সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 প্রবাসপ্রবাস

কানাডায় বাবা-মাকে নেওয়ার পথ বন্ধ, উদ্বেগে অভিবাসীরা

কানাডার প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস (পিজিপি) স্পন্সরশিপ কর্মসূচিতে নতুন আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের আবেদনজট কমাতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যদিও সুপার ভিসা কর্মসূচি চালু থাকছে।

কানাডায় বাবা-মাকে নেওয়ার পথ বন্ধ, উদ্বেগে অভিবাসীরা
ছবি -সংগৃহীত

কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিসহ হাজারো অভিবাসী পরিবারের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা এসেছে। বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদিকে স্থায়ীভাবে কানাডায় নিয়ে যাওয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পথ প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস (পিজিপি) স্পন্সরশিপ প্রোগ্রামে নতুন আবেদন গ্রহণ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার পুনর্মিলনের অপেক্ষায় থাকা অনেক অভিবাসীর পরিকল্পনা আপাতত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

গত বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে কানাডার অভিবাসন বিভাগ ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) জানায়, দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, সুশৃঙ্খল ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে ইতোমধ্যে জমা পড়া আবেদনকারীদের জন্য স্বস্তির খবরও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২০২৫-২০২৭ সালের অভিবাসন পরিকল্পনার আওতায় আগে থেকে জমা থাকা আবেদনগুলোর কার্যক্রম আগের মতোই চলবে। চলতি বছরে পূর্বে জমা দেওয়া আবেদন থেকে প্রায় ১৫ হাজার ব্যক্তিকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

অভিবাসন বিভাগের তথ্য বলছে, পিজিপি কর্মসূচিতে আবেদনকারীর সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের নির্ধারিত কোটার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে বিপুল আবেদনজট তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নতুন আবেদন গ্রহণ এবং সম্ভাব্য স্পন্সরদের আবেদন করার আমন্ত্রণ—দুটিই স্থগিত রাখা হয়েছে।

কানাডিয়ান প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে লটারিভিত্তিক পদ্ধতিতে আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকে বর্তমানে এই কর্মসূচির আওতায় ৬০ হাজার ৫০০টিরও বেশি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমান গতিতে এসব আবেদন শেষ করতে আড়াই বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে পরিবারকে সাময়িকভাবে সঙ্গে রাখার একটি বিকল্প ব্যবস্থা এখনো খোলা রয়েছে। আইআরসিসি জানিয়েছে, সুপার ভিসা কর্মসূচি আগের মতোই চালু থাকবে। এই ভিসার মাধ্যমে বাবা-মা বা দাদা-দাদিরা একবারে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কানাডায় অবস্থান করতে পারবেন। পাশাপাশি ১০ বছর পর্যন্ত একাধিকবার দেশটিতে যাতায়াতের সুযোগও পাবেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পিজিপি কর্মসূচির আওতায় ২৭ হাজার ৩৩০ জন স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন পেয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। একই সময়ে সুপার ভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৫৩ হাজার ৬৯৫টি, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আবেদন স্থগিতের ফলে পরিবার পুনর্মিলনের প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক অভিবাসী পরিবার, যারা পিজিপি কর্মসূচির মাধ্যমে বয়স্ক বাবা-মাকে স্থায়ীভাবে কানাডায় আনার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের এখন বিকল্প হিসেবে সুপার ভিসার ওপরই নির্ভর করতে হবে যতদিন না সরকার নতুন করে আবেদন গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানায়।

বিষয় : কানাডা প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস (পিজিপি) স্পন্সরশিপ প্রোগ্রাম

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


কানাডায় বাবা-মাকে নেওয়ার পথ বন্ধ, উদ্বেগে অভিবাসীরা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিসহ হাজারো অভিবাসী পরিবারের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা এসেছে। বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদিকে স্থায়ীভাবে কানাডায় নিয়ে যাওয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পথ প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস (পিজিপি) স্পন্সরশিপ প্রোগ্রামে নতুন আবেদন গ্রহণ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার পুনর্মিলনের অপেক্ষায় থাকা অনেক অভিবাসীর পরিকল্পনা আপাতত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

গত বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে কানাডার অভিবাসন বিভাগ ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) জানায়, দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, সুশৃঙ্খল ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে ইতোমধ্যে জমা পড়া আবেদনকারীদের জন্য স্বস্তির খবরও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২০২৫-২০২৭ সালের অভিবাসন পরিকল্পনার আওতায় আগে থেকে জমা থাকা আবেদনগুলোর কার্যক্রম আগের মতোই চলবে। চলতি বছরে পূর্বে জমা দেওয়া আবেদন থেকে প্রায় ১৫ হাজার ব্যক্তিকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

অভিবাসন বিভাগের তথ্য বলছে, পিজিপি কর্মসূচিতে আবেদনকারীর সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের নির্ধারিত কোটার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে বিপুল আবেদনজট তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নতুন আবেদন গ্রহণ এবং সম্ভাব্য স্পন্সরদের আবেদন করার আমন্ত্রণ—দুটিই স্থগিত রাখা হয়েছে।

কানাডিয়ান প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে লটারিভিত্তিক পদ্ধতিতে আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকে বর্তমানে এই কর্মসূচির আওতায় ৬০ হাজার ৫০০টিরও বেশি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমান গতিতে এসব আবেদন শেষ করতে আড়াই বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে পরিবারকে সাময়িকভাবে সঙ্গে রাখার একটি বিকল্প ব্যবস্থা এখনো খোলা রয়েছে। আইআরসিসি জানিয়েছে, সুপার ভিসা কর্মসূচি আগের মতোই চালু থাকবে। এই ভিসার মাধ্যমে বাবা-মা বা দাদা-দাদিরা একবারে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কানাডায় অবস্থান করতে পারবেন। পাশাপাশি ১০ বছর পর্যন্ত একাধিকবার দেশটিতে যাতায়াতের সুযোগও পাবেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পিজিপি কর্মসূচির আওতায় ২৭ হাজার ৩৩০ জন স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন পেয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। একই সময়ে সুপার ভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৫৩ হাজার ৬৯৫টি, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আবেদন স্থগিতের ফলে পরিবার পুনর্মিলনের প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক অভিবাসী পরিবার, যারা পিজিপি কর্মসূচির মাধ্যমে বয়স্ক বাবা-মাকে স্থায়ীভাবে কানাডায় আনার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের এখন বিকল্প হিসেবে সুপার ভিসার ওপরই নির্ভর করতে হবে যতদিন না সরকার নতুন করে আবেদন গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানায়।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত