বিনোদন
আজকের হলিউডে মানেই অ্যাকশন, শক্তিশালী উপস্থিতি আর ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ ফ্র্যাঞ্চাইজির অবিচ্ছেদ্য মুখ। কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে দীর্ঘ নয় বছরের কঠিন সংগ্রাম, অগণিত প্রত্যাখ্যান এবং জীবিকার জন্য নাইট ক্লাবে বাউন্সার হিসেবে কাজ করার বাস্তবতা। আজ ১৮ জুলাই এই বিশ্বখ্যাত অভিনেতার জন্মদিন।
১৯৬৭ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেন তিনি। জন্মনাম ছিল মার্ক সিনক্লেয়ার। শৈশবেই মায়ের সঙ্গে নিউইয়র্কে চলে আসেন। তাঁর মা ডেলোরা শার্লিন ভিনসেন্ট ছিলেন জ্যোতিষবিদ ও মনোবিজ্ঞানী। আর সৎবাবা আর্ভিং এইচ ভিনসেন্ট ছিলেন থিয়েটার পরিচালক ও অভিনয় প্রশিক্ষক। অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল সৎবাবার।
ভিন ডিজেল একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মাত্র সাত বছর বয়সে থিয়েটারে দুষ্টুমি করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন। শাস্তি দেওয়ার বদলে তাঁকে মঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া হয়। সেই ঘটনাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং অভিনয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা তৈরি করে।
তবে অভিনয়ের স্বপ্ন পূরণের পথ মোটেও সহজ ছিল না। ১৭ বছর বয়স থেকে জীবিকার জন্য নাইট ক্লাবে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। দিনের বেলায় অডিশন আর রাতে ক্লাবে দায়িত্ব পালন—এভাবেই কেটে যায় প্রায় নয় বছর। তাঁর ভাষায়, শত শত সংঘর্ষের মুখোমুখি হতে হলেও তিনি সবসময় সহিংসতা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখে।
হলিউডে সুযোগের জন্য বারবার অডিশন দিলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাচ্ছিলেন না। অনেক প্রযোজকের ধারণা ছিল, প্রচলিত নায়কদের মতো চেহারা বা উপস্থিতি তাঁর নেই। একপর্যায়ে অন্যের সুযোগের অপেক্ষায় না থেকে নিজেই নিজের জন্য পথ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন।
১৯৯৫ সালে মাত্র তিন দিনের শুটিংয়ে নির্মাণ করেন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাল্টি-ফেসিয়াল’। বহুজাতিক পরিচয়ের এক অভিনেতার সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত এই কাজ অনেকটাই তাঁর নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি ছিল। ছবিটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পর বদলে যায় তাঁর ভাগ্য।
সেখানেই ছবিটি দেখেন কিংবদন্তি নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গ। ভিন ডিজেলের অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে তিনি বিশেষভাবে ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’-এর একটি চরিত্র তাঁর জন্য তৈরি করেন। ১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সেই ছবিই তাঁকে হলিউডের মূলধারায় শক্ত অবস্থান এনে দেয়।
এরপর আসে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য ফাস্ট অ্যান্ড দ্য ফিউরিয়াস’-এ ডমিনিক টরেটো চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পরে এই সিরিজই হলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সফল চলচ্চিত্র ফ্র্যাঞ্চাইজিতে পরিণত হয়।
এই সিরিজ থেকেই গড়ে ওঠে তাঁর সঙ্গে সহ-অভিনেতা পল ওয়াকারের গভীর বন্ধুত্ব। কিন্তু ২০১৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় পল ওয়াকারের মৃত্যু ভিন ডিজেলের জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। বন্ধুর মৃত্যু তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল বলে বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন তিনি।
শুধু অ্যাকশন দৃশ্য নয়, পরিবার ও বন্ধুত্বের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারও ভক্তদের কাছে ভিন ডিজেলকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। সংগ্রাম থেকে উঠে আসা এই অভিনেতা বরাবরই আত্মবিশ্বাসের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘নিজের আত্মবিশ্বাস খুঁজে নাও, ভালোবাসাকে সামনে রেখে এগিয়ে চলো—বাকিটা নিজে থেকেই এসে যাবে।’
ক্যারিয়ারের পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকেও হলিউডের সবচেয়ে সফল তারকাদের একজন তিনি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অর্থবিষয়ক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ভিন ডিজেলের মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য তিন হাজার কোটির টাকারও বেশি। এই সম্পদের বড় অংশ এসেছে ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ সিরিজ থেকে। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও তিনি উল্লেখযোগ্য আয় করে থাকেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজিটির একটি ছবির জন্য তিনি ২ থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিয়েছেন।
বিষয় : ভিন ডিজেল ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস
2.png)
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
আজকের হলিউডে মানেই অ্যাকশন, শক্তিশালী উপস্থিতি আর ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ ফ্র্যাঞ্চাইজির অবিচ্ছেদ্য মুখ। কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে দীর্ঘ নয় বছরের কঠিন সংগ্রাম, অগণিত প্রত্যাখ্যান এবং জীবিকার জন্য নাইট ক্লাবে বাউন্সার হিসেবে কাজ করার বাস্তবতা। আজ ১৮ জুলাই এই বিশ্বখ্যাত অভিনেতার জন্মদিন।
১৯৬৭ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেন তিনি। জন্মনাম ছিল মার্ক সিনক্লেয়ার। শৈশবেই মায়ের সঙ্গে নিউইয়র্কে চলে আসেন। তাঁর মা ডেলোরা শার্লিন ভিনসেন্ট ছিলেন জ্যোতিষবিদ ও মনোবিজ্ঞানী। আর সৎবাবা আর্ভিং এইচ ভিনসেন্ট ছিলেন থিয়েটার পরিচালক ও অভিনয় প্রশিক্ষক। অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল সৎবাবার।
ভিন ডিজেল একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মাত্র সাত বছর বয়সে থিয়েটারে দুষ্টুমি করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন। শাস্তি দেওয়ার বদলে তাঁকে মঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া হয়। সেই ঘটনাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং অভিনয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা তৈরি করে।
তবে অভিনয়ের স্বপ্ন পূরণের পথ মোটেও সহজ ছিল না। ১৭ বছর বয়স থেকে জীবিকার জন্য নাইট ক্লাবে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। দিনের বেলায় অডিশন আর রাতে ক্লাবে দায়িত্ব পালন—এভাবেই কেটে যায় প্রায় নয় বছর। তাঁর ভাষায়, শত শত সংঘর্ষের মুখোমুখি হতে হলেও তিনি সবসময় সহিংসতা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখে।
হলিউডে সুযোগের জন্য বারবার অডিশন দিলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাচ্ছিলেন না। অনেক প্রযোজকের ধারণা ছিল, প্রচলিত নায়কদের মতো চেহারা বা উপস্থিতি তাঁর নেই। একপর্যায়ে অন্যের সুযোগের অপেক্ষায় না থেকে নিজেই নিজের জন্য পথ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন।
১৯৯৫ সালে মাত্র তিন দিনের শুটিংয়ে নির্মাণ করেন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাল্টি-ফেসিয়াল’। বহুজাতিক পরিচয়ের এক অভিনেতার সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত এই কাজ অনেকটাই তাঁর নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি ছিল। ছবিটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পর বদলে যায় তাঁর ভাগ্য।
সেখানেই ছবিটি দেখেন কিংবদন্তি নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গ। ভিন ডিজেলের অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে তিনি বিশেষভাবে ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’-এর একটি চরিত্র তাঁর জন্য তৈরি করেন। ১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সেই ছবিই তাঁকে হলিউডের মূলধারায় শক্ত অবস্থান এনে দেয়।
এরপর আসে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য ফাস্ট অ্যান্ড দ্য ফিউরিয়াস’-এ ডমিনিক টরেটো চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পরে এই সিরিজই হলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সফল চলচ্চিত্র ফ্র্যাঞ্চাইজিতে পরিণত হয়।
এই সিরিজ থেকেই গড়ে ওঠে তাঁর সঙ্গে সহ-অভিনেতা পল ওয়াকারের গভীর বন্ধুত্ব। কিন্তু ২০১৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় পল ওয়াকারের মৃত্যু ভিন ডিজেলের জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। বন্ধুর মৃত্যু তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল বলে বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন তিনি।
শুধু অ্যাকশন দৃশ্য নয়, পরিবার ও বন্ধুত্বের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারও ভক্তদের কাছে ভিন ডিজেলকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। সংগ্রাম থেকে উঠে আসা এই অভিনেতা বরাবরই আত্মবিশ্বাসের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘নিজের আত্মবিশ্বাস খুঁজে নাও, ভালোবাসাকে সামনে রেখে এগিয়ে চলো—বাকিটা নিজে থেকেই এসে যাবে।’
ক্যারিয়ারের পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকেও হলিউডের সবচেয়ে সফল তারকাদের একজন তিনি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অর্থবিষয়ক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ভিন ডিজেলের মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য তিন হাজার কোটির টাকারও বেশি। এই সম্পদের বড় অংশ এসেছে ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ সিরিজ থেকে। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও তিনি উল্লেখযোগ্য আয় করে থাকেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজিটির একটি ছবির জন্য তিনি ২ থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিয়েছেন।
2.png)