বিনোদন
দিল্লির রাজপথে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ার পর এবার আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছেন ভারতের বিনোদন অঙ্গনের একাধিক পরিচিত মুখ। পুলিশের কঠোর অভিযানের সমালোচনা করে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শোনা এবং আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন অভিনেতা, নির্মাতা ও সংগীতশিল্পীরা।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ডাকা আন্দোলনের সমর্থনে এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন অনেক তারকা। তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে গণতান্ত্রিক অধিকার, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং তরুণদের মতামতের গুরুত্ব।
এতদিন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো মুখ খোলেন পাঞ্জাবি গায়ক ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।
দিলজিৎ বলেন, জনগণের কণ্ঠই প্রকৃত শক্তি। তাই কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও দাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে শোনা। কৃষক আন্দোলনের সময় নিজের অবস্থানের কারণে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেন তিনি। একই সঙ্গে ইঙ্গিত দেন, এবারও হয়তো একই ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে।
অভিনেতা দম্পতি রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি'সুজাও শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এক্সে যৌথ বার্তা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষায়, দেশের তরুণদের কণ্ঠস্বর স্পষ্টভাবে এবং নির্ভয়ে শোনা উচিত। কারণ তারাই গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি এবং ভবিষ্যৎ ভারতের নির্মাতা। তরুণদের স্বপ্ন, সাহস ও উদ্যমের প্রতি সমর্থন জানানোর আহ্বানও জানান তারা।
বিক্ষোভ শুরুর আগেই দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা-নির্মাতা প্রকাশ রাজ। সেখানে শাবানা আজমি বলেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সাংবিধানিক অধিকার চর্চা করা। মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের আদর্শ অনুসরণ করেই তারা সেখানে অংশ নিয়েছেন এবং কোনো ধরনের সহিংসতা উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না।
সোমবার পুলিশের অভিযানের পর অভিনেত্রী হুমা কুরেশিও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জের দৃশ্য তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে এবং এই স্মৃতি দীর্ঘদিন মনে থাকবে।
চিত্রনাট্যকার সুতপা সিকদার আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বলেন, তাদের অনেকেই সীমিত সামর্থ্য নিয়ে জবাবদিহি দাবি করতে রাজপথে নেমেছিলেন। তারা প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান নন, বরং প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করেই এগিয়ে চলা সাধারণ শিক্ষার্থী। সেই অভিজ্ঞতাই তাদের আন্দোলনেও দৃঢ় থাকতে সাহায্য করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অভিনেত্রী ও নির্মাতা নন্দিতা দাসও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, মানুষ যখন একত্রিত হয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারে, তখনই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়। তাঁর মতে, গঠনমূলক ভিন্নমত গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ এবং শান্তিপূর্ণভাবে অধিকার আদায়ে এগিয়ে আসা মানুষের প্রতি তিনি সংহতি প্রকাশ করছেন।
অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকারও ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সহিংসতার বিরোধিতা করেন। একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন অসংগতি ও সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের সমস্যার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিষয় : দিল্লি সংকট বলিউড তারকা
2.png)
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
দিল্লির রাজপথে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ার পর এবার আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছেন ভারতের বিনোদন অঙ্গনের একাধিক পরিচিত মুখ। পুলিশের কঠোর অভিযানের সমালোচনা করে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শোনা এবং আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন অভিনেতা, নির্মাতা ও সংগীতশিল্পীরা।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ডাকা আন্দোলনের সমর্থনে এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন অনেক তারকা। তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে গণতান্ত্রিক অধিকার, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং তরুণদের মতামতের গুরুত্ব।
এতদিন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো মুখ খোলেন পাঞ্জাবি গায়ক ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।
দিলজিৎ বলেন, জনগণের কণ্ঠই প্রকৃত শক্তি। তাই কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও দাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে শোনা। কৃষক আন্দোলনের সময় নিজের অবস্থানের কারণে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেন তিনি। একই সঙ্গে ইঙ্গিত দেন, এবারও হয়তো একই ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে।
অভিনেতা দম্পতি রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি'সুজাও শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এক্সে যৌথ বার্তা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষায়, দেশের তরুণদের কণ্ঠস্বর স্পষ্টভাবে এবং নির্ভয়ে শোনা উচিত। কারণ তারাই গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি এবং ভবিষ্যৎ ভারতের নির্মাতা। তরুণদের স্বপ্ন, সাহস ও উদ্যমের প্রতি সমর্থন জানানোর আহ্বানও জানান তারা।
বিক্ষোভ শুরুর আগেই দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা-নির্মাতা প্রকাশ রাজ। সেখানে শাবানা আজমি বলেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সাংবিধানিক অধিকার চর্চা করা। মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের আদর্শ অনুসরণ করেই তারা সেখানে অংশ নিয়েছেন এবং কোনো ধরনের সহিংসতা উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না।
সোমবার পুলিশের অভিযানের পর অভিনেত্রী হুমা কুরেশিও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জের দৃশ্য তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে এবং এই স্মৃতি দীর্ঘদিন মনে থাকবে।
চিত্রনাট্যকার সুতপা সিকদার আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বলেন, তাদের অনেকেই সীমিত সামর্থ্য নিয়ে জবাবদিহি দাবি করতে রাজপথে নেমেছিলেন। তারা প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান নন, বরং প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করেই এগিয়ে চলা সাধারণ শিক্ষার্থী। সেই অভিজ্ঞতাই তাদের আন্দোলনেও দৃঢ় থাকতে সাহায্য করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অভিনেত্রী ও নির্মাতা নন্দিতা দাসও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, মানুষ যখন একত্রিত হয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারে, তখনই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়। তাঁর মতে, গঠনমূলক ভিন্নমত গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ এবং শান্তিপূর্ণভাবে অধিকার আদায়ে এগিয়ে আসা মানুষের প্রতি তিনি সংহতি প্রকাশ করছেন।
অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকারও ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সহিংসতার বিরোধিতা করেন। একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন অসংগতি ও সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের সমস্যার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
2.png)