সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

সিনেটে আটকে গেলো ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা বিল

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এবং ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিরক্ষা বিল নিয়ে বিতর্ক শুরুই হতে দিল না ডেমোক্র্যাটরা। এতে রেকর্ড সামরিক বাজেট অনুমোদনের পথও আপাতত থমকে গেছে।

সিনেটে আটকে গেলো ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা বিল
ছবি -সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-নীতি ও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সিনেটে বার্ষিক প্রতিরক্ষানীতি–বিষয়ক বিল (ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট–এনডিএএ) নিয়ে বিতর্ক শুরুর প্রস্তাবই আটকে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। ফলে কংগ্রেসে দ্রুত পাস হওয়ার সম্ভাবনা থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলোর একটি বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিতর্ক শুরুর প্রস্তাবটি ৫০–৪৬ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়। সিনেটের নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য অন্তত ৬০টি ভোটের প্রয়োজন ছিল। সেই সমর্থন না পাওয়ায় বিলটির অগ্রযাত্রা আপাতত থেমে গেছে।

এই বিলের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের বড় অংশ অনুমোদনের কথা ছিল। তবে ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলমান অবস্থায় কংগ্রেসের উচিত নয় এমন একটি বিল এগিয়ে নেওয়া, যা কার্যত প্রশাসনের যুদ্ধনীতি আরও শক্তিশালী করবে।

দলটির আইনপ্রণেতারা বিশেষভাবে আপত্তি তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক এবং গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাব নিয়ে। একই সঙ্গে পেন্টাগনের জন্য ইতিহাসের অন্যতম বড় বাজেট অনুমোদনের বিষয়েও তাঁদের আপত্তি রয়েছে।

ভোটাভুটির আগে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার দলীয় সদস্যদের বিলটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান অবস্থায় এই বিল পাস হলে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কার্যকর তদারকি ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার আরও রাজনৈতিক সুযোগ পাবে।

বিলটির বিরোধিতা শুধু কংগ্রেসের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। নাগরিক স্বাধীনতা, পররাষ্ট্রনীতি ও যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের পক্ষে কাজ করা ১৪টি সংগঠনের একটি জোটও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান অভিযান কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হয়েছে। তাই ওই যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধের নিশ্চয়তা না দিয়ে প্রতিরক্ষা বিল এগিয়ে নেওয়া উচিত হবে না।

গত সপ্তাহে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন, বার্নি স্যান্ডার্স, এলিজাবেথ ওয়ারেন, এড মার্কি, জেফ মার্কলি এবং পিটার ওয়েলচসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা সহকর্মীদের উদ্দেশে একটি যৌথ চিঠি পাঠান। সেখানে তাঁরা আহ্বান জানান, এনডিএএ নিয়ে বিতর্ক শুরুর প্রস্তাব সমর্থন না করতে।

চিঠিতে তাঁরা সতর্ক করে বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা ট্রাম্প প্রশাসনকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর করার রাজনৈতিক বার্তা দেয়।

ভোটের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি পেন্টাগনের জন্য অস্বাভাবিকভাবে বড় বাজেট অনুমোদনের পথ খুলে দেবে। একই সঙ্গে এটি ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক কর্মকাণ্ডের ওপর কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিলটিতে ইসরায়েল-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা এমনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো নিয়ে সিনেটে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ভোট ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে ইসরায়েল প্রশ্নে পরিবর্তিত রাজনৈতিক অবস্থানেরও প্রতিফলন। বিশেষ করে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির একটি বড় অংশ ইসরায়েলের প্রতি আগের তুলনায় অনেক বেশি সমালোচনামুখর অবস্থান নিচ্ছে। 

এর প্রতিফলন মিলেছে জনমত জরিপেও। গত জুনে প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা যায়, চলতি বছরের মে মাসে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে ইসরায়েল সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব নেমে এসেছে ২২ শতাংশে। ২০১৮ সালে একই হার ছিল ৫৯ শতাংশ। এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিষয় : ট্রাম্পের শাসনকাল ও প্রবাসী ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ইসরায়েল

কাল মহাকাল

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬


সিনেটে আটকে গেলো ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা বিল

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-নীতি ও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সিনেটে বার্ষিক প্রতিরক্ষানীতি–বিষয়ক বিল (ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট–এনডিএএ) নিয়ে বিতর্ক শুরুর প্রস্তাবই আটকে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। ফলে কংগ্রেসে দ্রুত পাস হওয়ার সম্ভাবনা থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলোর একটি বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিতর্ক শুরুর প্রস্তাবটি ৫০–৪৬ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়। সিনেটের নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য অন্তত ৬০টি ভোটের প্রয়োজন ছিল। সেই সমর্থন না পাওয়ায় বিলটির অগ্রযাত্রা আপাতত থেমে গেছে।

এই বিলের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের বড় অংশ অনুমোদনের কথা ছিল। তবে ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলমান অবস্থায় কংগ্রেসের উচিত নয় এমন একটি বিল এগিয়ে নেওয়া, যা কার্যত প্রশাসনের যুদ্ধনীতি আরও শক্তিশালী করবে।

দলটির আইনপ্রণেতারা বিশেষভাবে আপত্তি তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক এবং গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাব নিয়ে। একই সঙ্গে পেন্টাগনের জন্য ইতিহাসের অন্যতম বড় বাজেট অনুমোদনের বিষয়েও তাঁদের আপত্তি রয়েছে।

ভোটাভুটির আগে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার দলীয় সদস্যদের বিলটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান অবস্থায় এই বিল পাস হলে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কার্যকর তদারকি ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার আরও রাজনৈতিক সুযোগ পাবে।

বিলটির বিরোধিতা শুধু কংগ্রেসের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। নাগরিক স্বাধীনতা, পররাষ্ট্রনীতি ও যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের পক্ষে কাজ করা ১৪টি সংগঠনের একটি জোটও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান অভিযান কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হয়েছে। তাই ওই যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধের নিশ্চয়তা না দিয়ে প্রতিরক্ষা বিল এগিয়ে নেওয়া উচিত হবে না।

গত সপ্তাহে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন, বার্নি স্যান্ডার্স, এলিজাবেথ ওয়ারেন, এড মার্কি, জেফ মার্কলি এবং পিটার ওয়েলচসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা সহকর্মীদের উদ্দেশে একটি যৌথ চিঠি পাঠান। সেখানে তাঁরা আহ্বান জানান, এনডিএএ নিয়ে বিতর্ক শুরুর প্রস্তাব সমর্থন না করতে।

চিঠিতে তাঁরা সতর্ক করে বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা ট্রাম্প প্রশাসনকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর করার রাজনৈতিক বার্তা দেয়।

ভোটের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি পেন্টাগনের জন্য অস্বাভাবিকভাবে বড় বাজেট অনুমোদনের পথ খুলে দেবে। একই সঙ্গে এটি ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক কর্মকাণ্ডের ওপর কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিলটিতে ইসরায়েল-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা এমনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো নিয়ে সিনেটে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ভোট ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে ইসরায়েল প্রশ্নে পরিবর্তিত রাজনৈতিক অবস্থানেরও প্রতিফলন। বিশেষ করে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির একটি বড় অংশ ইসরায়েলের প্রতি আগের তুলনায় অনেক বেশি সমালোচনামুখর অবস্থান নিচ্ছে। 

এর প্রতিফলন মিলেছে জনমত জরিপেও। গত জুনে প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা যায়, চলতি বছরের মে মাসে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে ইসরায়েল সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব নেমে এসেছে ২২ শতাংশে। ২০১৮ সালে একই হার ছিল ৫৯ শতাংশ। এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত