সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 রাজনীতিরাজনীতি

সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা হামলা, উত্তাল সাভার

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের উপস্থিতিতে এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন; হামলার পেছনে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতার সরাসরি অভিযোগ তুলেছে দলটি।

সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা হামলা, উত্তাল সাভার
ছবি -সংগৃহীত

সোমবার রাতে ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচির শেষ মুহূর্তটা হঠাৎ করেই রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। তারাপুর ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত দলটির সমাবেশে বিকট শব্দে ঘটা এক বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। হামলার সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে যখন নাবিলা তাসনিদের বক্তব্য চলছিল, তখনই এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত মো. শাহীন খন্দকার (৩০), মো. জসিম (২৬), মো. শাহাদাত হোসেন (৪০) ও ইমরান হোসেনকে দ্রুত সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক হাসান জানান, আহতদের মধ্যে একজনের পায়ের আঘাত গুরুতর। বাকিদের অবস্থাও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের বিরুদ্ধেই হামলার অভিযোগ

ঘটনার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ। এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম সরাসরি প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলে অভিযোগ করেন, এই হামলার পেছনে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সমাবেশের শুরুতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কেন বিদ্যুৎ বন্ধ করা হয়েছিল? স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, এটি আমাদের হত্যার পরিকল্পনারই অংশ। প্রশাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

নাহিদ ইসলাম আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আপনারা ককটেল ফোটান, গুলি চালান কিংবা বোমাবাজি করুন—এনসিপির এই জুলাই পদযাত্রা থামবে না। সন্ত্রাসীদের যারা প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদের পরিণতি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতোই হবে।’

থানায় বিক্ষোভ ও পুলিশের ভাষ্য

সমাবেশে হামলার পরপরই ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সাভার মডেল থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা থানায় প্রবেশ করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। রাত ১১টার দিকে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকলে বা দলীয়করণ হলে তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে না। অপরাধীদের গ্রেপ্তারের ওপরই পুলিশের নিরপেক্ষতা নির্ভর করছে।

এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ সদস্যরা এনসিপি নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় থাকবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সোমবার সাভারে এনসিপির এই পদযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। এর আগে বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে এই কর্মসূচি শুরু করেন নাহিদ ইসলাম। সাভারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি, তবে এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বিষয় : এনসিপি সাভার সমাবেশ বিষ্ফোরণ

সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা হামলা, উত্তাল সাভার
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা হামলা, উত্তাল সাভার

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

সোমবার রাতে ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচির শেষ মুহূর্তটা হঠাৎ করেই রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। তারাপুর ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত দলটির সমাবেশে বিকট শব্দে ঘটা এক বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। হামলার সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে যখন নাবিলা তাসনিদের বক্তব্য চলছিল, তখনই এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত মো. শাহীন খন্দকার (৩০), মো. জসিম (২৬), মো. শাহাদাত হোসেন (৪০) ও ইমরান হোসেনকে দ্রুত সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক হাসান জানান, আহতদের মধ্যে একজনের পায়ের আঘাত গুরুতর। বাকিদের অবস্থাও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের বিরুদ্ধেই হামলার অভিযোগ

ঘটনার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ। এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম সরাসরি প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলে অভিযোগ করেন, এই হামলার পেছনে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সমাবেশের শুরুতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কেন বিদ্যুৎ বন্ধ করা হয়েছিল? স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, এটি আমাদের হত্যার পরিকল্পনারই অংশ। প্রশাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

নাহিদ ইসলাম আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আপনারা ককটেল ফোটান, গুলি চালান কিংবা বোমাবাজি করুন—এনসিপির এই জুলাই পদযাত্রা থামবে না। সন্ত্রাসীদের যারা প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদের পরিণতি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতোই হবে।’

থানায় বিক্ষোভ ও পুলিশের ভাষ্য

সমাবেশে হামলার পরপরই ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সাভার মডেল থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা থানায় প্রবেশ করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। রাত ১১টার দিকে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকলে বা দলীয়করণ হলে তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে না। অপরাধীদের গ্রেপ্তারের ওপরই পুলিশের নিরপেক্ষতা নির্ভর করছে।

এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ সদস্যরা এনসিপি নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় থাকবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সোমবার সাভারে এনসিপির এই পদযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। এর আগে বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে এই কর্মসূচি শুরু করেন নাহিদ ইসলাম। সাভারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি, তবে এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত