সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

  বানিজ্য বানিজ্য

বৃষ্টির অজুহাতে আকাশচুম্বী বাজারদর, অস্বস্তিতে ক্রেতারা

টানা বর্ষণ ও বন্যার প্রভাবে সরবরাহ সংকটে রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজি ও মাছের দামে আগুন। গত সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।

বৃষ্টির অজুহাতে আকাশচুম্বী বাজারদর, অস্বস্তিতে ক্রেতারা
ছবি -সংগৃহীত

টানা বৃষ্টি আর অকাল বন্যার প্রভাবে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় সবজি, মাছ ও মাংসের দাম এক লাফে বেশ অনেকটা বেড়ে গেছে। বৃষ্টির সুযোগে কোনো কোনো অসাধু বিক্রেতা দাম বাড়িয়ে বাড়তি মুনাফা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির দাম এখন ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। এক সপ্তাহ আগেও যেসব সবজি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। বাজারের অন্যতম প্রয়োজনীয় পণ্য কাঁচা মরিচের দাম যেন রীতিমতো ছক্কা হাঁকাচ্ছে। গত সপ্তাহের ১২০ টাকার মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। এছাড়া বেগুন, করলা, বরবটি ও কচুরলতিসহ প্রায় সব সবজিই এখন ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে আটকে আছে।

সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। আড়তে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। সরবরাহের এই সংকট দ্রুত না কাটলে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বৃষ্টির দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ীরা অহেতুক দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

সবজির মতো অস্থির মাছের বাজারও। মাঝারি ও বড় সাইজের তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৬০ টাকা এবং রুই মাছের কেজি ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম তো আরও চড়া, আকারভেদে তা ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়েছে। বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ কম থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় মাছের দাম কেজিতে অন্তত ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে।

একই চিত্র মুরগি ও ডিমের বাজারেও। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ২০০ টাকা ছুঁয়েছে, যা আগে ছিল ১৭০-১৮০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকায়। পাশাপাশি ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে আলু ও পেঁয়াজের বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলছে, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে এই দুই পণ্য।

বাজারে সব পণ্যের দাম বাড়লেও আয়ের সাথে সামঞ্জস্য করতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারের এই উত্তাপ কমার কোনো লক্ষণ দেখছেন না ভুক্তভোগী ক্রেতারা।

বিষয় : রাজধানী রাজধানী

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


বৃষ্টির অজুহাতে আকাশচুম্বী বাজারদর, অস্বস্তিতে ক্রেতারা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

টানা বৃষ্টি আর অকাল বন্যার প্রভাবে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় সবজি, মাছ ও মাংসের দাম এক লাফে বেশ অনেকটা বেড়ে গেছে। বৃষ্টির সুযোগে কোনো কোনো অসাধু বিক্রেতা দাম বাড়িয়ে বাড়তি মুনাফা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির দাম এখন ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। এক সপ্তাহ আগেও যেসব সবজি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। বাজারের অন্যতম প্রয়োজনীয় পণ্য কাঁচা মরিচের দাম যেন রীতিমতো ছক্কা হাঁকাচ্ছে। গত সপ্তাহের ১২০ টাকার মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। এছাড়া বেগুন, করলা, বরবটি ও কচুরলতিসহ প্রায় সব সবজিই এখন ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে আটকে আছে।

সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। আড়তে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। সরবরাহের এই সংকট দ্রুত না কাটলে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বৃষ্টির দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ীরা অহেতুক দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

সবজির মতো অস্থির মাছের বাজারও। মাঝারি ও বড় সাইজের তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৬০ টাকা এবং রুই মাছের কেজি ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম তো আরও চড়া, আকারভেদে তা ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়েছে। বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ কম থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় মাছের দাম কেজিতে অন্তত ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে।

একই চিত্র মুরগি ও ডিমের বাজারেও। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ২০০ টাকা ছুঁয়েছে, যা আগে ছিল ১৭০-১৮০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকায়। পাশাপাশি ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে আলু ও পেঁয়াজের বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলছে, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে এই দুই পণ্য।

বাজারে সব পণ্যের দাম বাড়লেও আয়ের সাথে সামঞ্জস্য করতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারের এই উত্তাপ কমার কোনো লক্ষণ দেখছেন না ভুক্তভোগী ক্রেতারা।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত