সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 বিনোদনবিনোদন

‘ডিগার’ এ টম ক্রুজকে চিনতেই পারবেন না

অ্যাকশন নায়কের পরিচিত ইমেজ ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ধনকুবেরের চরিত্রে হাজির হচ্ছেন টম ক্রুজ। জলবায়ু সংকট, করপোরেট ক্ষমতা ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গ নিয়ে নির্মিত ‘ডিগার’-এর ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে চলছে আলোচনা।

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক
 ‘ডিগার’ এ টম ক্রুজকে চিনতেই পারবেন না
ছবি -সংগৃহীত

হলিউডে টম ক্রুজের নাম উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে দুঃসাহসিক স্টান্ট আর অ্যাকশননির্ভর চরিত্র। তবে নতুন সিনেমা ‘ডিগার’–এ সেই পরিচিত রূপ থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন তিনি। মোটা শরীর, পাতলা সাদা চুল, অস্বাভাবিক উচ্চারণ আর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এক বিতর্কিত বিলিয়নিয়ারের চরিত্রে তাঁকে দেখে অনেক দর্শক প্রথম দেখায় চিনতেই পারছেন না। সোমবার ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ছবিটি।


দুইবারের অস্কারজয়ী নির্মাতা আলেহান্দ্রো জি. ইনারিতু পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি ব্ল্যাক কমেডির মোড়কে সমসাময়িক বিশ্বের নানা সংকটকে তুলে ধরেছে। ‘বার্ডম্যান’ ও ‘দ্য রেভেন্যান্ট’-এর পর এবার তিনি করপোরেট লোভ, জলবায়ু পরিবর্তন, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কিন্তু তীক্ষ্ণ ভাষায় গল্প বলেছেন।

ছবির মূল চরিত্র ডিগার রকওয়েল, বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এক শিল্পপতি। তাঁর প্রতিষ্ঠানের একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের কারণে গ্রিনল্যান্ডের বিশাল হিমবাহ অস্বাভাবিকভাবে সরে যেতে শুরু করে। শুরুতে বিষয়টিকে তুচ্ছ বলে উড়িয়ে দিলেও দ্রুত তা বৈশ্বিক সংকটে রূপ নেয়। বিজ্ঞানীরা সম্ভাব্য জলবায়ু বিপর্যয় ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করলেও ডিগার নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেন।

সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, কয়েক ফুট হিমবাহ সরে যাওয়ার জন্য বহু বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বন্ধ করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তাঁর লক্ষ্য বদলে যায়। তখন পৃথিবীকে রক্ষা করার চেয়ে নিজেকে মানবজাতির ত্রাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টাই হয়ে ওঠে তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য।

ছবিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে টম ক্রুজের অভিনয় ও রূপান্তরকে। চরিত্রটির জন্য তিনি ভারী মেকআপ, প্রস্থেটিকস, নতুন কণ্ঠস্বর এবং ভিন্ন শারীরিক অভিব্যক্তি ব্যবহার করেছেন। ট্রেলারে কখনও তাঁকে ক্ষমতার দম্ভে উচ্ছ্বসিত, কখনও অদ্ভুত রসবোধে ভরপুর, আবার কখনও নাটকীয় ভঙ্গিতে বিশ্বকে রক্ষার ঘোষণা দিতে দেখা যায়। এই বৈপরীত্যই চরিত্রটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

ইনারিতু জানিয়েছেন, ‘ডিগার’ নির্মাণের ভাবনা তাঁর মাথায় আসে প্রায় এক দশক আগে। তিনি এমন একটি চলচ্চিত্র তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যেখানে ট্র্যাজেডি ও হাস্যরস পাশাপাশি চলবে। তাঁর মতে, বাস্তব পৃথিবী যত জটিল ও অযৌক্তিক হয়ে উঠছে, সেই বাস্তবতাকে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় উপস্থাপন করাই ছিল এই ছবির মূল লক্ষ্য।

টম ক্রুজের সঙ্গে এই প্রকল্পের সম্পর্কও নতুন নয়। প্রায় সাত বছর আগে পরিচালক তাঁকে ছবির ধারণা শোনান। প্রচলিত নিয়মে চিত্রনাট্য পাঠানোর পরিবর্তে ইনারিতু কয়েক দিন ধরে পুরো গল্প নিজেই পড়ে শোনান। পরে ক্রুজ জানান, সেই সময়ই তিনি বুঝেছিলেন এটি এমন একটি চরিত্র, যা তাঁকে নিজের পরিচিত অভিনয়-সীমানা ভেঙে নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে বাধ্য করবে।

টম ক্রুজের পাশাপাশি ছবিতে অভিনয় করেছেন রিজ আহমেদ, সান্দ্রা হলার, জন গুডম্যান, জেসি প্লেমন্স, মাইকেল স্টুলবার্গ, সোফি ওয়াইল্ড এবং এমা ডি’আর্সি। এর মধ্যে জন গুডম্যানকে দেখা যাবে অসুস্থ মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভূমিকায়, যিনি ডিগারের সৃষ্টি করা বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার শেষ প্রচেষ্টা চালান।

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও বড় আয়োজন নিয়ে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। লেজেন্ডারি পিকচার্স প্রযোজিত এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্স পিকচার্স পরিবেশিত এই সিনেমার শুটিং হয়েছে যুক্তরাজ্যে প্রায় ছয় মাস ধরে। অস্কারজয়ী চিত্রগ্রাহক ইমানুয়েল লুবেজকি সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্ব পালন করেছেন। বড় পর্দায় আরও সমৃদ্ধ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা দিতে পুরো চলচ্চিত্রটি ধারণ করা হয়েছে ভিস্তা ভিশন ফরম্যাটে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘ডিগার’ শুধু একটি ব্যঙ্গাত্মক কমেডি নয়; এটি করপোরেট প্রভাব, রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত অহংকার কীভাবে বৈশ্বিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলতে পারে, সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। একই সঙ্গে এটি টম ক্রুজের অভিনয়জীবনের এক নতুন বাঁক, যেখানে তিনি দীর্ঘদিনের অ্যাকশন নায়কের পরিচিত গণ্ডি ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন।

ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ব্যানারে নির্মিত ‘ডিগার’ বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ২ অক্টোবর ২০২৬

বিষয় : ‘ডিগার’

কাল মহাকাল

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬


‘ডিগার’ এ টম ক্রুজকে চিনতেই পারবেন না

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image


হলিউডে টম ক্রুজের নাম উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে দুঃসাহসিক স্টান্ট আর অ্যাকশননির্ভর চরিত্র। তবে নতুন সিনেমা ‘ডিগার’–এ সেই পরিচিত রূপ থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন তিনি। মোটা শরীর, পাতলা সাদা চুল, অস্বাভাবিক উচ্চারণ আর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এক বিতর্কিত বিলিয়নিয়ারের চরিত্রে তাঁকে দেখে অনেক দর্শক প্রথম দেখায় চিনতেই পারছেন না। সোমবার ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ছবিটি।


দুইবারের অস্কারজয়ী নির্মাতা আলেহান্দ্রো জি. ইনারিতু পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি ব্ল্যাক কমেডির মোড়কে সমসাময়িক বিশ্বের নানা সংকটকে তুলে ধরেছে। ‘বার্ডম্যান’ ও ‘দ্য রেভেন্যান্ট’-এর পর এবার তিনি করপোরেট লোভ, জলবায়ু পরিবর্তন, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কিন্তু তীক্ষ্ণ ভাষায় গল্প বলেছেন।

ছবির মূল চরিত্র ডিগার রকওয়েল, বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এক শিল্পপতি। তাঁর প্রতিষ্ঠানের একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের কারণে গ্রিনল্যান্ডের বিশাল হিমবাহ অস্বাভাবিকভাবে সরে যেতে শুরু করে। শুরুতে বিষয়টিকে তুচ্ছ বলে উড়িয়ে দিলেও দ্রুত তা বৈশ্বিক সংকটে রূপ নেয়। বিজ্ঞানীরা সম্ভাব্য জলবায়ু বিপর্যয় ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করলেও ডিগার নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেন।

সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, কয়েক ফুট হিমবাহ সরে যাওয়ার জন্য বহু বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বন্ধ করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তাঁর লক্ষ্য বদলে যায়। তখন পৃথিবীকে রক্ষা করার চেয়ে নিজেকে মানবজাতির ত্রাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টাই হয়ে ওঠে তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য।

ছবিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে টম ক্রুজের অভিনয় ও রূপান্তরকে। চরিত্রটির জন্য তিনি ভারী মেকআপ, প্রস্থেটিকস, নতুন কণ্ঠস্বর এবং ভিন্ন শারীরিক অভিব্যক্তি ব্যবহার করেছেন। ট্রেলারে কখনও তাঁকে ক্ষমতার দম্ভে উচ্ছ্বসিত, কখনও অদ্ভুত রসবোধে ভরপুর, আবার কখনও নাটকীয় ভঙ্গিতে বিশ্বকে রক্ষার ঘোষণা দিতে দেখা যায়। এই বৈপরীত্যই চরিত্রটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

ইনারিতু জানিয়েছেন, ‘ডিগার’ নির্মাণের ভাবনা তাঁর মাথায় আসে প্রায় এক দশক আগে। তিনি এমন একটি চলচ্চিত্র তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যেখানে ট্র্যাজেডি ও হাস্যরস পাশাপাশি চলবে। তাঁর মতে, বাস্তব পৃথিবী যত জটিল ও অযৌক্তিক হয়ে উঠছে, সেই বাস্তবতাকে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় উপস্থাপন করাই ছিল এই ছবির মূল লক্ষ্য।

টম ক্রুজের সঙ্গে এই প্রকল্পের সম্পর্কও নতুন নয়। প্রায় সাত বছর আগে পরিচালক তাঁকে ছবির ধারণা শোনান। প্রচলিত নিয়মে চিত্রনাট্য পাঠানোর পরিবর্তে ইনারিতু কয়েক দিন ধরে পুরো গল্প নিজেই পড়ে শোনান। পরে ক্রুজ জানান, সেই সময়ই তিনি বুঝেছিলেন এটি এমন একটি চরিত্র, যা তাঁকে নিজের পরিচিত অভিনয়-সীমানা ভেঙে নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে বাধ্য করবে।

টম ক্রুজের পাশাপাশি ছবিতে অভিনয় করেছেন রিজ আহমেদ, সান্দ্রা হলার, জন গুডম্যান, জেসি প্লেমন্স, মাইকেল স্টুলবার্গ, সোফি ওয়াইল্ড এবং এমা ডি’আর্সি। এর মধ্যে জন গুডম্যানকে দেখা যাবে অসুস্থ মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভূমিকায়, যিনি ডিগারের সৃষ্টি করা বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার শেষ প্রচেষ্টা চালান।

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও বড় আয়োজন নিয়ে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। লেজেন্ডারি পিকচার্স প্রযোজিত এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্স পিকচার্স পরিবেশিত এই সিনেমার শুটিং হয়েছে যুক্তরাজ্যে প্রায় ছয় মাস ধরে। অস্কারজয়ী চিত্রগ্রাহক ইমানুয়েল লুবেজকি সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্ব পালন করেছেন। বড় পর্দায় আরও সমৃদ্ধ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা দিতে পুরো চলচ্চিত্রটি ধারণ করা হয়েছে ভিস্তা ভিশন ফরম্যাটে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘ডিগার’ শুধু একটি ব্যঙ্গাত্মক কমেডি নয়; এটি করপোরেট প্রভাব, রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত অহংকার কীভাবে বৈশ্বিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলতে পারে, সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। একই সঙ্গে এটি টম ক্রুজের অভিনয়জীবনের এক নতুন বাঁক, যেখানে তিনি দীর্ঘদিনের অ্যাকশন নায়কের পরিচিত গণ্ডি ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন।

ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ব্যানারে নির্মিত ‘ডিগার’ বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ২ অক্টোবর ২০২৬


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত