খেলা
ফুটবল ইতিহাসের এক ধূমকেতু যেন ধীরে ধীরে অস্তাচলের দিকে নামছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মাঠ কাঁপানো পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিশ্চিত করেছেন, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে তার বর্ণিল ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। তার এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফুটবলের এক স্বর্ণযুগের বিদায়ঘণ্টা বেজে উঠল।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আবেগময় কণ্ঠে রোনালদো বলেন, ‘আমি এই বিশ্বকাপ উপভোগ করছি—সমর্থক, মানুষ, পুরো পরিবেশটাই দারুণ লাগছে। তবে নিশ্চিতভাবে এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। এই সিদ্ধান্তটি আমি চূড়ান্তভাবেই নিয়ে ফেলেছি।’
২০০৬ সালে পর্তুগালের জার্সিতে যখন প্রথমবার বিশ্বকাপ মঞ্চে পা রেখেছিলেন, তখন কে জানত যে এই তরুণ একদিন ফুটবল বিশ্বের অবিসংবাদিত রাজা হয়ে উঠবেন? এরপর টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপ তার ষষ্ঠ এবং শেষ আসর হিসেবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিতে যাচ্ছে।
ফুটবল মাঠে রোনালদোর অর্জন যেন শেষ হওয়ার নয়। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে অগণিত রেকর্ডের মালিক। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডটিও তার দখলে। ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দীর্ঘ সময় ধরে নিজের আধিপত্য বজায় রাখা রোনালদো কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম।
মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি রোনালদোর মানবিক ও রসিক সত্তার পরিচয়ও পাওয়া গেল তার কথায়। এক ফ্লাইটের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ছিলেন আর্জেন্টিনার। রোনালদোকে দেখে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে রোনালদো তাকে রসিকতা করে বলেন, ‘দেখো, আমি জানি তুমি আর্জেন্টিনার। তুমি আমাকে পছন্দ করো না! তবে চিন্তা কোরো না, আমার স্ত্রী কিন্তু আর্জেন্টিনার!’
রোনালদোর এই বিদায়ের ঘোষণা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর জন্য নিঃসন্দেহে একটি আবেগঘন মুহূর্ত। তার অবসরের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের একটি ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও এক বর্ণিল অধ্যায়ের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তবে মাঠ ছাড়লেও, ফুটবল ইতিহাসে রোনালদো চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন তার অসামান্য দক্ষতা ও সংগ্রামের গল্পের মাধ্যমে।
বিষয় : ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
2.png)
সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
ফুটবল ইতিহাসের এক ধূমকেতু যেন ধীরে ধীরে অস্তাচলের দিকে নামছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মাঠ কাঁপানো পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিশ্চিত করেছেন, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে তার বর্ণিল ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। তার এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফুটবলের এক স্বর্ণযুগের বিদায়ঘণ্টা বেজে উঠল।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আবেগময় কণ্ঠে রোনালদো বলেন, ‘আমি এই বিশ্বকাপ উপভোগ করছি—সমর্থক, মানুষ, পুরো পরিবেশটাই দারুণ লাগছে। তবে নিশ্চিতভাবে এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। এই সিদ্ধান্তটি আমি চূড়ান্তভাবেই নিয়ে ফেলেছি।’
২০০৬ সালে পর্তুগালের জার্সিতে যখন প্রথমবার বিশ্বকাপ মঞ্চে পা রেখেছিলেন, তখন কে জানত যে এই তরুণ একদিন ফুটবল বিশ্বের অবিসংবাদিত রাজা হয়ে উঠবেন? এরপর টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপ তার ষষ্ঠ এবং শেষ আসর হিসেবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিতে যাচ্ছে।
ফুটবল মাঠে রোনালদোর অর্জন যেন শেষ হওয়ার নয়। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে অগণিত রেকর্ডের মালিক। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডটিও তার দখলে। ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দীর্ঘ সময় ধরে নিজের আধিপত্য বজায় রাখা রোনালদো কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম।
মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি রোনালদোর মানবিক ও রসিক সত্তার পরিচয়ও পাওয়া গেল তার কথায়। এক ফ্লাইটের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ছিলেন আর্জেন্টিনার। রোনালদোকে দেখে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে রোনালদো তাকে রসিকতা করে বলেন, ‘দেখো, আমি জানি তুমি আর্জেন্টিনার। তুমি আমাকে পছন্দ করো না! তবে চিন্তা কোরো না, আমার স্ত্রী কিন্তু আর্জেন্টিনার!’
রোনালদোর এই বিদায়ের ঘোষণা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর জন্য নিঃসন্দেহে একটি আবেগঘন মুহূর্ত। তার অবসরের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের একটি ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও এক বর্ণিল অধ্যায়ের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তবে মাঠ ছাড়লেও, ফুটবল ইতিহাসে রোনালদো চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন তার অসামান্য দক্ষতা ও সংগ্রামের গল্পের মাধ্যমে।
2.png)