সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 রাজনীতিরাজনীতি

সংবিধান সংস্কারে গড়িমসি করলে আরেকটি বিপ্লবের হুমকি ১১ দলীয় জোটের: স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানিয়েছে ১১ দলীয় জোট। দাবি না মানলে প্রয়োজনে রাজপথে ‘আরেকটি বিপ্লব’ শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেতারা।

সংবিধান সংস্কারে গড়িমসি করলে আরেকটি বিপ্লবের হুমকি ১১ দলীয় জোটের: স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি
ছবি -সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন করে সরগরম হয়ে উঠেছে সংসদ চত্বর। মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের হাতে ৫ দফা সংবলিত স্মারকলিপি তুলে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতারা। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া অচলাবস্থা নিরসনে এই উদ্যোগকে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

স্মারকলিপি দেওয়ার পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ন্যাম ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে জোট নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে সংসদ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “দেশের প্রধান সংকট এখন গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা। আমরা স্পিকারকে বলেছি, দেশের অভিভাবক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতাকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।” তিনি জানান, স্পিকার তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন।

উল্লেখ্য, গত বছর ১৭ অক্টোবর গৃহীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় ছিল সংবিধান সংস্কারের পক্ষে। কিন্তু সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির ২০৯ জন সংসদ সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নিতে অপারগতা প্রকাশ করায় পুরো প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে পড়ে। এর বিপরীতে জোটের ৭৭ জন সংসদ সদস্য শপথ নিলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।

মানববন্ধনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব না দিলে জনগণ তা মেনে নেবে না। আমরা আন্দোলন নয়, সমাধান চাই। তবে দাবি আদায় না হলে প্রয়োজনে রাজপথে আরেকটি জুলাই বিপ্লব ঘটবে।”

স্মারকলিপি প্রদানকালে স্পিকারের সঙ্গে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল উপস্থিত ছিলেন। ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে শহীদ জাবির ইবরাহিমের মা ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগমসহ জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা এতে অংশ নেন। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি, খেলাফত মজলিস, জাগপা ও এবি পার্টির নেতারাও এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। এখন দেখার বিষয়, সংসদ ও সরকার পক্ষ এই দাবির প্রেক্ষিতে কতটা নমনীয় হয় বা পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

বিষয় : ১১ দলীয় জোট সংবিধান সংস্কার স্মারকলিপি

সংবিধান সংস্কারে গড়িমসি করলে আরেকটি বিপ্লবের হুমকি ১১ দলীয় জোটের: স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


সংবিধান সংস্কারে গড়িমসি করলে আরেকটি বিপ্লবের হুমকি ১১ দলীয় জোটের: স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন করে সরগরম হয়ে উঠেছে সংসদ চত্বর। মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের হাতে ৫ দফা সংবলিত স্মারকলিপি তুলে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতারা। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া অচলাবস্থা নিরসনে এই উদ্যোগকে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

স্মারকলিপি দেওয়ার পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ন্যাম ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে জোট নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে সংসদ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “দেশের প্রধান সংকট এখন গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা। আমরা স্পিকারকে বলেছি, দেশের অভিভাবক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতাকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।” তিনি জানান, স্পিকার তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন।

উল্লেখ্য, গত বছর ১৭ অক্টোবর গৃহীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় ছিল সংবিধান সংস্কারের পক্ষে। কিন্তু সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির ২০৯ জন সংসদ সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নিতে অপারগতা প্রকাশ করায় পুরো প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে পড়ে। এর বিপরীতে জোটের ৭৭ জন সংসদ সদস্য শপথ নিলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।

মানববন্ধনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব না দিলে জনগণ তা মেনে নেবে না। আমরা আন্দোলন নয়, সমাধান চাই। তবে দাবি আদায় না হলে প্রয়োজনে রাজপথে আরেকটি জুলাই বিপ্লব ঘটবে।”

স্মারকলিপি প্রদানকালে স্পিকারের সঙ্গে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল উপস্থিত ছিলেন। ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে শহীদ জাবির ইবরাহিমের মা ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগমসহ জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা এতে অংশ নেন। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি, খেলাফত মজলিস, জাগপা ও এবি পার্টির নেতারাও এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। এখন দেখার বিষয়, সংসদ ও সরকার পক্ষ এই দাবির প্রেক্ষিতে কতটা নমনীয় হয় বা পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত