বিনোদন
গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে গান জমা দেবে কি না—এখনো সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়নি দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড স্ট্রে কিডস। এমনকি গ্র্যামির নতুন ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ বিভাগ নিয়েও সরাসরি কোনো অবস্থান জানায়নি দলটি।
বৃহস্পতিবার সিউলে নিজেদের দশম মিনি অ্যালবাম ‘দিস অ্যান্ড দ্যাট’ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গ্র্যামি প্রসঙ্গে কথা বলেন ব্যান্ডটির সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্যে অবশ্য একটি বিষয় স্পষ্ট—পুরস্কারের চেয়ে নিজেদের সংগীতকেই বেশি গুরুত্ব দেন তাঁরা।
স্ট্রে কিডসের সদস্য সুংমিন বলেন, নির্দিষ্ট কোনো পুরস্কার বা রেকর্ড অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে তাঁরা অ্যালবাম তৈরি করেন না। তাঁদের সংগীত ও পরিবেশনার ধরনও বাইরের প্রত্যাশা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বরং নিজেদের অনুভূতি থেকেই গান তৈরি ও মঞ্চ পরিবেশনার পরিকল্পনা করেন তাঁরা।
গ্র্যামির নতুন এশিয়ান পপ বিভাগে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সুংমিন বলেন, বিশ্বজুড়ে কে-পপের জনপ্রিয়তা দেখে তিনি কৃতজ্ঞ। তাঁর মতে, এর মধ্য দিয়ে সংগীতের শক্তিও নতুন করে উপলব্ধি করা যায়।
একই সুরে কথা বলেছেন ব্যান্ডটির আরেক সদস্য হিউনজিন। তাঁর ভাষ্য, স্ট্রে কিডসের পুরো পথচলায় কোনো নির্দিষ্ট পুরস্কার বা অর্জনকে সামনে রেখে অ্যালবাম প্রকাশ করা হয়নি।
তবে গ্র্যামিতে গান জমা দেওয়ার সিদ্ধান্তটি এখনো স্পষ্ট নয়। স্ট্রে কিডসের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্টও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এদিকে আগামী বছরের গ্র্যামিকে ঘিরে এরই মধ্যে জমে উঠেছে আলোচনা। ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্য অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে ৭ জুলাই। চলবে ২১ আগস্ট পর্যন্ত। মনোনয়ন প্রকাশ করা হবে ১৬ নভেম্বর। আর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হবে আগামী বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি।
বিশেষ করে নতুন ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ বিভাগটি নিয়ে সংগীতাঙ্গনে তৈরি হয়েছে দুই ধরনের মত। এক পক্ষ মনে করছে, এশিয়ার শিল্পীদের জন্য এটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নতুন দরজা খুলবে। অন্যদিকে সমালোচকদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, আলাদা বিভাগ চালুর ফলে এশীয় শিল্পীরা মূল প্রতিযোগিতা থেকে আরও দূরে সরে যেতে পারেন।
এই বিতর্কের মধ্যেই গত মাসে বড় সিদ্ধান্ত নেয় কে-পপের আরেক বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটিএস। তারা আগামী গ্র্যামির জন্য কোনো গান জমা না দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ব্যান্ডটির বক্তব্য ছিল, সংগীতকে অঞ্চল বা ভাষার ভিত্তিতে নয়, তার নিজস্ব মান ও গুণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত।
স্ট্রে কিডসের ক্ষেত্রেও শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সংগীত সমালোচক লিম হি ইউন মনে করেন, দলটি গ্র্যামিতে অংশ নিলে সদ্য প্রকাশিত ‘দিস অ্যান্ড দ্যাট’ থেকে গান পাঠানোর সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। কারণ, অ্যালবামটি জমা দেওয়ার সময়সীমার কাছাকাছি সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে বিচারকদের হাতে গানগুলো মূল্যায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় নাও থাকতে পারে।
তাঁর মতে, এর আগে প্রকাশিত স্ট্রে কিডসের কোনো জনপ্রিয় গান জমা দিলে গ্র্যামির দৌড়ে দলটি তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকতে পারে। এখন প্রশ্ন একটাই—বিটিএসের পথ অনুসরণ করবে স্ট্রে কিডস, নাকি গ্র্যামির নতুন এশিয়ান পপ বিভাগেই নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করবে?
বিষয় : গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড স্ট্রে কিডস
2.png)
শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে গান জমা দেবে কি না—এখনো সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়নি দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড স্ট্রে কিডস। এমনকি গ্র্যামির নতুন ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ বিভাগ নিয়েও সরাসরি কোনো অবস্থান জানায়নি দলটি।
বৃহস্পতিবার সিউলে নিজেদের দশম মিনি অ্যালবাম ‘দিস অ্যান্ড দ্যাট’ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গ্র্যামি প্রসঙ্গে কথা বলেন ব্যান্ডটির সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্যে অবশ্য একটি বিষয় স্পষ্ট—পুরস্কারের চেয়ে নিজেদের সংগীতকেই বেশি গুরুত্ব দেন তাঁরা।
স্ট্রে কিডসের সদস্য সুংমিন বলেন, নির্দিষ্ট কোনো পুরস্কার বা রেকর্ড অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে তাঁরা অ্যালবাম তৈরি করেন না। তাঁদের সংগীত ও পরিবেশনার ধরনও বাইরের প্রত্যাশা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বরং নিজেদের অনুভূতি থেকেই গান তৈরি ও মঞ্চ পরিবেশনার পরিকল্পনা করেন তাঁরা।
গ্র্যামির নতুন এশিয়ান পপ বিভাগে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সুংমিন বলেন, বিশ্বজুড়ে কে-পপের জনপ্রিয়তা দেখে তিনি কৃতজ্ঞ। তাঁর মতে, এর মধ্য দিয়ে সংগীতের শক্তিও নতুন করে উপলব্ধি করা যায়।
একই সুরে কথা বলেছেন ব্যান্ডটির আরেক সদস্য হিউনজিন। তাঁর ভাষ্য, স্ট্রে কিডসের পুরো পথচলায় কোনো নির্দিষ্ট পুরস্কার বা অর্জনকে সামনে রেখে অ্যালবাম প্রকাশ করা হয়নি।
তবে গ্র্যামিতে গান জমা দেওয়ার সিদ্ধান্তটি এখনো স্পষ্ট নয়। স্ট্রে কিডসের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্টও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এদিকে আগামী বছরের গ্র্যামিকে ঘিরে এরই মধ্যে জমে উঠেছে আলোচনা। ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্য অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে ৭ জুলাই। চলবে ২১ আগস্ট পর্যন্ত। মনোনয়ন প্রকাশ করা হবে ১৬ নভেম্বর। আর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হবে আগামী বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি।
বিশেষ করে নতুন ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ বিভাগটি নিয়ে সংগীতাঙ্গনে তৈরি হয়েছে দুই ধরনের মত। এক পক্ষ মনে করছে, এশিয়ার শিল্পীদের জন্য এটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নতুন দরজা খুলবে। অন্যদিকে সমালোচকদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, আলাদা বিভাগ চালুর ফলে এশীয় শিল্পীরা মূল প্রতিযোগিতা থেকে আরও দূরে সরে যেতে পারেন।
এই বিতর্কের মধ্যেই গত মাসে বড় সিদ্ধান্ত নেয় কে-পপের আরেক বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটিএস। তারা আগামী গ্র্যামির জন্য কোনো গান জমা না দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ব্যান্ডটির বক্তব্য ছিল, সংগীতকে অঞ্চল বা ভাষার ভিত্তিতে নয়, তার নিজস্ব মান ও গুণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত।
স্ট্রে কিডসের ক্ষেত্রেও শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সংগীত সমালোচক লিম হি ইউন মনে করেন, দলটি গ্র্যামিতে অংশ নিলে সদ্য প্রকাশিত ‘দিস অ্যান্ড দ্যাট’ থেকে গান পাঠানোর সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। কারণ, অ্যালবামটি জমা দেওয়ার সময়সীমার কাছাকাছি সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে বিচারকদের হাতে গানগুলো মূল্যায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় নাও থাকতে পারে।
তাঁর মতে, এর আগে প্রকাশিত স্ট্রে কিডসের কোনো জনপ্রিয় গান জমা দিলে গ্র্যামির দৌড়ে দলটি তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকতে পারে। এখন প্রশ্ন একটাই—বিটিএসের পথ অনুসরণ করবে স্ট্রে কিডস, নাকি গ্র্যামির নতুন এশিয়ান পপ বিভাগেই নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করবে?
2.png)