সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

পাটের কার্বনে বিশ্বজয়ের পথে বাংলাদেশের ব্যাটারি প্রযুক্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিসিএসআইআর-এর গবেষকদের উদ্ভাবনে জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ বদলানোর সম্ভাবনা। মাত্র পাঁচ মিনিটে চার্জযোগ্য এই সলিড-স্টেট ব্যাটারি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের অপেক্ষায়।

পাটের কার্বনে বিশ্বজয়ের পথে বাংলাদেশের ব্যাটারি প্রযুক্তি
ছবি -সংগৃহীত

বিশ্বের জ্বালানি খাতের প্রচলিত ধারায় এক বড় বিপ্লবের হাতছানি দিচ্ছে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিসিএসআইআর-এর একদল গবেষক পাটের কাঠি থেকে গ্রাফিন তৈরির মাধ্যমে উদ্ভাবন করেছেন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সলিড-স্টেট ব্যাটারি। প্রচলিত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ ভবিষ্যতের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের অপেক্ষায় আছে এই প্রযুক্তি।

সাধারণ ব্যাটারির দীর্ঘ চার্জিং সময় ও নিরাপত্তার ঝুঁকি বর্তমানে প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম উদ্বেগের কারণ। কিন্তু পাটের গ্রাফিন দিয়ে তৈরি এই ব্যাটারি মাত্র পাঁচ মিনিটেই ফুল চার্জ হতে সক্ষম। তরল ইলেকট্রোলাইটের পরিবর্তে সলিড বা কঠিন অবস্থার প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ায় এতে লিথিয়াম ব্যাটারির মতো বিস্ফোরণের ভয় নেই, যা বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি চালকদের জন্য এক পরম স্বস্তি। এর শক্তি ধারণক্ষমতা সাধারণ ব্যাটারির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হওয়ায় বৈদ্যুতিক গাড়ির মাইলেজও বাড়বে কয়েক গুণ।

গবেষণাগারে এই উদ্ভাবন প্রমাণিত ও সফল হলেও বাণিজ্যিকভাবে এর যাত্রা শুরু হওয়া নিয়ে রয়েছে নানা প্রতিকূলতা। বিশ্ববাজারে লিথিয়াম ও জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের বিপুল বিনিয়োগ এবং শক্তিশালী লবিংয়ের প্রভাব প্রযুক্তিগত এই উদ্ভাবনগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি খাতের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে নতুন ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তিগুলো প্রায়ই বৈশ্বিক বাজার দখলের লড়াইয়ে বাঁধার মুখে পড়ে।

তবে টেকসই জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বৈশ্বিক চাহিদার প্রেক্ষাপটে এটি এখন কেবল সময়ের দাবি। দেশীয় শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ এবং সরকারি নীতিমালার সমন্বিত সহযোগিতা পেলে আগামী ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এই ব্যাটারি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের আলো দেখতে পারে। গবেষণার এই সাফল্য যদি সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পায়, তবে বিশ্ব জ্বালানি মানচিত্রে বাংলাদেশ কেবল প্রযুক্তি আমদানিকারক নয়, হয়ে উঠতে পারে এক যুগান্তকারী উদ্ভাবনের সূতিকাগার।

বিষয় : পাটের গ্রাফিন সলিড স্টেট ব্যাটারি

পাটের কার্বনে বিশ্বজয়ের পথে বাংলাদেশের ব্যাটারি প্রযুক্তি
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬


পাটের কার্বনে বিশ্বজয়ের পথে বাংলাদেশের ব্যাটারি প্রযুক্তি

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

বিশ্বের জ্বালানি খাতের প্রচলিত ধারায় এক বড় বিপ্লবের হাতছানি দিচ্ছে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিসিএসআইআর-এর একদল গবেষক পাটের কাঠি থেকে গ্রাফিন তৈরির মাধ্যমে উদ্ভাবন করেছেন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সলিড-স্টেট ব্যাটারি। প্রচলিত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ ভবিষ্যতের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের অপেক্ষায় আছে এই প্রযুক্তি।

সাধারণ ব্যাটারির দীর্ঘ চার্জিং সময় ও নিরাপত্তার ঝুঁকি বর্তমানে প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম উদ্বেগের কারণ। কিন্তু পাটের গ্রাফিন দিয়ে তৈরি এই ব্যাটারি মাত্র পাঁচ মিনিটেই ফুল চার্জ হতে সক্ষম। তরল ইলেকট্রোলাইটের পরিবর্তে সলিড বা কঠিন অবস্থার প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ায় এতে লিথিয়াম ব্যাটারির মতো বিস্ফোরণের ভয় নেই, যা বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি চালকদের জন্য এক পরম স্বস্তি। এর শক্তি ধারণক্ষমতা সাধারণ ব্যাটারির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হওয়ায় বৈদ্যুতিক গাড়ির মাইলেজও বাড়বে কয়েক গুণ।

গবেষণাগারে এই উদ্ভাবন প্রমাণিত ও সফল হলেও বাণিজ্যিকভাবে এর যাত্রা শুরু হওয়া নিয়ে রয়েছে নানা প্রতিকূলতা। বিশ্ববাজারে লিথিয়াম ও জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের বিপুল বিনিয়োগ এবং শক্তিশালী লবিংয়ের প্রভাব প্রযুক্তিগত এই উদ্ভাবনগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি খাতের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে নতুন ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তিগুলো প্রায়ই বৈশ্বিক বাজার দখলের লড়াইয়ে বাঁধার মুখে পড়ে।

তবে টেকসই জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বৈশ্বিক চাহিদার প্রেক্ষাপটে এটি এখন কেবল সময়ের দাবি। দেশীয় শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ এবং সরকারি নীতিমালার সমন্বিত সহযোগিতা পেলে আগামী ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এই ব্যাটারি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের আলো দেখতে পারে। গবেষণার এই সাফল্য যদি সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পায়, তবে বিশ্ব জ্বালানি মানচিত্রে বাংলাদেশ কেবল প্রযুক্তি আমদানিকারক নয়, হয়ে উঠতে পারে এক যুগান্তকারী উদ্ভাবনের সূতিকাগার।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত