রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্তে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রধান এই আয়োজন।ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় ঈদগাহ প্রাঙ্গণ মুসল্লিদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনীতিবিদ, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সর্বস্তরের মানুষ এই জামাতে শরিক হন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ মালেক জামাতে ইমামতি করেন। নামাজ শেষে খুতবা পাঠের পর সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে শুরু হয় মোনাজাত।মোনাজাতে মহান আল্লাহর কাছে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি প্রার্থনা করার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জুলুম ও নির্যাতনের শিকার মুসলিম উম্মাহর মুক্তি ও হেফাজত কামনা করা হয়। ঈদের মূল শিক্ষা—ত্যাগ, সংযম ও মানবিকতা—ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিফলনের জন্য মুসল্লিরা আল্লাহর দরবারে তৌফিক প্রার্থনা করেন।ঈদগাহ ঘিরে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মূল প্যান্ডেলের ভেতরে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল। নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ এবং বসার সুবিধার পাশাপাশি অজু, সুপেয় পানি ও জরুরি চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কুশল বিনিময়ের এই দৃশ্যে ঈদগাহের পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর আবহ ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবারের ঈদের প্রধান জামাত।
বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের ইতিহাসে আজ এক অনন্য ঘটনা যুক্ত হলো। রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থান হয়েছে অত্যন্ত বিরল প্রজাতির এক ‘অ্যালবিনো’ মহিষের যা ইতোমধ্যে অনলাইন দুনিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প নামে খ্যাত। প্রকৃতি যেন আপন খেয়ালে সাজিয়েছে এই প্রাণীটিকে, যার গাত্রবর্ণ প্রথাগত কালচে রঙের নয়, বরং অদ্ভুত সুন্দর গোলাপি আভার। বিরল এই মহিষটির আগমনে চিড়িয়াখানার সংগ্রহশালায় যুক্ত হলো নতুন এক মাত্রা।প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে, প্রাণীটির শরীরে ‘মেলানিন’ নামক রঞ্জক পদার্থের ঘাটতি থাকায় এমন বৈশিষ্ট্যের দেখা মেলে। পৃথিবীব্যাপী এ ধরনের প্রাণী সচরাচর চোখে পড়ে না। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ১০ হাজার মহিষের মধ্যে মাত্র একটির ক্ষেত্রে এমন অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। তাই কেবল কৌতূহলের নয়, বরং গবেষণা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রেও এই মহিষটি এক অমূল্য সম্পদ।এই বিরল প্রাণীকে নিরাপদ আবাসে রাখতে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বিশেষ শেড প্রস্তুত করেছে। সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, মহিষটির আগের মালিক মনিরুজ্জামান যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। তাকে পশুর ন্যায্য মূল্য প্রদানের পাশাপাশি কোরবানির জন্য বিকল্প একটি গরুর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।পুরো বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবগত করা হলে, তিনি বিরল এই প্রাণী সংরক্ষণের উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চলমান কার্যক্রম আরও বেগবান করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ আজ অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রাণিসম্পদ সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। এই ঘটনা থেকে এটাই প্রমাণিত হল যে সরকারের লক্ষ্য কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন নয়, বরং মানুষ, প্রকৃতি ও প্রাণিসম্পদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এই অ্যালবিনো মহিষটি কেবল মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হবে না, বরং ভবিষ্যতে বৈজ্ঞানিক গবেষণায়ও এক নতুন দুয়ার খুলে দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
এক বিঘা জমিতে ফসল চাষে যেখানে সাধারণ ইউরিয়া সারে খরচ হয় ৪২০০ টাকা, সেখানে মাত্র ২৩০ টাকায় পাওয়া যাবে সমতুল্য ফলাফল। কৃষিতে ব্যয় সাশ্রয়ের এমন অভাবনীয় সুযোগ নিয়ে এসেছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ন্যানো ইউরিয়া’। যশোরের বিজ্ঞানীর হাত ধরে দেশের মাটিতেই উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি একদিকে যেমন আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনবে, তেমনি কৃষিখাতে নিয়ে আসবে আমূল পরিবর্তন।ন্যানো প্রযুক্তির কল্যাণে তৈরি এই সার গাছের পাতার ক্ষুদ্র ছিদ্র বা স্টোমাটা দিয়ে সরাসরি ও দ্রুত শোষিত হতে পারে। সাধারণ ইউরিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যাওয়া কিংবা বাষ্পীভূত হওয়ার কারণে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ সার অপচয় হয়। কিন্তু ন্যানো ইউরিয়া গাছের নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণ করে অত্যন্ত কার্যকরভাবে। সার প্রয়োগের পরিমাণ কম হলেও গাছের পুষ্টি জোগাতে এটি অনেক বেশি শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।এই যুগান্তকারী উদ্ভাবনের নেপথ্যে রয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান। দীর্ঘ সাত বছরের নিরলস গবেষণার ফসল এই ন্যানো ইউরিয়া। যদিও তিনি এই প্রযুক্তির একক উদ্ভাবক নন, তবে দেশীয় উপাদান ও পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি ল্যাবরেটরিতে এর সফল উৎপাদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছেন। তাঁর এই মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি এখন মিলছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জৈব সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ড. জাভেদের এই গবেষণার ব্যাপক প্রশংসা করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় 'কোলা বায়ো' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন। এই চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছর তাঁরা যৌথভাবে ন্যানো ইউরিয়ার গবেষণা ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবেন। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক প্রসারে সফল হতে পারলে তা জাতীয় অর্থনীতি ও কৃষকদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
ক্ষমতার ১০০ দিনের মাইলফলক স্পর্শ করল বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এই অল্প সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজেদের অর্জন ও কর্মকৌশল মূল্যায়ন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলটি ২৬টি প্রধান সাফল্যের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। আজ বুধবার দুপুরে দলের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে সরকারের এই ‘হাইলাইটস’ বা উল্লেখযোগ্য কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত একশ দিনে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে যেমন গতিশীলতা এসেছে, তেমনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে।সরকারের এই মূল্যায়ন অনুযায়ী, অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোতে স্থিতিশীলতা ফেরানোই ছিল তাদের বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা অনেকটাই সফল বলে দাবি করছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমে এসেছে। রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। এছাড়া অর্থপাচার রোধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। সবমিলিয়ে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর বার্তা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পগুলোকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছে সরকার। বিশেষ করে ৫৫ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করা এবং জুলাই আন্দোলনে আহত ১৫২ জন যোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। শ্রমিকদের ঈদ স্বস্তিতে কাটানোর লক্ষ্যে শিল্পকারখানায় বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করাকেও বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে সরকার। এছাড়া শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতেও গতি এনেছে বর্তমান প্রশাসন; ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ এবং ভূমিসেবা অটোমেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন এর প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে।জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট। ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডারের মাধ্যমে সমুদ্রসীমা ও আকাশসীমা নজরদারিতে নতুন সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বাদ পড়া ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি আবার পাসপোর্টে ফিরিয়ে আনাকে একটি বড় কূটনৈতিক ও জাতীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নের তালিকায় স্থান পেয়েছে পদ্মা ব্যারাজের চূড়ান্ত অনুমোদন।সরকার পরিচালনার ধরণ নিয়ে বিএনপির দাবি, রাষ্ট্রযন্ত্র এখন আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বন্দি নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যপ্রণালী ও জনসম্পৃক্ততার উদাহরণ হিসেবে তারা বলছে, এখন ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ছোটাছুটি করেন না, বরং প্রধানমন্ত্রী নিজেই জনগণের দুয়ারে পৌঁছানোর সংস্কৃতি চালু করেছেন। একশ দিনের এই ‘সফলতার খতিয়ান’ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকার যেমন অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিয়েছে, তেমনি প্রান্তিক মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্পগুলোতেও নজর রেখেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই একশ দিনের কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার মূলত দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের একটি রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে, যার প্রতিফলন আগামী দিনগুলোতে আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে।
ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা দানা বেঁধেছে, তার আঁচ সরাসরি এসে লেগেছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় তৈরি হওয়া নতুন এই সংকট এবং বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে বাংলাদেশ সরকার এখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দ্বারস্থ হয়েছে। সংস্থাটির কাছ থেকে নতুন একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ পেতে এখন জোর তৎপরতা চালাচ্ছে ঢাকা।সাধারণত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি কিংবা বৈশ্বিক কোনো বড় অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হলে আইএমএফ সদস্যদেশগুলোকে ‘র্যাপিড ফিন্যান্সিং ইনস্ট্রুমেন্ট’ বা আরএফআইয়ের মাধ্যমে দ্রুত ঋণ সহায়তা দিয়ে থাকে। এই সুবিধার বড় বৈশিষ্ট্য হলো, ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচির তুলনায় শর্ত অনেক সময় শিথিল থাকে অথবা জরুরি বিবেচনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে অর্থ ছাড় করা হয়। বাংলাদেশ এখন সেই আরএফআইয়ের আওতায় সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যেই আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান আর্থিক সম্পর্কের বিষয়টিও এখন পর্যালোচনার দাবি রাখে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়, যা পরে বিভিন্ন শর্ত ও সংস্কার কর্মসূচির ভিত্তিতে বেড়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। এখন পর্যন্ত সংস্থাটির কাছ থেকে পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পাওয়া গেলেও, ষষ্ঠ কিস্তির ১৩০ কোটি ডলার নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে এই কিস্তি পাওয়ার কথা থাকলেও তা আটকে আছে। তবে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আগামী জুন বা জুলাই মাসের মধ্যে এই অর্থ পাওয়ার বিষয়ে নতুন করে আশার কথা শোনানো হচ্ছে।এর আগে ২০২০ সালে কোভিড মহামারির চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশ আইএমএফ থেকে আরএফআইয়ের মাধ্যমে ২৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার সহায়তা পেয়েছিল। সেই অর্থ সেসময় বাজেট–ঘাটতি পূরণ, স্বাস্থ্য খাতের জরুরি ব্যয় নির্বাহ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সচল রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। এবারও ইরান সংকটের কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি ও পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে একই ধরনের আর্থিক সুরক্ষা চায় ঢাকা।বাংলাদেশে নিযুক্ত আইএমএফের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি এবং নীতিগত অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। ভূ-রাজনৈতিক সংকটে সৃষ্ট এই নতুন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ঢাকা কতটা দ্রুত এই সহায়তা পায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
রাশিয়া ও ইরানের বর্তমান সম্পর্ককে অনেকেই পোক্ত ‘কৌশলগত জোট’ মনে করলেও, ভূ-রাজনীতির গভীর বিশ্লেষণে এটি মূলত একটি সাময়িক বোঝাপড়া ছাড়া আর কিছুই নয়। চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে মস্কো ও তেহরানের এই অংশীদারত্ব এখন এক বড় অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, এটি আস্থা বা বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি ছিল পরিস্থিতির প্রয়োজন। আজ থেকে প্রায় ১৯৭ বছর আগে তেহরানে রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকসান্দর গ্রিবোয়েদভ নিহত হওয়ার যে করুণ ইতিহাস, তা দীর্ঘদিন দুই দেশের মধ্যে এক অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করে রেখেছিল। এমনকি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান তখন সোভিয়েত ইউনিয়নকে ‘ছোট শয়তান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল।তবে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণ বদলে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে রাশিয়া ইরানকে কাছে টেনে নেয়। জাতিসংঘে ইরানের পক্ষে ভেটো দেওয়া থেকে শুরু করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কিংবা বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বাণিজ্য—সবই ছিল পশ্চিমা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানানোর একটি সম্মিলিত প্রয়াস। ব্রিকস প্লাস জোটে ইরানের অন্তর্ভুক্তি কিংবা সিরিয়ার যুদ্ধে আসাদ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে দুই দেশের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর এই সমীকরণ নতুন রূপ নেয়। তেহরান থেকে মস্কোর কাছে ড্রোন ও গোলাবারুদ যাওয়ার পর পশ্চিমা দুনিয়া নতুন করে সোচ্চার হয়। বিনিময়ে রাশিয়াও তাদের স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে ইরানকে বড় ধরনের সহায়তা দিয়েছে।কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটাও এখন স্পষ্ট হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ওয়াশিংটন যদি কোনো বড় সুবিধা বা ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, তবে ক্রেমলিন যে নির্দ্বিধায় তেহরানের সাথে সম্পর্ক ত্যাগের ঝুঁকি নিতে পারে—এমন গুঞ্জন এখন আন্তর্জাতিক মহলে বেশ জোরদার। বিশেষজ্ঞ ও সাবেক রুশ কূটনীতিকদের মতে, ইউক্রেন নিয়ে পুতিনের যে বড় লক্ষ্য, তার কাছে তেহরানের সাথে এই কৌশলগত সম্পর্ককে কেবল একটি দরকষাকষির সরঞ্জাম হিসেবেই দেখা হয়। ইউক্রেন সংকটে রাশিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপে অনাগ্রহ এবং সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল ইস্যুতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় মস্কোর পরিবর্তে ইসলামাবাদের উত্থান—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে বিশ্বমঞ্চে রাশিয়ার প্রভাব ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে।ক্রিমিয়া দখলের পর থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার যে নৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি হয়েছে, তা তাদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অকার্যকর করে তুলেছে। এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনকে স্যাটেলাইট তথ্য দেওয়া বন্ধ করে, তবেই রাশিয়া হয়তো ইরানকে দেওয়া সামরিক গোয়েন্দা সহায়তা সংকুচিত করতে পারে। বাস্তবতার এই কঠিন সমীকরণে মস্কো ও তেহরান এখন একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকলেও, ক্ষমতার এই খেলায় ‘স্থায়ী বন্ধু’ নয়, বরং ‘স্বার্থই’ যে শেষ কথা—তা আরও একবার প্রমাণ করছে বৈশ্বিক অস্থিরতা।
রামিসার মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, তা অত্যন্ত যৌক্তিক। বিচারপ্রার্থী মানুষের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক—অপরাধী যখন ধরা পড়েছে, তার দোষও অনেকের চোখে স্পষ্ট, তবে কেন আজকেই বিচার শেষ করে রায় কার্যকর করা যাচ্ছে না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের কেবল আবেগের জায়গা থেকে বের হয়ে আইনের জটিল ও দীর্ঘ যাত্রাপথটি বুঝতে হবে। কারণ, আইন কোনো ব্যক্তিগত বিচার নয়, এটি রাষ্ট্রের একটি সুশৃঙ্খল কাঠামো, যা নির্দোষকে রক্ষা এবং অপরাধীকে যথাযথ শাস্তি দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয়।যেকোনো ফৌজদারি মামলার শুরুতেই পুলিশকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এগোতে হয়। অপরাধের পর ঘটনাস্থল থেকে শুরু করে সুরতহাল প্রতিবেদন, মামলা দায়ের, আসামিকে গ্রেপ্তার এবং তার স্বীকারোক্তি—এই প্রতিটি পর্যায় হলো একটি বিশাল আইনি দালানের ভিত। পুলিশ যখন ডিএনএ রিপোর্ট, জব্দ-তালিকা, খসড়া মানচিত্রের সূচি বা ১৬১ ধারার জবানবন্দি প্রস্তুত করে, তখন প্রতিটি শব্দ ও প্রতিটি তথ্য যেন নিরেট হয়, তা নিশ্চিত করতে হয়। সামান্য ভুলের কারণে আদালতে পুরো মামলাটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই তদন্তকারী সংস্থাকে ১৭০ ধারার মুচলেকা বা পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ফাঁকফোকর না থাকে।তদন্ত পর্ব শেষে বিচারিক আদালতে মামলাটি যখন আমলে নেওয়া হয়, তখন শুরু হয় আইনি লড়াইয়ের মূল পর্ব। চার্জ গঠন থেকে শুরু করে সাক্ষীর জবানবন্দি, জেরা এবং দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক—এই পর্যায়গুলো আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিচারক চাইলেই ব্যক্তিগত অনুভূতির ভিত্তিতে রায় দিতে পারেন না; তাকে অকাট্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে আইনি ভাষায় রায় লিখতে হয়। সাক্ষীর জেরায় যদি কোনো ত্রুটি থাকে, তবে সেই মামলার রায় উচ্চ আদালতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। তাই বিচারিক আদালত কোনো তাড়াহুড়ো করে রায় দেওয়ার ঝুঁকি নিতে পারেন না।অনেকেরই ক্ষোভ থাকে বিচারিক আদালতের রায়ের পরেও কেন উচ্চ আদালতের আপিলের প্রয়োজন হয়। এটি আমাদের বিচার ব্যবস্থার একটি রক্ষাকবচ। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে যখন মামলাটি ওঠে, তখন রাষ্ট্র ও আসামি উভয় পক্ষই তাদের আইনি যুক্তি উপস্থাপন করে। হাইকোর্টে শুনানি এবং রায়ে সাজা বহাল থাকার পর আসামি যখন আপিল বিভাগে যান, সেটি তার আইনি অধিকার। আপিল বিভাগে শুনানি, রিভিউ আবেদন এবং সেই রিভিউয়ের রায়—এই স্তরগুলো অতিক্রান্ত হওয়ার অর্থ হলো, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত বিষয়টি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে। এমন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেলে রায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও চূড়ান্ত রূপ পায়, যাতে ভবিষ্যতে কেউ রায়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে।সর্বশেষ পর্যায় হলো রাষ্ট্রপতির নিকট ক্ষমা বা সাজা মওকুফের প্রার্থনা। এটি সাংবিধানিক অধিকার। রাষ্ট্রপতি যখন এই আবেদন নামঞ্জুর করেন, কেবল তখনই আইনগতভাবে সব দুয়ার বন্ধ হয়। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমার প্রতিটি স্তরের উদ্দেশ্য একটাই—যেন কোনোভাবেই নিরপরাধ মানুষ সাজা না পায়, আবার অপরাধীও কোনো আইনি অসংগতির সুযোগ নিয়ে পার পেয়ে না যায়। রামিসা হত্যার বিচারপ্রার্থীদের ক্ষোভ অমূলক নয়, তবে একটি সভ্য রাষ্ট্র কেবল আবেগের বশবর্তী হয়ে বিচার করতে পারে না। দীর্ঘ এই আইনি প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় নিশ্চিত করে।
কয়েক বছর আগের কথা মনে করুন। কোনো বিচারপতি যদি তরুণদের 'তেলাপোকা' বলতেন, পত্রিকায় দু'দিন সমালোচনা হতো, তারপর চুপ। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। সেই অবজ্ঞাটুকুকেই লাখো তরুণ হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছে—আর সেই হাতিয়ারের নাম 'ককরোচ জনতা পার্টি'।ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত গত সপ্তাহে কিছু বেকার তরুণকে তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। বলেছিলেন, এরা চাকরি পায় না, পেশায় জায়গা করতে পারে না, তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাক্টিভিজম করে বেড়ায়। পরে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ভুয়া ডিগ্রিধারীদের কথা বলেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ধরে গেছে।অভিজিৎ দিপকে নামে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র ও রাজনৈতিক কৌশলবিদ সেই মন্তব্যকে উল্টো ব্যবহার করলেন। তেলাপোকাকেই প্রতীক বানালেন। আর পাঁচ দিনের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে দেড় কোটি অনুসারী—যেখানে বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল দাবিদার বিজেপির অনুসারী মাত্র ৯০ লাখের কম।এটা কি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার খেলা? নাকি এর ভেতরে অন্য কিছুর ইঙ্গিত আছে? হাস্যরস যখন হয়ে ওঠে প্রতিরোধরাজনৈতিক ব্যঙ্গ ইতিহাসের পুরনো অস্ত্র। কিন্তু ডিজিটাল যুগে এর গতি ও বিস্তার আগের সব হিসাব উল্টে দিয়েছে।২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় মিসর, তিউনিসিয়া বা লিবিয়ার তরুণেরা ফেসবুক-টুইটার ব্যবহার করে রাস্তায় নেমেছিল। সেই আন্দোলনগুলো নিয়ে পরে অনেক সমালোচনা হয়েছে—কোথাও গণতন্ত্র এসেছে, কোথাও আসেনি। কিন্তু একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছিল: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম জনমত গঠনের মানচিত্র পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।কোরিয়াতেও দেখা গেছে এমন দৃষ্টান্ত। ২০১৬-১৭ সালে প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হাইর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে মিম ও অনলাইন ব্যঙ্গ বড় ভূমিকা রেখেছিল। তরুণেরা মোমবাতি হাতে রাস্তায় নেমেছিল, কিন্তু সেই নামার আগে অনলাইনে মাসের পর মাস আলোচনা ও ব্যঙ্গাত্মক কন্টেন্ট তৈরি হয়েছিল। একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনে কিংবা ব্রাজিলে বলসোনারো-সমালোচনায় মিম কালচার রাজনৈতিক চেতনাকে ছড়িয়ে দেওয়ার হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল।সিজেপির ঘটনাটা এই ধারারই সর্বশেষ বড় উদাহরণ। তবে এটি একটু আলাদা—কারণ এটি শুধু কোনো নেতার বিরুদ্ধে নয়, একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। ভারতের তরুণ: সংখ্যায় বিশাল, সুযোগে বঞ্চিতভারতের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি তরুণ। বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। কাগজে-কলমে এটা একটা বিশাল 'ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড'। কিন্তু বাস্তবে?প্রতি বছর প্রায় এক কোটি তরুণ চাকরির বাজারে আসে। সরকারি তথ্যই বলছে, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান হচ্ছে না। ডেলয়েট গ্লোবালের সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে, ভারতের জেন-জি প্রজন্ম ভয়াবহ আর্থিক চাপে আছে—বাড়িভাড়া মেটানো কঠিন, সঞ্চয় করা তো দূরের কথা।এর ওপরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাগুলো রীতিমতো মনোবল ভেঙে দিয়েছে। জাতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার (নিট) প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় প্রায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থীর বছরের পর বছরের পরিশ্রম বৃথা গেছে। এই একটি ঘটনা ভারতের কোটি পরিবারে যে হতাশা ছড়িয়েছে, তা পরিমাপ করার কোনো উপায় নেই।তাহলে ক্ষোভটা কোথায় যাবে? কার দিকে অভিযোগের তীর ছোঁড়া হবে? রাজনৈতিক দলের দিকে? সেখানে তরুণদের জায়গা কই? ভোটে? সেটা পাঁচ বছরে একবার। রাস্তায়? সেখানে ঝুঁকি আছে। তাই এই প্রজন্ম খুঁজে নিয়েছে ইনস্টাগ্রাম, মিম আর ব্যঙ্গের ভাষা। দক্ষিণ এশিয়ার প্যাটার্ন: বাংলাদেশ থেকে নেপালবাংলাদেশের কথা আমরা নিজেরাই জানি। ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু হয়েছিল ছোট একটি দাবি নিয়ে। কিন্তু যখন সেই দাবি উপেক্ষা করা হলো, যখন ছাত্রদের ওপর বল প্রয়োগ হলো—তখন সেই আন্দোলন রূপ নিল এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে। নেতৃত্বে ছিল সেই একই জেন-জি প্রজন্ম, যারা ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে বড় হয়েছে, মিম বানাতে জানে, কিন্তু প্রয়োজনে রাস্তায়ও নামতে পারে।নেপালেও গত কয়েক বছরে তরুণদের নেতৃত্বে সরকারবিরোধী আন্দোলন দেখা গেছে। শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালে অর্থনৈতিক সংকটের সময় তরুণেরা রাষ্ট্রপতির বাড়িতে ঢুকে পড়েছিল। সেই দৃশ্যগুলো সারা বিশ্ব দেখেছে।সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে নিজে অবশ্য সতর্ক করছেন—ভারতের আন্দোলনকে বাংলাদেশ বা নেপালের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক হবে না। তিনি বলছেন, এটি সংবিধানের গণ্ডির মধ্যে থেকে, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পথে এগোবে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ-ক্ষোভের যে ভূকম্পন, তা ইতিমধ্যেই ভারতেও পৌঁছে গেছে—এটা আর অস্বীকার করার উপায় নেই। 'তেলাপোকা' কেন এত শক্তিশালী প্রতীকতেলাপোকা বেঁচে থাকে। যেকোনো পরিবেশে, যেকোনো বিপদে। পারমাণবিক বিস্ফোরণের পরেও তেলাপোকা বেঁচে থাকে—এই মিথটা বৈজ্ঞানিকভাবে পুরো সত্য না হলেও লোকস্মৃতিতে গেঁথে আছে।লক্ষ্ণৌর ২৬ বছর বয়সী সিদ্ধার্থ কানৌজিয়া বলেছেন ঠিক কথাই: তেলাপোকা স্থিতিস্থাপকতার প্রতীক। প্রতিটি চ্যালেঞ্জের পর আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে।যে প্রধান বিচারপতি এই তুলনাটা করেছিলেন অবজ্ঞার ভাষায়, তরুণেরা সেটাকেই গৌরবের ব্যাজ বানিয়ে বুকে লাগিয়ে নিল। এই রূপান্তরটাই সিজেপির সবচেয়ে চমৎকার দিক। অপমানকে উৎসবে বদলে দেওয়ার এই ক্ষমতাটা নতুন প্রজন্মের নিজস্ব। যেমন বাংলাদেশের জেন-জি রা নিজেদেরকে রাজাকার ব্যাজে মুড়ে নিয়ে রাস্তায় নেমে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দিয়েছিলো। ডিজিটাল প্রতিবাদ কি আসল পরিবর্তন আনতে পারে?সমালোচকেরা বলছেন, এটা নিছক একটা ভাইরাল ট্রেন্ড। কদিন পরে মিলিয়ে যাবে। অনলাইন ফলোয়ার রাজনৈতিক ভোটে পরিণত হয় না।এই সমালোচনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ভারতের নির্বাচনী রাজনীতি এখনো মাঠপর্যায়ের সংগঠনের ওপর নির্ভরশীল। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেড় কোটি ফলোয়ার মানেই লোকসভায় একটা আসন নয়।কিন্তু এই যুক্তিটা অসম্পূর্ণ।প্রথমত, সিজেপি ইতিমধ্যে গুগল ফর্মের মাধ্যমে চার লাখের বেশি স্বেচ্ছাসেবক পেয়েছে। এদের ৭০ শতাংশেরও বেশির বয়স ১৯ থেকে ২৫ বছর। এতটুকু একটা বাস্তব রাজনৈতিক সংগঠনের ভিত্তি হয়ে উঠার জন্য যথেষ্ঠ। দ্বিতীয়ত, আন্দোলনটি রাজপথে গড়াচ্ছে। তরুণেরা তেলাপোকার পোশাক পরে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। অনলাইন থেকে অফলাইনের এই যাত্রাটা গুরুত্বপূর্ণ।তৃতীয়ত, সরকারের প্রতিক্রিয়া দেখুন। ভারতে সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে। রাষ্ট্র বিজ্ঞানে একটা ধারণা আছে, যে আন্দোলনকে অর্থহীন মনে করা হয়, তাকে সরকার চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে না। চতুর্থত—এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এই আন্দোলন একটা আলোচনার জায়গা তৈরি করছে। দুর্নীতি, বেকারত্ব, প্রশ্নপত্র ফাঁস, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা—এই বিষয়গুলো এখন কোটি মানুষের নিউজফিডে। এটা ছোট অর্জন নয়।একটা বট বৃক্ষের বীজ হতেও পারে। বাংলাদেশের জন্য কী শিক্ষা?এই ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের জন্য নিছক প্রতিবেশীর গল্প নয়।আমাদের দেশেও একইরকম প্রেক্ষাপট বিরাজ করছে। শিক্ষিত বেকার তরুণের সংখ্যা বাড়ছে। নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। রাজনৈতিক পরিসরে তরুণদের অংশগ্রহণ সীমিত। আর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে।বাংলাদেশ ২০২৪-এ দেখিয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংগঠিত তরুণ প্রজন্ম কী করতে পারে। সেই অভিজ্ঞতা এখন নীতিনির্ধারকদের কাছে বড় সংকেত হওয়া উচিত।তরুণদের ক্ষোভকে উপেক্ষা করলে তা জমতে থাকে। একটা সময় গিয়ে সেই ক্ষোভ আর হাস্যরসের ছলে থাকে না, রাস্তায় নেমে আসে।বাংলাদেশ সরকারের—এবং রাজনৈতিক দলগুলোর—উচিত তরুণ প্রজন্মের জন্য কার্যকর কর্মসংস্থান নীতি, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বাস্তব সুযোগ নিশ্চিত করা। শুধু ভোটের আগে তরুণ মুখ দিয়ে বক্তৃতা দিলে হবে না। দুই একটা আসন আর মন্ত্রীত্ব দিয়ে পুরো প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয় না। তেলাপোকা যখন ফিরে আসেসিজেপির এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে অভিজিৎ নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে পোস্ট দিলেন: "তেলাপোকা ফিরে এসেছে। ভাবলেন আমাদের সরিয়ে দিতে পারবেন?"এই একটি মন্তব্যে পুরো আন্দোলনের দর্শন আছে। দাবিয়ে রাখার চেষ্টা এই প্রজন্মকে আরও শক্তিশালী করে। অবজ্ঞা এদের আরও সংগঠিত করে। এটা বোঝার সময় হয়েছে।ভারতের তরুণেরা এখন বলছে: আমরা আছি, আমরা থাকব, আমরা কথা বলব। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিকদের জন্য এটা একটা সতর্কবার্তা। আর বাকি সবার জন্য এটা একটা নতুন যুগের সংকেত—যেখানে তরুণদের উপেক্ষা করার সুযোগ আর নেই।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের পার্কে গত শুক্রবারের একটি দৃশ্য আমাদের নগরজীবনের এক রূঢ় ও পীড়াদায়ক বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। চার বছর বয়সী শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক অভিভাবকের চোখেমুখে যে শঙ্কা, অস্বস্তি এবং নিরাপত্তার চরম হীনম্মন্যতা ফুটে উঠেছিল, তা কেবল একজনের ব্যক্তিগত ভীতি নয়; বরং এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত মানসিক বিপর্যস্ততার একটি প্রতিচ্ছবি।সাম্প্রতিক ‘রামিসা হত্যাকাণ্ড’ দেশজুড়ে যে নৃশংসতার বার্তা দিয়েছে, তা কেবল একটি পরিবারকে নিঃস্ব করেনি, বরং সমাজতাত্ত্বিকভাবে এক গভীর ‘কালেক্টিভ ট্রমা’ বা সামাজিক ট্রমার সৃষ্টি করেছে। যখন একটি শিশু কোনো অপরাধের শিকার হয় , তখন তা প্রতিটি অভিভাবকের মনে এমন এক অদৃশ্য আতঙ্কের জন্ম দেয়, যা তার নিত্যদিনের স্বাভাবিক চিন্তা ভাবনা আর জীবনধারাকে ব্যহত। মোহাম্মদপুরের ওই পার্কের ঘটনাটি তারই একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ মাত্র। নিজের সন্তানকে কোল থেকে নামাতে ভয় পাওয়া কিংবা অন্যান্য শিশুদের দিকে তাকিয়ে বারংবার রামিসার স্মৃতি রোমন্থন—এগুলো কেবল আবেগের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এক গভীর নিরাপত্তাহীনতার বহিঃপ্রকাশ।মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা ‘হাইপার-ভিজিল্যান্স’ বা অতি-সতর্কতার কবলে পড়েন। বাস্তব ঝুঁকির সীমানা পেরিয়ে তারা তখন প্রতিটি মুহূর্তকে সম্ভাব্য বিপদের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেন। এর ফলে খেলার মাঠ, স্কুল কিংবা সামাজিক পরিসরগুলো আর নিরাপদ মনে হয় না। শিশু তার স্বাভাবিক শৈশব ও বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, আর অভিভাবক নিমজ্জিত হন এক অবর্ণনীয় মানসিক চাপের সাগরে।সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, রামিসার মতো ঘটনাগুলো কেবল আইন-শৃঙ্খলার অবনতির সূচক নয়, এগুলো নাগরিক আস্থার ভিতকেও দুর্বল করে দেয়। একটি শিশু যখন তার নিজের পাড়ায় বা পরিবেশে নিরাপদ বোধ করে না, তখন পুরো নগর সভ্যতার নৈতিক ও সামাজিক কাঠামো প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আমরা এমন এক নগরে বাস করছি, যেখানে প্রতিটি শিশুর অভিভাবকদের চোখে মুখে থাকে এক অদৃশ্য আতঙ্ক ।এই আতঙ্ক দিনে দিনে হয়ে উঠছে একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সংকট। এই পরিস্থিতি উত্তরণে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শিশুনির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান ও দ্রুত বাস্তবায়ন। একই সঙ্গে সামাজিকভাবে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা জরুরি।যে সমাজে শিশুরা তাদের খেলার মাঠের স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলে এবং অভিভাবকরা প্রতিটি পদক্ষেপে ভীতির সম্মুখীন হন, সেই সমাজ কখনোই তার সুস্থ স্বাভাবিক বিকাশের পথ খুঁজে পেতে পারে না। রামিসার মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, কেবল আইন দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না, বরং একটি মানবিক ও সচেতন সমাজব্যবস্থাই পারে শিশুদের জন্য ভীতিহীন একটি পরিবেশ উপহার দিতে। জনগণের এই উঠকন্ঠা যেন রাষ্ট্র ও সমাজের নীতিনির্ধারকদের কাছে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে—তারা যেন শিশুদের একটি নিরাপদ আগামীর প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ না হয়।
প্রকৃতি যেন এখন দুই রূপে হাজির। একদিকে মৌসুমি বায়ুর আগমনী বার্তা, অন্যদিকে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ। আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩১ মে থেকেই কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার ওপর দিয়ে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করেছে, যা ঐতিহাসিক নিয়ম মেনেই টেকনাফ দিয়ে তার যাত্রা শুরু করেছে। এই বায়ুর প্রভাবে সোমবার সকাল ১০টার পর থেকে রাত ১২টার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বজ্রসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, বান্দরবানসহ সিলেট ও সুনামগঞ্জের বাসিন্দারা কিছুটা স্বস্তির বৃষ্টির দেখা পেতে পারেন।তবে বৃষ্টির এই সুখবর সব অঞ্চলের জন্য নয়। একদিকে যখন বৃষ্টির পূর্বাভাস, অন্যদিকে তখন দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিত্র কিছুটা রুক্ষ। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের প্রতিটি জেলা এবং খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দেশের আকাশজুড়ে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য বিরাজ করছে, যেখানে একপ্রান্তে বর্ষার শীতল ছোঁয়া আর অন্যপ্রান্তে রোদ ও গরমের অস্বস্তি।
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজ সোমবার থেকে চার্জ গঠন শুনানি শুরু হয়েছে। সকাল ১১টার দিকে যখন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে হাজির করা হয়, তখন পুরো আদালত চত্বরে এক চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আসামি সোহেল রানা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি চিৎকার করে দাবি করেন, এই খুনের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। সোহেলের ভাষ্যমতে, ‘আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর দোষ নেই। সব দোষ ডলারের। আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার।’ এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার নেপথ্যে ডলার নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি তাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছিলেন। এছাড়া ফরেনসিক রিপোর্টের ডিএনএ টেস্টের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। যদিও মিরপুর ১১ নম্বরের এই রহস্যময় 'ডলারের' কোনো পরিচয় তিনি স্পষ্ট করেননি।এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে এই নৃশংস অপরাধে সহায়তার সুস্পষ্ট প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। মামলার নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, এতে ১৮ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত দ্রুতই চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি আজিজুর রহমান দুলু জানান, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা তারা নিশ্চিত করবেন। তবে মামলার চূড়ান্ত রায় কার্যকর হওয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে অনেকেরই। ঢাকার জেলা লিগ্যাল এইডের আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুইয়ের মতে, নিম্ন আদালতে বিচার দ্রুত শেষ হলেও ডেথ রেফারেন্সসহ উচ্চ আদালতের আইনি জটিলতা নিরসনে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, প্রধান বিচারপতির বিশেষ হস্তক্ষেপ থাকলে এই দীর্ঘসূত্রতা এড়ানো সম্ভব।উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পপুলার মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার্থী রামিসাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যান স্বপ্না আক্তার। এরপরই ঘটে ইতিহাসের জঘন্যতম এক ঘটনা। ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে প্রতিবেশীরা রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির ভেতরে তার কাটা মাথা উদ্ধার করেন। এই ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালা কেটে পালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি; নারায়ণগঞ্জ থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে এর আগেও আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল, তবুও আজ চার্জ গঠনের শুনানিতে সোহেলের এই নতুন নাটকীয় দাবি স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ঈদের বিশেষ আয়োজন ‘আনন্দমেলা’ নিয়ে উঠেছে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটিতে ৫০ মিনিটের একটি অনুষ্ঠানকে কারিগরি কৌশলে ২০০ মিনিটের বলে দেখানো হয়েছে শুধুমাত্র বাড়তি বিল তোলার উদ্দেশ্যে। এই আয়োজনে সম্মানী বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা, যার পেছনে রয়েছে সুস্পষ্ট অনিয়ম ও বিধিবদ্ধ নিয়মনীতির চরম লঙ্ঘন।অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিটিভির ঈদ আনন্দমেলার পরিকল্পনা ও গ্রন্থনায় ছিলেন কবির বকুল এবং অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা করেছেন অভিনেতা আফরান নিশো। অনুষ্ঠানটি ৫০ মিনিটের হলেও কাগজ-কলমে এটিকে ২০০ মিনিটের অনুষ্ঠান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই জালিয়াতির মাধ্যমে শিল্পী ও কলাকুশলীদের সম্মানী অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এমনকি অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও বিস্ময়করভাবে অনেক খ্যাতিমান শিল্পীর নামে মোটা অঙ্কের সম্মানী বরাদ্দ করা হয়েছে।অনিয়মের চিত্র এখানেই শেষ নয়। অনুষ্ঠানটির সহযোগী প্রযোজক ইয়াসমিন আখতার স্বীকার করেছেন, অভিনেতা এম এ আলমগীর অনুষ্ঠানে অংশ না নিলেও তার নামে ১ লাখ ১১ হাজার ২০০ টাকা সম্মানী ধরা হয়েছে। এছাড়া অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্ট রাইটার কবির বকুলকে মৌলিক রচনার জন্য ৫৯ হাজার ১২৫ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি নৃত্যনাট্যের জন্য অতিরিক্ত ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬০ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। এমন বিপুল অঙ্কের সম্মানী বিটিভির ইতিহাসে নজিরবিহীন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার ক্ষেত্রেও ৩ লাখ টাকার সম্মানী দিতে স্বামী ও স্ত্রীর নামে আলাদা আলাদা বিল দেখানো হয়েছে।বিটিভির ভেতরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর একচ্ছত্র দাপট রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যারা বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় ছিল। এই গোষ্ঠীর তৈরি করা তালিকা ও পরিকল্পনা অনুযায়ীই বিটিভির অনুষ্ঠানমালা সাজানো হয়। এ বিষয়ে বিটিভির মহাপরিচালক মাহবুবুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ আয়োজনের সঙ্গে দাপ্তরিক কোনো সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে দায় এড়িয়ে গেছেন।বিটিভির সাবেক উপমহাপরিচালক কামরুন্নেসা হাসান এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘অনৈতিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, শিল্পী ও লেখকদের সম্মানী দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিবদ্ধ নিয়ম রয়েছে, যা এখানে চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনগণের অর্থ এভাবে হরিলুটের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাষ্ট্রের অর্থ সাশ্রয়ে এবং বিটিভির স্বচ্ছতা ফেরাতে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্তের দাবি উঠেছে।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব খাত থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া। তিনি দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ১৫ কোটি টাকা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা এই তহবিল থেকে নিয়েছেন।শনিবার বিকেলে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মোস্তাক মিয়া এই অভিযোগ করেন। সভায় তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদ মুরাদনগরে ১৫ কোটি টাকা এবং হাসনাত আবদুল্লাহ দেবিদ্বারে ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। যারা সমন্বয়ের রাজনীতির কথা বলতেন, তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সমন্বয়ের অভাব ছিল। তিনি মন্তব্য করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাদের চরিত্র এমনই ছিল।জনসভায় মোস্তাক মিয়া দাবি করেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। অর্থনীতির চাকা সচল করতে সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করছে এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে ইতিমধ্যে অনেক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।এদিকে, এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে বা অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আবদুল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকীর ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন। এছাড়া সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিমসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ। জেলা পরিষদের প্রশাসকের এমন বিস্ফোরক অভিযোগের পর কুমিল্লার রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অটোমোবাইল শিল্পের গত একশো বছরের ইতিহাস উল্টে দিয়ে বিশ্ববাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। জার্মানি, জাপান এবং আমেরিকার দীর্ঘদিনের দাপটকে ম্লান করে ইলন মাস্কের টেসলাকে সিংহাসনচ্যুত করেছে এই চীনা জায়ান্ট। কেবল সাশ্রয়ী গাড়ি নির্মাণেই নয়, চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতেও প্রতিষ্ঠানটি এখন নতুন বিশ্বশক্তি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি ও ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের বার্ষিক বিক্রির হিসাবে টেসলাকে পেছনে ফেলে বিওয়াইডি এখন বিশ্বের এক নম্বর বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা। এক বছরে টেসলার বিক্রি যেখানে ৯ শতাংশ কমেছে, সেখানে বিওয়াইডির ব্যাটারিচালিত গাড়ির বিক্রি ২৮ শতাংশ বেড়ে ২২ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে।মূলত টেসলার আভিজাত্য বনাম বিওয়াইডির সাশ্রয়ী মূল্যের লড়াইয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি ক্রমশ বাজার হারাচ্ছে। টেসলার একটি গাড়ির গড় মূল্য যেখানে ৪৫ হাজার ডলার, সেখানে বিওয়াইডির গড় মূল্য মাত্র ২২ হাজার ৪০০ ডলার। বিশেষ করে মাত্র ১০ হাজার ডলারের ‘সিগাল’ মডেলটি এখন বৈশ্বিক গাড়িশিল্পে বড় এক আতঙ্কের নাম। যুক্তরাজ্যের বাজারেও গত এক বছরে বিওয়াইডির বিক্রি বেড়েছে ৮৮০ শতাংশ। ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকদের মতে, বারবার দাম কমিয়েও টেসলা আর বাজার ধরে রাখতে পারছে না।বিওয়াইডির এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের মূলে রয়েছে তাদের ‘ভার্টিক্যাল ইন্টিগ্রেশন’ বা স্বনির্ভর কৌশল। জনপ্রিয় ‘সিল’ মডেলের ৭৫ শতাংশ যন্ত্রাংশ প্রতিষ্ঠানটি নিজের কারখানায় তৈরি করে। চিপসেট থেকে শুরু করে গাড়ির সিট ও ব্যাটারি—সবই তারা নিজেরা তৈরি করায় করোনা মহামারির মতো বৈশ্বিক সংকটেও তাদের উৎপাদন ব্যাহত হয়নি। ব্যাটারি প্রযুক্তিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিওয়াইডি বাজারে এনেছে অত্যাধুনিক ব্লেড ব্যাটারি। এছাড়া, তাদের ফ্ল্যাশ চার্জিং সিস্টেমের মাধ্যমে মাত্র ৫ মিনিট চার্জেই ৪০০ কিলোমিটার পথ চলা সম্ভব। বিশ্বজুড়ে গাড়ি পৌঁছে দিতে ‘বিওয়াইডি এক্সপ্লোরার ১’-এর মতো নিজস্ব কার্গো জাহাজও তৈরি করেছে তারা, যা পরিবহন খরচ বিপুল পরিমাণে কমিয়ে এনেছে।টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক যখন জাঁকজমকপূর্ণ জীবন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে ব্যস্ত, তখন বিওয়াইডির প্রতিষ্ঠাতা ওয়াং চুয়ানফু চলেন একেবারেই প্রচারের আড়ালে। ব্লুমবার্গ তাঁকে ‘অ্যান্টি-ইলন মাস্ক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ১৯৯৫ সালে মাত্র ৩ লাখ ডলার ঋণ নিয়ে যাত্রা শুরু করা চুয়ানফু আজও কারখানার সাধারণ ক্যানটিনে কর্মীদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার খান। ২০১১ সালে এক সাক্ষাৎকারে বিওয়াইডির গাড়ি দেখে মাস্ক তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলেও, আজ সেই মিতব্যয়ী প্রকৌশলীর কাছেই বাজার হারিয়েছে টেসলা।লন্ডনের ডাবল-ডেকার বাস থেকে শুরু করে মেক্সিকো সিটি, হংকং কিংবা নয়াদিল্লির ট্যাক্সি—সবখানেই এখন বিওয়াইডির শক্তিশালী উপস্থিতি। এই অগ্রযাত্রা রুখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চীনা ইভির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। তবে বিওয়াইডি এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের উদীয়মান বাজারগুলোতেই বেশি মনোযোগী।এই বাণিজ্য যুদ্ধের পেছনে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুতর প্রশ্নও। পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, ডজনখানেক ক্যামেরা, রাডার ও সেন্সরযুক্ত এই আধুনিক ইলেকট্রিক গাড়িগুলো আসলে চাকার ওপর একেকটি স্মার্টফোন। এগুলো মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ডেটা ও চালকদের কথোপকথন রেকর্ড করে বেইজিংয়ের কাছে পাঠাতে পারে এবং দূর থেকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে গাড়িগুলো অকেজো করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির করে দেওয়া সম্ভব।প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় বিওয়াইডির প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড ‘ইয়াংওয়াং ইউ-এইট’ গাড়িটি জরুরি অবস্থায় পানির ওপর নৌকার মতো ভাসতে পারে এবং এক জায়গায় দাঁড়িয়েই ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে সক্ষম। এর ছাদে রয়েছে ড্রোন স্টেশন। ২০২৭ সালের মধ্যেই পুরোপুরি চালকহীন গাড়ি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে ছাড়তে কারিগরিভাবে প্রস্তুত বিওয়াইডি; এখন কেবল চীন সরকারের আইনি অনুমোদনের অপেক্ষা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আভিজাত্যের গণ্ডি থেকে বের করে সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসাই বিওয়াইডিকে বৈশ্বিক পরিবহন বিপ্লবের মূল কারিগরে পরিণত করছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতার গুরুতর অভিযোগে ইসরায়েলকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করেছে জাতিসংঘ। এই সিদ্ধান্তের পরপরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের এই পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে আনেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কার্যালয়ের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।মূলত ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিন পরিস্থিতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আসছিল। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং সংবাদমাধ্যমের তদন্তে এসব তথ্য উঠে আসার পরই জাতিসংঘ এই কঠোর অবস্থানে গেল। জাতিসংঘের সংঘাত-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতা (সিআরএসভি) বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষকে (আইপিএস) আনুষ্ঠানিকভাবে এই কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে আরও বেশ কিছু ইসরায়েলি সংস্থাকে নজরদারিতে রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তকে ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘ মহাসচিব ইসরায়েলকে হামাস ও আইএসআইএস-এর মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের কাতারে বসিয়েছেন। ড্যাননের ভাষ্যমতে, এই তালিকাভুক্তি জাতিসংঘের অবশিষ্ট বিশ্বস্ততা ও নৈতিক অবস্থানের চূড়ান্ত পতন নির্দেশ করে।দীর্ঘ সময় ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান নির্যাতন ও যৌন সহিংসতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল, এই কালো তালিকাভুক্তির মাধ্যমে জাতিসংঘ তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ইসরায়েলের এই কঠোর কূটনৈতিক পাল্টা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে সংস্থাটির ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিল কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন বিশ্লেষণ।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সাক্ষী এই মাঠটি এবার যেন প্রকৃতির এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাঠের অবস্থা ছিল অনেকটা নাজেহাল, তবুও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অদম্য উৎসাহকে দমাতে পারেনি মেঘের গর্জন বা কাদামাখা পথ। সকাল নয়টায় যখন শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহর ইমামতিতে জামাত শুরু হলো, তখন আকাশটা ছিল বেশ মেঘলা। তবে দ্বিতীয় রাকাতের ঠিক আগ মুহূর্তে শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি। শরীর ভেজা, কাদায় জুবুথুবু হয়েও মুসল্লিরা তাদের পরম ইবাদত শেষ করেছেন অটুট একাগ্রতায়।জামাত শুরুর আগে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মুসল্লিদের শুভেচ্ছা জানান। বরাবরের মতো এবারও জামাত শুরুর ১০ মিনিট আগে শটগানের গুলির আওয়াজ প্রকম্পিত করে তোলে শোলাকিয়ার আকাশ। প্রথম তিনটি শটগান চালিয়ে সংকেত দেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবার ছিল চার স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ড্রোন ক্যামেরা, ওয়াচটাওয়ার, সিসিটিভি এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সমন্বয়ে আধুনিক প্রযুক্তির কড়া নজরদারিতে ছিল পুরো ঈদগাহ এলাকা। বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি ছিল গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা।ঈদুল আজহার দিনে কোরবানির ব্যস্ততার কারণে স্বাভাবিকভাবেই মুসল্লিদের সমাগম ঈদুল ফিতরের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। তবে দূরবর্তী জেলাগুলো থেকে আগত মুসল্লিদের কথা বিবেচনায় রেখে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়েছিল, যা ছিল যাতায়াতের ক্ষেত্রে এক বড় স্বস্তি। নামাজ শেষে মোনাজাতে ইমাম বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। একই সাথে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ, দেশের কল্যাণ এবং সরকার পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাফল্য কামনায় দোয়া করা হয়। সব মিলিয়ে, বৃষ্টিস্নাত এক সকালে প্রতিকূলতাকে জয় করে ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত সম্পন্ন হলো এক অনন্য আধ্যাত্মিক ও ঐতিহ্যবাহী আবহে।
ঈদের আনন্দের দিনে শান্তির বার্তার পাশাপাশি জবাবদিহিতার সুর শোনা গেল হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সলের কণ্ঠে। বৃহস্পতিবার সকালে মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া আল-আরাফাহ ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় শেষে তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের সামনে এলাকার উন্নয়ন ও সুশাসনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।জনগণের আমানত রক্ষা করাকে নিজের প্রধান ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করে এমপি ফয়সল বলেন, তার নির্বাচনি এলাকায় দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। আগের মতো বরাদ্দকৃত অর্থের হিসাব নিয়ে ধোঁয়াশা আর নেই; এবার ঈদ উপলক্ষে বরাদ্দ অর্থের স্বচ্ছ বণ্টন নিশ্চিত করা হয়েছে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি জবাবদিহিতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে দাবি করেন।এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও শান্তি বজায় রাখা নিয়ে এমপি ফয়সল স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে এবং রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে, সেজন্য প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান।মাধবপুর ও চুনারুঘাটের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কোনো কিছুই রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়, তবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ ও রাস্তাঘাটের সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে সমাধান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় গত তিন মাসে এলাকায় যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে, তা তার সততা ও সাহসেরই বহিঃপ্রকাশ।ঈদের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ঈদের শিক্ষা কেবল আনন্দ ভাগাভাগির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের মধ্যেই এর প্রকৃত সার্থকতা। ভ্রাতৃত্ববোধ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সমাজ ও মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। স্থানীয় আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ঈদগাহ প্রাঙ্গণে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করে।
সরকারি অফিসের দাপ্তরিক চেয়ারে জনপ্রতিনিধির বসে পড়ার ঘটনা নতুন নয়, তবে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের ক্ষেত্রে এই দৃশ্যটি নেটদুনিয়ায় বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে দেবহাটার সখিপুর মোড় এলাকায় সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-জোনাল অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান এমপি। তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও পুলিশের কর্মকর্তারা। অফিসের কার্যক্রম খতিয়ে দেখার এক পর্যায়ে তিনি সরাসরি বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম-এর জন্য নির্ধারিত চেয়ারে গিয়ে বসেন এবং চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।মুহূর্তের মধ্যেই এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই শুরু হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একপক্ষের দাবি, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি অফিস পরিদর্শন করতে পারেন, কিন্তু সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ারে বসাটা প্রশাসনিক শিষ্টাচারবহির্ভূত। অন্যদিকে তার সমর্থকদের মতে, বিদ্যুতের বেহাল দশা ও গ্রাহক ভোগান্তি নিরসনের লক্ষ্য নিয়েই এমপি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন, তাই চেয়ারে বসার বিষয়টি নিয়ে অহেতুক জলঘোলা করা হচ্ছে।প্রশাসনিক ও আইনগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী কামরুজ্জামান ভুট্টো। তিনি মনে করেন, পদমর্যাদা ও ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্যের অবস্থান অনেক ঊর্ধ্বে হলেও সরকারি দপ্তরের পেশাদারিত্ব বজায় রাখা জরুরি। তার মতে, পরিদর্শনে গেলে সাধারণত আলাদা সম্মানজনক আসনের ব্যবস্থা করা হয়। এভাবে হুট করে কর্মকর্তার চেয়ারে বসে পড়াটা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচারের সঙ্গে খুব একটা মানানসই নয়।ঘটনাটি নিয়ে বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃপক্ষের অবস্থানে কিছুটা অস্পষ্টতা লক্ষ্য করা গেছে। এজিএম মো. মাসুম বিল্লাহর সাথে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। আবার সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আজিজুর রহমান সরকার জানান, কেন এমপি মহোদয় দাপ্তরিক চেয়ারে বসলেন, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।সংসদ সদস্যের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. নজিবুল্লাহর দাবি ভিন্ন। তিনি জানান, দেবহাটা অঞ্চলের তীব্র বিদ্যুৎ সমস্যা ও গ্রাহক হয়রানি দূর করতেই এমপি মহোদয় অফিসে গিয়েছিলেন। তার ভাষ্যমতে, এজিএম সাহেবের অনুরোধেই তিনি ওই চেয়ারে বসেছিলেন। সব মিলিয়ে সরকারি অফিসের চেয়ারে জনপ্রতিনিধির বসা নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন সাতক্ষীরার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ঈদের আনন্দ উৎসবের ঠিক আগমুহূর্তে প্রকৃতির নিষ্ঠুর আচরণে লন্ডভণ্ড হয়ে গেছে ভোলার মনপুরা উপজেলার জনপদ। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে আকস্মিক এক টর্নেডোর আঘাতে তছনছ হয়ে গেছে ১ নম্বর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু বসতবাড়ি। মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, যারা প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের কবলে পড়েছেন, তাদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে অসচ্ছল। অভাবের সংসারে টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা এই মানুষগুলোর জন্য টর্নেডোর এই আঘাত যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত। মুহূর্তের ব্যবধানে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এই পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহায়তা প্রয়োজন।