বানিজ্য
বিশ্ববাজারে শুধু জেনেরিক ওষুধ নয়, উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর জটিল ওষুধ উৎপাদনেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধশিল্প। স্থানীয় কোম্পানিগুলো এখন বায়োলজিকস, ইমিউনোথেরাপি, ক্যানসারের আধুনিক ওষুধ এবং বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত উচ্চমূল্যের ওষুধ উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিবর্তন দেশের রোগীদের উন্নত চিকিৎসা সহজলভ্য করার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের এই অগ্রযাত্রার ভিত্তি তৈরি হয় ২০১৩ সালে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে হেপাটাইটিস সি চিকিৎসার ওষুধ সোফোসবুভির প্রতি ট্যাবলেটের দাম ছিল প্রায় এক হাজার ডলার। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ট্রিপস (TRIPS) সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ওষুধটির জেনেরিক সংস্করণ উৎপাদন শুরু করে। ফলে চিকিৎসার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং অনেক বেশি রোগী ওষুধটির নাগাল পান।
এখন সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আরও জটিল ও ব্যয়বহুল ওষুধ তৈরির দিকে নজর দিচ্ছে দেশের কোম্পানিগুলো।
এর সাম্প্রতিক উদাহরণ বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের সিস্টিক ফাইব্রোসিসের ওষুধ ট্রিকো। এটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ভার্টেক্স ফার্মাসিউটিক্যালসের ট্রিকাফটা (কিছু দেশে কাফট্রিও নামে পরিচিত) ওষুধের জেনেরিক সংস্করণ। কোম্পানির দাবি, তাদের উৎপাদিত ওষুধটি মূল ওষুধের তুলনায় প্রায় ৯৬ শতাংশ কম দামে পাওয়া যাচ্ছে, ফলে রোগীদের চিকিৎসা অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধশিল্প দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ পূরণ করছে। একই সঙ্গে প্রায় ১৬৬টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে বছরে ২০ কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে।
দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শুধু সাধারণ জেনেরিক নয়, বরং উচ্চপ্রযুক্তির ইনজেকশন, কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি এবং বায়োলজিকস উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তুলছে।
এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ অনুমোদিত ইনজেক্টেবল উৎপাদন সুবিধা অর্জনকারী বাংলাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জটিল ইনজেক্টেবল ওষুধ রপ্তানি শুরু করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিরাপদ, কার্যকর ও সাশ্রয়ী ওষুধ উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য।
ডেনমার্কভিত্তিক নোভো নরডিস্কের সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তির আওতায় এসকেএফ আধুনিক ইনসুলিন উৎপাদন করছে। এছাড়া কোভিড-১৯ মহামারির সময় প্রতিষ্ঠানটি রেমডেসিভির, মলনুপিরাভির ও নির্মাট্রেলভির-রিটোনাভিরের জেনেরিক সংস্করণ তৈরি করে বাংলাদেশসহ ৪৯টি দেশে সরবরাহ করেছিল।
এখন প্রতিষ্ঠানটি ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইমিউনোথেরাপি ও বায়োলজিকস ওষুধ উৎপাদনেও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। তাদের অনকোলজি কারখানা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএমপি এবং ব্রাজিলের অ্যানভিসা অনুমোদনও পেয়েছে।
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রাব্বুর রেজা বলেন, সিস্টিক ফাইব্রোসিসের ওষুধ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত মূলত ব্যবসায়িক লাভের জন্য নয়, রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্য থেকেই নেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালে ইকুয়েডর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, ভারত ও যুক্তরাজ্যের রোগী সংগঠন রাইট টু ব্রিদ সাশ্রয়ী মূল্যের বিকল্প ওষুধ তৈরির অনুরোধ জানালে প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা শুরু করে। প্রায় তিন বছরের গবেষণার পর তারা নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করে।
তার দাবি, যেখানে মূল ওষুধের বার্ষিক চিকিৎসা ব্যয় প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার, সেখানে বেক্সিমকোর সংস্করণে প্রতি রোগীর বছরে ব্যয় প্রায় ১২ হাজার ৭৫০ ডলার।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর ট্রিপস সুবিধা সীমিত হয়ে গেলে লাইসেন্স বা রয়্যালটি ছাড়া পেটেন্টকৃত ওষুধ উৎপাদন আগের মতো সহজ নাও থাকতে পারে।
বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস জানিয়েছে, স্থানীয়ভাবে ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদনের ফলে চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় ও বিপণন পরিচালক মাহমুদুল হক পল্লব বলেন, ২০০৬ সালে তারা অনকোলজি খাতে কাজ শুরু করে, যখন অধিকাংশ ক্যানসারের ওষুধ আমদানিনির্ভর ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল ছিল।
তিনি জানান, তাদের উৎপাদিত একটি কেমোথেরাপি ওষুধের প্রতি ডোজের দাম প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে কমে ৭০০ টাকায় নেমে আসে। বর্তমানে ফুসফুসের ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের টার্গেটেড থেরাপি ও ইমিউনোথেরাপিও দেশেই উৎপাদন হচ্ছে।
তার ভাষ্য, বিদেশে কয়েক মিলিয়ন টাকা ব্যয় হওয়া কিছু ইমিউনোথেরাপি চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে প্রতি সাইকেলে প্রায় দেড় লাখ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি), সক্রিয় ওষুধ উপাদান (এপিআই) উৎপাদন এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন সক্ষমতার ওপর।
ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান আবদুল মুক্তাদির বলেন, নতুন অণু আবিষ্কারই শুধু গবেষণা নয়; আধুনিক প্রযুক্তি, উৎপাদন সক্ষমতা ও জটিল ওষুধ তৈরির প্রক্রিয়াও দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফল। স্থানীয়ভাবে এপিআই উৎপাদন বাড়ানো গেলে উৎপাদন ব্যয় আরও কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
অন্যদিকে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস জানিয়েছে, তারা বর্তমানে ৭০০টির বেশি জেনেরিক অণুর ১ হাজার ৮০০টিরও বেশি ডোজ ফর্ম উৎপাদন করছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সেমাগ্লুটাইড ও ইমাটিনিব মেসাইলেটের মতো ওষুধ আমদানিকৃত ব্র্যান্ডের তুলনায় অনেক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।
রেনাটা পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার কবির বলেন, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাজারে সফল হতে হলে শুধু উৎপাদন দক্ষতা নয়, গবেষণা, ক্লিনিক্যাল উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার মানদণ্ড পূরণের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।
তার মতে, বিশ্বমানের ওষুধ উৎপাদনের পথ দীর্ঘ, ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বাংলাদেশের তরুণ মানবসম্পদই এ শিল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিষয় : বাংলাদেশের ওষুধশিল্প
2.png)
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
বিশ্ববাজারে শুধু জেনেরিক ওষুধ নয়, উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর জটিল ওষুধ উৎপাদনেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধশিল্প। স্থানীয় কোম্পানিগুলো এখন বায়োলজিকস, ইমিউনোথেরাপি, ক্যানসারের আধুনিক ওষুধ এবং বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত উচ্চমূল্যের ওষুধ উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিবর্তন দেশের রোগীদের উন্নত চিকিৎসা সহজলভ্য করার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের এই অগ্রযাত্রার ভিত্তি তৈরি হয় ২০১৩ সালে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে হেপাটাইটিস সি চিকিৎসার ওষুধ সোফোসবুভির প্রতি ট্যাবলেটের দাম ছিল প্রায় এক হাজার ডলার। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ট্রিপস (TRIPS) সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ওষুধটির জেনেরিক সংস্করণ উৎপাদন শুরু করে। ফলে চিকিৎসার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং অনেক বেশি রোগী ওষুধটির নাগাল পান।
এখন সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আরও জটিল ও ব্যয়বহুল ওষুধ তৈরির দিকে নজর দিচ্ছে দেশের কোম্পানিগুলো।
এর সাম্প্রতিক উদাহরণ বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের সিস্টিক ফাইব্রোসিসের ওষুধ ট্রিকো। এটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ভার্টেক্স ফার্মাসিউটিক্যালসের ট্রিকাফটা (কিছু দেশে কাফট্রিও নামে পরিচিত) ওষুধের জেনেরিক সংস্করণ। কোম্পানির দাবি, তাদের উৎপাদিত ওষুধটি মূল ওষুধের তুলনায় প্রায় ৯৬ শতাংশ কম দামে পাওয়া যাচ্ছে, ফলে রোগীদের চিকিৎসা অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধশিল্প দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ পূরণ করছে। একই সঙ্গে প্রায় ১৬৬টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে বছরে ২০ কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে।
দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শুধু সাধারণ জেনেরিক নয়, বরং উচ্চপ্রযুক্তির ইনজেকশন, কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি এবং বায়োলজিকস উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তুলছে।
এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ অনুমোদিত ইনজেক্টেবল উৎপাদন সুবিধা অর্জনকারী বাংলাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জটিল ইনজেক্টেবল ওষুধ রপ্তানি শুরু করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিরাপদ, কার্যকর ও সাশ্রয়ী ওষুধ উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য।
ডেনমার্কভিত্তিক নোভো নরডিস্কের সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তির আওতায় এসকেএফ আধুনিক ইনসুলিন উৎপাদন করছে। এছাড়া কোভিড-১৯ মহামারির সময় প্রতিষ্ঠানটি রেমডেসিভির, মলনুপিরাভির ও নির্মাট্রেলভির-রিটোনাভিরের জেনেরিক সংস্করণ তৈরি করে বাংলাদেশসহ ৪৯টি দেশে সরবরাহ করেছিল।
এখন প্রতিষ্ঠানটি ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইমিউনোথেরাপি ও বায়োলজিকস ওষুধ উৎপাদনেও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। তাদের অনকোলজি কারখানা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএমপি এবং ব্রাজিলের অ্যানভিসা অনুমোদনও পেয়েছে।
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রাব্বুর রেজা বলেন, সিস্টিক ফাইব্রোসিসের ওষুধ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত মূলত ব্যবসায়িক লাভের জন্য নয়, রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্য থেকেই নেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালে ইকুয়েডর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, ভারত ও যুক্তরাজ্যের রোগী সংগঠন রাইট টু ব্রিদ সাশ্রয়ী মূল্যের বিকল্প ওষুধ তৈরির অনুরোধ জানালে প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা শুরু করে। প্রায় তিন বছরের গবেষণার পর তারা নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করে।
তার দাবি, যেখানে মূল ওষুধের বার্ষিক চিকিৎসা ব্যয় প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার, সেখানে বেক্সিমকোর সংস্করণে প্রতি রোগীর বছরে ব্যয় প্রায় ১২ হাজার ৭৫০ ডলার।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর ট্রিপস সুবিধা সীমিত হয়ে গেলে লাইসেন্স বা রয়্যালটি ছাড়া পেটেন্টকৃত ওষুধ উৎপাদন আগের মতো সহজ নাও থাকতে পারে।
বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস জানিয়েছে, স্থানীয়ভাবে ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদনের ফলে চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় ও বিপণন পরিচালক মাহমুদুল হক পল্লব বলেন, ২০০৬ সালে তারা অনকোলজি খাতে কাজ শুরু করে, যখন অধিকাংশ ক্যানসারের ওষুধ আমদানিনির্ভর ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল ছিল।
তিনি জানান, তাদের উৎপাদিত একটি কেমোথেরাপি ওষুধের প্রতি ডোজের দাম প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে কমে ৭০০ টাকায় নেমে আসে। বর্তমানে ফুসফুসের ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের টার্গেটেড থেরাপি ও ইমিউনোথেরাপিও দেশেই উৎপাদন হচ্ছে।
তার ভাষ্য, বিদেশে কয়েক মিলিয়ন টাকা ব্যয় হওয়া কিছু ইমিউনোথেরাপি চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে প্রতি সাইকেলে প্রায় দেড় লাখ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি), সক্রিয় ওষুধ উপাদান (এপিআই) উৎপাদন এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন সক্ষমতার ওপর।
ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান আবদুল মুক্তাদির বলেন, নতুন অণু আবিষ্কারই শুধু গবেষণা নয়; আধুনিক প্রযুক্তি, উৎপাদন সক্ষমতা ও জটিল ওষুধ তৈরির প্রক্রিয়াও দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফল। স্থানীয়ভাবে এপিআই উৎপাদন বাড়ানো গেলে উৎপাদন ব্যয় আরও কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
অন্যদিকে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস জানিয়েছে, তারা বর্তমানে ৭০০টির বেশি জেনেরিক অণুর ১ হাজার ৮০০টিরও বেশি ডোজ ফর্ম উৎপাদন করছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সেমাগ্লুটাইড ও ইমাটিনিব মেসাইলেটের মতো ওষুধ আমদানিকৃত ব্র্যান্ডের তুলনায় অনেক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।
রেনাটা পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার কবির বলেন, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাজারে সফল হতে হলে শুধু উৎপাদন দক্ষতা নয়, গবেষণা, ক্লিনিক্যাল উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার মানদণ্ড পূরণের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।
তার মতে, বিশ্বমানের ওষুধ উৎপাদনের পথ দীর্ঘ, ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বাংলাদেশের তরুণ মানবসম্পদই এ শিল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি।
2.png)