বিনোদন
টম ক্রুজ ও রিজ আহমেদ অভিনীত বহুল আলোচিত হলিউড ছবি ‘ডিগার’–এর ট্রেলার প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে মালয়ালম তারকা ফাহাদ ফাসিলের একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, ছবিটির গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েও শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত হতে পারেননি।
গত বছর কিউ স্টুডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাহাদ জানান, রিজ আহমেদ অভিনীত চরিত্রটির জন্য তিনি অডিশন দিয়েছিলেন। অডিশন নিয়ে নির্মাতা আলেহান্দ্রো জি. ইনারিতুর আপত্তি না থাকলেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাঁর আমেরিকান উচ্চারণ। চরিত্রটির জন্য আরও বিশ্বাসযোগ্য উচ্চারণ প্রয়োজন বলে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কয়েক মাস প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
ফাহাদের ভাষ্য, উচ্চারণ ঠিক করতে তিন থেকে চার মাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে বলা হয়েছিল। তবে সেই প্রশিক্ষণের ব্যয় বহন করতে প্রযোজনা পক্ষ রাজি ছিল না। নিজের পক্ষ থেকেও এত বড় খরচ বহন করা সম্ভব হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই ছবিটি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তাঁর মতে, কেবল উচ্চারণের জন্য এত দীর্ঘ প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও তখন তিনি অনুভব করেননি।
অভিনেতা আরও বলেন, পরে পরিচালকের সঙ্গে একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে তাঁর মনে হয়েছিল, ইনারিতু বুঝে গিয়েছিলেন যে এই চরিত্রের জন্য তিনি উপযুক্ত নন। এমন অভিজ্ঞতার কারণে অতীতেও একাধিক আন্তর্জাতিক প্রকল্প হাতছাড়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ফাহাদ।
তবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের চেয়ে নিজের মাতৃভাষার সিনেমাকেই বেশি গুরুত্ব দেন এই অভিনেতা। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর অভিনয়জীবনের আসল জাদু মালয়ালম চলচ্চিত্রেই। বিদেশি নির্মাতারা কেরালায় এসে কাজ করলে তিনি আনন্দিত হবেন। আর যদি কোনো আন্তর্জাতিক মানের কাজ তাঁকে নতুনভাবে পরিচিত করে, সেটিও তিনি মালয়ালম ভাষাতেই করতে চান।
এদিকে ভারতীয় কৌতুক অভিনেতা ভির দাসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে—পরে অবশ্য পোস্টটি মুছে ফেলেন—জানিয়েছিলেন, একই চরিত্রের জন্য তিনিও দুবার অডিশন দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চরিত্রটি পান রিজ আহমেদ।
অন্যদিকে ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই ‘ডিগার’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। এবার টম ক্রুজকে দেখা যাচ্ছে একেবারেই ভিন্ন রূপে। পরিচিত অ্যাকশন হিরোর চেহারা ছেড়ে তিনি পর্দায় হাজির হয়েছেন বয়স্ক, মোটা পেটের, সাদা চুলের এবং আত্মকেন্দ্রিক এক বিলিয়নিয়ারের চরিত্রে, যা তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় রূপান্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ছবির গল্পে টম ক্রুজ অভিনয় করেছেন ডিগার রকওয়েল নামে এক প্রভাবশালী শিল্পপতির ভূমিকায়। তাঁর প্রতিষ্ঠানের একটি প্রকল্পের কারণে গ্রিনল্যান্ডের বিশাল হিমবাহ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। স্থানীয় পরিবেশগত সংকট দ্রুত বৈশ্বিক জলবায়ু বিপর্যয়ের রূপ নেয় এবং পারমাণবিক সংঘাতের আশঙ্কাও তৈরি হয়।
প্রথমদিকে ডিগার রকওয়েল এসব সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থকেই প্রাধান্য দেন। সংবাদমাধ্যমের সামনেও তিনি পরিস্থিতিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উড়িয়ে দেন। কিন্তু সংকট যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন শুরু হয় তাঁর নতুন লড়াই—পৃথিবীকে রক্ষা করার পাশাপাশি নিজেকে মানবজাতির ত্রাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা।
ছবিতে টম ক্রুজ ও রিজ আহমেদের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন সান্দ্রা হলার, জন গুডম্যান, জেসি প্লেমন্স, মাইকেল স্টুলবার্গ, সোফি ওয়াইল্ড এবং এমা ডি’আর্সি। এর মধ্যে জন গুডম্যানকে দেখা যাবে অসুস্থ মার্কিন প্রেসিডেন্টের চরিত্রে, যিনি ডিগারের তৈরি সংকট মোকাবিলায় শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান।
বিষয় : ‘ডিগার’ ফাহাদ ফাসিল টম ক্রুজ ‘ডিগার’
2.png)
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
টম ক্রুজ ও রিজ আহমেদ অভিনীত বহুল আলোচিত হলিউড ছবি ‘ডিগার’–এর ট্রেলার প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে মালয়ালম তারকা ফাহাদ ফাসিলের একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, ছবিটির গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েও শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত হতে পারেননি।
গত বছর কিউ স্টুডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাহাদ জানান, রিজ আহমেদ অভিনীত চরিত্রটির জন্য তিনি অডিশন দিয়েছিলেন। অডিশন নিয়ে নির্মাতা আলেহান্দ্রো জি. ইনারিতুর আপত্তি না থাকলেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাঁর আমেরিকান উচ্চারণ। চরিত্রটির জন্য আরও বিশ্বাসযোগ্য উচ্চারণ প্রয়োজন বলে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কয়েক মাস প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
ফাহাদের ভাষ্য, উচ্চারণ ঠিক করতে তিন থেকে চার মাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে বলা হয়েছিল। তবে সেই প্রশিক্ষণের ব্যয় বহন করতে প্রযোজনা পক্ষ রাজি ছিল না। নিজের পক্ষ থেকেও এত বড় খরচ বহন করা সম্ভব হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই ছবিটি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তাঁর মতে, কেবল উচ্চারণের জন্য এত দীর্ঘ প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও তখন তিনি অনুভব করেননি।
অভিনেতা আরও বলেন, পরে পরিচালকের সঙ্গে একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে তাঁর মনে হয়েছিল, ইনারিতু বুঝে গিয়েছিলেন যে এই চরিত্রের জন্য তিনি উপযুক্ত নন। এমন অভিজ্ঞতার কারণে অতীতেও একাধিক আন্তর্জাতিক প্রকল্প হাতছাড়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ফাহাদ।
তবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের চেয়ে নিজের মাতৃভাষার সিনেমাকেই বেশি গুরুত্ব দেন এই অভিনেতা। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর অভিনয়জীবনের আসল জাদু মালয়ালম চলচ্চিত্রেই। বিদেশি নির্মাতারা কেরালায় এসে কাজ করলে তিনি আনন্দিত হবেন। আর যদি কোনো আন্তর্জাতিক মানের কাজ তাঁকে নতুনভাবে পরিচিত করে, সেটিও তিনি মালয়ালম ভাষাতেই করতে চান।
এদিকে ভারতীয় কৌতুক অভিনেতা ভির দাসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে—পরে অবশ্য পোস্টটি মুছে ফেলেন—জানিয়েছিলেন, একই চরিত্রের জন্য তিনিও দুবার অডিশন দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চরিত্রটি পান রিজ আহমেদ।
অন্যদিকে ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই ‘ডিগার’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। এবার টম ক্রুজকে দেখা যাচ্ছে একেবারেই ভিন্ন রূপে। পরিচিত অ্যাকশন হিরোর চেহারা ছেড়ে তিনি পর্দায় হাজির হয়েছেন বয়স্ক, মোটা পেটের, সাদা চুলের এবং আত্মকেন্দ্রিক এক বিলিয়নিয়ারের চরিত্রে, যা তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় রূপান্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ছবির গল্পে টম ক্রুজ অভিনয় করেছেন ডিগার রকওয়েল নামে এক প্রভাবশালী শিল্পপতির ভূমিকায়। তাঁর প্রতিষ্ঠানের একটি প্রকল্পের কারণে গ্রিনল্যান্ডের বিশাল হিমবাহ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। স্থানীয় পরিবেশগত সংকট দ্রুত বৈশ্বিক জলবায়ু বিপর্যয়ের রূপ নেয় এবং পারমাণবিক সংঘাতের আশঙ্কাও তৈরি হয়।
প্রথমদিকে ডিগার রকওয়েল এসব সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থকেই প্রাধান্য দেন। সংবাদমাধ্যমের সামনেও তিনি পরিস্থিতিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উড়িয়ে দেন। কিন্তু সংকট যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন শুরু হয় তাঁর নতুন লড়াই—পৃথিবীকে রক্ষা করার পাশাপাশি নিজেকে মানবজাতির ত্রাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা।
ছবিতে টম ক্রুজ ও রিজ আহমেদের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন সান্দ্রা হলার, জন গুডম্যান, জেসি প্লেমন্স, মাইকেল স্টুলবার্গ, সোফি ওয়াইল্ড এবং এমা ডি’আর্সি। এর মধ্যে জন গুডম্যানকে দেখা যাবে অসুস্থ মার্কিন প্রেসিডেন্টের চরিত্রে, যিনি ডিগারের তৈরি সংকট মোকাবিলায় শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান।
2.png)