সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের প্রস্তুতি, আগামী সপ্তাহেই পদত্যাগের আভাস

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী সপ্তাহে পদত্যাগ করতে পারেন বলে একাধিক সূত্রে আলোচনা চলছে। পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের প্রস্তুতি, আগামী সপ্তাহেই পদত্যাগের আভাস
ছবি -সংগৃহীত

ক্ষমতায় আসার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার—এমন আলোচনা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আগামী সপ্তাহেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। এ বিষয়ে বঙ্গভবনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছেছে। যদিও সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের ২৪ এপ্রিল।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে তাঁকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। পদটি শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন। প্রচলিত রীতিতে বিদেশ সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে সফরের বিষয়ে অবহিত করেন। তবে এবার সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে এমন কোনো বৈঠকের তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।

রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারের মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁদের ভাষ্য, এ মুহূর্তে এমন কোনো সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তারা অবগত নন। তবে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দুই থেকে তিনজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম নিয়ে আলোচনা চলছে বলে রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

বঙ্গভবনের সূত্রগুলোর দাবি, রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতিই সম্ভাব্য পদত্যাগের প্রধান কারণ। সম্প্রতি তিনি দুই দফা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর আগে গত মে মাসে চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনেও গিয়েছিলেন। সে সময় পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, স্টাফ নার্স ও বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত এই রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই পদত্যাগের দাবির মুখে ছিলেন। যদিও সে সময় বিএনপি তাঁর অপসারণের বিপক্ষে অবস্থান নেয় এবং পরবর্তীতে তাঁর কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নতুন সরকারের সদস্যরা শপথ নেন।

গত ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি নিজেই নির্বাচনের পর দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিজেকে অপমানিত মনে করেছেন এবং নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে পরে সরে যেতে চান।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে সর্বশেষ তিনি গত মঙ্গলবার বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের সঙ্গে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বাণী দেন এবং সম্প্রতি ভারত ও মরক্কোর নতুন রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্রও গ্রহণ করেন।

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এ পদের জন্য প্রার্থীর ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর হতে হবে এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, যিনি স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন।

আইনে আরও বলা হয়েছে, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আর যদি রাষ্ট্রপতি পদে একমাত্র একজন বৈধ প্রার্থী থাকেন, সে ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণ ছাড়াই তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করার বিধান রয়েছে।

বিষয় : রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬


রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের প্রস্তুতি, আগামী সপ্তাহেই পদত্যাগের আভাস

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

ক্ষমতায় আসার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার—এমন আলোচনা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আগামী সপ্তাহেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। এ বিষয়ে বঙ্গভবনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছেছে। যদিও সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের ২৪ এপ্রিল।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে তাঁকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। পদটি শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন। প্রচলিত রীতিতে বিদেশ সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে সফরের বিষয়ে অবহিত করেন। তবে এবার সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে এমন কোনো বৈঠকের তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।

রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারের মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁদের ভাষ্য, এ মুহূর্তে এমন কোনো সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তারা অবগত নন। তবে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দুই থেকে তিনজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম নিয়ে আলোচনা চলছে বলে রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

বঙ্গভবনের সূত্রগুলোর দাবি, রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতিই সম্ভাব্য পদত্যাগের প্রধান কারণ। সম্প্রতি তিনি দুই দফা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর আগে গত মে মাসে চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনেও গিয়েছিলেন। সে সময় পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, স্টাফ নার্স ও বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত এই রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই পদত্যাগের দাবির মুখে ছিলেন। যদিও সে সময় বিএনপি তাঁর অপসারণের বিপক্ষে অবস্থান নেয় এবং পরবর্তীতে তাঁর কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নতুন সরকারের সদস্যরা শপথ নেন।

গত ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি নিজেই নির্বাচনের পর দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিজেকে অপমানিত মনে করেছেন এবং নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে পরে সরে যেতে চান।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে সর্বশেষ তিনি গত মঙ্গলবার বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের সঙ্গে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বাণী দেন এবং সম্প্রতি ভারত ও মরক্কোর নতুন রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্রও গ্রহণ করেন।

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এ পদের জন্য প্রার্থীর ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর হতে হবে এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, যিনি স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন।

আইনে আরও বলা হয়েছে, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আর যদি রাষ্ট্রপতি পদে একমাত্র একজন বৈধ প্রার্থী থাকেন, সে ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণ ছাড়াই তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করার বিধান রয়েছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত