুরতে থাকে, অথচ প্রতিটি ধাপে সবাই জানেন সিদ্ধান্তটা কী হওয়া উচিত। বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে আলোচনায়ও বারবার উঠে আসে এই প্রসঙ্গ— প্রবাসী বিনিয়োগকারীরাও বলছেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সরকারের সহযোগিতার ঘাটতিই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা। একটি লাইসেন্স পেতে, একটি অনুমোদন নিতে যত বেশি দপ্তরে যেতে হয়, প্রকল্প তত বেশি দেরিতে মাটিতে গড়ায়— আর এই দেরির প্রতিটি দিনের সুদ গুনতে হয় জাতিকেই।এই সংকট থেকে বেরোনোর পথ খুঁজতে হলে প্রথমেই স্বীকার করতে হবে, দায়টা একরৈখিক নয়— এটি ছড়িয়ে আছে সমাজের প্রতিটি স্তরে। প্রতিটি স্তরের জন্য পরিবর্তনের পথও আলাদা।ব্যক্তি পর্যায়ে সময়ানুবর্তিতাকে ব্যক্তিগত সততার অংশ হিসেবে দেখার সংস্কৃতি তৈরি করা জরুরি। এটি হয়তো শোনাবে ছোট একটি কথা, কিন্তু একটি জাতির অভ্যাস আসলে ব্যক্তিগত অভ্যাসেরই সমষ্টি। স্কুল থেকেই সময়ানুবর্তিতাকে শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে শেখানো, কর্মক্ষেত্রে সময়মতো উপস্থিতিকে দক্ষতার মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা— এই ছোট ছোট চর্চাই দীর্ঘমেয়াদে সংস্কৃতি বদলায়।প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট দায়বদ্ধতার কাঠামো। রেল হোক বা সড়ক পরিবহন, প্রতিটি বিলম্বের জন্য কারণ নথিভুক্ত করা এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করার ব্যবস্থা থাকা উচিত। যে প্রতিষ্ঠান বারবার নির্ধারিত সময়সূচি ভঙ্গ করে, তার জন্য সুনির্দিষ্ট জবাবদিহিতার ব্যবস্থা— এটি বিলাসিতা নয়, মৌলিক প্রশাসনিক সংস্কার।আমলাতান্ত্রিক পর্যায়ে সবচেয়ে জরুরি হলো ফাইল চলাচলের ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা, যেখানে একটি ফাইল কোন টেবিলে কতদিন আটকে থাকল তা স্বচ্ছভাবে দেখা যাবে। প্রকল্প পরিচালকদের ঘন ঘন বদলি বন্ধ করে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া, এবং একাধিক দপ্তরের অনুমোদনের বদলে একক জানালা সেবা (ওয়ান-স্টপ সার্ভিস) বাস্তবায়ন করা— এই দুটি পদক্ষেপই বহু প্রকল্পের গতি বাড়িয়ে দিতে পারে।নীতিনির্ধারণী ও রাজনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি জাতীয় সমঝোতা— যাতে সরকার বদল হলেও চলমান জনস্বার্থমূলক প্রকল্প থেমে না যায়। পাশাপাশি, প্রতিশ্রুত সময়সীমা অতিক্রম করলে তার ব্যাখ্যা জনসমক্ষে দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি করা প্রয়োজন— জবাবদিহিতা যত প্রকাশ্য হবে, বিলম্বের সংস্কৃতি তত দুর্বল হবে।জাপানের বুলেট ট্রেনের গড় বিলম্ব সেকেন্ডের হিসাবে মাপা হয়— এটি নিছক গর্বের বিষয় নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক দর্শনের ফল। "জাস্ট ইন টাইম" ব্যবস্থাপনা মডেল, যা মূলত জাপানি শিল্পক্ষেত্র থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছে, ধরেই নেয় যে সময়ের প্রতিটি মিনিট একটি সম্পদ— অপচয় করলে তার মূল্য সরাসরি উৎপাদন খরচে যোগ হয়। সিঙ্গাপুরের মতো দেশ, যাদের প্রাকৃতিক সম্পদ প্রায় নেই বললেই চলে, বিশ্ব লজিস্টিকস র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে ওঠার পেছনে মূল হাতিয়ার হয়েছে দক্ষ সময় ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা।তুলনায় বাংলাদেশের অগ্রগতি বিচ্ছিন্ন হলেও অর্থবহ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাস্টমস ও সময়ানুবর্তিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে, মূলত চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের কার্যক্রম উন্নত হওয়ায়। এটি প্রমাণ করে যে সদিচ্ছা ও লক্ষ্যভিত্তিক সংস্কার থাকলে পরিবর্তন সম্ভব— সমস্যাটা সক্ষমতার নয়, অগ্রাধিকারের। যেসব দেশ পিছিয়ে থেকেও এগিয়ে গেছে, তাদের প্রতিটির গল্পেই একটি সাধারণ সূত্র মেলে: প্রথমে তারা সময়কে একটি জাতীয় সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তারপর তার অপচয় রোধে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করেছে।স্বল্পমেয়াদে, প্রতিটি সরকারি পরিবহন ও সেবা সংস্থার জন্য একটি প্রকাশ্য সময়সূচি-পালন হার (অন-টাইম পারফরম্যান্স রেট) নির্ধারণ ও নিয়মিত প্রকাশ করা যেতে পারে— যা জনগণকে জবাবদিহিতা দাবি করার একটি সুনির্দিষ্ট হাতিয়ার দেবে। পাশাপাশি বন্দর ও কাস্টমস প্রক্রিয়ার ডিজিটাইজেশন আরও সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন, যেহেতু এই খাতে ইতিমধ্যে অর্জিত অগ্রগতি দেখাচ্ছে যে দ্রুত ফল পাওয়া সম্ভব।মধ্যমেয়াদে, সরকারি ফাইল ব্যবস্থাপনার সম্পূর্ণ ডিজিটাইজেশন এবং প্রকল্প পরিচালকদের চাকরির মেয়াদ-নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে একটি প্রকল্প শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হতে পারে। গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়িয়ে প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতা তৈরি করাও ফলপ্রসূ হতে পারে।দীর্ঘমেয়াদে, প্রয়োজন একটি সাংস্কৃতিক রূপান্তর— যেখানে সময়ানুবর্তিতা শেখানো হবে শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসেবে, আর রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রকল্প ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য দলনিরপেক্ষ একটি জাতীয় কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে, যাতে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জনস্বার্থমূলক প্রকল্পগুলো থমকে না যায়।স্টেশনের সেই ঘোষণাটা আসলে শুধু একটি ট্রেনের দেরির খবর নয়— এটি একটি জাতির সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের একটি প্রতিচ্ছবি। যতদিন আমরা এই পাঁচ মিনিটকে "সামান্য" বলে উড়িয়ে দেব, ততদিন আমাদের অর্থনীতি নিঃশব্দে রক্ত ঝরাতে থাকবে। মেগা প্রকল্পের চকচকে উদ্বোধন কিংবা উন্নয়নের বড় বড় সংখ্যা তখনই অর্থবহ হবে, যখন আমরা প্রতিদিনের ছোট ছোট সময়-অপচয়গুলো বন্ধ করতে শিখব। কারণ একটি জাতির অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত মাপা হয় তার বড় স্বপ্নে নয়, তার প্রতিদিনের অভ্যাসে। আর সেই অভ্যাস বদলানোর কাজটা শুরু হতে পারে আজই— একটি ট্রেন সময়মতো ছাড়ার মধ্য দিয়ে, একটি ফাইল সময়মতো সই হওয়ার মধ্য দিয়ে, একটি প্রতিশ্রুতি সময়মতো রক্ষা হওয়ার মধ্য দিয়ে।

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া এক সাহসী বীর

আমাদের ছোটবেলার পাঠ্যবই বা জাতীয় দিবসগুলোর গল্পে বীরদের অভাব নেই। আমরা সবাই জানি ক্ষুদিরাম বসুর কথা, ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁর সেই কালজয়ী গানের কথা। ক্ষুদিরাম আমাদের অহংকার, আমাদের প্রেরণা। কিন্তু আজ আপনাদের এমন একজনের গল্প শোনাব, যিনি ক্ষুদিরামের অনেক আগেই ব্রিটিশদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। অথচ ইতিহাসে তিনি আজ এক বিস্মৃত নাম। তাঁর নাম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।সালটা ছিল ১৮৭১। তখন ব্রিটিশদের শাসন চলছে দাপটের সঙ্গে। কলকাতার টাউন হলের সিঁড়ি দিয়ে একদিন নিচে নামছিলেন প্রধান বিচারপতি জন প্যাক্সটন নরম্যান। এই নরম্যান ছিলেন সেই বিচারক, যিনি ব্রিটিশবিরোধী সব বিপ্লবীদের ধরপাকড় আর ফাঁসির আদেশে ছিলেন কুখ্যাত। সাধারণ মানুষ তাঁকে বাঘের মতো ভয় পেত। সেই সিঁড়ির অন্ধকার কোণেই ওত পেতে ছিলেন যুবক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। বিচারক নরম্যান যেই সিঁড়ির মাঝামাঝি পৌঁছালেন, আব্দুল্লাহ চিতার মতো ঝাঁপিয়ে পড়লেন। হাতে ছিল একটি ধারালো ছুরি। বিচারক কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি একের পর এক আঘাত করলেন। ব্রিটিশ রাজের প্রধান বিচারক মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন এবং পরে মারা গেলেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কেন্দ্রে বসে একাই এক যুবক ব্রিটিশ বিচারককে খতম করেছেন—এ খবর আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ল পুরো ভারতজুড়ে।সবাই যখন অবাক, তখন ব্রিটিশরা খুব চতুরতার সঙ্গে এই ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করল। তারা প্রচার করল, আব্দুল্লাহ নাকি একজন ‘উন্মাদ’ বা ‘ধর্মান্ধ’। কারণ তারা কোনোভাবেই চায়নি মানুষ জানুক যে, ব্রিটিশদের আইনের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মুসলমান যুবকও রুখে দাঁড়াতে পারেন। বিচারে আব্দুল্লাহকে ফাঁসি দেওয়া হলো। শুধু তাই নয়, তাঁর মৃতদেহ পরিবারের হাতে না দিয়ে জেলের ভেতর পুড়িয়ে দেওয়া হলো, যেন তাঁর কোনো চিহ্নই এই পৃথিবীতে না থাকে।আচ্ছা, আমরা কেন তাঁকে চিনি না? কেন আমাদের ইতিহাসের বইতে ক্ষুদিরামদের নাম থাকে কিন্তু আব্দুল্লাহর নাম থাকে না? এর পেছনে একটা বড় কারণ হলো ইতিহাসের রাজনীতি। ব্রিটিশরা চেয়েছিল আমাদের মনে গেঁথে দিতে যে, স্বাধীনতার লড়াই শুধু নির্দিষ্ট কিছু মানুষের কাজ। আর স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়েও আমরা সেই পুরনো ঢঙেই ইতিহাস লিখেছি। সেখানে মুসলিম বিপ্লবীদের অবদানকে প্রায়ই 'সাম্প্রদায়িক' বা 'বিচ্ছিন্ন' ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। আমাদের শেখানো হয়েছে, আধুনিক ভাষা বা পশ্চিমা আদর্শ ছাড়া বিদ্রোহ হয় না। কিন্তু আব্দুল্লাহ তো সাধারণ কৃষক বা শ্রমিকের ভাষায় প্রতিবাদ করেছিলেন, যা তথাকথিত শিক্ষিত মহলে হয়তো বেমানান ছিল।ভাবুন তো, ব্রিটিশ আদালত যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিল, কেন তিনি এই কাজ করলেন? তিনি কোনো বড় কোনো রাজনৈতিক বক্তৃতা দেননি। তিনি হয়তো বলতে চেয়েছিলেন, ‘আমার ভাইকে ফাঁসি দিয়েছ, আমার মানুষকে নির্যাতন করেছ, তাই আমি প্রতিশোধ নিয়েছি।’ কিন্তু ব্রিটিশরা সেই কথাকে ‘অসংলগ্ন’ বলে প্রচার করেছিল। আর আমরাও সেই মিথ্যাকে সত্য বলে মেনে নিয়েছি যুগের পর যুগ।ইতিহাস আসলে আমাদের সবাইকে সমান চোখে দেখে না। ইতিহাস সব সময় তাদেরই গল্প বলে, যারা জয়ী হয়েছে বা যাদের কথা বলার মতো শক্তি ছিল। কিন্তু একজন মুসলিম যুবক, যিনি একা হাতে ব্রিটিশ বিচারকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, তাঁর দেশপ্রেম কি ক্ষুদিরামের চেয়ে কম ছিল? অবশ্যই না। স্বাধীনতার লড়াই কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বা বর্ণের মানুষের একার গল্প নয়। এটি হিন্দু, মুসলিম, দলিত, আদিবাসী—সবার সম্মিলিত ত্যাগের গল্প।আজ সময় এসেছে আমাদের সেই ভুল ভাঙার। ইতিহাস কোনো গৎবাঁধা দলিল নয় যে, যা লেখা আছে তা-ই ধ্রুব সত্য। সময় এসেছে ইতিহাসের ধুলো পরিষ্কার করার। আমাদের উচিত সব বীরকে সমান মর্যাদা দেওয়া। পাঠ্যবইয়ে শুধু একটি ফুটনোট হিসেবে নয়, বরং মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মতো বীরদের পূর্ণাঙ্গ জীবনী নিয়ে আলোচনার সময় এসেছে। কারণ, যে দেশ তার বীরদের সম্মান করতে জানে না, সেই দেশ কখনোই নিজের শেকড় খুঁজে পায় না।মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সেই ছুরি কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতার জন্য চলেনি, তা চলেছিল সাম্রাজ্যবাদের অন্যায়ের বুকের ওপর। আমরা কি আজ অন্তত একবার সেই বিস্মৃত বীরের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে পারি না?

জুলাই গণঅভ্যুত্থান, কোটা থেকে স্বৈরাচার উৎখাতঃ পর্ব-১

চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, "২০২৪ সালটা মনে পড়লে প্রথম কোন ছবিটা চোখে ভাসে?" — উত্তরটা প্রায় সবার এক হবে। রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল, হাতে জাতীয় পতাকা, আর গণভবনের ছাদে উঠে পড়া তরুণদের উল্লাস। কিন্তু এই একটা দিনের পেছনে লুকিয়ে আছে দুই মাসের এক দীর্ঘ, রক্তাক্ত আর নাটকীয় গল্প। আজ থেকে  দিন গুনে গুনে পুর মাস জুড়ে বলব সেই ইতিহাস। পটভূমি: অগ্নুৎপাতের পূর্বাভাস গল্পটা আসলে শুরু হয়েছিল ছয় বছর আগে। ২০১৮ সালে কোটাব্যবস্থা নিয়ে যে আন্দোলন হয়েছিল, তার চাপে সরকার সরকারি চাকরির নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেডে সব ধরনের কোটা বাতিল করে একটা পরিপত্র জারি করেছিল। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান-নাতি-নাতনি, নারী, পিছিয়ে পড়া জেলা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আর প্রতিবন্ধীদের জন্য মিলিয়ে যে ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল, সেটা তখনকার মতো বন্ধ হয়ে যায়।কিন্তু সেই পরিপত্রের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট করেন। আর ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট সেই রিটের রায়ে ২০১৮ সালের পরিপত্রটাকেই অবৈধ ঘোষণা করে দেয়। মানে, কোটা আবার ফিরে আসার পথ খুলে যায়। এই একটা রায়ই যেন ঘুমিয়ে থাকা আগুনে ফুঁ দিল। ৬ জুন থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। রাষ্ট্রপক্ষ রায় স্থগিতের আবেদন করে, কিন্তু শিক্ষার্থীরা ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে ঈদের ছুটিতে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত রাখেন।৩০ জুন সময়সীমা শেষ হওয়ার পরদিনই, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে, শুরু হয় সেই লাগাতার আন্দোলন—যাকে পরে ইতিহাসবিদেরা বলবেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম ধাপ।জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ: এক নতুন ইতিহাসের শুরু জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ। ক্যালেন্ডারে তখনো লেখা নেই কী ঘটতে চলেছে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে যে কয়েকশ শিক্ষার্থী প্রতিদিন জড়ো হচ্ছিলেন, তাঁরা বুঝি টের পাচ্ছিল—এবার আর থামার নয়। কোটা সংস্কারের একটা পুরনো দাবি, যা বহুবার উঠেছে আর থিতিয়ে গেছে, এবার নতুন করে জ্বলে উঠল। আর এই জ্বলে ওঠার প্রথম সাত দিনই ঠিক করে দিয়েছিল বাকি দুই মাসের গতিপথ।আজ আমরা সেই সাত দিনের গল্প বলব। দিন ধরে ধরে, ঘটনা ধরে ধরে। কারণ এই দিনগুলো না বুঝলে বোঝা যাবে না, কীভাবে একটা চাকরির কোটা নিয়ে আন্দোলন এক মাসের মধ্যেই রূপ নিল গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থা বদলে দেওয়া গণঅভ্যুত্থানে।জুলাই ১: সোমবার, আন্দোলনের প্রথম দিন১ জুলাই ২০২৪, সোমবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয় দুপুরে। কলাভবন, মল চত্বর, ভিসি চত্বর, টিএসসি ঘুরে মিছিলটা গিয়ে থামে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে।এই দিনটার একটা বিশেষত্ব ছিল—এটা কেবল ঢাকার ঘটনা ছিল না। একই সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েও একযোগে সমাবেশ আর বিক্ষোভ মিছিল হয়। জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা তো সরাসরি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কই অবরোধ করে বসেন।এই সংগঠিত রূপটাই ছিল আসল খবর। এটা আর বিক্ষিপ্ত কোনো ক্যাম্পাস-বিক্ষোভ ছিল না, বরং সারা দেশের অন্তত ১১টি জায়গায় একসঙ্গে দাঁড়ানো একটা পরিকল্পিত আন্দোলন। এই দিনই সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম পরের তিন দিনের কর্মসূচি—২, ৩ ও ৪ জুলাই টানা শাহবাগ অবরোধ—ঘোষণা করে দেন।আর সরকার? তখনো এটাকে পাত্তা দিচ্ছিল না। আওয়ামী লীগ তখন ব্যস্ত ছিল বিএনপিকে নিয়ে রাজনৈতিক বাগযুদ্ধে। কোটা আন্দোলনকে অনেকটা "সাময়িক শিক্ষার্থী অসন্তোষ" হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। এই অবহেলাটাই পরে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় ভুল প্রমাণিত হবে।জুলাই ২: মঙ্গলবার, শাহবাগে প্রথম অবরোধপরদিন, ২ জুলাই মঙ্গলবার। বেলা পৌনে তিনটায় শিক্ষার্থীরা আবার জড়ো হন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে। এবার মিছিলটা যায় নীলক্ষেত-নিউমার্কেট-সায়েন্স ল্যাবরেটরি-কাঁটাবন হয়ে সরাসরি শাহবাগে।শাহবাগ মোড়—এই একটা নাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার ফিরে আসে। এবারও তাই হলো। শিক্ষার্থীরা প্রায় এক ঘণ্টা শাহবাগ অবরোধ করে রাখেন। হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। একই দিনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবারও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।এই দিন সমন্বয়করা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন—দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না। একজন শিক্ষার্থীর কথায় সেদিনের মনোভাবটা ধরা পড়ে: রোদ-বৃষ্টি যা-ই হোক, ন্যায্য দাবির আন্দোলন তাঁরা চালিয়ে যাবেন। এই সংকল্পটাই ছিল আসল বার্তা—এটা এক দিনের উত্তেজনা না, দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রস্তুতিজুলাই ৩: বুধবার, ছড়িয়ে পড়ল সারা দেশে৩ জুলাই বুধবার। শাহবাগ মোড় আবার অবরুদ্ধ হলো। কিন্তু এই দিনের আসল খবর ছিল আন্দোলনের বিস্তার। ঢাকার বাইরে আরও অন্তত ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা টানা তৃতীয় দিনের মতো ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক বন্ধ করে দেন।সংসদেও এই দিন কোটা প্রসঙ্গ উঠে আসে। বিরোধীদলীয় নেতা জি এম কাদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টানেন। বোঝা যাচ্ছিল, রাজপথের এই উত্তাপ এখন আর ক্যাম্পাসের সীমানায় আটকে নেই—এটা রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে টের পাওয়া যাচ্ছে।এর মানে পাঠকের জন্য পরিষ্কার—একটা আন্দোলন যখন একই সঙ্গে ছয়-সাতটা শহরে, রাস্তায়-রেলে ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেটাকে আর "কিছু শিক্ষার্থীর অসন্তোষ" বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।জুলাই ৪: বৃহস্পতিবার, আদালতের ‘নট টুডে’৪ জুলাই বৃহস্পতিবার ছিল একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন, কারণ এদিনই ছিল আপিল বিভাগের শুনানির তারিখ। শিক্ষার্থীরা আশা করেছিলেন, আদালত হয়তো হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে কোনো সুরাহা দেবে।কিন্তু হলো উল্টো। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ সাফ জানিয়ে দেয়—আজ না, "নট টুডে"। রায় স্থগিত হলো না। শুনানি পিছিয়ে গেল পরের সপ্তাহে। প্রধান বিচারপতি নিজেই শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আন্দোলনের চাপ দিয়ে কি আদালতের রায় বদলানো যায়?এই অনিশ্চয়তা শিক্ষার্থীদের আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে। এই দিন তাঁরা শাহবাগ মোড় টানা পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন—আগের দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি সময়। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কও অবরুদ্ধ থাকে। এই দিনের সমাবেশ থেকেই প্রথমবারের মতো ছাত্র ধর্মঘটের ডাক আসে।সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম শাহবাগ অবরোধ কর্মসূচিতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন, যেখানে আন্দোলনের সুর আরও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে। আদালতের অনিশ্চয়তা যেন আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে দিল—আইনি পথে সমাধান সহজে আসবে না, রাজপথের চাপই একমাত্র ভরসা।জুলাই ৫: শুক্রবার, ছুটির দিনেও রাজপথ৫ জুলাই ছিল শুক্রবার—সাপ্তাহিক ছুটির দিন। সাধারণত এমন দিনে আন্দোলনের গতি কমে যাওয়ারই কথা। কিন্তু কোটা আন্দোলনের ক্ষেত্রে তা হয়নি।সরকারি ছুটি সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। এই একটা ছোট্ট তথ্যই বলে দেয় অনেক কিছু—ছুটির দিনেও যখন মানুষ রাস্তায় নামে, বোঝা যায় এই আন্দোলনের পেছনে কোনো সাময়িক উত্তেজনা নয়, বরং জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কাজ করছে।এই দিনটা ছিল অনেকটা ঝড়ের আগের শান্ত মুহূর্তের মতো। সামনের সপ্তাহেই ‘বাংলা ব্লকেড’ নামের যে কর্মসূচি আসছিল, তার প্রস্তুতি চলছিল পর্দার আড়ালে। সমন্বয়করা সংগঠন গোছাচ্ছিলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন, আসন্ন কর্মসূচির রূপরেখা ঠিক করছিলেন।জুলাই ৬: শনিবার, ‘বাংলা ব্লকেড’-এর ঘোষণা৬ জুলাই শনিবার, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থীরা আবার শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলার পর সেটা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।কিন্তু অবরোধ তুলে নেওয়ার আগেই আসে এই সপ্তাহের সবচেয়ে বড় ঘোষণা—পরদিন অর্থাৎ ৭ জুলাই বিকেল তিনটা থেকে সারা দেশে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি শুরু হবে। এই নামটা তখন থেকেই মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। এর মানে ছিল—আর শুধু এক জায়গায় জমায়েত নয়, বরং সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আর রেলপথ একসঙ্গে অচল করে দেওয়ার পরিকল্পনা।এই দিনই একটা রাজনৈতিক মন্তব্যও নজর কাড়ে। এবি পার্টির এক নেতা অভিযোগ করেন, ট্রানজিট ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরাতেই সরকার এই আন্দোলনকে ব্যবহার করছে—এমন দাবিও কেউ কেউ তুলছিলেন। এই বিতর্কই দেখিয়ে দেয়, আন্দোলনটা তখন কতটা আলোচিত হয়ে উঠেছিল—রাজনৈতিক সব পক্ষই এটা নিয়ে নিজেদের মতো ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেছিল।জুলাই ৭: রোববার, সাত রাস্তায় অবরোধ, রাজধানী অচল৭ জুলাই রোববার—এই দিনটাকেই বলা যায় প্রথম সপ্তাহের চূড়ান্ত মোড়। ঘোষণামতো বিকেল তিনটা থেকে শুরু হয় ‘বাংলা ব্লকেড’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে রাজধানীর শাহবাগসহ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক একসঙ্গে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।ঢাকার বাইরেও একই চিত্র। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁদের নিজ নিজ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়ক দখলে নেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণাও আসে এই দিন। সব মিলিয়ে রাজধানী কার্যত অচল হয়ে পড়ে।এই দিনটার গুরুত্ব বোঝা যায় একটা জায়গায়—এতদিন আন্দোলন ছিল মূলত ‘এক ঘণ্টা অবরোধ, তারপর প্রত্যাহার’ ধরনের সীমিত কর্মসূচি। কিন্তু ৭ জুলাই থেকে সেটা বদলে গেল দীর্ঘস্থায়ী, ব্যাপক ও সংগঠিত এক আন্দোলনে। পরদিন ৮ জুলাই আর ৯ জুলাইও একই ধরনের কর্মসূচি চলতে থাকে, আর ৮ জুলাই আন্দোলনের দাবি চার দফা থেকে নেমে আসে একদফায়—শুধু কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে। এখান থেকেই বোঝা যায়, সাত দিনের এই ধারাবাহিক চাপ আন্দোলনকে একটা নতুন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল।১ম সপ্তাহের শেষ কথাসাত দিনে যা ঘটল, সেটা আসলে ছিল একটা মহড়া—পরের দুই মাসে যা ঘটবে, তার পূর্বাভাস। একটা আদালতের রায়, একদল ক্লান্ত-ক্ষুব্ধ তরুণ, আর একটা সরকার যে প্রথম সাত দিন এই আওয়াজকে গুরুত্বই দেয়নি। এই অবহেলার মূল্যই পরে সরকারকে চোকাতে হয়েছিল সবচেয়ে বড় আকারে। আজ পেছন ফিরে তাকালে বোঝা যায়, ১ জুলাই থেকে ৭ জুলাই—এই সাতটা দিন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এ ছিল একটা ধাপে ধাপে জমে ওঠা ঢেউ, যা শেষ পর্যন্ত ভেঙে দিয়েছিল ষোলো বছরের একটা শাসনকাঠামো।

অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন ও আমাদের জেগে ওঠার দায়

আমরা যারা সাধারণ মানুষ, তারা প্রায়ই রাজনীতির বাইরের চাকচিক্য দেখে মুগ্ধ হই। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বদলালে মনে হয় সব কিছু বদলে যাবে, কিংবা ভারতের কোনো রাজ্যে সরকার পাল্টালে মনে হয় নতুন কোনো সূর্য উদয় হলো। কিন্তু সত্যি বলতে, এসবই কি পুরো সত্য? আপনি যদি একটু গভীর নজর দেন, দেখবেন পর্দার সামনে থাকা নেতারা কেবলই পুতুল। তাদের সুতো ধরে আছে অন্য কেউ। আমেরিকার ক্ষেত্রে যাকে আমরা 'ডিপ স্টেট' বলি, ভারতের ক্ষেত্রে সেই অদৃশ্য নিয়ন্ত্রক শক্তিটি হলো আরএসএস বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ।ভাবুন তো একবার, নির্বাচনের সময় আমরা দেখি বড় বড় র‍্যালি, আকাশচুম্বী প্রতিশ্রুতি আর মিডিয়ার মাতামাতি। কিন্তু দিনশেষে ভারতের আসল নীতি কি বদলে যায়? না, বদলায় না। কারণ ভারতের আসল রাজধানী এখন আর নয়াদিল্লিতে নেই, সেটি চলে গেছে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে। আরএসএস কোনো রাজনৈতিক দল নয় যে তাকে নির্বাচনে জিততে হবে। তারা বরং এমন এক গ্রুপ যার তৈরি করা সফটওয়্যারেই পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র চলে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আমলা—সবাইকে এই নাগপুরের এজেন্ডা মেনেই চলতে হয়। তাদের লক্ষ্য কেবল ক্ষমতা দখল নয়, বরং ভারত নামক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রটিকে ভেতরে থেকে বদলে দিয়ে একটি কট্টর হিন্দু রাষ্ট্র কায়েম করা।বিনায়ক দামোদর সাভারকরএই উগ্র দর্শনের পেছনের কারিগর বিনায়ক দামোদর সাভারকর। তার ইতিহাস যদি আপনি একটু ঘেঁটে দেখেন, তবে চমকে উঠবেন। ব্রিটিশদের জেলে থাকাকালীন যে হীনম্মন্যতা তার ভেতর তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকেই জন্ম হয়েছিল এক গভীর বিদ্বেষের। তিনি একটি কাল্পনিক শত্রু বানিয়ে নিলেন—মুসলমানদের। তার সেই বিতর্কিত ‘হিন্দুত্ব’ বইটি আজও এই মতাদর্শের অনুসারীদের কাছে বাইবেল।  'বিনায়ক দামোদর সাভারকরের লেখা 'হিন্দুত্ব' বইয়ের প্রচ্ছদতিনি বিশ্বাস করতেন, যারা এই মাটির সন্তান কিন্তু যাদের তীর্থস্থান মক্কা বা জেরুজালেমে, তারা প্রকৃত ভারতীয় হতে পারে না। এই জঘন্য ফর্মুলা দিয়ে তিনি কোটি কোটি মানুষকে রাতারাতি বহিরাগত বানিয়ে দিলেন। আর অবাক করা বিষয় হলো, এই মানুষটাকেই আজকের ভারতে ‘বীর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।এখন প্রশ্ন হলো, ভারতের এই অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আমাদের মতো প্রতিবেশী দেশের জন্য কেন চিন্তার বিষয়? কারণ এদের লক্ষ্য কেবল ভারতের সীমানার ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়। এদের মূল মাস্টারপ্ল্যানটি হলো ‘অখণ্ড ভারত’। নাগপুরের সদর দপ্তরে টাঙানো মানচিত্রে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল—সবই তাদের সাম্রাজ্যের অংশ।  আরএসএসের অখন্ড ভারতের কাল্পনিক মানচিত্রতারা মনে করে, এই দেশগুলো ভুলবশত তাদের হাতছাড়া হয়েছে এবং যেকোনো মূল্যে তা ফিরিয়ে আনতে হবে। ভারতের নতুন সংসদ ভবনের ম্যাপে যখন আমরা আমাদের দেশের সীমানা দেখি, তখন তা কেবল পাথরের কারুকার্য থাকে না, বরং তা এক সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।তবে তারা কি এখন আমাদের ওপর সরাসরি সামরিক আক্রমণ করছে? না। তারা বেছে নিয়েছে ‘স্লো পয়জনিং’ বা ধীরগতির আগ্রাসনের পথ। আপনি যদি খেয়াল করেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের মগজ এখন বলিউড, স্টার জলসা আর মেকি সাংস্কৃতিক আভিজাত্যের নেশায় বুঁদ। আমাদের ভাষা, আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি আর অর্থনীতির মেরুদণ্ড—সবই যেন তাদের দয়ার ওপর নির্ভরশীল। আমাদের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, আমাদের বাজারগুলো তাদের নিম্নমানের পণ্যে ভরে যাচ্ছে, আর আমরা বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে সবকিছু মাথা পেতে নিচ্ছি। এটি কোনো সাধারণ কূটনীতি নয়, এটি হলো এক ধরনের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অবরুদ্ধকরণ।এখন সময় হয়েছে নিজেকে প্রশ্ন করার—আমরা কি সত্যিই স্বাধীন, নাকি আমরা ধীরে ধীরে এক অদৃশ্য কলোনিতে পরিণত হচ্ছি? ভারতের সাধারণ মানুষের সাথে আমাদের লড়াই নেই, লড়াইটা ওই উগ্র মতাদর্শের সাথে, যারা আমাদের অস্তিত্বকে মানচিত্রের একটি অংশ হিসেবে দেখে।আমাদের বাঁচার পথ একটাই—জেগে ওঠা। আমাদের অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করতে হবে, কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় নিজস্ব আত্মপরিচয় ও দেশপ্রেমের পাঠ নতুন করে পড়াতে হবে, যাতে কোনো বাইরের মতাদর্শ সহজেই আমাদের মগজ ধোলাই করতে না পারে। ভারতের ওই গেরুয়া অক্টোপাস আমাদের বন্ধু নয়, এটি একটি আগ্রাসী পরিকল্পনা। বন্ধু হিসেবে সম্পর্ক চাই, কিন্তু দাসত্ব মেনে নিয়ে নয়।আমরা যদি আজ আমাদের শিকড়কে শক্ত না করি, তবে অদূর ভবিষ্যতে আরএসএস-এর ওই মানচিত্রের স্বপ্নই হয়তো আমাদের বাস্তব হয়ে ধরা দেবে। দানব এখন আর বইয়ের পাতায় বা ইতিহাসের ধূসর অধ্যায়ে নেই, সে আমাদের জাতীয় সীমান্তের দরজায় কড়া নাড়ছে। তাই সময় থাকতেই আমাদের সজাগ হতে হবে। সচেতনতা আর স্বনির্ভরতাই এখন আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার একমাত্র কবজ।আমাদের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে আমাদের স্বার্থে, ভূ-খণ্ডের সার্বভৌমত্বের  স্বার্থে চোখে চোখ রেখে যে কোন আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। 

ইয়াসিরের ফিফটিতেও রক্ষা হলো না, বুলাওয়েতে টি–টোয়েন্টি হারল বাংলাদেশ

ইয়াসিরের ফিফটিতেও রক্ষা হলো না, বুলাওয়েতে টি–টোয়েন্টি হারল বাংলাদেশ

তিন বছর পর টি–টোয়েন্টি দলে ফিরে ব্যাট হাতে লড়াই করলেন ইয়াসির আলী। নাহিদ রানা বল হাতে নিলেন চার উইকেট। তবু কোনো অর্জনই বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির কারণ হতে পারল না। বুলাওয়েতে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ১৭০ রানের সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে ১৩৮ রানে অলআউট হয়ে ৩২ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা।১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৩৪ রান তুলতেই সাজঘরে ফিরে যান তিন ওপেনিং ব্যাটার—সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন। নতুন বলে জিম্বাবুয়ের পেসারদের বাড়তি বাউন্স ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকেই ছন্দ হারায় বাংলাদেশের টপ অর্ডার।বিপর্যয়ের মধ্যে চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ও ইয়াসির আলী। দুজন মিলে ২৯ বলে যোগ করেন ৩৯ রান। তবে দলকে পথ দেখানোর আগেই মিল্টন সুম্বার শিকার হন হৃদয়। ১৩ বলে ১৪ রান করে ক্যাচ দিলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৭৩।এর পরের ধাক্কা আসে আরও দ্রুত। ইনিংসের পরের ওভারেই রানআউট হয়ে ফেরেন নুরুল হাসান। তখন থেকেই ম্যাচ ক্রমশ জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে থাকে।এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান ইয়াসির। ষষ্ঠ উইকেটে মেহেদী হাসানকে নিয়ে ৩৭ বলে ৫২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তুললেও প্রয়োজনীয় রানরেট কমানো সম্ভব হয়নি। শেষ তিন ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৪১ রান, হাতে ছিল পাঁচ উইকেট।১৭তম ওভারে ১৯ রান করা মেহেদী বিদায় নেওয়ার পরও আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন ইয়াসির। কিন্তু ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই রিচার্ড এনগারাভার বাউন্সারে বড় শট খেলতে গিয়ে কাভারে ধরা পড়েন তিনি। ৩৮ বলে ৫৪ রানের ইনিংসটি ছিল তিন বছর পর টি–টোয়েন্টিতে তার প্রথম অর্ধশতক। ইয়াসির ফেরার পর বাংলাদেশের ইনিংস দ্রুত ভেঙে পড়ে। শেষ পাঁচ উইকেট হারায় মাত্র ৮ রানে, ফলে ১৩৮ রানেই শেষ হয় সফরকারীদের ইনিংস।এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে তোলে ৬ উইকেটে ১৭০ রান। উদ্বোধনী জুটিতেই স্বাগতিকরা ম্যাচের ভিত গড়ে দেয়। ব্রায়ান বেনেট ৩০ বলে ৪৪ রান এবং তাদিওয়ানাসে মারুমানি ৯ বলে ১৪ রান করে দ্রুত সূচনা এনে দেন।বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র ধারাবাহিক প্রভাব ফেলেন নাহিদ রানা। নিজের প্রথম তিন ওভারে মাত্র ৮ রান খরচ করে চার উইকেট তুলে নেন এই গতিতারকা। শেষ ওভারে ১৮ রান দিলেও ৪ ওভারে ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ছিলেন দলের সেরা বোলার। এছাড়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।মধ্য ও শেষ দিকে রায়ান বার্লের ২৫ বলে ৩০ এবং ক্লাইভ মাদান্দে? (ইভান্স) অপরাজিত ১০ বলে ১৯ রানের কার্যকর ইনিংসে ১৭০ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে। কোনো ব্যাটার অর্ধশতক না পেলেও সম্মিলিত ব্যাটিং পারফরম্যান্সই স্বাগতিকদের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়।এই জয়ে টেস্ট ও ওয়ানডের পর টি–টোয়েন্টি সিরিজেও এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে। একই ভেন্যু বুলাওয়েতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৭ জুলাই।

অনলাইন জরিপ
১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
শেখ হাসিনা ফিরলেই রায় কার্যকর হবে, আপিলের সুযোগ নেই।
                                                                                                                            -নাহিদ ইসলাম

শেখ হাসিনা ফিরলেই রায় কার্যকর হবে, আপিলের সুযোগ নেই। -নাহিদ ইসলাম

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
মুনাফা কমলেও ১,৪১৮ কোটি টাকা লভ্যাংশ দিল গ্রামীণফোন

মুনাফা কমলেও ১,৪১৮ কোটি টাকা লভ্যাংশ দিল গ্রামীণফোন

দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন (জিপি) চলতি বছরের প্রথমার্ধে আয় ও মুনাফা—দুই ক্ষেত্রেই নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধির মুখে পড়েছে। ব্যবসায়িক আয় কমার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়, কর্মীদের বেতন-ভাতা এবং আর্থিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিটির নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৯২ কোটি টাকা বা ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।কোম্পানির প্রকাশিত অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে গ্রামীণফোনের নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৪২১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল ১ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা।সোমবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ছয় মাসের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি শেয়ারধারীদের জন্য ১০৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। ফলে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা ১০ টাকা ৫০ পয়সা করে নগদ লভ্যাংশ পাবেন।এই লভ্যাংশ বিতরণে কোম্পানির মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অর্জিত নিট মুনাফার প্রায় সমান।আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বছরের প্রথম ছয় মাসে গ্রামীণফোনের মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির আয় ছিল ৭ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আয় কমেছে ১৯৮ কোটি টাকা, যা প্রায় আড়াই শতাংশ।আয় কমার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধিও মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচ গত বছরের ২৭৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এ বছর ৩২৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ফলে এ খাতে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৪৬ কোটি টাকা।এ ছাড়া কর্মীদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় বেড়েছে ২০ কোটি টাকা এবং পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়েছে আরও ১৬ কোটি টাকা। এসব কারণ মিলিয়েই কোম্পানির মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।ঘোষিত লভ্যাংশের বড় অংশই যাবে উদ্যোক্তা ও পরিচালক শেয়ারধারীদের হাতে। কারণ, কোম্পানির প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে মোট ১ হাজার ৪১৮ কোটি টাকার লভ্যাংশের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা পাবেন উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা।অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা। জুন শেষে তাদের হাতে ছিল কোম্পানির প্রায় পৌনে ৭ শতাংশ শেয়ার। সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা পাবেন প্রায় ৪১ কোটি টাকা, যাদের দখলে ছিল প্রায় ৩ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের মালিকানাধীন শেয়ারের বিপরীতে প্রায় ৫ কোটি টাকা লভ্যাংশ পাবেন।কোম্পানিটি জানিয়েছে, আগামী ১২ আগস্ট রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন যেসব বিনিয়োগকারীর নামে গ্রামীণফোনের শেয়ার থাকবে, তারাই ঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য হবেন। রেকর্ড ডেট উপলক্ষে সেদিন শেয়ারবাজারে গ্রামীণফোনের শেয়ার লেনদেনও বন্ধ থাকবে।

যুগ বদলায়, কিন্তু ইসলামের মূলনীতি কেন বদলায় না?

যুগ বদলায়, কিন্তু ইসলামের মূলনীতি কেন বদলায় না?

মানুষের ইতিহাস মূলত পরিবর্তনের ইতিহাস। এক সময় যে পৃথিবীতে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি, আজ সেখানে মুহূর্তের মধ্যেই পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে তথ্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি, জিন প্রকৌশল কিংবা ডিজিটাল অর্থনীতি—প্রতিদিনই নতুন কিছু যোগ হচ্ছে মানুষের জীবনে। সমাজ বদলাচ্ছে, রাষ্ট্র বদলাচ্ছে, অর্থনীতি বদলাচ্ছে; বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রা ও চিন্তার ধরনও। এই বাস্তবতার মধ্যেই একটি প্রশ্ন প্রায়ই উচ্চারিত হয়—পৃথিবী যখন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন ইসলাম কেন তার মৌলিক অবস্থানে অটল? ধর্মও কি সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া উচিত নয়?প্রশ্নটি নতুন নয়। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে একই প্রশ্ন নানা ভাষায়, নানা প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে। তবে এর উত্তর খুঁজতে হলে প্রথমেই বুঝতে হবে ইসলামকে। ইসলাম কেবল কিছু ধর্মীয় আচার বা ব্যক্তিগত ইবাদতের নাম নয়; এটি মানুষের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং নৈতিক জীবনের জন্য আল্লাহপ্রদত্ত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।ইসলামের মৌলিক শিক্ষা এমন কিছু চিরন্তন সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা মানুষের পরিবর্তনশীল জীবনধারার সঙ্গে নয়, বরং তার স্বভাবগত চাহিদার সঙ্গে সম্পর্কিত। মানুষ আজও সত্যের মূল্য দেয়, ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে, পরিবারে ভালোবাসা চায়, নিরাপত্তা খোঁজে এবং জীবনের উদ্দেশ্য জানতে চায়। হাজার বছর আগে যেমন মানুষ অন্যায়, লোভ, প্রতারণা ও অবিচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতো, আজও সেই বাস্তবতা বদলায়নি। তাই এসব সমস্যার সমাধানও মৌলিকভাবে একই রয়ে গেছে।অনেকেই ইসলামকে পরিবর্তনের প্রতিপক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করেন। অথচ ইসলামের ইতিহাস সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও সভ্যতার বিকাশে মুসলিমদের অবদান বিশ্ব ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইসলাম কখনো উন্নয়নের বিরোধিতা করেনি; বরং এমন অগ্রগতিকে উৎসাহিত করেছে, যা মানবকল্যাণে কাজে আসে এবং নৈতিকতার সীমা অতিক্রম করে না।আজকের পৃথিবী প্রযুক্তিগত সাফল্যে বিস্ময়কর অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে বাড়ছে যুদ্ধ, বৈষম্য, দুর্নীতি, পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক অবসাদ, পরিবেশ সংকট এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়। এতে একটি প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে—শুধু প্রযুক্তি কি মানুষের শান্তি নিশ্চিত করতে পারে, নাকি তার জন্য প্রয়োজন একটি স্থায়ী নৈতিক ভিত্তি?ইসলাম সেই নৈতিক ভিত্তির কথাই বলে। এটি পরিবর্তনকে অস্বীকার করে না; বরং পরিবর্তনকে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা এবং জবাবদিহিতার আলোকে পরিচালিত করার শিক্ষা দেয়। এ কারণেই ইসলামের মৌলিক নীতিমালা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় না, অথচ তার প্রয়োগ প্রতিটি যুগের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। পরিবর্তন মানুষের, কিন্তু সত্যের নয়পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাভাবিক নিয়মের নাম পরিবর্তন। ঋতুর পালাবদল, সভ্যতার উত্থান-পতন, রাষ্ট্রের রূপান্তর কিংবা প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি—সবই সেই পরিবর্তনের অংশ। একসময় যে কাজ করতে মাসের পর মাস লেগে যেত, এখন তা কয়েক সেকেন্ডেই সম্পন্ন হচ্ছে। মানুষের জীবনযাত্রা বদলেছে, যোগাযোগের ধরন বদলেছে, জ্ঞান অর্জনের পথও আগের চেয়ে অনেক বিস্তৃত হয়েছে।তবে এই পরিবর্তনের মধ্যেও এমন কিছু সত্য রয়েছে, যা কখনো পুরোনো হয় না। সূর্য আজও পূর্ব দিকেই উদিত হয়, অন্যায় আজও অন্যায়ই থেকে যায়, আর সততা এখনো মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান গুণগুলোর একটি। সময় যতই এগিয়ে যাক, ন্যায়বিচার, সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা এবং মানবিকতার গুরুত্ব কমে না; বরং সংকটের সময় এগুলোর প্রয়োজন আরও বেশি অনুভূত হয়।ইসলাম ঠিক এই চিরন্তন সত্যগুলোর ওপরই প্রতিষ্ঠিত। মানুষের বাহ্যিক জীবনযাত্রা বদলাতে পারে, কিন্তু তার অন্তর্গত চাহিদা বদলায় না। মানুষ আজও নিরাপদ পরিবার চায়, সম্মানজনক জীবন চায়, ভালোবাসা চায়, ন্যায়বিচার চায় এবং এমন একটি আদর্শ খোঁজে, যা তাকে জীবনের উদ্দেশ্য বুঝতে সাহায্য করে। এই বাস্তবতা হাজার বছর আগেও যেমন ছিল, আজও তেমনই রয়েছে।এ কারণেই ইসলামের মৌলিক শিক্ষা সময়ের পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল নয়। আল্লাহর একত্ব, নবুয়তের প্রতি বিশ্বাস, আখিরাতের জবাবদিহিতা, ন্যায় প্রতিষ্ঠা, সত্য কথা বলা, আমানত রক্ষা এবং মানুষের মর্যাদার প্রতি সম্মান—এসব কোনো নির্দিষ্ট সমাজ বা যুগের তৈরি মূল্যবোধ নয়। এগুলো মানুষের স্বাভাবিক জীবন ও নৈতিক অস্তিত্বের ভিত্তি। তাই এগুলোকে সময়ের সঙ্গে বদলে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।তবে ইসলামের এই স্থিরতা অনেক সময় ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। কেউ কেউ মনে করেন, ইসলাম যেহেতু মৌলিক নীতিতে পরিবর্তন আনে না, তাই এটি নতুন বাস্তবতাকেও গ্রহণ করে না। প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইসলাম অপরিবর্তনীয় রেখেছে মূলনীতি; কিন্তু মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বহু ক্ষেত্রে রেখেছে চিন্তা, গবেষণা ও বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ।ইসলামী আইনশাস্ত্রে এই নমনীয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো ইজতিহাদ। অর্থাৎ, কুরআন ও সুন্নাহর মৌলিক নির্দেশনা অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন পরিস্থিতি, নতুন প্রযুক্তি কিংবা নতুন সামাজিক বাস্তবতার জন্য সমাধান অনুসন্ধান করা। এ কারণেই ইসলামের ইতিহাসে প্রতিটি যুগের আলেমরা নিজেদের সময়ের নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে তার সমাধান তুলে ধরেছেন।এই দৃষ্টিভঙ্গি ইসলামকে একই সঙ্গে স্থিতিশীল ও কার্যকর করেছে। একদিকে এটি মানুষের নৈতিক ভিত্তিকে অটুট রাখে, অন্যদিকে পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবন পরিচালনার সুযোগও দেয়। ফলে ইসলাম কোনো স্থবির বা সময়ের বাইরে থাকা ব্যবস্থা নয়; বরং এমন একটি জীবনদর্শন, যা পরিবর্তনকে অস্বীকার না করে তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে চায়।আজকের বিশ্বে আমরা প্রযুক্তিগত উন্নতির পাশাপাশি নৈতিক সংকটও প্রত্যক্ষ করছি। তথ্যপ্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে বেড়েছে ভুয়া তথ্য, অনলাইন প্রতারণা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং সামাজিক বিভাজন। অর্থাৎ পরিবর্তন নিজে কখনো ভালো বা মন্দ নয়; তার মূল্য নির্ধারণ হয় ব্যবহারের মাধ্যমে। ইসলামও ঠিক এই কথাই শিক্ষা দেয়। যে পরিবর্তন মানুষের মর্যাদা রক্ষা করে, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে এবং সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখে, ইসলাম তাকে স্বাগত জানায়। আর যে পরিবর্তন অন্যায়, অবিচার বা নৈতিক অবক্ষয়কে উৎসাহিত করে, ইসলাম সে বিষয়ে সতর্ক করে।এ কারণেই ইসলামের মৌলিক শিক্ষা যুগের পরিবর্তনে পরিবর্তিত হয় না। কারণ সময় বদলায়, মানুষের জীবনধারা বদলায়, কিন্তু সত্য, ন্যায় এবং মানবিকতার প্রয়োজন কখনো বদলায় না। ইসলামের শক্তি এখানেই—এটি পরিবর্তনের বিরোধিতা করে না; বরং পরিবর্তনের ভেতরেও মানুষকে চিরন্তন সত্যের সঙ্গে যুক্ত থাকতে শেখায়। কুরআন, সুন্নাহ, ইসলামের ইতিহাস এবং সমকালীন বাস্তবতার আলোকে যদি চিন্তা করি—কেন ইসলামের মৌলিক শিক্ষা চিরন্তন, কীভাবে ইসলাম পরিবর্তনশীল বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দিকনির্দেশনা দেয় এবং কেন আধুনিক যুগেও এর প্রাসঙ্গিকতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।

সব বিভাগের খবর

ব্যথা কমাতে গরম না ঠান্ডা সেঁক,  কোন ব্যাথায় কোনটি কার্যকর?

ব্যথা কমাতে গরম না ঠান্ডা সেঁক, কোন ব্যাথায় কোনটি কার্যকর?

ব্যথা বা আঘাত পেলেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—গরম সেঁক দেবেন, নাকি ঠান্ডা? চিকিৎসকদের মতে, এর উত্তর এক কথায় দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, সব ধরনের ব্যথার জন্য একই পদ্ধতি কার্যকর নয়। ব্যথা নতুন নাকি দীর্ঘদিনের, ফোলা আছে কি না এবং পেশির অবস্থা কেমন—এসব বিবেচনা করেই সঠিক সেঁক নির্বাচন করতে হয়।খেলাধুলার মাঠেও এর বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায়। সম্প্রতি ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আঘাত পাওয়ার পর ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার ডেকলান রাইসকে বাঁ ঊরুর পেছনে বড় আইস প্যাক ব্যবহার করতে দেখা গেছে। আবার দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে থাকা খেলোয়াড়দের অনেকেই নিয়মিত গরম সেঁকের সাহায্য নেন, যাতে পেশির নমনীয়তা ফিরে আসে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।নতুন আঘাতে কেন ঠান্ডা সেঁক?চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, মচকানো, পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া, খেলাধুলাজনিত চোট কিংবা শরীরের কোনো অংশ ফুলে গেলে প্রথম ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঠান্ডা সেঁক সবচেয়ে উপকারী। এটি ক্ষতস্থানের প্রদাহ ও ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে এবং ব্যথার তীব্রতাও হ্রাস করে।ঠান্ডা সেঁক দেওয়ার সময় বরফ বা আইস প্যাক অবশ্যই একটি পাতলা কাপড়ে মুড়ে ব্যবহার করতে হবে। একবারে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো। বরফ কখনোই সরাসরি ত্বকের ওপর প্রয়োগ করা উচিত নয়, এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।গরম সেঁক কখন প্রয়োজন?দীর্ঘদিনের কোমর বা ঘাড়ের ব্যথা, পেশি টান, ব্যায়ামের পর পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ব্যথা কিংবা কাঁধ ও পিঠের কাঠিন্যের ক্ষেত্রে গরম সেঁক বেশি কার্যকর।হট ওয়াটার ব্যাগ বা হিট প্যাক ব্যবহার করে ১৫ থেকে ২০ মিনিট গরম সেঁক দিলে আক্রান্ত স্থানে রক্ত চলাচল বাড়ে, পেশি শিথিল হয় এবং ব্যথা কমতে সহায়তা করে। এ কারণেই দীর্ঘমেয়াদি চোট থেকে সুস্থ হওয়ার পথে থাকা অনেক খেলোয়াড়ও গরম সেঁকের ওপর নির্ভর করেন।যে বিষয়গুলো মনে রাখা জরুরিনতুন আঘাত, ফোলাভাব বা প্রদাহ থাকলে ঠান্ডা সেঁক ব্যবহার করুন।দীর্ঘদিনের ব্যথা বা পেশি শক্ত হয়ে গেলে গরম সেঁক বেশি উপকারী।কোনো খোলা ক্ষত বা কাটা জায়গায় সরাসরি গরম বা ঠান্ডা সেঁক দেওয়া উচিত নয়।ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর সমস্যা বা শরীরের অনুভূতি কম থাকলে সেঁক ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।ব্যথা যদি তীব্র হয়, জ্বর আসে, ফোলাভাব বেড়ে যায় বা কয়েক দিন পরও উপশম না হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সময় বাঁচাতে আইফোনে ব্যবহার করুন ৫ দরকারি শর্টকাট

সময় বাঁচাতে আইফোনে ব্যবহার করুন ৫ দরকারি শর্টকাট

প্রতিদিনের ব্যস্ত সকালে একসঙ্গে ক্যালেন্ডার দেখা, আবহাওয়ার খবর জানা, অফিসে পৌঁছানোর সময় হিসাব করা কিংবা প্রয়োজনীয় অ্যাপ চালু করতে গিয়ে অনেকেরই মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের Shortcuts অ্যাপ এই ঝামেলা অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। কয়েকটি সহজ অটোমেশন ব্যবহার করেই দৈনন্দিন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব।অ্যাপল জানিয়েছে, ভবিষ্যতের iOS 27 সংস্করণে Apple Intelligence–এর সহায়তায় সাধারণ ভাষায় নির্দেশ দিলেই কাস্টম শর্টকাট তৈরি করা যাবে। তবে নতুন সংস্করণ আসার আগেই ব্যবহারকারীরা কয়েকটি কার্যকর শর্টকাট ব্যবহার করে সকালের রুটিন আরও সহজ করতে পারেন।১. মর্নিং সামারিদিনের শুরুতে প্রয়োজনীয় তথ্য এক জায়গায় দেখতে চাইলে ‘মর্নিং সামারি’ শর্টকাট বেশ কার্যকর। এটি ক্যালেন্ডারে থাকা দিনের সূচি, গুরুত্বপূর্ণ রিমাইন্ডার এবং স্থানীয় আবহাওয়ার তথ্য—যেমন তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিমাণ—একসঙ্গে দেখায়।অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সমর্থিত ডিভাইসে এসব তথ্য গোছানো বুলেট পয়েন্ট আকারে উপস্থাপন করা হয়। ফলে আলাদা করে একাধিক অ্যাপ খুলতে হয় না।২. কখন বের হলে সময়মতো পৌঁছাবেনঅফিসে ঠিক কখন রওনা হওয়া উচিত, সেটিও জানিয়ে দিতে পারে একটি শর্টকাট। এটি লাইভ ট্রাফিক, বাসা ও অফিসের অবস্থান, নির্ধারিত অফিস সময় এবং প্রয়োজনীয় হাঁটার সময় বিশ্লেষণ করে বাসা থেকে বের হওয়ার উপযুক্ত সময় জানিয়ে দেয়।ফলে প্রতিদিন নেভিগেশন অ্যাপ খুলে ট্রাফিক পরিস্থিতি পরীক্ষা করার প্রয়োজন কমে যায়।৩. দেরি হলে স্বয়ংক্রিয় বার্তাকোনো কারণে অফিসে পৌঁছাতে দেরি হলে ‘রানিং লেট’ শর্টকাট কাজে আসে। এটি ক্যালেন্ডারে থাকা মিটিং বা ইভেন্টের অবস্থান অনুযায়ী সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময় নির্ধারণ করে এবং সহকর্মী বা ম্যানেজারের জন্য একটি বার্তার খসড়া তৈরি করে দেয়।ব্যবহারকারী শুধু বার্তাটি দেখে পাঠিয়ে দিলেই হয়।৪. অফিসে পৌঁছেই রিমাইন্ডারঅফিসে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে ‘রিমাইন্ড মি অ্যাট ওয়ার্ক’ শর্টকাট ব্যবহার করা যায়।প্রথমবার অফিসের ঠিকানা সংযুক্ত করার পর ব্যবহারকারী শুধু কাজের বিষয়টি লিখে রাখবেন। অফিসে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে আইফোন সেই রিমাইন্ডার স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখাবে।৫. নিজের মতো মর্নিং রুটিনএকটি শর্টকাটের মধ্যেই একাধিক কাজ যুক্ত করে ব্যক্তিগত ‘মর্নিং রুটিন’ তৈরি করা যায়। যেমন—কফি বা ব্যায়ামের টাইমার চালু করা।পছন্দের প্লেলিস্ট চালানো।প্রয়োজনীয় ইমেইল বা কাজের অ্যাপ খুলে দেওয়া।মিডিয়ার ভলিউম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করা।নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব কাজ যুক্ত করে প্রতিদিনের সকালের রুটিন আরও সহজ ও দ্রুত করা সম্ভব।এআই দিয়ে শর্টকাট তৈরি হবে আরও সহজঅ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন iOS 27 সংস্করণে Apple Intelligence যুক্ত হওয়ার পর শর্টকাট তৈরির প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। ব্যবহারকারী কী ধরনের অটোমেশন চান, তা শুধু লিখে বা বলে দিলেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজেই প্রয়োজনীয় শর্টকাট তৈরি করে দেবে।এর ফলে প্রযুক্তিগত জটিলতা ছাড়াই সাধারণ ব্যবহারকারীরাও সহজে আইফোনের অটোমেশন সুবিধা কাজে লাগাতে পারবেন।

লুণ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনে সরকারের নতুন অঙ্গীকার

লুণ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনে সরকারের নতুন অঙ্গীকার

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে ঢেলে সাজিয়ে শিশুদের আগামীর বাংলাদেশ গড়ার মূল শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও লুণ্ঠনের শিকার শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যজ্ঞানেই নয়, মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণেও সমৃদ্ধ হবে।বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।মাহদী আমিন বলেন, দেশের সাতটি জেলা থেকে নানা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের ভালোবাসা ও উদ্দীপনা প্রমাণ করে যে, জনমুখী নেতৃত্ব মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলতে পারে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন-ভাবনাকে বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং সেই লক্ষ্যেই শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে।তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সক্ষমতা অর্জন করবে। আগামী দিনের সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে তারাই নেতৃত্ব দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে একটি উন্নত বাংলাদেশের যে রূপরেখা তুলে ধরেছেন, তার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই সারাদেশের বিদ্যালয়ে প্রায় দুই লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে। তিনি জানান, এই কর্মসূচি কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; শিক্ষার্থীরাই নিজ নিজ বিদ্যালয়ে গাছগুলোর পরিচর্যা করবে। এর মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের আগ্রহ ও যোগ্যতা অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা-ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সারা বছর দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এসব প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধাবী ও সৃজনশীল শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হবে।অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ইতোমধ্যে প্রাথমিক স্তরের প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স ফুটবল গোল্ড কাপ’ আয়োজনেও প্রধানমন্ত্রী পৃষ্ঠপোষকতা করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত শেষের নির্দেশ

ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত শেষের নির্দেশ

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে গুণগতমানের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস না করার নির্দেশ দিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে থাকা প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত দূর করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখারও নির্দেশনা দেন তিনি।শনিবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সময় আশুলিয়া অংশের স্টেক ইয়ার্ড-৩-এর সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় প্রকল্প পরিচালক, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সভায় চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি বিবেচনায় একটি হালনাগাদ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্নের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন সেতু সচিব।প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম বড় বাধা হিসেবে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের স্থানান্তরের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি এ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।এ ছাড়া নির্মাণকাজ চলাকালে যান চলাচলে যাতে জনদুর্ভোগ কম হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিশেষ করে ঈদুল আজহার সময় ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন সেতু বিভাগের সচিব।

২০২৬ সালে যেভাবে বদলে যাবে সোশ্যাল মিডিয়া

২০২৬ সালে যেভাবে বদলে যাবে সোশ্যাল মিডিয়া

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা টেলিগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন আর শুধু ছবি, ভিডিও বা স্ট্যাটাস ভাগাভাগির প্ল্যাটফর্ম নয়। ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড গড়া, ব্যবসা পরিচালনা, আয় এবং তথ্য সংগ্রহের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে এগুলো। তবে কনটেন্টের বিস্ফোরণের এই সময়ে ব্যবহারকারীদের চাহিদাও দ্রুত বদলে যাচ্ছে।প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার ও কনটেন্ট তৈরির ধরণে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যাবে।দীর্ঘ হবে শর্ট ভিডিওরিলস ও শর্টস এখনও সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও ফরম্যাট। তবে ব্যবহারকারীরা এখন শুধু কয়েক সেকেন্ডের বিনোদন নয়, একই ভিডিওতে আরও বিস্তারিত তথ্যও জানতে চান।এই চাহিদা বিবেচনায় ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম শর্ট ভিডিওর দৈর্ঘ্য বাড়াচ্ছে। ফলে আগামী দিনে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওও আগের তুলনায় বেশি তথ্যসমৃদ্ধ ও বিশদ হবে।এআই কনটেন্টে চাই স্পষ্ট পরিচয়কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক সময় এগুলো বাস্তব কনটেন্টের সঙ্গে এতটাই মিল থাকে যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।এ কারণে ব্যবহারকারীরা চান, এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টে স্পষ্টভাবে তা উল্লেখ করা হোক। বিশ্লেষকদের মতে, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হবে।জনপ্রিয় হবে ধারাবাহিক ভিডিওএকটি ভিডিও দেখে শেষ করার পরিবর্তে এখন দর্শকরা পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকছেন। ভ্রমণ, ব্যক্তিগত জীবন, অফিসের অভিজ্ঞতা কিংবা শিক্ষামূলক বিষয়—পর্বভিত্তিক কনটেন্টের প্রতি আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে।ফলে ওয়েব সিরিজের মতো ধারাবাহিক ভিডিও কনটেন্ট আগামী দিনে আরও বেশি দর্শক আকর্ষণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ভাইরালের চেয়ে গুরুত্ব পাবে কমিউনিটিশুধু লাখো ভিউ বা ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতা আর আগের মতো ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করছে না। বরং মানুষ এখন এমন কমিউনিটি খুঁজছেন, যেখানে নিজের আগ্রহের বিষয় নিয়ে সমমনা মানুষের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যায়।বিশেষায়িত গ্রুপ, শিক্ষামূলক কমিউনিটি কিংবা নির্দিষ্ট আগ্রহভিত্তিক পেজগুলোর গুরুত্ব তাই আরও বাড়তে পারে।একমুখী যোগাযোগের যুগ শেষসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ব্যবহারকারীরা শুধু কনটেন্ট দেখেই সন্তুষ্ট নন। তারা মন্তব্যের উত্তর, ব্যক্তিগত বার্তার দ্রুত জবাব এবং সরাসরি যোগাযোগ প্রত্যাশা করেন।যেসব ব্র্যান্ড ও কনটেন্ট নির্মাতা অনুসারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছেন, তাদের প্রতি ব্যবহারকারীদের আস্থা ও আগ্রহও বাড়ছে।নিখুঁত নয়, বাস্তব কনটেন্টের কদরঅতিরিক্ত সম্পাদিত ছবি ও ভিডিওর বদলে এখন সাধারণ মানুষ বাস্তব অভিজ্ঞতা, স্বাভাবিক মুহূর্ত এবং অকৃত্রিম গল্প বেশি পছন্দ করছেন।প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সাজানো জীবনের চেয়ে বাস্তব সংগ্রাম, সাফল্য-ব্যর্থতা এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা তুলে ধরা কনটেন্টই আগামী দিনে বেশি জনপ্রিয় হবে।সার্চের নতুন ঠিকানা সোশ্যাল মিডিয়াকোনো তথ্য জানার জন্য শুধু সার্চ ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরশীলতা কমছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম বিভিন্ন বিষয় জানতে গুগলের পরিবর্তে ইউটিউব, টিকটক বা ইনস্টাগ্রামে ভিডিও খুঁজছেন।বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৬ সালে ভিডিওভিত্তিক সার্চের প্রবণতা আরও বাড়বে। কারণ, ব্যবহারকারীরা লেখা পড়ার চেয়ে ভিডিও দেখে দ্রুত তথ্য জানতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।সামগ্রিকভাবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী দিনের সোশ্যাল মিডিয়া হবে আরও মানবকেন্দ্রিক, স্বচ্ছ এবং অংশগ্রহণমূলক। শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, তথ্য, শিক্ষা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন যোগাযোগের প্রধান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও এর গুরুত্ব আরও বাড়বে।

ভোলায় পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন

শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ কয়েকটি দাবিতে ভোলায় মানববন্ধন করেছেন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর সোয়া ২টার দিকে ভোলা প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।‘ভোলার সব এইচএসসি পরীক্ষার্থী’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা অংশ নেন। তারা চলমান এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নিজেদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি ও চাহিদা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের ভাষ্য, চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জানান তারা।কর্মসূচিকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেজন্য ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।ভোলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম বলেন, বিভিন্ন দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রেস ক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করেছে এবং কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

বিস্তারিত

চট্টগ্রামে দিনের আলোয় সশস্ত্র হামলা: ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে ৩৫ লাখ লুট

চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারে দিনের আলোয় এক ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র তাণ্ডব চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) নামের ওই কার্যালয়ে ঢুকে কর্মীদের জিম্মি করে ভাঙচুর ও টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হঠাৎ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশীয় অস্ত্র ও কুড়াল হাতে সন্ত্রাসীরা অফিসের কম্পিউটার, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুর করতে থাকে। কর্মীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা তাদের মুঠোফোন কেড়ে নেয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির জানান, ভাঙচুরের পাশাপাশি কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন জানান, ঘটনার দুই দিন আগে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয়ে এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন দিয়ে ২ কোটি টাকা চাঁদা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দাবি করে। ফোনে ইমন দাবি করেন, এখন থেকে ওই এলাকার ব্যবসা তারাই নিয়ন্ত্রণ করবে। আদিল বিন মামুন অভিযোগ করেন, দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ইমন ও তাঁর অনুসারীরা এই হামলা চালায়।আদিল বিন মামুন আরও বলেন, ফোনে কথা বলার সময় ইমন অত্যন্ত উদ্ধত আচরণ করেন। এমনকি নিজের প্রভাব জাহির করতে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে এবং এর আগে স্মার্ট গ্রুপের মালিকের বাসায় গুলি করার ঘটনা উল্লেখ করে তাঁকে হুমকি দেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর বাহিনী। বর্তমানে এই বাহিনীর চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমনের বিরুদ্ধে বাকলিয়ার জোড়া খুন ও পতেঙ্গার সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ অন্তত সাতটি গুরুতর মামলা রয়েছে। আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে পারদর্শী ইমন ও তাঁর দল দীর্ঘদিন ধরে নগরের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছে।এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই প্রতিষ্ঠানের পাশেই স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসায় একইভাবে চাঁদা না পেয়ে গুলি করার ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়া গত মে মাসে এক সাংবাদিককে গুলি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এই ইমনের বিরুদ্ধে। একের পর এক এমন ঘটনায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর এই অনুসারীদের গ্রেপ্তার করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে বলেও তিনি জানান।

বিস্তারিত

বন্যার ঝুঁকি কমাতে মুহুরী সেচ প্রকল্পের সব দরজা খোলা : বন্যার ঝুঁকিতে ঢাকা সহ কয়েক জেলা

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কথা মাথায় রেখে ফেনীর সোনাগাজীর মুহুরী সেচ প্রকল্পের ৪০টি দরজা খোলা রাখা হয়েছে। পানি নিষ্কাশন প্রক্রিয়া দ্রুত এবং নদীর পানির স্তর স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে গত প্রায় দুই মাস ধরেই এই গেটগুলো খোলা রয়েছে। সেই সাথে উপজেলার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নদী ও খালের সঙ্গে সংযুক্ত আরও ১০টি স্লুইস গেটও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, এটি কোনো আকস্মিক বা জরুরি কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি তাদের বার্ষিক নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শিহাব আহাম্মেদ জানান, সাধারণত প্রতি বছরের নভেম্বর মাসে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে রেগুলেটরের গেটগুলো বন্ধ করা হয়, যা এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে বন্যার ঝুঁকি কমাতে এপ্রিলের শেষ দিকে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই গেটগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং সেগুলো বর্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত খোলাই থাকে। বর্তমানে গেট খোলা নিয়ে যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। মুহুরী সেচ প্রকল্পের রেগুলেটরটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যে এটি জোয়ার-ভাটার ওপর ভিত্তি করে কাজ করতে পারে। প্রকৌশলী শিহাব আহাম্মেদ ব্যাখ্যা করেন, জোয়ারের সময় ফেনী নদী থেকে উল্টো স্রোতের পানি যেন ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য ‘ফ্ল্যাপ গেট’গুলো পানির চাপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আবার ভাটার সময় বা পানির চাপ কমে গেলে সেগুলো আপনাআপনি খুলে যায়। ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ জুলাই রাত ১১টা পর্যন্ত মুহুরী নদীর পানির স্তর ছিল ১০ দশমিক ১৪ মিটার। এখানে বিপৎসীমা হলো ১২ দশমিক ৫৫ মিটার। অর্থাৎ, পানির স্তর এখনো বিপৎসীমার বেশ নিচে রয়েছে।গত ২৪ ঘণ্টায় ফেনীতে ৪৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শনিবার রাত ৯টার পর থেকে নদীর পানি কিছুটা বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে। তবে এখনো পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোর ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে এবং পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সব বিভাগকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মুহুরী সেচ প্রকল্পটি ফেনী ও কালিদাস পাহালিয়া নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং বর্ষাকালে বন্যা থেকে জনপদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রকল্পের ৪০ ভেন্টবিশিষ্ট রেগুলেটরের মাধ্যমেই মূলত বর্ষার অতিরিক্ত পানি বঙ্গোপসাগরের দিকে নিষ্কাশন করা হয়।

বিস্তারিত

টানা বৃষ্টিতে হাতিয়ায় পানিবন্দী অর্ধলক্ষ মানুষ, তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট

পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় ৮০টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। ভয়াবহ এই জলাবদ্ধতায় উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। গৃহস্থালি কাজ থেকে শুরু করে স্বাভাবিক চলাচল—সবকিছুই স্থবির হয়ে পড়েছে। দুর্গতদের কষ্ট লাঘবে উপজেলা প্রশাসন ত্রাণ বিতরণ শুরু করলেও স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি সম্ভব নয়।জলাবদ্ধতার মূল কারণ ও জনদুর্ভোগস্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও খাল দখলের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উপজেলা সদরের ‘মার্টিন খাল’ দখল করে দোকানঘর, মার্কেট ও প্রাইভেট হাসপাতাল নির্মাণের ফলে পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। পৌর এলাকার বাসিন্দারা জানান, খাল সংস্কার না হওয়ায় এবং খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পৌরসভা এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা এবারের আষাঢ়ের ভারী বর্ষণে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।জীবনযাত্রায় বিপর্যয়উপজেলার নিঝুমদ্বীপ, সোনাদিয়া, বুড়িরচর, হরনী, চানন্দী, সুখচর, নলচিরা ও জাহাজমারা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এখন পানির নিচে। অনেক এলাকায় ঘরবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে গেছে। পানিবন্দী বাসিন্দাদের রান্নার চুলা তলিয়ে যাওয়ায় খাবার রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া দেখা দিয়েছে তীব্র বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাঁচা-পাকা সড়ক ও হাটবাজার তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।কৃষিখাতে বড় ক্ষতিটানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় হাতিয়ার কৃষিখাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। আগাম আমন মৌসুমের বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় আছেন। এছাড়া পুকুর ও মাছের ঘের উপচে অনেক চাষি তাদের মাছ হারিয়েছেন। দ্রুত পানি না নামলে সবজি ফসলের ব্যাপক সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট উপজেলার নিঝুমদ্বীপ, সোনাদিয়া, বুড়িরচর, হরনী, চানন্দী, সুখচর, নলচিরা ও জাহাজমারা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে এখন থৈ থৈ করছে পানি। বহু ঘরবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় রান্না করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জাহাজমারা ইউনিয়নের বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘মাত্র কয়েকদিন আগেও যেখানে গবাদিপশু চরে বেড়াত, আজ সেখানে নৌকা চলছে।’ কর্মহীন হয়ে পড়া দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি খাদ্য সংকটে ভুগছেন।যোগাযোগ বিচ্ছিন্নবিপদসীমার উপরদিয়ে প্রবাহিত মেঘনার তীব্র স্রোতে সীট্রাক,ফেরিসহ সকল ধরনের জলযান প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ থাকায় মূল ভূখন্ডের সাথে হাতিয়ার যোগাযোগ কার্যত বন্ধ আছে। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবালের নেতৃত্বে ‘হাতিয়া টিম’-এর সহায়তায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পানিবন্দী পরিবারগুলোর মাঝে চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়েছে। পানিবন্দী আবুল কালাম ও গৃহবধূ রাবেয়া বেগম জানান, প্রশাসনের এই সহায়তায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।শিক্ষা ও কৃষিতে বড় আঘাত জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পশ্চিম মাইজচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছায়েদুল ইসলাম মিঠু জানান, কাদা ও পানি মাড়িয়ে নারী শিক্ষক ও ছোট ছোট শিশুদের বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে। নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। এদিকে, কৃষকরা পড়েছেন চরম অর্থনৈতিক সংকটে। আমন মৌসুমের শুরুতে বিস্তীর্ণ এলাকার বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা। পাশাপাশি শত শত পুকুর ও মাছের ঘের উপচে চাষের মাছ ভেসে গেছে। নিঝুমদ্বীপের কৃষক সাহেদ উদ্দিন বলেন, ‘আমার পুরো বীজতলা পানির নিচে। মাছও ভেসে গেছে। এখন নতুন করে চাষাবাদ কীভাবে করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’জলাবদ্ধতার নেপথ্যে: অপরিকল্পিত অবকাঠামো ও দখল স্থানীয়দের অভিযোগ, ভৌগোলিক কারণের চেয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অপরিকল্পিত বাধাই এই কৃত্রিম বন্যার মূল কারণ। উপজেলা সদরে মার্টিন খালের ওপর গড়ে ওঠা দোকানঘর, মার্কেট ও বহুতল ভবনের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। এছাড়া, হাতিয়ার ছোট-বড় খালগুলোতে অবৈধভাবে পাতানো ‘বেহুন্দী জাল’ পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে। উপজেলার প্রায় ২০টি স্লুইসগেটের অধিকাংশেরই ডালা বন্ধ বা অকার্যকর হয়ে পড়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি আহসান হাবীব রুবেল অবিলম্বে এসব জাল অপসারণ এবং স্লুইসগেটগুলো সচল করার দাবি জানিয়েছেন।প্রশাসনের পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় জরুরি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ইউএনও মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল জানান, ‘হাতিয়া নদীবেষ্টিত হওয়ায় কিছু এলাকায় পানি নিষ্কাশন ধীরগতিতে হচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং দুর্গতদের ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।’আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় দ্বীপবাসীর উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছরের এই চেনা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসন যেন শুধু সাময়িক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, স্লুইসগেট মেরামত এবং একটি স্থায়ী ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে।

বিস্তারিত

পাবনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: গ্রেপ্তার যুবদল নেতা কাশেম

১৬ জুন ২০২৬, ১২:০১ পিএম
পাবনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: গ্রেপ্তার যুবদল নেতা কাশেম

কলকাতায় মোশাররফ করিম ও তার স্ত্রীর ওপর হামলার চেষ্টা

১৬ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
কলকাতায় মোশাররফ করিম ও তার স্ত্রীর ওপর হামলার চেষ্টা

কোরবানিকে কেন্দ্র করে ফের সক্রিয় অজ্ঞানপার্টি: প্রাণ গেল এক ব্যক্তির

২১ মে ২০২৬, ০২:১৬ এএম
কোরবানিকে কেন্দ্র করে ফের সক্রিয় অজ্ঞানপার্টি: প্রাণ গেল এক ব্যক্তির

জলবায়ু পরিবর্তন নাকি কৃত্রিম হস্তক্ষেপ

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২১ এএম
জলবায়ু পরিবর্তন নাকি কৃত্রিম হস্তক্ষেপ

রামিসা হত্যাকাণ্ডে আতঙ্কিত নগরজীবন; বিপর্যস্ত শৈশব ও অভিভাবকত্বের সংকট

২২ মে ২০২৬, ০২:২০ পিএম
রামিসা হত্যাকাণ্ডে আতঙ্কিত নগরজীবন; বিপর্যস্ত শৈশব ও অভিভাবকত্বের সংকট

অনুমোদন পেল নতুন ৫ উপজেলা সহ বগুড়া সিটি করপোরেশন

৭ মে ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
 অনুমোদন পেল নতুন ৫ উপজেলা সহ বগুড়া সিটি করপোরেশন

দেশের উপজেলার সংখ্যা এখন ৫০০

৮ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
 দেশের উপজেলার সংখ্যা এখন ৫০০

নিউইয়র্ক সিনেটে ফিলিস্তিনি কণ্ঠস্বর: ইতিহাস গড়ার পথে আবের কাওয়াস

১২ জুন ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
নিউইয়র্ক সিনেটে ফিলিস্তিনি কণ্ঠস্বর: ইতিহাস গড়ার পথে আবের কাওয়াস

পাবনায় ছাদে পানি সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দোকান কর্মীর মৃত্যু

১৮ জুন ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
পাবনায় ছাদে পানি সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দোকান কর্মীর মৃত্যু

মরা পদ্মার বুকে পঞ্চাশ বছরের কান্না

১৬ মে ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
মরা পদ্মার বুকে পঞ্চাশ বছরের কান্না

জিয়া হত্যা মামলার পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর আটক

১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
জিয়া হত্যা মামলার পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর আটক

রাখাইন উপকূলে দুই নৌকাডুবি, শত শত রোহিঙ্গা মৃত্যুর আশঙ্কা

১৬ জুলাই ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
রাখাইন উপকূলে দুই নৌকাডুবি, শত শত রোহিঙ্গা মৃত্যুর আশঙ্কা

পাবনা এক্সপ্রেস-অ্যাম্বুলেন্স ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ৩

১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
পাবনা এক্সপ্রেস-অ্যাম্বুলেন্স ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ৩

জুলাইয়ের এই দিনে আবু সাইদের রক্তে ভাঙল ভয়ের দেয়াল

১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ এএম
জুলাইয়ের এই দিনে আবু সাইদের রক্তে ভাঙল ভয়ের দেয়াল

রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন করে বিতর্কে আর্জেন্টিনা

১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
 রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন করে বিতর্কে আর্জেন্টিনা

শেষ মুহূর্তের জোড়া আঘাতে ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
শেষ মুহূর্তের জোড়া আঘাতে ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

আইনস্টাইনের আলোর গতি মাপা

১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
আইনস্টাইনের আলোর গতি মাপা

ভুল জীবনযাপনেই বাড়ছে অসংক্রামক রোগ, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ

১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ পিএম
ভুল জীবনযাপনেই বাড়ছে অসংক্রামক রোগ, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ

২০২৬ সালে যেভাবে বদলে যাবে সোশ্যাল মিডিয়া

১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
২০২৬ সালে যেভাবে বদলে যাবে সোশ্যাল মিডিয়া

ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত শেষের নির্দেশ

১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত শেষের নির্দেশ
আইনস্টাইনের আলোর গতি মাপা

আইনস্টাইনের আলোর গতি মাপা

আইনস্টাইনের আলোর গতির ওপর ক্লাস হচ্ছে। স্যার খুব গম্ভীর হয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে ইকুয়েশন লিখছেন।শিক্ষক: (চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে) এই  হোসেন, ক্লাসে তো অনেক সময় আছিস, বল তো আইনস্টাইন আলোর বেগটা মেপেছিলেন কীভাবে? হোসেন: (গম্ভীর মুখে চুলে আঙুল চালিয়ে) স্যার, লজিকটা খুব সিম্পল। আইনস্টাইন সাহেব তো আর সাধারণ মানুষ ছিলেন না। উনি একটা বিশাল বড় ফিতা কিনেছিলেন—মানে সেই যে দর্জিরা ব্যবহার করে, তবে ওটা ছিল দুইশ' গজ লম্বা। তারপর...শিক্ষক: (চোখ বড় বড় করে) তারপর?হোসেন: তারপর উনি আলোর পেছনে দৌড় শুরু করেছিলেন, স্যার! আলো যেদিকে যায়, উনি ফিতাটা সেদিকেই টেনে ধরতেন। কিন্তু আলো বড্ড চঞ্চল, ধরতেই পারতেন না। শেষমেশ উনি বিরক্ত হয়ে আলোর গতির হিসাবটা আন্দাজেই বসিয়ে দিলেন, যাতে খাতাটা জমা দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন।নান্টু: (মাঝপথে বাধা দিয়ে) ধুর গাধা! স্যার, উইন্ডোজের মাথায় কিচ্ছু নেই। আলো কি আর ট্রাউজার যে ফিতা দিয়ে মাপতে হবে? ওটা তো আলুর মতো বস্তাভর্তি জিনিস!শিক্ষক: (হতভম্ব হয়ে) আলুর মতো?নান্টু: অবশ্যই স্যার! আলো তো ভারী, তাই ওটা ওজন করার জন্য আইনস্টাইন একটা মস্ত বড় পাল্লা বানিয়েছিলেন। একদিকে এক পাল্লায় এক গাদা আলো ভরতেন, আর অন্যদিকে পাথর বসাতেন। তো এক পাল্লায় কতটুকু পাথর ধরে, সেটাই ছিল আলোর ওজন। আর সময় মাপার জন্য উনি একটা স্যান্ড-টাইমার বা বালির ঘড়ি ব্যবহার করেছিলেন। আলো পড়ে যেত পাল্লায়, আর বালি পড়ত ঘড়িতে—এভাবেই হিসাবটা মিললো। আইনস্টাইন তো আসলে ফিজিক্সের টিচার না, উনি ছিলেন তখনকার যুগের সবচাইতে বড় 'সবজি বিক্রেতা', স্যার!শিক্ষক: (কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে) তোদের এই মহাজাগতিক জ্ঞানের কাছে আমার ফিজিক্সের ডিগ্রি তো ফেলনা। তোরা যেভাবে ভাবছিস, তাতে আইনস্টাইন যদি এখন বেঁচে থাকতেন, তবে তিনি নিজেই নিজের থিওরি ছিঁড়ে ফেলে তোদের কাছে টিউশনি নিতে চলে আসতেন! সাবাস!