সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 প্রবাসপ্রবাস

ইতালিতে সমুদ্রপথে অভিবাসীদের শীর্ষে বাংলাদেশিরা

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে সংখ্যায় সবার উপরে বাংলাদেশিরা। তবে বিগত দুই বছরের তুলনায় সমুদ্রপথে দেশটিতে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মোট সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

ইতালিতে সমুদ্রপথে অভিবাসীদের শীর্ষে বাংলাদেশিরা
ছবি -সংগৃহীত

চলতি বছরের শুরু থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সমুদ্রপথে ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা শীর্ষে অবস্থান করছেন। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৬২৩ জন অভিবাসী ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালির উপকূলে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৩১৪ জনই বাংলাদেশি নাগরিক, যা মোট অভিবাসীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সোমালিয়া (১,৭০২ জন)। এরপর ক্রমানুসারে রয়েছে সুদান (১,৩৭১ জন), পাকিস্তান (১,১৮৫ জন), আলজেরিয়া (১,১০৬ জন) এবং মিসর (৯৩৬ জন)। এছাড়া ইরিত্রিয়া, তিউনিসিয়া, মালি, নাইজেরিয়া, আইভরি কোস্ট, ইথিওপিয়া, ইরান, দক্ষিণ সুদান ও গিনি থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিবাসী ইতালিতে প্রবেশ করেছেন। এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানিদের পরই বাংলাদেশিদের অবস্থান সবচেয়ে সংহত। বর্তমানে আরও ১ হাজার ১৬৩ জন অভিবাসীর জাতীয়তা শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সাম্প্রতিক এই তথ্যে অভিবাসনের একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সামগ্রিক অভিবাসনের হার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত দুই বছরের তুলনায় চলতি বছর সমুদ্রপথে ইতালিতে আসা অভিবাসীর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমেছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত যেখানে ৩১ হাজার ৪৩০ জন অভিবাসী ইতালিতে পৌঁছেছিলেন, সেখানে ২০২৪ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ২৬,৬৬৪ জন। সে তুলনায় ২০২৬ সালের এই সংখ্যা ২০২৫ সালের চেয়ে ৫৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের চেয়ে ৪৫ শতাংশ কম।

মাসভিত্তিক তথ্যেও একই প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন—প্রতিটি মাসেই আগের দুই বছরের তুলনায় অভিবাসীদের আগমন ছিল তুলনামূলক কম। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়ার পর এই প্রাথমিক পরিসংখ্যানে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অভিবাসীদের ঢল কমে আসাকে অভিবাসন নীতি ও নজরদারির ফল হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয় : অবৈধ বাংলাদেশি ইতালি সমুদ্রপথে

ইতালিতে সমুদ্রপথে অভিবাসীদের শীর্ষে বাংলাদেশিরা
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


ইতালিতে সমুদ্রপথে অভিবাসীদের শীর্ষে বাংলাদেশিরা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

চলতি বছরের শুরু থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সমুদ্রপথে ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা শীর্ষে অবস্থান করছেন। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৬২৩ জন অভিবাসী ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালির উপকূলে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৩১৪ জনই বাংলাদেশি নাগরিক, যা মোট অভিবাসীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সোমালিয়া (১,৭০২ জন)। এরপর ক্রমানুসারে রয়েছে সুদান (১,৩৭১ জন), পাকিস্তান (১,১৮৫ জন), আলজেরিয়া (১,১০৬ জন) এবং মিসর (৯৩৬ জন)। এছাড়া ইরিত্রিয়া, তিউনিসিয়া, মালি, নাইজেরিয়া, আইভরি কোস্ট, ইথিওপিয়া, ইরান, দক্ষিণ সুদান ও গিনি থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিবাসী ইতালিতে প্রবেশ করেছেন। এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানিদের পরই বাংলাদেশিদের অবস্থান সবচেয়ে সংহত। বর্তমানে আরও ১ হাজার ১৬৩ জন অভিবাসীর জাতীয়তা শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সাম্প্রতিক এই তথ্যে অভিবাসনের একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সামগ্রিক অভিবাসনের হার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত দুই বছরের তুলনায় চলতি বছর সমুদ্রপথে ইতালিতে আসা অভিবাসীর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমেছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত যেখানে ৩১ হাজার ৪৩০ জন অভিবাসী ইতালিতে পৌঁছেছিলেন, সেখানে ২০২৪ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ২৬,৬৬৪ জন। সে তুলনায় ২০২৬ সালের এই সংখ্যা ২০২৫ সালের চেয়ে ৫৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের চেয়ে ৪৫ শতাংশ কম।

মাসভিত্তিক তথ্যেও একই প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন—প্রতিটি মাসেই আগের দুই বছরের তুলনায় অভিবাসীদের আগমন ছিল তুলনামূলক কম। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়ার পর এই প্রাথমিক পরিসংখ্যানে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অভিবাসীদের ঢল কমে আসাকে অভিবাসন নীতি ও নজরদারির ফল হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত