সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

বিক্ষোভের মুখে এইচএসসি নিয়ে নতুন ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

পদার্থবিজ্ঞানের দুটি ভুল প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থী পূর্ণ নম্বর পাবেন। কোথাও পরীক্ষার্থীরা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তদন্ত শেষে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিক্ষোভের মুখে এইচএসসি নিয়ে নতুন ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর
ছবি -সংগৃহীত

এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে থাকা দুটি ভুল প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে বন্যা বা দুর্যোগের কারণে যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে পৃথক দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি ছিল। তাই ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থী পূর্ণ নম্বর পাবেন। পাশাপাশি যেসব কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণে অনিয়ম বা বড় ধরনের সমস্যা হয়েছে, সেসব বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষারও ব্যবস্থা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। কীভাবে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায় এবং দুর্যোগের প্রভাব মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার প্রবল বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেই দেশের বেশির ভাগ শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্য সব বোর্ডে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হয়।

বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদে ব্যাখ্যা দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, পরীক্ষা শুরুর আগে ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকার তথ্য পাওয়ার পরই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে নিরাপদ ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। যেসব শিক্ষার্থী অসুবিধায় পড়েছিলেন, তাদের অতিরিক্ত সময়সহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, কোনো এলাকায় দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব না হলে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কেন্দ্র পরিবর্তন বা পরীক্ষা স্থগিতের ক্ষমতা রয়েছে। কোথাও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশনের কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। তারপরও ভুল শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞানের দুটি প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে একই অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশে প্রায় ২৫ হাজার কওমি মাদ্রাসায় প্রায় ৭০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন এবং এবতেদায়ি মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।

বিষয় : শিক্ষামন্ত্রী এইচএসসি পরীক্ষা

কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


বিক্ষোভের মুখে এইচএসসি নিয়ে নতুন ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে থাকা দুটি ভুল প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে বন্যা বা দুর্যোগের কারণে যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে পৃথক দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি ছিল। তাই ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থী পূর্ণ নম্বর পাবেন। পাশাপাশি যেসব কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণে অনিয়ম বা বড় ধরনের সমস্যা হয়েছে, সেসব বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষারও ব্যবস্থা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। কীভাবে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায় এবং দুর্যোগের প্রভাব মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার প্রবল বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেই দেশের বেশির ভাগ শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্য সব বোর্ডে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হয়।

বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদে ব্যাখ্যা দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, পরীক্ষা শুরুর আগে ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকার তথ্য পাওয়ার পরই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে নিরাপদ ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। যেসব শিক্ষার্থী অসুবিধায় পড়েছিলেন, তাদের অতিরিক্ত সময়সহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, কোনো এলাকায় দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব না হলে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কেন্দ্র পরিবর্তন বা পরীক্ষা স্থগিতের ক্ষমতা রয়েছে। কোথাও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশনের কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। তারপরও ভুল শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞানের দুটি প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে একই অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশে প্রায় ২৫ হাজার কওমি মাদ্রাসায় প্রায় ৭০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন এবং এবতেদায়ি মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত