প্রবাস
জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। সেই আমেরিকার মাটিতেই কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে খাবার ডেলিভারি দিতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ গেল মো. মাহফুজুল হক নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশির। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ফিলাডেলফিয়া পুলিশের প্রধান পরিদর্শক স্কট স্মল জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের সাউথ ইথান স্ট্রিটের ১০০০ নম্বর ব্লকে গুলির শব্দ পাওয়ার খবর আসে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাহফুজুল হককে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে। তার মাথার পেছনের অংশে গুলির আঘাত ছিল। ঘটনাস্থলেই একটি গাড়ি চালু অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পাশে পড়ে ছিল তার ডোরড্যাশের ডেলিভারি ব্যাগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও রাত ১০টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি 'পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড' বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের মোটিভ নিয়ে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মাহফুজুল হক যেখানে খাবার ডেলিভারি দিতে গিয়েছিলেন, সেই বাড়ির বাসিন্দারা কোনো খাবারের অর্ডার দেননি। অর্থাৎ, ডেলিভারির ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে তাকে ডেকে নিয়ে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে রাইফেলের দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে খুব কাছ থেকেই তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলায় অংশ নেওয়া তিন সন্দেহভাজন মুখোশধারী ছিল এবং তারা গাঢ় রঙের পোশাক পরিহিত ছিল। ঘটনাস্থলের কাছেই আরেকটি খাবারভর্তি ব্যাগ পাওয়া গেছে, তবে সেটির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই চলছে।
নিহত মাহফুজুল হক নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়ার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পেশাদার জীবনের পাশাপাশি আগে আল-শাম উইলো গ্রোভ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের মাতম। স্ত্রী ও ১৪ বছর বয়সী এক সন্তান রেখে গেছেন তিনি।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে খাবার ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান ডোরড্যাশ। প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা মাহফুজুল হকের মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার দাবি করেছেন।
বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি নিহত
2.png)
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। সেই আমেরিকার মাটিতেই কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে খাবার ডেলিভারি দিতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ গেল মো. মাহফুজুল হক নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশির। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ফিলাডেলফিয়া পুলিশের প্রধান পরিদর্শক স্কট স্মল জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের সাউথ ইথান স্ট্রিটের ১০০০ নম্বর ব্লকে গুলির শব্দ পাওয়ার খবর আসে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাহফুজুল হককে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে। তার মাথার পেছনের অংশে গুলির আঘাত ছিল। ঘটনাস্থলেই একটি গাড়ি চালু অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পাশে পড়ে ছিল তার ডোরড্যাশের ডেলিভারি ব্যাগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও রাত ১০টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি 'পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড' বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের মোটিভ নিয়ে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মাহফুজুল হক যেখানে খাবার ডেলিভারি দিতে গিয়েছিলেন, সেই বাড়ির বাসিন্দারা কোনো খাবারের অর্ডার দেননি। অর্থাৎ, ডেলিভারির ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে তাকে ডেকে নিয়ে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে রাইফেলের দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে খুব কাছ থেকেই তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলায় অংশ নেওয়া তিন সন্দেহভাজন মুখোশধারী ছিল এবং তারা গাঢ় রঙের পোশাক পরিহিত ছিল। ঘটনাস্থলের কাছেই আরেকটি খাবারভর্তি ব্যাগ পাওয়া গেছে, তবে সেটির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই চলছে।
নিহত মাহফুজুল হক নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়ার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পেশাদার জীবনের পাশাপাশি আগে আল-শাম উইলো গ্রোভ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের মাতম। স্ত্রী ও ১৪ বছর বয়সী এক সন্তান রেখে গেছেন তিনি।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে খাবার ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান ডোরড্যাশ। প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা মাহফুজুল হকের মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার দাবি করেছেন।
2.png)