শিক্ষাঙ্গন
আমাদের শিক্ষামন্ত্রী নকলের বিরুদ্ধে খুব সোচ্চার, যা সত্যিই সাধুবাদ পাওয়ার মতো। কিন্তু এই আলোচনার আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় উচ্চশিক্ষার সেই এক আনুষ্ঠানিক নকলের গল্প, যা দশকের পর দশক ধরে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরগুলো গ্রাস করে রেখেছে। আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, একজন শিক্ষার্থী যখন নীলক্ষেত থেকে কোনো পুরনো থিসিস কিনে এনে শুধু নাম আর কভার পেজ বদলে জমা দেয়, তখন সেই গবেষণার নৈতিক মর্যাদা ঠিক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? আশ্চর্য হলেও সত্যি, এ দেশের বেশিরভাগ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি এখন কোনো গোপন বিষয় নয়। শিক্ষকও জানেন, শিক্ষার্থী নিজেও জানেন, এমনকি প্রশাসনও অবগত—এটি গবেষণার নামে এক নীরব প্রহসন। কিন্তু আমরা খুব কমই কথা বলি এই বড় সংকটটি নিয়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, পদোন্নতি ও একাডেমিক মর্যাদার সঙ্গে গবেষণার যে গভীর সম্পর্কের কথা ছিল, তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে কেবল একটি বাধ্যতামূলক কাগজ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায়। গবেষণার মূল উদ্দেশ্য—নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমস্যার সমাধান খোঁজা—সেগুলো আজ লাইব্রেরির ধুলোমাখা তাকে বন্দি। এর জায়গা দখল করেছে কপি-পেস্ট, পুরোনো থিসিস ঘষামাজা করা এবং কৃত্রিমভাবে গবেষক সাজার এক অসুস্থ সংস্কৃতি। তরুণদের একটা বড় অংশের লক্ষ্য যেহেতু কেবল বিসিএস বা চাকরির গাইড মুখস্থ করা, তাই বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কাছে কোনো জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্র নয়, বরং ডিগ্রি অর্জনের একটি কেন্দ্র মাত্র। শুধু চাকরিজীবী বানানোর জন্য কি বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণার প্রয়োজন আছে? অথচ আমরা পুরো ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজিয়েছি যে, গবেষণার চেয়ে ডিগ্রির সংখ্যাই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন নীলক্ষেতের থিসিস ব্যবসার গল্প কোনো নতুন বিষয় নয়। বছরের পর বছর ধরে এখানে মাস্টার্স বা বিভিন্ন ডিগ্রির গবেষণাপত্র নাম পরিবর্তন করে বিক্রি হচ্ছে। ভয়াবহ বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক অনেক ক্ষেত্রেই জানেন যে জমা দেওয়া গবেষণাটি শিক্ষার্থীর নিজের লেখা নয়। তবুও সেটি গ্রহণ করা হচ্ছে, নম্বর দেওয়া হচ্ছে, ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্নীতি নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একটি সহনীয় অনিয়মে পরিণত হয়েছে। কেন এমন হচ্ছে? আসলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণাকে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ হিসেবে নয়, বরং প্রশাসনিক শর্ত হিসেবে দেখা হয়। একজন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি পেতে থিসিস করতে হয়, একজন শিক্ষককে পদোন্নতি পেতে পেপার ছাপাতে হয়। লক্ষ্য যখন সংখ্যা, তখন গুণগত মান আর অবশিষ্ট থাকে না।
এর দায় কি কেবল শিক্ষার্থীদের? মোটেও না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলোতে গবেষণার পরিবেশ কি আছে? নেই পর্যাপ্ত লাইব্রেরি, নেই ডাটাবেজের প্রবেশাধিকার, নেই প্রশিক্ষিত সুপারভাইজার। একজন শিক্ষার্থী যখন গবেষণা কী, তা-ই শিখল না, তখন সে তো সহজ পথই খুঁজবে। আর শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ‘পাবলিশ অর পেরিশ’ বা প্রকাশ না করলে বিদায়—এই সংস্কৃতির বিকৃত রূপটি আরও ভয়ংকর। অনেক ক্ষেত্রে একই গবেষণা বারবার ভিন্ন নামে প্রকাশ বা অন্যের কাজ নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার মতো নৈতিক স্খলনও আমরা দেখছি। গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি বা প্লেজিয়ারিজম যখন শিক্ষকদের মধ্যেই সংক্রমিত হয়, তখন এর দায় কে নেবে? অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাপত্র জমা দেওয়ার আগে কোনো কার্যকর প্লেজিয়ারিজম পরীক্ষা নেই। আর থাকলেও সেটি যেন কেবলই আনুষ্ঠানিকতা।
বাস্তবতা হলো, বিপুল অর্থ, সময় ও মেধা ব্যয় করে এমন এক ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে যার ফলাফল প্রায় শূন্য। এই গবেষণাপত্রগুলো কি নীতিনির্ধারণে ব্যবহৃত হয়? শিল্পখাত বা অর্থনীতির উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখে? উত্তরটি হতাশাজনক। আরও বড় সংকট হলো নৈতিকতার অবক্ষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে যে শিক্ষার্থী শিখে যায় অন্যের কাজ নিজের নামে চালানো যায়, সে তো ভবিষ্যতে রাষ্ট্র বা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেও একই মানসিকতা পোষণ করবে। এই নকলের সংস্কৃতি একাডেমিক সীমা ছাড়িয়ে পুরো সমাজে বিষবাষ্পের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।
তাহলে মুক্তির পথ কোথায়? আমাদের কি সব বিষয়ে থিসিস বাধ্যতামূলক রাখতেই হবে? আসলে গবেষণার সক্ষমতা ও অবকাঠামো না থাকলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। অনেক উন্নত দেশেই সব শিক্ষার্থীকে থিসিস করতে হয় না; তারা ইন্টার্নশিপ রিপোর্ট বা প্রজেক্ট ওয়ার্কের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে। আমাদেরও উচিত গবেষণা পদ্ধতি শেখানোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, ডাটা বিশ্লেষণ এবং একাডেমিক লেখালেখির হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ না থাকলে গবেষণার মান বাড়বে না। সেই সঙ্গে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের প্লেজিয়ারিজম শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে। নির্দিষ্ট সীমার বেশি মিল পাওয়া গেলে থিসিস প্রত্যাখ্যানের কোনো বিকল্প নেই।
পাশাপাশি থিসিস মূল্যায়নের পুরো প্রক্রিয়াটিকে ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করতে হবে। কোনো শিক্ষক যদি ধারাবাহিকভাবে নকল থিসিস অনুমোদন দেন, তবে তার বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা থাকা জরুরি। গবেষণার মান রক্ষার দায়িত্ব কেবল শিক্ষার্থীর নয়, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনেরও। আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে, বর্তমান ব্যবস্থায় গবেষণার নামে যে বিপুল অপচয় হচ্ছে, তা জাতীয় ক্ষতির কারণ। গবেষণা কোনো আনুষ্ঠানিকতার চেকবক্স নয়, এটি জ্ঞান সৃষ্টির পবিত্র প্রক্রিয়া। যে শিক্ষা ব্যবস্থা সত্য অনুসন্ধানের বদলে প্রতারণা শেখায়, সেই ব্যবস্থার সংস্কার এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার দাবি। যে জাতি গবেষণার শক্তি ছাড়া উন্নয়নের স্বপ্ন দেখে, সে শেষ পর্যন্ত জ্ঞানের স্রষ্টা হতে পারে না, কেবল ভোক্তা হিসেবেই থেকে যায়।
বিষয় : নীলক্ষেতের থিসিস
2.png)
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
আমাদের শিক্ষামন্ত্রী নকলের বিরুদ্ধে খুব সোচ্চার, যা সত্যিই সাধুবাদ পাওয়ার মতো। কিন্তু এই আলোচনার আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় উচ্চশিক্ষার সেই এক আনুষ্ঠানিক নকলের গল্প, যা দশকের পর দশক ধরে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরগুলো গ্রাস করে রেখেছে। আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, একজন শিক্ষার্থী যখন নীলক্ষেত থেকে কোনো পুরনো থিসিস কিনে এনে শুধু নাম আর কভার পেজ বদলে জমা দেয়, তখন সেই গবেষণার নৈতিক মর্যাদা ঠিক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? আশ্চর্য হলেও সত্যি, এ দেশের বেশিরভাগ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি এখন কোনো গোপন বিষয় নয়। শিক্ষকও জানেন, শিক্ষার্থী নিজেও জানেন, এমনকি প্রশাসনও অবগত—এটি গবেষণার নামে এক নীরব প্রহসন। কিন্তু আমরা খুব কমই কথা বলি এই বড় সংকটটি নিয়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, পদোন্নতি ও একাডেমিক মর্যাদার সঙ্গে গবেষণার যে গভীর সম্পর্কের কথা ছিল, তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে কেবল একটি বাধ্যতামূলক কাগজ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায়। গবেষণার মূল উদ্দেশ্য—নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমস্যার সমাধান খোঁজা—সেগুলো আজ লাইব্রেরির ধুলোমাখা তাকে বন্দি। এর জায়গা দখল করেছে কপি-পেস্ট, পুরোনো থিসিস ঘষামাজা করা এবং কৃত্রিমভাবে গবেষক সাজার এক অসুস্থ সংস্কৃতি। তরুণদের একটা বড় অংশের লক্ষ্য যেহেতু কেবল বিসিএস বা চাকরির গাইড মুখস্থ করা, তাই বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কাছে কোনো জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্র নয়, বরং ডিগ্রি অর্জনের একটি কেন্দ্র মাত্র। শুধু চাকরিজীবী বানানোর জন্য কি বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণার প্রয়োজন আছে? অথচ আমরা পুরো ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজিয়েছি যে, গবেষণার চেয়ে ডিগ্রির সংখ্যাই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন নীলক্ষেতের থিসিস ব্যবসার গল্প কোনো নতুন বিষয় নয়। বছরের পর বছর ধরে এখানে মাস্টার্স বা বিভিন্ন ডিগ্রির গবেষণাপত্র নাম পরিবর্তন করে বিক্রি হচ্ছে। ভয়াবহ বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক অনেক ক্ষেত্রেই জানেন যে জমা দেওয়া গবেষণাটি শিক্ষার্থীর নিজের লেখা নয়। তবুও সেটি গ্রহণ করা হচ্ছে, নম্বর দেওয়া হচ্ছে, ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্নীতি নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একটি সহনীয় অনিয়মে পরিণত হয়েছে। কেন এমন হচ্ছে? আসলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণাকে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ হিসেবে নয়, বরং প্রশাসনিক শর্ত হিসেবে দেখা হয়। একজন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি পেতে থিসিস করতে হয়, একজন শিক্ষককে পদোন্নতি পেতে পেপার ছাপাতে হয়। লক্ষ্য যখন সংখ্যা, তখন গুণগত মান আর অবশিষ্ট থাকে না।
এর দায় কি কেবল শিক্ষার্থীদের? মোটেও না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলোতে গবেষণার পরিবেশ কি আছে? নেই পর্যাপ্ত লাইব্রেরি, নেই ডাটাবেজের প্রবেশাধিকার, নেই প্রশিক্ষিত সুপারভাইজার। একজন শিক্ষার্থী যখন গবেষণা কী, তা-ই শিখল না, তখন সে তো সহজ পথই খুঁজবে। আর শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ‘পাবলিশ অর পেরিশ’ বা প্রকাশ না করলে বিদায়—এই সংস্কৃতির বিকৃত রূপটি আরও ভয়ংকর। অনেক ক্ষেত্রে একই গবেষণা বারবার ভিন্ন নামে প্রকাশ বা অন্যের কাজ নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার মতো নৈতিক স্খলনও আমরা দেখছি। গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি বা প্লেজিয়ারিজম যখন শিক্ষকদের মধ্যেই সংক্রমিত হয়, তখন এর দায় কে নেবে? অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাপত্র জমা দেওয়ার আগে কোনো কার্যকর প্লেজিয়ারিজম পরীক্ষা নেই। আর থাকলেও সেটি যেন কেবলই আনুষ্ঠানিকতা।
বাস্তবতা হলো, বিপুল অর্থ, সময় ও মেধা ব্যয় করে এমন এক ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে যার ফলাফল প্রায় শূন্য। এই গবেষণাপত্রগুলো কি নীতিনির্ধারণে ব্যবহৃত হয়? শিল্পখাত বা অর্থনীতির উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখে? উত্তরটি হতাশাজনক। আরও বড় সংকট হলো নৈতিকতার অবক্ষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে যে শিক্ষার্থী শিখে যায় অন্যের কাজ নিজের নামে চালানো যায়, সে তো ভবিষ্যতে রাষ্ট্র বা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেও একই মানসিকতা পোষণ করবে। এই নকলের সংস্কৃতি একাডেমিক সীমা ছাড়িয়ে পুরো সমাজে বিষবাষ্পের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।
তাহলে মুক্তির পথ কোথায়? আমাদের কি সব বিষয়ে থিসিস বাধ্যতামূলক রাখতেই হবে? আসলে গবেষণার সক্ষমতা ও অবকাঠামো না থাকলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। অনেক উন্নত দেশেই সব শিক্ষার্থীকে থিসিস করতে হয় না; তারা ইন্টার্নশিপ রিপোর্ট বা প্রজেক্ট ওয়ার্কের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে। আমাদেরও উচিত গবেষণা পদ্ধতি শেখানোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, ডাটা বিশ্লেষণ এবং একাডেমিক লেখালেখির হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ না থাকলে গবেষণার মান বাড়বে না। সেই সঙ্গে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের প্লেজিয়ারিজম শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে। নির্দিষ্ট সীমার বেশি মিল পাওয়া গেলে থিসিস প্রত্যাখ্যানের কোনো বিকল্প নেই।
পাশাপাশি থিসিস মূল্যায়নের পুরো প্রক্রিয়াটিকে ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করতে হবে। কোনো শিক্ষক যদি ধারাবাহিকভাবে নকল থিসিস অনুমোদন দেন, তবে তার বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা থাকা জরুরি। গবেষণার মান রক্ষার দায়িত্ব কেবল শিক্ষার্থীর নয়, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনেরও। আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে, বর্তমান ব্যবস্থায় গবেষণার নামে যে বিপুল অপচয় হচ্ছে, তা জাতীয় ক্ষতির কারণ। গবেষণা কোনো আনুষ্ঠানিকতার চেকবক্স নয়, এটি জ্ঞান সৃষ্টির পবিত্র প্রক্রিয়া। যে শিক্ষা ব্যবস্থা সত্য অনুসন্ধানের বদলে প্রতারণা শেখায়, সেই ব্যবস্থার সংস্কার এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার দাবি। যে জাতি গবেষণার শক্তি ছাড়া উন্নয়নের স্বপ্ন দেখে, সে শেষ পর্যন্ত জ্ঞানের স্রষ্টা হতে পারে না, কেবল ভোক্তা হিসেবেই থেকে যায়।
2.png)