সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 শিক্ষাঙ্গনশিক্ষাঙ্গন

কালিয়াকৈরে শিক্ষক সংকটে প্রাথমিক শিক্ষা: ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

সাব-হেডিং: ১২২টি বিদ্যালয়ে ৩৩টি প্রধান ও ২২টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য; পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক চাপে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষকরা।

কালিয়াকৈরে শিক্ষক সংকটে প্রাথমিক শিক্ষা: ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান
ছবি -সংগৃহীত

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যার ফলে প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে একদিকে যেমন পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলায় মোট ১২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ এবং ২২টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ খালি পড়ে আছে। অধিকাংশ বিদ্যালয়েই সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। জনবল সংকটের কারণে একটি বিদ্যালয়ে অনেক সময় একজন শিক্ষককে একই সঙ্গে একাধিক শ্রেণির পাঠদান করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, একজন শিক্ষককে একই সময়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে। অভিভাবকরা জানান, ক্লাসে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা অনেক সময় বই নিয়ে বসে থাকলেও পাঠদানের সুযোগ পাচ্ছে না। অভিভাবকদের মতে, এভাবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব।

শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, শুধু পাঠদানই নয়, বরং উপবৃত্তির কাজ, ইউনিক আইডি তৈরি, বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রতিবেদন ও অফিস ব্যবস্থাপনার বাড়তি দায়িত্বের কারণে তাদের ওপর কাজের চাপ বেড়েছে। একজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অফিসিয়াল কাজ সামলাতে গিয়ে ক্লাসে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকলে শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন।”

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক পর্যায় হলো শিক্ষার মূল ভিত্তি। দীর্ঘদিনের এই শিক্ষক সংকট শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ঝরে পড়ার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কাও করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সমস্যার সমাধানে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসাইন বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শূন্য পদের তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। স্থায়ী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প কোনো উপায়ে পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত এ বিষয়ে অবহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন প্রশাসনিক কাজের চাপে পাঠদানের সময় যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল নির্দেশনায় সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং দ্রুত শূন্যপদ পূরণের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিষয় : শিক্ষক সংকট গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা

কালিয়াকৈরে শিক্ষক সংকটে প্রাথমিক শিক্ষা: ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬


কালিয়াকৈরে শিক্ষক সংকটে প্রাথমিক শিক্ষা: ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যার ফলে প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে একদিকে যেমন পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলায় মোট ১২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ এবং ২২টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ খালি পড়ে আছে। অধিকাংশ বিদ্যালয়েই সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। জনবল সংকটের কারণে একটি বিদ্যালয়ে অনেক সময় একজন শিক্ষককে একই সঙ্গে একাধিক শ্রেণির পাঠদান করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, একজন শিক্ষককে একই সময়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে। অভিভাবকরা জানান, ক্লাসে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা অনেক সময় বই নিয়ে বসে থাকলেও পাঠদানের সুযোগ পাচ্ছে না। অভিভাবকদের মতে, এভাবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব।

শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, শুধু পাঠদানই নয়, বরং উপবৃত্তির কাজ, ইউনিক আইডি তৈরি, বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রতিবেদন ও অফিস ব্যবস্থাপনার বাড়তি দায়িত্বের কারণে তাদের ওপর কাজের চাপ বেড়েছে। একজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অফিসিয়াল কাজ সামলাতে গিয়ে ক্লাসে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকলে শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন।”

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক পর্যায় হলো শিক্ষার মূল ভিত্তি। দীর্ঘদিনের এই শিক্ষক সংকট শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ঝরে পড়ার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কাও করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সমস্যার সমাধানে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসাইন বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শূন্য পদের তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। স্থায়ী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প কোনো উপায়ে পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত এ বিষয়ে অবহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন প্রশাসনিক কাজের চাপে পাঠদানের সময় যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল নির্দেশনায় সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং দ্রুত শূন্যপদ পূরণের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত