সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

খামেনির হত্যার প্রতিশোধ: ট্রাম্প-নেতানিয়াহুসহ ১৩ নেতা ইরানের ‘টার্গেট’ তালিকায়

প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর বদলা নিতে এবার পশ্চিমা ও ইসরায়েলি নেতাদের তালিকা প্রকাশ করল তেহরান; মোজতবা খামেনির হুঙ্কার— ‘শান্তিতে মরতে পারবে না অপরাধীরা।’

খামেনির হত্যার প্রতিশোধ: ট্রাম্প-নেতানিয়াহুসহ ১৩ নেতা ইরানের ‘টার্গেট’ তালিকায়
ছবি -সংগৃহীত

আলী খামেনির হত্যার বদলা নিতে এবার সরাসরি ‘টার্গেট’ বা লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির রক্ষণশীল গণমাধ্যম ‘হামশাহরি’ তাদের অনলাইন সংস্করণে ১৩ জন বিদেশি নেতার ছবিসহ একটি ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করেছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার চলমান স্নায়ুযুদ্ধের মধ্যে এই তালিকাটি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

প্রতিশোধের এই সুর নতুন করে জোরদার হয়েছে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সাম্প্রতিক এক হুঙ্কারে। শনিবার দেওয়া এক কঠোর বিবৃতিতে মোজতবা বলেন, ‘প্রতিশোধ আমাদের জাতির প্রাণের দাবি এবং এটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। তালিকায় নাম থাকা এই অপরাধীরা কখনোই বিছানায় শান্তিতে মৃত্যুবরণ করতে পারবে না।’ যদিও তিনি সরাসরি কোনো নাম ঘোষণা করেননি, তবে তার এই বক্তব্যের পরপরই তেহরান কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হামশাহরি পত্রিকাটির এই সাহসী পদক্ষেপকে প্রতিশোধের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

প্রকাশিত এই তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তালিকায় বাদ যাননি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এছাড়া ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের ছবিও দেখা গেছে ওই ইনফোগ্রাফিকে।

যদিও ইরানের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে সরাসরি এই তালিকাটি অনুমোদিত কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরান বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, মার্কিন বাহিনী ও তাদের মিত্র দেশগুলো নিজেদের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিয়ে ওয়াশিংটনকে সরাসরি সহায়তা করেছে। তেহরানের দৃষ্টিতে তাই এই দেশগুলোও এই যুদ্ধের সমান অংশীদার।

অনলাইনে তালিকাটি ব্যাপক শোরগোল ফেললেও, রোববারের প্রিন্ট সংস্করণে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। যুদ্ধের মাঠে চলমান উত্তেজনার পারদ যখন ক্রমেই বাড়ছে, তখন ইরানের এই ‘হিট লিস্ট’ বা লক্ষ্যবস্তুর ঘোষণা বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভূরাজনৈতিক সংকটের নতুন মাত্রা যোগ করল। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন চরম অনিশ্চয়তার কালো মেঘ।

বিষয় : ইরান প্রতিশোধ

কাল মহাকাল

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬


খামেনির হত্যার প্রতিশোধ: ট্রাম্প-নেতানিয়াহুসহ ১৩ নেতা ইরানের ‘টার্গেট’ তালিকায়

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

আলী খামেনির হত্যার বদলা নিতে এবার সরাসরি ‘টার্গেট’ বা লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির রক্ষণশীল গণমাধ্যম ‘হামশাহরি’ তাদের অনলাইন সংস্করণে ১৩ জন বিদেশি নেতার ছবিসহ একটি ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করেছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার চলমান স্নায়ুযুদ্ধের মধ্যে এই তালিকাটি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

প্রতিশোধের এই সুর নতুন করে জোরদার হয়েছে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সাম্প্রতিক এক হুঙ্কারে। শনিবার দেওয়া এক কঠোর বিবৃতিতে মোজতবা বলেন, ‘প্রতিশোধ আমাদের জাতির প্রাণের দাবি এবং এটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। তালিকায় নাম থাকা এই অপরাধীরা কখনোই বিছানায় শান্তিতে মৃত্যুবরণ করতে পারবে না।’ যদিও তিনি সরাসরি কোনো নাম ঘোষণা করেননি, তবে তার এই বক্তব্যের পরপরই তেহরান কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হামশাহরি পত্রিকাটির এই সাহসী পদক্ষেপকে প্রতিশোধের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

প্রকাশিত এই তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তালিকায় বাদ যাননি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এছাড়া ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের ছবিও দেখা গেছে ওই ইনফোগ্রাফিকে।

যদিও ইরানের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে সরাসরি এই তালিকাটি অনুমোদিত কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরান বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, মার্কিন বাহিনী ও তাদের মিত্র দেশগুলো নিজেদের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিয়ে ওয়াশিংটনকে সরাসরি সহায়তা করেছে। তেহরানের দৃষ্টিতে তাই এই দেশগুলোও এই যুদ্ধের সমান অংশীদার।

অনলাইনে তালিকাটি ব্যাপক শোরগোল ফেললেও, রোববারের প্রিন্ট সংস্করণে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। যুদ্ধের মাঠে চলমান উত্তেজনার পারদ যখন ক্রমেই বাড়ছে, তখন ইরানের এই ‘হিট লিস্ট’ বা লক্ষ্যবস্তুর ঘোষণা বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভূরাজনৈতিক সংকটের নতুন মাত্রা যোগ করল। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন চরম অনিশ্চয়তার কালো মেঘ।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত