সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 মহাকালের আয়নামহাকালের আয়না

জুলাই গণঅভ্যুত্থান, কোটা থেকে স্বৈরাচার উৎখাতঃ পর্ব-১

পটভূমি ও ১ম সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান, কোটা থেকে স্বৈরাচার উৎখাতঃ পর্ব-১
ছবি- সংকলিত

চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, "২০২৪ সালটা মনে পড়লে প্রথম কোন ছবিটা চোখে ভাসে?" — উত্তরটা প্রায় সবার এক হবে রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল, হাতে জাতীয় পতাকা, আর গণভবনের ছাদে উঠে পড়া তরুণদের উল্লাস কিন্তু এই একটা দিনের পেছনে লুকিয়ে আছে দুই মাসের এক দীর্ঘ, রক্তাক্ত আর নাটকীয় গল্প সেই গল্পটাই আজ থেকে  দিন গুনে গুনে পুর মাস জুড়ে বলব সেই ইতিহাস 

পটভূমিঅগ্নুৎপাতের পূর্বাভাস 

গল্পটা আসলে শুরু হয়েছিল ছয় বছর আগে ২০১৮ সালে কোটাব্যবস্থা নিয়ে যে আন্দোলন হয়েছিল, তার চাপে সরকার সরকারি চাকরির নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেডে সব ধরনের কোটা বাতিল করে একটা পরিপত্র জারি করেছিল মুক্তিযোদ্ধার সন্তান-নাতি-নাতনি, নারী, পিছিয়ে পড়া জেলা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আর প্রতিবন্ধীদের জন্য মিলিয়ে যে ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল, সেটা তখনকার মতো বন্ধ হয়ে যায়

কিন্তু সেই পরিপত্রের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট করেন আর ২০২৪ সালের জুন হাইকোর্ট সেই রিটের রায়ে ২০১৮ সালের পরিপত্রটাকেই অবৈধ ঘোষণা করে দেয় মানে, কোটা আবার ফিরে আসার পথ খুলে যায় এই একটা রায়ই যেন ঘুমিয়ে থাকা আগুনে ফুঁ দিল জুন থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায় রাষ্ট্রপক্ষ রায় স্থগিতের আবেদন করে, কিন্তু শিক্ষার্থীরা ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে ঈদের ছুটিতে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত রাখেন

৩০ জুন সময়সীমা শেষ হওয়ার পরদিনই, অর্থাৎ জুলাই থেকে, শুরু হয় সেই লাগাতার আন্দোলনযাকে পরে ইতিহাসবিদেরা বলবেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম ধাপ


জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ: এক নতুন ইতিহাসের শুরু 

জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ ক্যালেন্ডারে তখনো লেখা নেই কী ঘটতে চলেছে কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে যে কয়েকশ শিক্ষার্থী প্রতিদিন জড়ো হচ্ছিলেন, তাঁরা বুঝি টের পাচ্ছিলএবার আর থামার নয় কোটা সংস্কারের একটা পুরনো দাবি, যা বহুবার উঠেছে আর থিতিয়ে গেছে, এবার নতুন করে জ্বলে উঠল আর এই জ্বলে ওঠার প্রথম সাত দিনই ঠিক করে দিয়েছিল বাকি দুই মাসের গতিপথ

আজ আমরা সেই সাত দিনের গল্প বলব দিন ধরে ধরে, ঘটনা ধরে ধরে কারণ এই দিনগুলো না বুঝলে বোঝা যাবে না, কীভাবে একটা চাকরির কোটা নিয়ে আন্দোলন এক মাসের মধ্যেই রূপ নিল গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থা বদলে দেওয়া গণঅভ্যুত্থানে


জুলাই : সোমবার, আন্দোলনের প্রথম দিন

জুলাই ২০২৪, সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয় দুপুরে কলাভবন, মল চত্বর, ভিসি চত্বর, টিএসসি ঘুরে মিছিলটা গিয়ে থামে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে

এই দিনটার একটা বিশেষত্ব ছিলএটা কেবল ঢাকার ঘটনা ছিল না একই সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েও একযোগে সমাবেশ আর বিক্ষোভ মিছিল হয় জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা তো সরাসরি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কই অবরোধ করে বসেন

এই সংগঠিত রূপটাই ছিল আসল খবর এটা আর বিক্ষিপ্ত কোনো ক্যাম্পাস-বিক্ষোভ ছিল না, বরং সারা দেশের অন্তত ১১টি জায়গায় একসঙ্গে দাঁড়ানো একটা পরিকল্পিত আন্দোলন এই দিনই সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম পরের তিন দিনের কর্মসূচি, জুলাই টানা শাহবাগ অবরোধঘোষণা করে দেন

আর সরকার? তখনো এটাকে পাত্তা দিচ্ছিল না আওয়ামী লীগ তখন ব্যস্ত ছিল বিএনপিকে নিয়ে রাজনৈতিক বাগযুদ্ধে কোটা আন্দোলনকে অনেকটা "সাময়িক শিক্ষার্থী অসন্তোষ" হিসেবেই দেখা হচ্ছিল এই অবহেলাটাই পরে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় ভুল প্রমাণিত হবে



জুলাই : মঙ্গলবার, শাহবাগে প্রথম অবরোধ

পরদিন, জুলাই মঙ্গলবার বেলা পৌনে তিনটায় শিক্ষার্থীরা আবার জড়ো হন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এবার মিছিলটা যায় নীলক্ষেত-নিউমার্কেট-সায়েন্স ল্যাবরেটরি-কাঁটাবন হয়ে সরাসরি শাহবাগে

শাহবাগ মোড়এই একটা নাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার ফিরে আসে এবারও তাই হলো শিক্ষার্থীরা প্রায় এক ঘণ্টা শাহবাগ অবরোধ করে রাখেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন একই দিনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবারও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন

এই দিন সমন্বয়করা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেনদাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না একজন শিক্ষার্থীর কথায় সেদিনের মনোভাবটা ধরা পড়ে: রোদ-বৃষ্টি যা- হোক, ন্যায্য দাবির আন্দোলন তাঁরা চালিয়ে যাবেন এই সংকল্পটাই ছিল আসল বার্তাএটা এক দিনের উত্তেজনা না, দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রস্তুতি



জুলাই : বুধবার, ছড়িয়ে পড়ল সারা দেশে

জুলাই বুধবার শাহবাগ মোড় আবার অবরুদ্ধ হলো কিন্তু এই দিনের আসল খবর ছিল আন্দোলনের বিস্তার ঢাকার বাইরে আরও অন্তত ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা টানা তৃতীয় দিনের মতো ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক বন্ধ করে দেন

সংসদেও এই দিন কোটা প্রসঙ্গ উঠে আসে বিরোধীদলীয় নেতা জি এম কাদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টানেন বোঝা যাচ্ছিল, রাজপথের এই উত্তাপ এখন আর ক্যাম্পাসের সীমানায় আটকে নেইএটা রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে টের পাওয়া যাচ্ছে

এর মানে পাঠকের জন্য পরিষ্কারএকটা আন্দোলন যখন একই সঙ্গে ছয়-সাতটা শহরে, রাস্তায়-রেলে ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেটাকে আর "কিছু শিক্ষার্থীর অসন্তোষ" বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না


জুলাই : বৃহস্পতিবার, আদালতেরনট টুডে

জুলাই বৃহস্পতিবার ছিল একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন, কারণ এদিনই ছিল আপিল বিভাগের শুনানির তারিখ শিক্ষার্থীরা আশা করেছিলেন, আদালত হয়তো হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে কোনো সুরাহা দেবে

কিন্তু হলো উল্টো প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ সাফ জানিয়ে দেয়আজ না, "নট টুডে" রায় স্থগিত হলো না শুনানি পিছিয়ে গেল পরের সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি নিজেই শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আন্দোলনের চাপ দিয়ে কি আদালতের রায় বদলানো যায়?

এই অনিশ্চয়তা শিক্ষার্থীদের আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে এই দিন তাঁরা শাহবাগ মোড় টানা পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেনআগের দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি সময় একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কও অবরুদ্ধ থাকে এই দিনের সমাবেশ থেকেই প্রথমবারের মতো ছাত্র ধর্মঘটের ডাক আসে

সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম শাহবাগ অবরোধ কর্মসূচিতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন, যেখানে আন্দোলনের সুর আরও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে আদালতের অনিশ্চয়তা যেন আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে দিলআইনি পথে সমাধান সহজে আসবে না, রাজপথের চাপই একমাত্র ভরসা



জুলাই : শুক্রবার, ছুটির দিনেও রাজপথ

জুলাই ছিল শুক্রবারসাপ্তাহিক ছুটির দিন সাধারণত এমন দিনে আন্দোলনের গতি কমে যাওয়ারই কথা কিন্তু কোটা আন্দোলনের ক্ষেত্রে তা হয়নি

সরকারি ছুটি সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান আন্দোলনকারীরা এই একটা ছোট্ট তথ্যই বলে দেয় অনেক কিছুছুটির দিনেও যখন মানুষ রাস্তায় নামে, বোঝা যায় এই আন্দোলনের পেছনে কোনো সাময়িক উত্তেজনা নয়, বরং জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কাজ করছে

এই দিনটা ছিল অনেকটা ঝড়ের আগের শান্ত মুহূর্তের মতো সামনের সপ্তাহেইবাংলা ব্লকেডনামের যে কর্মসূচি আসছিল, তার প্রস্তুতি চলছিল পর্দার আড়ালে সমন্বয়করা সংগঠন গোছাচ্ছিলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন, আসন্ন কর্মসূচির রূপরেখা ঠিক করছিলেন


জুলাই : শনিবার, ‘বাংলা ব্লকেড’-এর ঘোষণা

জুলাই শনিবার, বিকেল সাড়ে চারটার দিকেবৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনব্যানারে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থীরা আবার শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলার পর সেটা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়

কিন্তু অবরোধ তুলে নেওয়ার আগেই আসে এই সপ্তাহের সবচেয়ে বড় ঘোষণাপরদিন অর্থাৎ জুলাই বিকেল তিনটা থেকে সারা দেশেবাংলা ব্লকেডকর্মসূচি শুরু হবে এই নামটা তখন থেকেই মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে এর মানে ছিলআর শুধু এক জায়গায় জমায়েত নয়, বরং সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আর রেলপথ একসঙ্গে অচল করে দেওয়ার পরিকল্পনা

এই দিনই একটা রাজনৈতিক মন্তব্যও নজর কাড়ে এবি পার্টির এক নেতা অভিযোগ করেন, ট্রানজিট ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরাতেই সরকার এই আন্দোলনকে ব্যবহার করছেএমন দাবিও কেউ কেউ তুলছিলেন এই বিতর্কই দেখিয়ে দেয়, আন্দোলনটা তখন কতটা আলোচিত হয়ে উঠেছিলরাজনৈতিক সব পক্ষই এটা নিয়ে নিজেদের মতো ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেছিল



জুলাই : রোববার, সাত রাস্তায় অবরোধ, রাজধানী অচল

জুলাই রোববারএই দিনটাকেই বলা যায় প্রথম সপ্তাহের চূড়ান্ত মোড় ঘোষণামতো বিকেল তিনটা থেকে শুরু হয়বাংলা ব্লকেড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে রাজধানীর শাহবাগসহ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক একসঙ্গে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে

ঢাকার বাইরেও একই চিত্র বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁদের নিজ নিজ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মহাসড়ক দখলে নেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণাও আসে এই দিন সব মিলিয়ে রাজধানী কার্যত অচল হয়ে পড়ে

এই দিনটার গুরুত্ব বোঝা যায় একটা জায়গায়এতদিন আন্দোলন ছিল মূলতএক ঘণ্টা অবরোধ, তারপর প্রত্যাহারধরনের সীমিত কর্মসূচি কিন্তু জুলাই থেকে সেটা বদলে গেল দীর্ঘস্থায়ী, ব্যাপক সংগঠিত এক আন্দোলনে পরদিন জুলাই আর জুলাইও একই ধরনের কর্মসূচি চলতে থাকে, আর জুলাই আন্দোলনের দাবি চার দফা থেকে নেমে আসে একদফায়শুধু কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে এখান থেকেই বোঝা যায়, সাত দিনের এই ধারাবাহিক চাপ আন্দোলনকে একটা নতুন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল



১ম সপ্তাহের শেষ কথা

সাত দিনে যা ঘটল, সেটা আসলে ছিল একটা মহড়াপরের দুই মাসে যা ঘটবে, তার পূর্বাভাস একটা আদালতের রায়, একদল ক্লান্ত-ক্ষুব্ধ তরুণ, আর একটা সরকার যে প্রথম সাত দিন এই আওয়াজকে গুরুত্বই দেয়নি এই অবহেলার মূল্যই পরে সরকারকে চোকাতে হয়েছিল সবচেয়ে বড় আকারে

আজ পেছন ফিরে তাকালে বোঝা যায়, জুলাই থেকে জুলাইএই সাতটা দিন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না ছিল একটা ধাপে ধাপে জমে ওঠা ঢেউ, যা শেষ পর্যন্ত ভেঙে দিয়েছিল ষোলো বছরের একটা শাসনকাঠামো

বিষয় : জুলাই গণঅভ্যুত্থান জুলাই গণঅভ্যুত্থান, কোটা থেকে স্বৈরাচার উৎখাতঃ পর্ব-১

জুলাই গণঅভ্যুত্থান, কোটা থেকে স্বৈরাচার উৎখাতঃ পর্ব-১
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


জুলাই গণঅভ্যুত্থান, কোটা থেকে স্বৈরাচার উৎখাতঃ পর্ব-১

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, "২০২৪ সালটা মনে পড়লে প্রথম কোন ছবিটা চোখে ভাসে?" — উত্তরটা প্রায় সবার এক হবে রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল, হাতে জাতীয় পতাকা, আর গণভবনের ছাদে উঠে পড়া তরুণদের উল্লাস কিন্তু এই একটা দিনের পেছনে লুকিয়ে আছে দুই মাসের এক দীর্ঘ, রক্তাক্ত আর নাটকীয় গল্প সেই গল্পটাই আজ থেকে  দিন গুনে গুনে পুর মাস জুড়ে বলব সেই ইতিহাস 

পটভূমিঅগ্নুৎপাতের পূর্বাভাস 

গল্পটা আসলে শুরু হয়েছিল ছয় বছর আগে ২০১৮ সালে কোটাব্যবস্থা নিয়ে যে আন্দোলন হয়েছিল, তার চাপে সরকার সরকারি চাকরির নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেডে সব ধরনের কোটা বাতিল করে একটা পরিপত্র জারি করেছিল মুক্তিযোদ্ধার সন্তান-নাতি-নাতনি, নারী, পিছিয়ে পড়া জেলা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আর প্রতিবন্ধীদের জন্য মিলিয়ে যে ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল, সেটা তখনকার মতো বন্ধ হয়ে যায়

কিন্তু সেই পরিপত্রের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট করেন আর ২০২৪ সালের জুন হাইকোর্ট সেই রিটের রায়ে ২০১৮ সালের পরিপত্রটাকেই অবৈধ ঘোষণা করে দেয় মানে, কোটা আবার ফিরে আসার পথ খুলে যায় এই একটা রায়ই যেন ঘুমিয়ে থাকা আগুনে ফুঁ দিল জুন থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায় রাষ্ট্রপক্ষ রায় স্থগিতের আবেদন করে, কিন্তু শিক্ষার্থীরা ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে ঈদের ছুটিতে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত রাখেন

৩০ জুন সময়সীমা শেষ হওয়ার পরদিনই, অর্থাৎ জুলাই থেকে, শুরু হয় সেই লাগাতার আন্দোলনযাকে পরে ইতিহাসবিদেরা বলবেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম ধাপ


জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ: এক নতুন ইতিহাসের শুরু 

জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ ক্যালেন্ডারে তখনো লেখা নেই কী ঘটতে চলেছে কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে যে কয়েকশ শিক্ষার্থী প্রতিদিন জড়ো হচ্ছিলেন, তাঁরা বুঝি টের পাচ্ছিলএবার আর থামার নয় কোটা সংস্কারের একটা পুরনো দাবি, যা বহুবার উঠেছে আর থিতিয়ে গেছে, এবার নতুন করে জ্বলে উঠল আর এই জ্বলে ওঠার প্রথম সাত দিনই ঠিক করে দিয়েছিল বাকি দুই মাসের গতিপথ

আজ আমরা সেই সাত দিনের গল্প বলব দিন ধরে ধরে, ঘটনা ধরে ধরে কারণ এই দিনগুলো না বুঝলে বোঝা যাবে না, কীভাবে একটা চাকরির কোটা নিয়ে আন্দোলন এক মাসের মধ্যেই রূপ নিল গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থা বদলে দেওয়া গণঅভ্যুত্থানে


জুলাই : সোমবার, আন্দোলনের প্রথম দিন

জুলাই ২০২৪, সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয় দুপুরে কলাভবন, মল চত্বর, ভিসি চত্বর, টিএসসি ঘুরে মিছিলটা গিয়ে থামে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে

এই দিনটার একটা বিশেষত্ব ছিলএটা কেবল ঢাকার ঘটনা ছিল না একই সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েও একযোগে সমাবেশ আর বিক্ষোভ মিছিল হয় জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা তো সরাসরি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কই অবরোধ করে বসেন

এই সংগঠিত রূপটাই ছিল আসল খবর এটা আর বিক্ষিপ্ত কোনো ক্যাম্পাস-বিক্ষোভ ছিল না, বরং সারা দেশের অন্তত ১১টি জায়গায় একসঙ্গে দাঁড়ানো একটা পরিকল্পিত আন্দোলন এই দিনই সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম পরের তিন দিনের কর্মসূচি, জুলাই টানা শাহবাগ অবরোধঘোষণা করে দেন

আর সরকার? তখনো এটাকে পাত্তা দিচ্ছিল না আওয়ামী লীগ তখন ব্যস্ত ছিল বিএনপিকে নিয়ে রাজনৈতিক বাগযুদ্ধে কোটা আন্দোলনকে অনেকটা "সাময়িক শিক্ষার্থী অসন্তোষ" হিসেবেই দেখা হচ্ছিল এই অবহেলাটাই পরে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় ভুল প্রমাণিত হবে



জুলাই : মঙ্গলবার, শাহবাগে প্রথম অবরোধ

পরদিন, জুলাই মঙ্গলবার বেলা পৌনে তিনটায় শিক্ষার্থীরা আবার জড়ো হন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এবার মিছিলটা যায় নীলক্ষেত-নিউমার্কেট-সায়েন্স ল্যাবরেটরি-কাঁটাবন হয়ে সরাসরি শাহবাগে

শাহবাগ মোড়এই একটা নাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার ফিরে আসে এবারও তাই হলো শিক্ষার্থীরা প্রায় এক ঘণ্টা শাহবাগ অবরোধ করে রাখেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন একই দিনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবারও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন

এই দিন সমন্বয়করা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেনদাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না একজন শিক্ষার্থীর কথায় সেদিনের মনোভাবটা ধরা পড়ে: রোদ-বৃষ্টি যা- হোক, ন্যায্য দাবির আন্দোলন তাঁরা চালিয়ে যাবেন এই সংকল্পটাই ছিল আসল বার্তাএটা এক দিনের উত্তেজনা না, দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রস্তুতি



জুলাই : বুধবার, ছড়িয়ে পড়ল সারা দেশে

জুলাই বুধবার শাহবাগ মোড় আবার অবরুদ্ধ হলো কিন্তু এই দিনের আসল খবর ছিল আন্দোলনের বিস্তার ঢাকার বাইরে আরও অন্তত ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা টানা তৃতীয় দিনের মতো ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক বন্ধ করে দেন

সংসদেও এই দিন কোটা প্রসঙ্গ উঠে আসে বিরোধীদলীয় নেতা জি এম কাদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টানেন বোঝা যাচ্ছিল, রাজপথের এই উত্তাপ এখন আর ক্যাম্পাসের সীমানায় আটকে নেইএটা রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে টের পাওয়া যাচ্ছে

এর মানে পাঠকের জন্য পরিষ্কারএকটা আন্দোলন যখন একই সঙ্গে ছয়-সাতটা শহরে, রাস্তায়-রেলে ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেটাকে আর "কিছু শিক্ষার্থীর অসন্তোষ" বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না


জুলাই : বৃহস্পতিবার, আদালতেরনট টুডে

জুলাই বৃহস্পতিবার ছিল একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন, কারণ এদিনই ছিল আপিল বিভাগের শুনানির তারিখ শিক্ষার্থীরা আশা করেছিলেন, আদালত হয়তো হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে কোনো সুরাহা দেবে

কিন্তু হলো উল্টো প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ সাফ জানিয়ে দেয়আজ না, "নট টুডে" রায় স্থগিত হলো না শুনানি পিছিয়ে গেল পরের সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি নিজেই শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আন্দোলনের চাপ দিয়ে কি আদালতের রায় বদলানো যায়?

এই অনিশ্চয়তা শিক্ষার্থীদের আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে এই দিন তাঁরা শাহবাগ মোড় টানা পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেনআগের দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি সময় একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কও অবরুদ্ধ থাকে এই দিনের সমাবেশ থেকেই প্রথমবারের মতো ছাত্র ধর্মঘটের ডাক আসে

সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম শাহবাগ অবরোধ কর্মসূচিতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন, যেখানে আন্দোলনের সুর আরও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে আদালতের অনিশ্চয়তা যেন আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে দিলআইনি পথে সমাধান সহজে আসবে না, রাজপথের চাপই একমাত্র ভরসা



জুলাই : শুক্রবার, ছুটির দিনেও রাজপথ

জুলাই ছিল শুক্রবারসাপ্তাহিক ছুটির দিন সাধারণত এমন দিনে আন্দোলনের গতি কমে যাওয়ারই কথা কিন্তু কোটা আন্দোলনের ক্ষেত্রে তা হয়নি

সরকারি ছুটি সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান আন্দোলনকারীরা এই একটা ছোট্ট তথ্যই বলে দেয় অনেক কিছুছুটির দিনেও যখন মানুষ রাস্তায় নামে, বোঝা যায় এই আন্দোলনের পেছনে কোনো সাময়িক উত্তেজনা নয়, বরং জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কাজ করছে

এই দিনটা ছিল অনেকটা ঝড়ের আগের শান্ত মুহূর্তের মতো সামনের সপ্তাহেইবাংলা ব্লকেডনামের যে কর্মসূচি আসছিল, তার প্রস্তুতি চলছিল পর্দার আড়ালে সমন্বয়করা সংগঠন গোছাচ্ছিলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন, আসন্ন কর্মসূচির রূপরেখা ঠিক করছিলেন


জুলাই : শনিবার, ‘বাংলা ব্লকেড’-এর ঘোষণা

জুলাই শনিবার, বিকেল সাড়ে চারটার দিকেবৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনব্যানারে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থীরা আবার শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলার পর সেটা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়

কিন্তু অবরোধ তুলে নেওয়ার আগেই আসে এই সপ্তাহের সবচেয়ে বড় ঘোষণাপরদিন অর্থাৎ জুলাই বিকেল তিনটা থেকে সারা দেশেবাংলা ব্লকেডকর্মসূচি শুরু হবে এই নামটা তখন থেকেই মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে এর মানে ছিলআর শুধু এক জায়গায় জমায়েত নয়, বরং সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আর রেলপথ একসঙ্গে অচল করে দেওয়ার পরিকল্পনা

এই দিনই একটা রাজনৈতিক মন্তব্যও নজর কাড়ে এবি পার্টির এক নেতা অভিযোগ করেন, ট্রানজিট ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরাতেই সরকার এই আন্দোলনকে ব্যবহার করছেএমন দাবিও কেউ কেউ তুলছিলেন এই বিতর্কই দেখিয়ে দেয়, আন্দোলনটা তখন কতটা আলোচিত হয়ে উঠেছিলরাজনৈতিক সব পক্ষই এটা নিয়ে নিজেদের মতো ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেছিল



জুলাই : রোববার, সাত রাস্তায় অবরোধ, রাজধানী অচল

জুলাই রোববারএই দিনটাকেই বলা যায় প্রথম সপ্তাহের চূড়ান্ত মোড় ঘোষণামতো বিকেল তিনটা থেকে শুরু হয়বাংলা ব্লকেড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে রাজধানীর শাহবাগসহ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক একসঙ্গে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে

ঢাকার বাইরেও একই চিত্র বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁদের নিজ নিজ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মহাসড়ক দখলে নেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণাও আসে এই দিন সব মিলিয়ে রাজধানী কার্যত অচল হয়ে পড়ে

এই দিনটার গুরুত্ব বোঝা যায় একটা জায়গায়এতদিন আন্দোলন ছিল মূলতএক ঘণ্টা অবরোধ, তারপর প্রত্যাহারধরনের সীমিত কর্মসূচি কিন্তু জুলাই থেকে সেটা বদলে গেল দীর্ঘস্থায়ী, ব্যাপক সংগঠিত এক আন্দোলনে পরদিন জুলাই আর জুলাইও একই ধরনের কর্মসূচি চলতে থাকে, আর জুলাই আন্দোলনের দাবি চার দফা থেকে নেমে আসে একদফায়শুধু কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে এখান থেকেই বোঝা যায়, সাত দিনের এই ধারাবাহিক চাপ আন্দোলনকে একটা নতুন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল



১ম সপ্তাহের শেষ কথা

সাত দিনে যা ঘটল, সেটা আসলে ছিল একটা মহড়াপরের দুই মাসে যা ঘটবে, তার পূর্বাভাস একটা আদালতের রায়, একদল ক্লান্ত-ক্ষুব্ধ তরুণ, আর একটা সরকার যে প্রথম সাত দিন এই আওয়াজকে গুরুত্বই দেয়নি এই অবহেলার মূল্যই পরে সরকারকে চোকাতে হয়েছিল সবচেয়ে বড় আকারে

আজ পেছন ফিরে তাকালে বোঝা যায়, জুলাই থেকে জুলাইএই সাতটা দিন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না ছিল একটা ধাপে ধাপে জমে ওঠা ঢেউ, যা শেষ পর্যন্ত ভেঙে দিয়েছিল ষোলো বছরের একটা শাসনকাঠামো


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত