লোকাল ফোকাস
পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় ৮০টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। ভয়াবহ এই জলাবদ্ধতায় উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। গৃহস্থালি কাজ থেকে শুরু করে স্বাভাবিক চলাচল—সবকিছুই স্থবির হয়ে পড়েছে। দুর্গতদের কষ্ট লাঘবে উপজেলা প্রশাসন ত্রাণ বিতরণ শুরু করলেও স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি সম্ভব নয়।
জলাবদ্ধতার মূল কারণ ও জনদুর্ভোগ
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও খাল দখলের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উপজেলা সদরের ‘মার্টিন খাল’ দখল করে দোকানঘর, মার্কেট ও প্রাইভেট হাসপাতাল নির্মাণের ফলে পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। পৌর এলাকার বাসিন্দারা জানান, খাল সংস্কার না হওয়ায় এবং খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পৌরসভা এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা এবারের আষাঢ়ের ভারী বর্ষণে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
জীবনযাত্রায় বিপর্যয়
উপজেলার নিঝুমদ্বীপ, সোনাদিয়া, বুড়িরচর, হরনী, চানন্দী, সুখচর, নলচিরা ও জাহাজমারা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এখন পানির নিচে। অনেক এলাকায় ঘরবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে গেছে। পানিবন্দী বাসিন্দাদের রান্নার চুলা তলিয়ে যাওয়ায় খাবার রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া দেখা দিয়েছে তীব্র বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাঁচা-পাকা সড়ক ও হাটবাজার তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
কৃষিখাতে বড় ক্ষতি
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় হাতিয়ার কৃষিখাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। আগাম আমন মৌসুমের বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় আছেন। এছাড়া পুকুর ও মাছের ঘের উপচে অনেক চাষি তাদের মাছ হারিয়েছেন। দ্রুত পানি না নামলে সবজি ফসলের ব্যাপক সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট
উপজেলার নিঝুমদ্বীপ, সোনাদিয়া, বুড়িরচর, হরনী, চানন্দী, সুখচর, নলচিরা ও জাহাজমারা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে এখন থৈ থৈ করছে পানি। বহু ঘরবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় রান্না করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জাহাজমারা ইউনিয়নের বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘মাত্র কয়েকদিন আগেও যেখানে গবাদিপশু চরে বেড়াত, আজ সেখানে নৌকা চলছে।’ কর্মহীন হয়ে পড়া দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি খাদ্য সংকটে ভুগছেন।যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
বিপদসীমার উপরদিয়ে প্রবাহিত মেঘনার তীব্র স্রোতে সীট্রাক,ফেরিসহ সকল ধরনের জলযান প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ থাকায় মূল ভূখন্ডের সাথে হাতিয়ার যোগাযোগ কার্যত বন্ধ আছে।
এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবালের নেতৃত্বে ‘হাতিয়া টিম’-এর সহায়তায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পানিবন্দী পরিবারগুলোর মাঝে চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়েছে। পানিবন্দী আবুল কালাম ও গৃহবধূ রাবেয়া বেগম জানান, প্রশাসনের এই সহায়তায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।
শিক্ষা ও কৃষিতে বড় আঘাত জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পশ্চিম মাইজচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছায়েদুল ইসলাম মিঠু জানান, কাদা ও পানি মাড়িয়ে নারী শিক্ষক ও ছোট ছোট শিশুদের বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে। নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। এদিকে, কৃষকরা পড়েছেন চরম অর্থনৈতিক সংকটে। আমন মৌসুমের শুরুতে বিস্তীর্ণ এলাকার বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা। পাশাপাশি শত শত পুকুর ও মাছের ঘের উপচে চাষের মাছ ভেসে গেছে। নিঝুমদ্বীপের কৃষক সাহেদ উদ্দিন বলেন, ‘আমার পুরো বীজতলা পানির নিচে। মাছও ভেসে গেছে। এখন নতুন করে চাষাবাদ কীভাবে করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
জলাবদ্ধতার নেপথ্যে: অপরিকল্পিত অবকাঠামো ও দখল স্থানীয়দের অভিযোগ, ভৌগোলিক কারণের চেয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অপরিকল্পিত বাধাই এই কৃত্রিম বন্যার মূল কারণ। উপজেলা সদরে মার্টিন খালের ওপর গড়ে ওঠা দোকানঘর, মার্কেট ও বহুতল ভবনের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। এছাড়া, হাতিয়ার ছোট-বড় খালগুলোতে অবৈধভাবে পাতানো ‘বেহুন্দী জাল’ পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে। উপজেলার প্রায় ২০টি স্লুইসগেটের অধিকাংশেরই ডালা বন্ধ বা অকার্যকর হয়ে পড়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি আহসান হাবীব রুবেল অবিলম্বে এসব জাল অপসারণ এবং স্লুইসগেটগুলো সচল করার দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় জরুরি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ইউএনও মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল জানান, ‘হাতিয়া নদীবেষ্টিত হওয়ায় কিছু এলাকায় পানি নিষ্কাশন ধীরগতিতে হচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং দুর্গতদের ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।’
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় দ্বীপবাসীর উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছরের এই চেনা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসন যেন শুধু সাময়িক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, স্লুইসগেট মেরামত এবং একটি স্থায়ী ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে।
2.png)
রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় ৮০টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। ভয়াবহ এই জলাবদ্ধতায় উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। গৃহস্থালি কাজ থেকে শুরু করে স্বাভাবিক চলাচল—সবকিছুই স্থবির হয়ে পড়েছে। দুর্গতদের কষ্ট লাঘবে উপজেলা প্রশাসন ত্রাণ বিতরণ শুরু করলেও স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি সম্ভব নয়।
জলাবদ্ধতার মূল কারণ ও জনদুর্ভোগ
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও খাল দখলের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উপজেলা সদরের ‘মার্টিন খাল’ দখল করে দোকানঘর, মার্কেট ও প্রাইভেট হাসপাতাল নির্মাণের ফলে পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। পৌর এলাকার বাসিন্দারা জানান, খাল সংস্কার না হওয়ায় এবং খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পৌরসভা এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা এবারের আষাঢ়ের ভারী বর্ষণে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
জীবনযাত্রায় বিপর্যয়
উপজেলার নিঝুমদ্বীপ, সোনাদিয়া, বুড়িরচর, হরনী, চানন্দী, সুখচর, নলচিরা ও জাহাজমারা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এখন পানির নিচে। অনেক এলাকায় ঘরবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে গেছে। পানিবন্দী বাসিন্দাদের রান্নার চুলা তলিয়ে যাওয়ায় খাবার রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া দেখা দিয়েছে তীব্র বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাঁচা-পাকা সড়ক ও হাটবাজার তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
কৃষিখাতে বড় ক্ষতি
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় হাতিয়ার কৃষিখাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। আগাম আমন মৌসুমের বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় আছেন। এছাড়া পুকুর ও মাছের ঘের উপচে অনেক চাষি তাদের মাছ হারিয়েছেন। দ্রুত পানি না নামলে সবজি ফসলের ব্যাপক সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট
উপজেলার নিঝুমদ্বীপ, সোনাদিয়া, বুড়িরচর, হরনী, চানন্দী, সুখচর, নলচিরা ও জাহাজমারা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে এখন থৈ থৈ করছে পানি। বহু ঘরবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় রান্না করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জাহাজমারা ইউনিয়নের বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘মাত্র কয়েকদিন আগেও যেখানে গবাদিপশু চরে বেড়াত, আজ সেখানে নৌকা চলছে।’ কর্মহীন হয়ে পড়া দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি খাদ্য সংকটে ভুগছেন।যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
বিপদসীমার উপরদিয়ে প্রবাহিত মেঘনার তীব্র স্রোতে সীট্রাক,ফেরিসহ সকল ধরনের জলযান প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ থাকায় মূল ভূখন্ডের সাথে হাতিয়ার যোগাযোগ কার্যত বন্ধ আছে।
এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবালের নেতৃত্বে ‘হাতিয়া টিম’-এর সহায়তায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পানিবন্দী পরিবারগুলোর মাঝে চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়েছে। পানিবন্দী আবুল কালাম ও গৃহবধূ রাবেয়া বেগম জানান, প্রশাসনের এই সহায়তায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।
শিক্ষা ও কৃষিতে বড় আঘাত জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পশ্চিম মাইজচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছায়েদুল ইসলাম মিঠু জানান, কাদা ও পানি মাড়িয়ে নারী শিক্ষক ও ছোট ছোট শিশুদের বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে। নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। এদিকে, কৃষকরা পড়েছেন চরম অর্থনৈতিক সংকটে। আমন মৌসুমের শুরুতে বিস্তীর্ণ এলাকার বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা। পাশাপাশি শত শত পুকুর ও মাছের ঘের উপচে চাষের মাছ ভেসে গেছে। নিঝুমদ্বীপের কৃষক সাহেদ উদ্দিন বলেন, ‘আমার পুরো বীজতলা পানির নিচে। মাছও ভেসে গেছে। এখন নতুন করে চাষাবাদ কীভাবে করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
জলাবদ্ধতার নেপথ্যে: অপরিকল্পিত অবকাঠামো ও দখল স্থানীয়দের অভিযোগ, ভৌগোলিক কারণের চেয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অপরিকল্পিত বাধাই এই কৃত্রিম বন্যার মূল কারণ। উপজেলা সদরে মার্টিন খালের ওপর গড়ে ওঠা দোকানঘর, মার্কেট ও বহুতল ভবনের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। এছাড়া, হাতিয়ার ছোট-বড় খালগুলোতে অবৈধভাবে পাতানো ‘বেহুন্দী জাল’ পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে। উপজেলার প্রায় ২০টি স্লুইসগেটের অধিকাংশেরই ডালা বন্ধ বা অকার্যকর হয়ে পড়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি আহসান হাবীব রুবেল অবিলম্বে এসব জাল অপসারণ এবং স্লুইসগেটগুলো সচল করার দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় জরুরি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ইউএনও মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল জানান, ‘হাতিয়া নদীবেষ্টিত হওয়ায় কিছু এলাকায় পানি নিষ্কাশন ধীরগতিতে হচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং দুর্গতদের ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।’
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় দ্বীপবাসীর উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছরের এই চেনা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসন যেন শুধু সাময়িক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, স্লুইসগেট মেরামত এবং একটি স্থায়ী ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে।
2.png)