রাজনীতি
রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক সংস্কার, দুই দেশের সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনসিপি।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এনসিপির কার্যালয়ে পৌঁছান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক সচিব জেমস স্টুয়ার্ট।
এনসিপির পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেন দলের আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দীন মোহাম্মদ এবং সদস্য মনিরা শারমিন ও নাভিদ নওরোজ শাহ।
দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, এনসিপির রাজনৈতিক দর্শন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
এনসিপির মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্বও আলোচনায় উঠে আসে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে, সেগুলো বৈঠকে তুলে ধরেন এনসিপি নেতারা। এর জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তাঁর প্রতিনিধিদল চুক্তির বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়নের আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, এই চুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং উভয় দেশের জনগণ এর সুফল পাবে।
বৈঠকে গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতিও আলোচনায় স্থান পায়। এ সময় এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেন, গণভোটের রায়কে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে সরকার সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে, যা নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন রাজনৈতিক সংলাপ, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠক শেষে নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং গঠনমূলক সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
বিষয় : এনসিপি মার্কিন রাষ্ট্রদূত
2.png)
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক সংস্কার, দুই দেশের সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনসিপি।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এনসিপির কার্যালয়ে পৌঁছান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক সচিব জেমস স্টুয়ার্ট।
এনসিপির পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেন দলের আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দীন মোহাম্মদ এবং সদস্য মনিরা শারমিন ও নাভিদ নওরোজ শাহ।
দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, এনসিপির রাজনৈতিক দর্শন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
এনসিপির মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্বও আলোচনায় উঠে আসে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে, সেগুলো বৈঠকে তুলে ধরেন এনসিপি নেতারা। এর জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তাঁর প্রতিনিধিদল চুক্তির বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়নের আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, এই চুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং উভয় দেশের জনগণ এর সুফল পাবে।
বৈঠকে গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতিও আলোচনায় স্থান পায়। এ সময় এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেন, গণভোটের রায়কে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে সরকার সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে, যা নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন রাজনৈতিক সংলাপ, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠক শেষে নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং গঠনমূলক সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
2.png)