সোশ্যাল ট্রেন্ডসোশ্যাল ট্রেন্ড

'উই স্ট্যান্ড উইথ বিটিএস' হ্যাশ ট্যাগে বিটিএসের পাশে আর্মি

গ্র্যামিতে গান জমা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোরিয়ান ব্যান্ডটি। ‘উই স্ট্যান্ড উইথ বিটিএস’ হ্যাশট্যাগে সমর্থন জানাচ্ছেন ভক্তরা।

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক
'উই স্ট্যান্ড উইথ বিটিএস' হ্যাশ ট্যাগে বিটিএসের পাশে আর্মি
ছবি -সংগৃহীত

গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার পরই ব্যান্ডটির ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। ‘উই স্ট্যান্ড উইথ বিটিএস’ হ্যাশট্যাগে সরব হয়েছেন আর্মি সদস্যরা। 

বিটিএস জানিয়েছে, সংগীতকে কোনো অঞ্চল, ভাষা কিংবা পরিচয়ের গণ্ডিতে আটকে না রেখে তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও মান দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত। ব্যান্ডটির এমন অবস্থানের পর ভক্তরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্ট দিয়ে তাঁদের সমর্থন জানাচ্ছেন। ‘বিটিএস নিয়ে গর্বিত’ কিংবা ‘আমরা বিটিএসের পাশে আছি’—এমন বার্তায় ভরে উঠেছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম।

বিটিএসের সিদ্ধান্তের পেছনে গ্র্যামির নতুন ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ বিভাগটি বড় কারণ বলে মনে করছেন অনেকে। ভক্তদের একটি অংশের ধারণা, নতুন এই বিভাগে এশিয়ার শিল্পীদের আলাদা শ্রেণিতে রাখার বিষয়টি নিয়ে ব্যান্ডটির আপত্তি রয়েছে। তাঁদের মতে, বিটিএস মূলত এমন একটি মূল্যায়নব্যবস্থার কথা বলছে, যেখানে শিল্পীর পরিচয়ের চেয়ে তাঁর সংগীতই হবে প্রধান বিবেচনা।

ব্যান্ডটির ঘোষণার প্রভাব শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। গান শোনার প্ল্যাটফর্মেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। সংগীতসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিটিএসের পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম ‘অ্যারিরাং’-এর গান ‘এলিয়েনস’ বৃহস্পতিবার বিশ্বের ৭৮টি দেশ ও অঞ্চলের আইটিউনস গানের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে।

‘এলিয়েনস’ গানটির কথাতেও রয়েছে নিজেদের পরিচয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা। বিশ্বসংগীতের মঞ্চে কোরীয় শিল্পী হিসেবে বিটিএসের অভিজ্ঞতা, ভিন্নতাকে গ্রহণ এবং নিজেদের পথ নিজেরাই তৈরি করার বিষয় উঠে এসেছে এতে। ফলে গ্র্যামি নিয়ে ব্যান্ডটির সাম্প্রতিক অবস্থানের সঙ্গে গানটির বক্তব্যের মিল খুঁজে পাচ্ছেন ভক্তরা।

বিটিএসের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ব্যান্ডটির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিভিন্ন প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন আর্মি সদস্যরা। নতুন যাত্রার আগে ২০১৮ সালে প্রকাশিত বিটিএসের ‘অ্যানপ্যানম্যান’ গানটিও একসময় যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড ওয়ার্ল্ড ডিজিটাল সং সেলস চার্টের শীর্ষে উঠেছিল।

এবার অবশ্য শুধু ভক্তরাই নন, সংগীত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত কয়েকজনও বিটিএসের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার হিপহপ দল এপিক হাইয়ের সদস্য ট্যাবলো প্রকাশ্যে ব্যান্ডটির অবস্থানের পক্ষে কথা বলেছেন। নেটফ্লিক্সের অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর পরিচালক ম্যাগি ক্যাংও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি শেয়ার করে হাততালির ইমোজি দিয়েছেন।

‘এলিয়েনস’ গানের প্রযোজক মার্কিন সংগীত প্রযোজক মাইক উইল মেড-ইটও বিটিএসের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

তবে বিতর্কের মধ্যেই নতুন এশিয়ান পপ বিভাগ নিয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ডিং একাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী হার্ভি মেসন জুনিয়রের বক্তব্য, এশিয়ার শিল্পীদের আলাদা করে রাখার জন্য নয়, বরং তাঁদের আরও স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যেই নতুন বিভাগটি চালু করা হয়েছে। ফলে বিটিএসের সিদ্ধান্ত এবং গ্র্যামি কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার পর এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিষয় : গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড 'উই স্ট্যান্ড উইথ বিটিএস' বিটিএস আর্মি

কাল মহাকাল

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬


'উই স্ট্যান্ড উইথ বিটিএস' হ্যাশ ট্যাগে বিটিএসের পাশে আর্মি

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার পরই ব্যান্ডটির ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। ‘উই স্ট্যান্ড উইথ বিটিএস’ হ্যাশট্যাগে সরব হয়েছেন আর্মি সদস্যরা। 

বিটিএস জানিয়েছে, সংগীতকে কোনো অঞ্চল, ভাষা কিংবা পরিচয়ের গণ্ডিতে আটকে না রেখে তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও মান দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত। ব্যান্ডটির এমন অবস্থানের পর ভক্তরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্ট দিয়ে তাঁদের সমর্থন জানাচ্ছেন। ‘বিটিএস নিয়ে গর্বিত’ কিংবা ‘আমরা বিটিএসের পাশে আছি’—এমন বার্তায় ভরে উঠেছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম।

বিটিএসের সিদ্ধান্তের পেছনে গ্র্যামির নতুন ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ বিভাগটি বড় কারণ বলে মনে করছেন অনেকে। ভক্তদের একটি অংশের ধারণা, নতুন এই বিভাগে এশিয়ার শিল্পীদের আলাদা শ্রেণিতে রাখার বিষয়টি নিয়ে ব্যান্ডটির আপত্তি রয়েছে। তাঁদের মতে, বিটিএস মূলত এমন একটি মূল্যায়নব্যবস্থার কথা বলছে, যেখানে শিল্পীর পরিচয়ের চেয়ে তাঁর সংগীতই হবে প্রধান বিবেচনা।

ব্যান্ডটির ঘোষণার প্রভাব শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। গান শোনার প্ল্যাটফর্মেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। সংগীতসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিটিএসের পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম ‘অ্যারিরাং’-এর গান ‘এলিয়েনস’ বৃহস্পতিবার বিশ্বের ৭৮টি দেশ ও অঞ্চলের আইটিউনস গানের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে।

‘এলিয়েনস’ গানটির কথাতেও রয়েছে নিজেদের পরিচয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা। বিশ্বসংগীতের মঞ্চে কোরীয় শিল্পী হিসেবে বিটিএসের অভিজ্ঞতা, ভিন্নতাকে গ্রহণ এবং নিজেদের পথ নিজেরাই তৈরি করার বিষয় উঠে এসেছে এতে। ফলে গ্র্যামি নিয়ে ব্যান্ডটির সাম্প্রতিক অবস্থানের সঙ্গে গানটির বক্তব্যের মিল খুঁজে পাচ্ছেন ভক্তরা।

বিটিএসের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ব্যান্ডটির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিভিন্ন প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন আর্মি সদস্যরা। নতুন যাত্রার আগে ২০১৮ সালে প্রকাশিত বিটিএসের ‘অ্যানপ্যানম্যান’ গানটিও একসময় যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড ওয়ার্ল্ড ডিজিটাল সং সেলস চার্টের শীর্ষে উঠেছিল।

এবার অবশ্য শুধু ভক্তরাই নন, সংগীত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত কয়েকজনও বিটিএসের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার হিপহপ দল এপিক হাইয়ের সদস্য ট্যাবলো প্রকাশ্যে ব্যান্ডটির অবস্থানের পক্ষে কথা বলেছেন। নেটফ্লিক্সের অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর পরিচালক ম্যাগি ক্যাংও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি শেয়ার করে হাততালির ইমোজি দিয়েছেন।

‘এলিয়েনস’ গানের প্রযোজক মার্কিন সংগীত প্রযোজক মাইক উইল মেড-ইটও বিটিএসের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

তবে বিতর্কের মধ্যেই নতুন এশিয়ান পপ বিভাগ নিয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ডিং একাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী হার্ভি মেসন জুনিয়রের বক্তব্য, এশিয়ার শিল্পীদের আলাদা করে রাখার জন্য নয়, বরং তাঁদের আরও স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যেই নতুন বিভাগটি চালু করা হয়েছে। ফলে বিটিএসের সিদ্ধান্ত এবং গ্র্যামি কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার পর এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত