জাতীয়
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবন এখন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। সেখানে জুলাই অভ্যুত্থানের নানা স্মারকের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার বিভিন্ন নথি ও নিদর্শন রাখা হয়েছে। তবে দর্শনার্থীদের বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যবহৃত ছয়টি লাল টেলিফোন।
বৃহস্পতিবার জাদুঘর ঘুরে দেখা যায়, সাবেক গণভবনের নিচতলায় শেখ হাসিনার অফিস কক্ষে তিনটি টেবিলে রাখা হয়েছে ছয়টি লাল ফোন। প্রতিটি টেবিলের সামনে রয়েছে আলাদা তালিকা। তালিকায় রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যক্তির নামের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট নম্বর।
ফোনগুলোর মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে প্রায় শতাধিক অডিও রেকর্ড। তালিকায় থাকা নির্দিষ্ট নম্বরে কল করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন বাজছে। অনেক দর্শনার্থীকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অফিসের চেয়ারে বসে মনোযোগ দিয়ে এসব কথোপকথন শুনতে দেখা যায়।
একটি ফোনে ৭০৮ নম্বরে ডায়াল করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নুর তাপসের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন শোনা যায়। তালিকা অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে শেখ হাসিনার পাঁচটি কথোপকথন রয়েছে।
অন্য একটি ফোনে ৭১১ নম্বরে কল করলে সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন শোনানো হচ্ছে। এই ফোনটির সামনেও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
লাল টেলিফোনের সামনে দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ ইয়াসিন নামে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘আপাকে একটাই কথা বলি, ভারতে থেকে ষড়যন্ত্র করে লাভ নাই। বাংলাদেশে ফিরে আসেন।’
তেজগাঁও থেকে বন্ধুদের সঙ্গে জাদুঘরে এসেছিলেন শহীদুল ইসলাম। তাঁকেও বেশ কিছুক্ষণ লাল ফোনে অডিও রেকর্ড শুনতে দেখা যায়।
ফোনে কী শুনেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৭৭০৮ নম্বরে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের নাম রয়েছে। তাঁর দাবি, সাদ্দাম হোসেন লাইভে কয়েকবার, প্রায় নয়বার ভয়েস কল করেছেন। এসব কথোপকথনে তিনি কী করা যায়, কী করতে পারেন—এ ধরনের কথা বলেছেন। আর শেখ হাসিনাও বিভিন্নভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
আরেক দর্শনার্থী কাওসার হোসেন বলেন, জাদুঘরে অনেক কিছু দেখেছেন। তবে লাল টেলিফোনের বিষয়টি তাঁর কাছে বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। তাঁর ভাষায়, একেকটি নম্বরে কল করলে একেকজনের সঙ্গে কথোপকথন শোনা যাচ্ছে।
লাল ফোনের এই কক্ষটিতে শুধু অডিও রেকর্ড শোনার ব্যবস্থাই নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের শিকার হওয়া বিভিন্ন ব্যক্তির ছবিও কাঠে খোদাই করে সেখানে প্রদর্শন করা হয়েছে।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে সাবেক গণভবনে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।
বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের দিন শুধু জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রবেশের সুযোগ ছিল। বৃহস্পতিবার থেকে সর্বসাধারণের জন্য জাদুঘরটি খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিন সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
দর্শনার্থীদের চাপ সামলাতে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ সময়ভিত্তিক স্লটের মাধ্যমে টিকিট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। আগে থেকেই ‘জুলাই ৩৬’ ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে ভ্রমণের সময় নির্ধারণ করতে হবে।
জাদুঘরে প্রবেশের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের ৫০ টাকা এবং শিশুদের ২৫ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টিকিট দেখিয়ে দর্শনার্থীরা জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবেন।
বিষয় : জুলাই স্মৃতি জাদুঘর লাল টেলিফোন
2.png)
শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবন এখন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। সেখানে জুলাই অভ্যুত্থানের নানা স্মারকের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার বিভিন্ন নথি ও নিদর্শন রাখা হয়েছে। তবে দর্শনার্থীদের বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যবহৃত ছয়টি লাল টেলিফোন।
বৃহস্পতিবার জাদুঘর ঘুরে দেখা যায়, সাবেক গণভবনের নিচতলায় শেখ হাসিনার অফিস কক্ষে তিনটি টেবিলে রাখা হয়েছে ছয়টি লাল ফোন। প্রতিটি টেবিলের সামনে রয়েছে আলাদা তালিকা। তালিকায় রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যক্তির নামের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট নম্বর।
ফোনগুলোর মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে প্রায় শতাধিক অডিও রেকর্ড। তালিকায় থাকা নির্দিষ্ট নম্বরে কল করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন বাজছে। অনেক দর্শনার্থীকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অফিসের চেয়ারে বসে মনোযোগ দিয়ে এসব কথোপকথন শুনতে দেখা যায়।
একটি ফোনে ৭০৮ নম্বরে ডায়াল করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নুর তাপসের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন শোনা যায়। তালিকা অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে শেখ হাসিনার পাঁচটি কথোপকথন রয়েছে।
অন্য একটি ফোনে ৭১১ নম্বরে কল করলে সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন শোনানো হচ্ছে। এই ফোনটির সামনেও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
লাল টেলিফোনের সামনে দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ ইয়াসিন নামে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘আপাকে একটাই কথা বলি, ভারতে থেকে ষড়যন্ত্র করে লাভ নাই। বাংলাদেশে ফিরে আসেন।’
তেজগাঁও থেকে বন্ধুদের সঙ্গে জাদুঘরে এসেছিলেন শহীদুল ইসলাম। তাঁকেও বেশ কিছুক্ষণ লাল ফোনে অডিও রেকর্ড শুনতে দেখা যায়।
ফোনে কী শুনেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৭৭০৮ নম্বরে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের নাম রয়েছে। তাঁর দাবি, সাদ্দাম হোসেন লাইভে কয়েকবার, প্রায় নয়বার ভয়েস কল করেছেন। এসব কথোপকথনে তিনি কী করা যায়, কী করতে পারেন—এ ধরনের কথা বলেছেন। আর শেখ হাসিনাও বিভিন্নভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
আরেক দর্শনার্থী কাওসার হোসেন বলেন, জাদুঘরে অনেক কিছু দেখেছেন। তবে লাল টেলিফোনের বিষয়টি তাঁর কাছে বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। তাঁর ভাষায়, একেকটি নম্বরে কল করলে একেকজনের সঙ্গে কথোপকথন শোনা যাচ্ছে।
লাল ফোনের এই কক্ষটিতে শুধু অডিও রেকর্ড শোনার ব্যবস্থাই নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের শিকার হওয়া বিভিন্ন ব্যক্তির ছবিও কাঠে খোদাই করে সেখানে প্রদর্শন করা হয়েছে।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে সাবেক গণভবনে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।
বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের দিন শুধু জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রবেশের সুযোগ ছিল। বৃহস্পতিবার থেকে সর্বসাধারণের জন্য জাদুঘরটি খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিন সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
দর্শনার্থীদের চাপ সামলাতে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ সময়ভিত্তিক স্লটের মাধ্যমে টিকিট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। আগে থেকেই ‘জুলাই ৩৬’ ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে ভ্রমণের সময় নির্ধারণ করতে হবে।
জাদুঘরে প্রবেশের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের ৫০ টাকা এবং শিশুদের ২৫ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টিকিট দেখিয়ে দর্শনার্থীরা জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবেন।
2.png)