সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 ঢাকাঢাকা

দুর্বল নির্মাণে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে ঢাকার লাখো ভবন

অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বিল্ডিং কোড অমান্য এবং পুরোনো ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতায় রাজধানী বড় ধরনের ভূমিকম্পে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই ভবন মূল্যায়ন, রেট্রোফিটিং এবং কঠোর তদারকি শুরু না হলে প্রাণহানি হবে নজিরবিহীন।

দুর্বল নির্মাণে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে ঢাকার লাখো ভবন
ছবি -সংগৃহীত

ঢাকার আকাশছোঁয়া ভবনগুলো আধুনিক নগরায়ণের প্রতীক হলেও, এর একটি বড় অংশের ভেতরে লুকিয়ে আছে নীরব বিপদ। পরিকল্পনাহীন সম্প্রসারণ, জলাভূমি ভরাট, নির্মাণবিধি উপেক্ষা এবং দুর্বল তদারকির কারণে রাজধানীর অসংখ্য ভবন বড় ধরনের ভূমিকম্পের ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, শক্তিশালী কোনো ভূমিকম্প আঘাত হানলে ভবনধসের পাশাপাশি ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বহু পুরোনো ভবন এমন সময়ে নির্মিত হয়েছে, যখন ভূমিকম্প সহনশীল নকশা বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করা হতো না। অনেক ভবন নির্মাণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) যথাযথভাবে মানা হয়নি। ফলে কাঠামোগত দুর্বলতা আজ বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।

তাদের ভাষ্য, নিম্নমানের রড ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, বিম-কলামের দুর্বল সংযোগ এবং ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকৌশলের কারণে বহু ভবনের কাঠামো এখনই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভূমিকম্পের সময় এসব দুর্বল অংশ প্রথমে ভেঙে পড়ে এবং সেখান থেকেই শুরু হতে পারে পুরো ভবনের আংশিক বা সম্পূর্ণ ধস।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের আওতায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত এক গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টলাইনে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকায় প্রায় ৮ লাখ ৬৫ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দিনের বেলায় এমন ভূমিকম্প ঘটলে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু এবং ২ লাখ ২৯ হাজার মানুষের আহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (সিডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পাঁচটি সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক ফল্টলাইনের প্রভাববলয়ের মধ্যে রয়েছে। মধুপুর, ডাউকি এবং প্লেট বাউন্ডারি ফল্ট–১, ২ ও ৩ থেকে ভবিষ্যতে ৭ থেকে ৮ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ এত বড় ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর প্রস্তুতি এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে।

বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সোসাইটির সহসভাপতি অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, ভবন নির্মাণ বিধিমালার কঠোর প্রয়োগ ছাড়া এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়। তার মতে, অতীতে বিধিমালা বাস্তবায়নে বড় ধরনের দুর্বলতা ছিল। ভবনের নকশা অনুমোদনের আগে রাজউকের আরও কঠোর যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। তিনি মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সেখানে তৃতীয় পক্ষের স্বাধীন কাঠামোগত মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক হওয়ায় নির্মাণের মান নিশ্চিত করা সহজ হয়েছে।

রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, তাদের আওতাধীন প্রায় ১ হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রায় ২১ লাখ ভবন রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশই একতলা। তবে বহুতল ভবনগুলোর একটি বড় অংশের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে এখনও পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের আরেকটি বড় উদ্বেগ ভবনের ছাদে অতিরিক্ত ওজন চাপানো। আর্কিটেকচারাল কনসালট্যান্সি এলএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্থপতি আহমেদ মুক্তা বলেন, নকশায় বিবেচনা না করা ভারী পানির ট্যাংক, জেনারেটর ও অন্যান্য যান্ত্রিক সরঞ্জাম ভবনের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ভূমিকম্পের সময় এই বাড়তি ওজন ভবনের দোলন বাড়িয়ে দেয় এবং দুর্বল কাঠামো দ্রুত ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করে।

তার মতে, শুধু মূল কাঠামো নয়, ভবনের নন-স্ট্রাকচারাল অংশও প্রাণহানির বড় কারণ হতে পারে। পার্টিশন ওয়াল, ফলস সিলিং, কাঁচের আবরণ এবং বাইরের অলংকরণ ভূমিকম্পে সহজেই ভেঙে পড়ে। মূল ভবন অক্ষত থাকলেও এসব ধ্বংসাবশেষ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, দুর্বল মর্টার দিয়ে নির্মিত ইটের দেয়াল এবং নিচতলা খোলা রেখে নির্মিত ভবন ভূমিকম্পে তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশের নগরাঞ্চলে এমন নির্মাণশৈলী এখনও ব্যাপকভাবে দেখা যায়।

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, "ভূমিকম্প মানুষকে হত্যা করে না, দুর্বল ভবনই মানুষকে হত্যা করে।" তিনি ২০২৩ সালের তুরস্কের ভূমিকম্পের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে প্রায় ৫৩ হাজার ৫০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল মূলত ভবনধসের কারণে। অন্যদিকে ২০১০ সালে হাইতির তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প চিলিতে আঘাত হানলেও শক্তিশালী ভবন নির্মাণের কারণে প্রাণহানি ছিল অনেক কম।

ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমাতে তিনি রাজধানীর ভবনগুলোকে কাঠামোগত পরীক্ষার মাধ্যমে লাল, হলুদ ও সবুজ—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে কোন ভবন আগে সংস্কার বা রেট্রোফিটিং প্রয়োজন, তা দ্রুত নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। তার মতে, দেশের পোশাকশিল্পে গত এক দশকে প্রায় ৫০০ কারখানায় এই পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, ব্যক্তি পর্যায়েও প্রস্তুতি জরুরি। ভারী আসবাবপত্র দেয়ালের সঙ্গে শক্তভাবে আটকে রাখা, কাঁচে সেফটি ফিল্ম ব্যবহার, প্রতিটি ভবনে নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্ধারণ, গ্যাস ও বিদ্যুতের জরুরি শাট-অফ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে নির্ধারিত নিরাপদ জোন সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা প্রয়োজন।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক নরসিংদীর ভূমিকম্পের পর ঢাকায় প্রায় ৩০০টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মতে, বিশেষ করে ২০০৮ সালের পর নির্মিত এবং যথাযথ অনুমোদনবিহীন ভবনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কাঠামোগত মূল্যায়ন জরুরি। একই সঙ্গে পুরোনো ভবনগুলোও পরীক্ষা করে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতের কোনো শক্তিশালী ভূমিকম্প রাজধানীর জন্য ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

বিষয় : ঢাকা, ভূমিকম্পের ঝুঁকি

কাল মহাকাল

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬


দুর্বল নির্মাণে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে ঢাকার লাখো ভবন

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

ঢাকার আকাশছোঁয়া ভবনগুলো আধুনিক নগরায়ণের প্রতীক হলেও, এর একটি বড় অংশের ভেতরে লুকিয়ে আছে নীরব বিপদ। পরিকল্পনাহীন সম্প্রসারণ, জলাভূমি ভরাট, নির্মাণবিধি উপেক্ষা এবং দুর্বল তদারকির কারণে রাজধানীর অসংখ্য ভবন বড় ধরনের ভূমিকম্পের ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, শক্তিশালী কোনো ভূমিকম্প আঘাত হানলে ভবনধসের পাশাপাশি ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বহু পুরোনো ভবন এমন সময়ে নির্মিত হয়েছে, যখন ভূমিকম্প সহনশীল নকশা বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করা হতো না। অনেক ভবন নির্মাণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) যথাযথভাবে মানা হয়নি। ফলে কাঠামোগত দুর্বলতা আজ বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।

তাদের ভাষ্য, নিম্নমানের রড ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, বিম-কলামের দুর্বল সংযোগ এবং ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকৌশলের কারণে বহু ভবনের কাঠামো এখনই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভূমিকম্পের সময় এসব দুর্বল অংশ প্রথমে ভেঙে পড়ে এবং সেখান থেকেই শুরু হতে পারে পুরো ভবনের আংশিক বা সম্পূর্ণ ধস।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের আওতায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত এক গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টলাইনে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকায় প্রায় ৮ লাখ ৬৫ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দিনের বেলায় এমন ভূমিকম্প ঘটলে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু এবং ২ লাখ ২৯ হাজার মানুষের আহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (সিডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পাঁচটি সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক ফল্টলাইনের প্রভাববলয়ের মধ্যে রয়েছে। মধুপুর, ডাউকি এবং প্লেট বাউন্ডারি ফল্ট–১, ২ ও ৩ থেকে ভবিষ্যতে ৭ থেকে ৮ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ এত বড় ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর প্রস্তুতি এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে।

বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সোসাইটির সহসভাপতি অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, ভবন নির্মাণ বিধিমালার কঠোর প্রয়োগ ছাড়া এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়। তার মতে, অতীতে বিধিমালা বাস্তবায়নে বড় ধরনের দুর্বলতা ছিল। ভবনের নকশা অনুমোদনের আগে রাজউকের আরও কঠোর যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। তিনি মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সেখানে তৃতীয় পক্ষের স্বাধীন কাঠামোগত মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক হওয়ায় নির্মাণের মান নিশ্চিত করা সহজ হয়েছে।

রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, তাদের আওতাধীন প্রায় ১ হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রায় ২১ লাখ ভবন রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশই একতলা। তবে বহুতল ভবনগুলোর একটি বড় অংশের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে এখনও পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের আরেকটি বড় উদ্বেগ ভবনের ছাদে অতিরিক্ত ওজন চাপানো। আর্কিটেকচারাল কনসালট্যান্সি এলএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্থপতি আহমেদ মুক্তা বলেন, নকশায় বিবেচনা না করা ভারী পানির ট্যাংক, জেনারেটর ও অন্যান্য যান্ত্রিক সরঞ্জাম ভবনের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ভূমিকম্পের সময় এই বাড়তি ওজন ভবনের দোলন বাড়িয়ে দেয় এবং দুর্বল কাঠামো দ্রুত ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করে।

তার মতে, শুধু মূল কাঠামো নয়, ভবনের নন-স্ট্রাকচারাল অংশও প্রাণহানির বড় কারণ হতে পারে। পার্টিশন ওয়াল, ফলস সিলিং, কাঁচের আবরণ এবং বাইরের অলংকরণ ভূমিকম্পে সহজেই ভেঙে পড়ে। মূল ভবন অক্ষত থাকলেও এসব ধ্বংসাবশেষ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, দুর্বল মর্টার দিয়ে নির্মিত ইটের দেয়াল এবং নিচতলা খোলা রেখে নির্মিত ভবন ভূমিকম্পে তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশের নগরাঞ্চলে এমন নির্মাণশৈলী এখনও ব্যাপকভাবে দেখা যায়।

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, "ভূমিকম্প মানুষকে হত্যা করে না, দুর্বল ভবনই মানুষকে হত্যা করে।" তিনি ২০২৩ সালের তুরস্কের ভূমিকম্পের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে প্রায় ৫৩ হাজার ৫০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল মূলত ভবনধসের কারণে। অন্যদিকে ২০১০ সালে হাইতির তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প চিলিতে আঘাত হানলেও শক্তিশালী ভবন নির্মাণের কারণে প্রাণহানি ছিল অনেক কম।

ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমাতে তিনি রাজধানীর ভবনগুলোকে কাঠামোগত পরীক্ষার মাধ্যমে লাল, হলুদ ও সবুজ—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে কোন ভবন আগে সংস্কার বা রেট্রোফিটিং প্রয়োজন, তা দ্রুত নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। তার মতে, দেশের পোশাকশিল্পে গত এক দশকে প্রায় ৫০০ কারখানায় এই পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, ব্যক্তি পর্যায়েও প্রস্তুতি জরুরি। ভারী আসবাবপত্র দেয়ালের সঙ্গে শক্তভাবে আটকে রাখা, কাঁচে সেফটি ফিল্ম ব্যবহার, প্রতিটি ভবনে নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্ধারণ, গ্যাস ও বিদ্যুতের জরুরি শাট-অফ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে নির্ধারিত নিরাপদ জোন সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা প্রয়োজন।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক নরসিংদীর ভূমিকম্পের পর ঢাকায় প্রায় ৩০০টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মতে, বিশেষ করে ২০০৮ সালের পর নির্মিত এবং যথাযথ অনুমোদনবিহীন ভবনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কাঠামোগত মূল্যায়ন জরুরি। একই সঙ্গে পুরোনো ভবনগুলোও পরীক্ষা করে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতের কোনো শক্তিশালী ভূমিকম্প রাজধানীর জন্য ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত