সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 বাংলাদেশবাংলাদেশ

চিংড়ি চাষে হারিয়ে গেল চকরিয়ার সবুজ সুন্দরবন

একসময় কক্সবাজারের চকরিয়ায় ছিল ২১ হাজার একরের ঘন ম্যানগ্রোভ বন। কয়েক দশকের মধ্যে সেই বন উজাড় করে গড়ে উঠেছে চিংড়ির ঘের ও লবণক্ষেত। পরিবেশবিদদের মতে, এর প্রভাব এখনো বহন করছে উপকূলের মানুষ।

চিংড়ি চাষে হারিয়ে গেল চকরিয়ার সবুজ সুন্দরবন
ছবি -সংগৃহীত

দিগন্তজুড়ে বিস্তীর্ণ খোলা জমি। কোথাও বড় গাছ নেই, নেই ঘন সবুজের ছায়া। চারদিকে শুধু মাটির উঁচু বাঁধ দিয়ে ভাগ করা অসংখ্য ছোট-বড় ঘের। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন এক বিশাল জলাধারের জাল বিছিয়ে রাখা হয়েছে।। জোয়ারের সময় আশপাশের নদী-খাল পানিতে ভরে ওঠে। কিন্তু ভাটায় পানি ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত নেমে গেলেও ঘেরের ভেতরের লবণাক্ত পানি একইভাবে আটকে থাকে। প্রকৃতির স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ থামিয়ে এই পানি ধরে রাখা হয় বাণিজ্যিকভাবে বাগদা চিংড়ি চাষের জন্য।আজ যেখানে প্রায় ২১ হাজার একরজুড়ে চিংড়ির ঘের, কয়েক দশক আগেও সেখানে ছিল কক্সবাজারের ঐতিহাসিক চাকরিয়া সুন্দরবন। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই বন ছিল নানা প্রজাতির ম্যানগ্রোভ গাছে ভরপুর। সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, হান্তাল, পশুর, ধুন্দুল, গোলপাতাসহ অসংখ্য দেশীয় গাছের সমারোহ ছিল সেখানে।শুধু গাছই নয়, এই বন ছিল বাঘ, হরিণ, বন্য শূকর, বানর এবং অসংখ্য পাখি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল। নদী-খালজুড়ে ছিল প্রচুর মাছ ও প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো চিংড়ি।কিন্তু সেই বন এখন আর নেই। পুরো এলাকা বদলে গেছে। একসময়ের সবুজ অরণ্য আজ মানুষের স্মৃতির অংশ।

বর্ষাকালে পুরো এলাকাজুড়ে চলে বাগদা চিংড়ির চাষ। আর শুষ্ক মৌসুমে সেই একই জমি পরিণত হয় বিশাল লবণক্ষেতে। যত দূর চোখ যায়, দেখা যায় শুধু সাদা লবণের স্তূপ। চকরিয়া অঞ্চলে লবণ উৎপাদনের ইতিহাসও অনেক পুরোনো। ষাট ও সত্তরের দশক থেকেই এখানে বাণিজ্যিকভাবে লবণ চাষ শুরু হয়। তারও আগে লবণ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে সুন্দরবনের বিপুল পরিমাণ সুন্দরী গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল।

চকরিয়া সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে পরিচিত ছিল। একসময় এই বন প্রায় ৪৫ হাজার একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ছিল।বাংলাদেশ বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০৩ সালে চকরিয়া রেঞ্জের ১৮ হাজার ৫০০ একর এলাকাকে সংরক্ষিত বন (রিজার্ভ ফরেস্ট) ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি আরও ২ হাজার ৫২০ দশমিক ৪৫ একর এলাকাকে সুরক্ষিত বন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।এর ফলে মোট ২১ হাজার ২০ দশমিক ৪৫ একর চকরিয়া সুন্দরবন বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আসে।

১৯২৯ সালে বনভূমির ৩ হাজার ৯১০ একর জমির সংরক্ষিত মর্যাদা বাতিল করে ২৬২টি ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এসব পরিবারকে নিয়ে গড়ে তোলা হয় বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি। বর্তমানে এই সমিতির সদস্যসংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। তবে তখনও পুরো বন ধ্বংস হয়নি।

প্রথমে মানুষের বসতি গড়ে ওঠার কারণে বন কিছুটা কমতে শুরু করলেও, প্রকৃত বিপর্যয় শুরু হয় সত্তরের দশকের শেষ দিকে। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে বাগদা চিংড়ির চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের আশায় বাংলাদেশেও শুরু হয় বাণিজ্যিক চিংড়ি চাষের ব্যাপক সম্প্রসারণ। আর এই সম্প্রসারণের জন্য বেছে নেওয়া হয় চাকরিয়া সুন্দরবনের বিশাল এলাকা। বিশ্বব্যাংক বা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এই এলাকায় প্রকল্প নেওয়ার আগেই বন দখলের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। ১৯৭৭ সালে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি গিয়াসউদ্দিন চিংড়ি চাষ, হাঁস পালন ও কৃষিভিত্তিক প্রকল্পের নামে ৫৬৩ একর ম্যানগ্রোভ বন লিজ নেন। লিজ পাওয়ার পর ওই এলাকার গাছ কেটে ফেলা হয় এবং সেখানে তৈরি করা হয় চিংড়ির ঘের। পরিবেশবিদদের মতে, চকরিয়া সুন্দরবন ধ্বংসের সংগঠিত ও বৃহৎ পরিসরের সূচনা হয় এই ঘটনার মধ্য দিয়েই।

.

আন্তর্জাতিক বাজারে বাগদা চিংড়ির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চকরিয়া সুন্দরবনও পরিণত হয় বাণিজ্যিক বিনিয়োগের কেন্দ্রে। বন সংরক্ষণের পরিবর্তে চিংড়ি চাষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ফলে কয়েক বছরের মধ্যেই হাজার হাজার একর বন হারিয়ে যায়। মৎস্য অধিদপ্তরের কক্সবাজার চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণ অঞ্চলের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালে সরকারের আগ্রহ এবং বিশ্বব্যাংকের সমর্থনে কৃষি ও বন মন্ত্রণালয় চাকরিয়ার রামপুর মৌজার পাঁচ হাজার একর জমি মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণ শুরু হয়। এরপর ১৯৮২ সালে আরও দুই হাজার একর এবং ১৯৮৭ সালে অতিরিক্ত ২১ দশমিক ৭৬ একর জমিও একই উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়।

প্রথম দফায় পাওয়া পাঁচ হাজার একর জমি ৩৯ জন চিংড়ি খামারির কাছে লিজ দেওয়া হয়। এরপর বন কেটে বাঁধ নির্মাণ করে একের পর এক ঘের তৈরি হতে থাকে। স্থানীয় মানুষের ভাষ্য, এসব জমির বেশির ভাগই এলাকার দরিদ্র মানুষের হাতে যায়নি। বরং প্রভাবশালী ও বিত্তশালী ব্যক্তিরাই বড় বড় লিজ পেয়েছিলেন। তারা বাইরের শ্রমিক নয়, স্থানীয় মানুষকেই মজুর হিসেবে ব্যবহার করে বন কেটে ফেলেন। বদরখালীর কৃষক নুরুল কাদের জানান, তিনিও সেই শ্রমিকদের একজন ছিলেন। তার ভাষায়, "দুই বছরের মতো সময় ধরে আমরা গাছ কেটেছি। প্রথমে দা দিয়ে গাছ ফেলা হতো। পরে শুকিয়ে গেলে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুরো এলাকা পরিষ্কার করা হতো।"

পরবর্তীতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়। পাঁচ হাজার একর জমিকে ভাগ করে ১০ একর আকারের ৪৬৮টি প্লট তৈরি করা হয় এবং নতুন করে লিজ দেওয়া হয়। একই সময়ে এডিবির অর্থায়নে আরও দুই হাজার একর জমিকে ১১ একরের প্লটে ভাগ করে ১১৯ জনের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এছাড়া পরীক্ষামূলক চিংড়ি খামার ও অবকাঠামো নির্মাণেও জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি নথিতে এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল ক্ষুদ্র কৃষকদের উন্নয়ন। কিন্তু বাস্তবে সুবিধা পান রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংক একাই ৩০টি প্লট, অর্থাৎ ৩০০ একর জমি পায়। আজও চাকরিয়া সুন্দরবনের মাঝখানে "গ্রামীণ মৎস্য ফাউন্ডেশন"-এর ভবন সেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তবে সব জমি মৎস্য অধিদপ্তরের হাতে যায়নি। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ সালের মধ্যে আন্তমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তে সাত হাজার একর বনভূমি মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে আরও ৬৪০ একর ভূমিহীন কৃষকদের নামে এবং প্রায় ৫৬৪ একর চিংড়ি চাষের জন্য লিজ দেওয়া হয়।

কিন্তু এসব জমির সীমানা কখনোই স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে দখল ধীরে ধীরে আশপাশের বনেও ছড়িয়ে পড়ে। বন বিভাগ তা ঠেকাতে পারেনি।

.

আজ চকরিয়া সুন্দরবনের ২১ হাজার একরের মধ্যে মাত্র চার হাজারের কিছু বেশি এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে কেওড়াসহ কয়েকটি ম্যানগ্রোভ গাছ টিকে আছে। বাকি প্রায় পুরো এলাকাই চিংড়ির ঘের, লবণক্ষেত কিংবা দখল হয়ে গেছে। পরিবেশ ও মানব উন্নয়ন সংস্থা (SEHD)-এর স্যাটেলাইট বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, বাণিজ্যিক চিংড়ি চাষই এই বন ধ্বংসের প্রধান কারণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ম্যানগ্রোভ বন শুধু গাছের সমষ্টি নয়। এটি উপকূলের সবচেয়ে কার্যকর প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই বন ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও উপকূল ভাঙনের শক্তি কমিয়ে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করে। এক সময় চকরিয়া সুন্দরবন ছিল বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ম্যানগ্রোভ বন। এখানে অসংখ্য প্রজাতির প্রাণী বাস করত। নদী-খাল ছিল মাছে ভরা। বন মানুষের জীবিকাও নিশ্চিত করত।

সবকিছু বদলে যায় বন উজাড় হওয়ার পর। এর সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরণ দেখা যায় ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে। সেই ঘূর্ণিঝড়ে দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে প্রায় দেড় লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল কাদের এখনও সেই রাতের কথা ভুলতে পারেন না। তিনি বলেন, "রাত ১০টার পর বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ে। আমার চার বছরের ভাই বাদল স্রোতে ভেসে মারা যায়। পানি প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত উঠেছিল। চাকরিয়া সুন্দরবন থাকলে এত বড় ক্ষতি হতো না। বন জলোচ্ছ্বাসের বড় অংশ আটকে দিত।" তার মতে, বন হারানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবিকাও নষ্ট হয়েছে। আগে নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। বন থেকে কাঠও সংগ্রহ করা যেত। এখন চিংড়ির ঘের প্রভাবশালীদের দখলে। সাধারণ মানুষ সেখানে ঢুকতেই পারে না।

.

পরিবেশবিদদের মতে, চকরিয়া সুন্দরবন পুনরুদ্ধার এখনো অসম্ভব নয়। তবে এজন্য দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। বন বিভাগের কর্মকর্তারাও মনে করেন, পুরো ২১ হাজার একর এলাকাকে আবার বনভূমি হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। ধাপে ধাপে চিংড়ি চাষ বন্ধ করে প্রাকৃতিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের পর বছর লবণ চাষ ও চিংড়ি চাষে মাটির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়েছে। তাই প্রথম কাজ হবে মাটির বাঁধ ভেঙে সমুদ্রের স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা ফিরিয়ে দেওয়া। এতে চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে মাটির লবণাক্ততা কমতে শুরু করবে এবং পরিবেশ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হবে। এরপর প্রয়োজন হলে দেশীয় ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানো যাবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রকৃতিকে নিজে থেকে পুনর্জন্ম নেওয়ার সুযোগ দেওয়া।

থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনে ঠিক এই পদ্ধতিতেই বহু ধ্বংস হওয়া ম্যানগ্রোভ বন আবার ফিরে এসেছে। সেখানে প্রথমে বাঁধ অপসারণ করে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ চালু করা হয়। এরপর প্রকৃতিই নতুন বন গড়ে তুলেছে। গাছ লাগানো হয়েছে শুধু প্রয়োজনীয় স্থানে।

তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বড় বাধা রয়ে গেছে। বিশ্বব্যাংক এখনো উপকূলে চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া ২৪ কোটি মার্কিন ডলারের 'সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ' প্রকল্প ২০২৫ সালে শেষ হলেও এর আওতায় নতুন অবকাঠামো, বাঁধ ও স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে মহেশখালী-মাতারবাড়ী এলাকায় বড় শিল্পাঞ্চর, সমুদ্রবন্দর এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নতুন সড়ক নির্মাণের ফলে আশপাশের পরিবেশেও বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উন্নয়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে চাকরিয়া সুন্দরবন পুনরুদ্ধারের সুযোগ আরও সংকুচিত হবে।

তাদের মতে, চকরিয়া সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে প্রযুক্তির ওপর নয়, বরং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। সরকার যদি সত্যিই জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে চায়, তাহলে উপকূলের এই ঐতিহাসিক ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধারকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রথমে ফিরিয়ে আনতে হবে প্রকৃতির স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা। এরপর দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পুনর্জন্ম দিতে হবে হারিয়ে যাওয়া চাকরিয়া সুন্দরবনকে।

বিষয় : চকরিয়া সুন্দরবন

কাল মহাকাল

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬


চিংড়ি চাষে হারিয়ে গেল চকরিয়ার সবুজ সুন্দরবন

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

দিগন্তজুড়ে বিস্তীর্ণ খোলা জমি। কোথাও বড় গাছ নেই, নেই ঘন সবুজের ছায়া। চারদিকে শুধু মাটির উঁচু বাঁধ দিয়ে ভাগ করা অসংখ্য ছোট-বড় ঘের। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন এক বিশাল জলাধারের জাল বিছিয়ে রাখা হয়েছে।। জোয়ারের সময় আশপাশের নদী-খাল পানিতে ভরে ওঠে। কিন্তু ভাটায় পানি ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত নেমে গেলেও ঘেরের ভেতরের লবণাক্ত পানি একইভাবে আটকে থাকে। প্রকৃতির স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ থামিয়ে এই পানি ধরে রাখা হয় বাণিজ্যিকভাবে বাগদা চিংড়ি চাষের জন্য।আজ যেখানে প্রায় ২১ হাজার একরজুড়ে চিংড়ির ঘের, কয়েক দশক আগেও সেখানে ছিল কক্সবাজারের ঐতিহাসিক চাকরিয়া সুন্দরবন। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই বন ছিল নানা প্রজাতির ম্যানগ্রোভ গাছে ভরপুর। সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, হান্তাল, পশুর, ধুন্দুল, গোলপাতাসহ অসংখ্য দেশীয় গাছের সমারোহ ছিল সেখানে।শুধু গাছই নয়, এই বন ছিল বাঘ, হরিণ, বন্য শূকর, বানর এবং অসংখ্য পাখি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল। নদী-খালজুড়ে ছিল প্রচুর মাছ ও প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো চিংড়ি।কিন্তু সেই বন এখন আর নেই। পুরো এলাকা বদলে গেছে। একসময়ের সবুজ অরণ্য আজ মানুষের স্মৃতির অংশ।

বর্ষাকালে পুরো এলাকাজুড়ে চলে বাগদা চিংড়ির চাষ। আর শুষ্ক মৌসুমে সেই একই জমি পরিণত হয় বিশাল লবণক্ষেতে। যত দূর চোখ যায়, দেখা যায় শুধু সাদা লবণের স্তূপ। চকরিয়া অঞ্চলে লবণ উৎপাদনের ইতিহাসও অনেক পুরোনো। ষাট ও সত্তরের দশক থেকেই এখানে বাণিজ্যিকভাবে লবণ চাষ শুরু হয়। তারও আগে লবণ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে সুন্দরবনের বিপুল পরিমাণ সুন্দরী গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল।

চকরিয়া সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে পরিচিত ছিল। একসময় এই বন প্রায় ৪৫ হাজার একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ছিল।বাংলাদেশ বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০৩ সালে চকরিয়া রেঞ্জের ১৮ হাজার ৫০০ একর এলাকাকে সংরক্ষিত বন (রিজার্ভ ফরেস্ট) ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি আরও ২ হাজার ৫২০ দশমিক ৪৫ একর এলাকাকে সুরক্ষিত বন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।এর ফলে মোট ২১ হাজার ২০ দশমিক ৪৫ একর চকরিয়া সুন্দরবন বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আসে।

১৯২৯ সালে বনভূমির ৩ হাজার ৯১০ একর জমির সংরক্ষিত মর্যাদা বাতিল করে ২৬২টি ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এসব পরিবারকে নিয়ে গড়ে তোলা হয় বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি। বর্তমানে এই সমিতির সদস্যসংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। তবে তখনও পুরো বন ধ্বংস হয়নি।

প্রথমে মানুষের বসতি গড়ে ওঠার কারণে বন কিছুটা কমতে শুরু করলেও, প্রকৃত বিপর্যয় শুরু হয় সত্তরের দশকের শেষ দিকে। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে বাগদা চিংড়ির চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের আশায় বাংলাদেশেও শুরু হয় বাণিজ্যিক চিংড়ি চাষের ব্যাপক সম্প্রসারণ। আর এই সম্প্রসারণের জন্য বেছে নেওয়া হয় চাকরিয়া সুন্দরবনের বিশাল এলাকা। বিশ্বব্যাংক বা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এই এলাকায় প্রকল্প নেওয়ার আগেই বন দখলের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। ১৯৭৭ সালে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি গিয়াসউদ্দিন চিংড়ি চাষ, হাঁস পালন ও কৃষিভিত্তিক প্রকল্পের নামে ৫৬৩ একর ম্যানগ্রোভ বন লিজ নেন। লিজ পাওয়ার পর ওই এলাকার গাছ কেটে ফেলা হয় এবং সেখানে তৈরি করা হয় চিংড়ির ঘের। পরিবেশবিদদের মতে, চকরিয়া সুন্দরবন ধ্বংসের সংগঠিত ও বৃহৎ পরিসরের সূচনা হয় এই ঘটনার মধ্য দিয়েই।

.

আন্তর্জাতিক বাজারে বাগদা চিংড়ির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চকরিয়া সুন্দরবনও পরিণত হয় বাণিজ্যিক বিনিয়োগের কেন্দ্রে। বন সংরক্ষণের পরিবর্তে চিংড়ি চাষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ফলে কয়েক বছরের মধ্যেই হাজার হাজার একর বন হারিয়ে যায়। মৎস্য অধিদপ্তরের কক্সবাজার চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণ অঞ্চলের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালে সরকারের আগ্রহ এবং বিশ্বব্যাংকের সমর্থনে কৃষি ও বন মন্ত্রণালয় চাকরিয়ার রামপুর মৌজার পাঁচ হাজার একর জমি মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণ শুরু হয়। এরপর ১৯৮২ সালে আরও দুই হাজার একর এবং ১৯৮৭ সালে অতিরিক্ত ২১ দশমিক ৭৬ একর জমিও একই উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়।

প্রথম দফায় পাওয়া পাঁচ হাজার একর জমি ৩৯ জন চিংড়ি খামারির কাছে লিজ দেওয়া হয়। এরপর বন কেটে বাঁধ নির্মাণ করে একের পর এক ঘের তৈরি হতে থাকে। স্থানীয় মানুষের ভাষ্য, এসব জমির বেশির ভাগই এলাকার দরিদ্র মানুষের হাতে যায়নি। বরং প্রভাবশালী ও বিত্তশালী ব্যক্তিরাই বড় বড় লিজ পেয়েছিলেন। তারা বাইরের শ্রমিক নয়, স্থানীয় মানুষকেই মজুর হিসেবে ব্যবহার করে বন কেটে ফেলেন। বদরখালীর কৃষক নুরুল কাদের জানান, তিনিও সেই শ্রমিকদের একজন ছিলেন। তার ভাষায়, "দুই বছরের মতো সময় ধরে আমরা গাছ কেটেছি। প্রথমে দা দিয়ে গাছ ফেলা হতো। পরে শুকিয়ে গেলে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুরো এলাকা পরিষ্কার করা হতো।"

পরবর্তীতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়। পাঁচ হাজার একর জমিকে ভাগ করে ১০ একর আকারের ৪৬৮টি প্লট তৈরি করা হয় এবং নতুন করে লিজ দেওয়া হয়। একই সময়ে এডিবির অর্থায়নে আরও দুই হাজার একর জমিকে ১১ একরের প্লটে ভাগ করে ১১৯ জনের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এছাড়া পরীক্ষামূলক চিংড়ি খামার ও অবকাঠামো নির্মাণেও জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি নথিতে এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল ক্ষুদ্র কৃষকদের উন্নয়ন। কিন্তু বাস্তবে সুবিধা পান রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংক একাই ৩০টি প্লট, অর্থাৎ ৩০০ একর জমি পায়। আজও চাকরিয়া সুন্দরবনের মাঝখানে "গ্রামীণ মৎস্য ফাউন্ডেশন"-এর ভবন সেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তবে সব জমি মৎস্য অধিদপ্তরের হাতে যায়নি। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ সালের মধ্যে আন্তমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তে সাত হাজার একর বনভূমি মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে আরও ৬৪০ একর ভূমিহীন কৃষকদের নামে এবং প্রায় ৫৬৪ একর চিংড়ি চাষের জন্য লিজ দেওয়া হয়।

কিন্তু এসব জমির সীমানা কখনোই স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে দখল ধীরে ধীরে আশপাশের বনেও ছড়িয়ে পড়ে। বন বিভাগ তা ঠেকাতে পারেনি।

.

আজ চকরিয়া সুন্দরবনের ২১ হাজার একরের মধ্যে মাত্র চার হাজারের কিছু বেশি এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে কেওড়াসহ কয়েকটি ম্যানগ্রোভ গাছ টিকে আছে। বাকি প্রায় পুরো এলাকাই চিংড়ির ঘের, লবণক্ষেত কিংবা দখল হয়ে গেছে। পরিবেশ ও মানব উন্নয়ন সংস্থা (SEHD)-এর স্যাটেলাইট বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, বাণিজ্যিক চিংড়ি চাষই এই বন ধ্বংসের প্রধান কারণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ম্যানগ্রোভ বন শুধু গাছের সমষ্টি নয়। এটি উপকূলের সবচেয়ে কার্যকর প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই বন ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও উপকূল ভাঙনের শক্তি কমিয়ে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করে। এক সময় চকরিয়া সুন্দরবন ছিল বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ম্যানগ্রোভ বন। এখানে অসংখ্য প্রজাতির প্রাণী বাস করত। নদী-খাল ছিল মাছে ভরা। বন মানুষের জীবিকাও নিশ্চিত করত।

সবকিছু বদলে যায় বন উজাড় হওয়ার পর। এর সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরণ দেখা যায় ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে। সেই ঘূর্ণিঝড়ে দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে প্রায় দেড় লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল কাদের এখনও সেই রাতের কথা ভুলতে পারেন না। তিনি বলেন, "রাত ১০টার পর বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ে। আমার চার বছরের ভাই বাদল স্রোতে ভেসে মারা যায়। পানি প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত উঠেছিল। চাকরিয়া সুন্দরবন থাকলে এত বড় ক্ষতি হতো না। বন জলোচ্ছ্বাসের বড় অংশ আটকে দিত।" তার মতে, বন হারানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবিকাও নষ্ট হয়েছে। আগে নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। বন থেকে কাঠও সংগ্রহ করা যেত। এখন চিংড়ির ঘের প্রভাবশালীদের দখলে। সাধারণ মানুষ সেখানে ঢুকতেই পারে না।

.

পরিবেশবিদদের মতে, চকরিয়া সুন্দরবন পুনরুদ্ধার এখনো অসম্ভব নয়। তবে এজন্য দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। বন বিভাগের কর্মকর্তারাও মনে করেন, পুরো ২১ হাজার একর এলাকাকে আবার বনভূমি হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। ধাপে ধাপে চিংড়ি চাষ বন্ধ করে প্রাকৃতিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের পর বছর লবণ চাষ ও চিংড়ি চাষে মাটির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়েছে। তাই প্রথম কাজ হবে মাটির বাঁধ ভেঙে সমুদ্রের স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা ফিরিয়ে দেওয়া। এতে চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে মাটির লবণাক্ততা কমতে শুরু করবে এবং পরিবেশ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হবে। এরপর প্রয়োজন হলে দেশীয় ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানো যাবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রকৃতিকে নিজে থেকে পুনর্জন্ম নেওয়ার সুযোগ দেওয়া।

থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনে ঠিক এই পদ্ধতিতেই বহু ধ্বংস হওয়া ম্যানগ্রোভ বন আবার ফিরে এসেছে। সেখানে প্রথমে বাঁধ অপসারণ করে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ চালু করা হয়। এরপর প্রকৃতিই নতুন বন গড়ে তুলেছে। গাছ লাগানো হয়েছে শুধু প্রয়োজনীয় স্থানে।

তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বড় বাধা রয়ে গেছে। বিশ্বব্যাংক এখনো উপকূলে চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া ২৪ কোটি মার্কিন ডলারের 'সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ' প্রকল্প ২০২৫ সালে শেষ হলেও এর আওতায় নতুন অবকাঠামো, বাঁধ ও স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে মহেশখালী-মাতারবাড়ী এলাকায় বড় শিল্পাঞ্চর, সমুদ্রবন্দর এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নতুন সড়ক নির্মাণের ফলে আশপাশের পরিবেশেও বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উন্নয়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে চাকরিয়া সুন্দরবন পুনরুদ্ধারের সুযোগ আরও সংকুচিত হবে।

তাদের মতে, চকরিয়া সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে প্রযুক্তির ওপর নয়, বরং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। সরকার যদি সত্যিই জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে চায়, তাহলে উপকূলের এই ঐতিহাসিক ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধারকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রথমে ফিরিয়ে আনতে হবে প্রকৃতির স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা। এরপর দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পুনর্জন্ম দিতে হবে হারিয়ে যাওয়া চাকরিয়া সুন্দরবনকে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত