সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 রাজনীতিরাজনীতি

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা এখনো অধরা, বাস্তবায়নে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি মান্নার

অভ্যুত্থানের দুই বছর পরেও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিয়ে হতাশ রাজনৈতিক নেতারা। সংসদ নয়, প্রয়োজনে রাজপথেই সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছেন বক্তারা।

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা এখনো অধরা, বাস্তবায়নে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি মান্নার
ছবি -সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন ফিরে ফিরে আসছে একই প্রশ্ন—যে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল, তা কতটুকু অর্জিত হয়েছে? বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ (এবি পার্টি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই আক্ষেপই ধ্বনিত হলো দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের কণ্ঠে। ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক এই সভায় বক্তারা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ঢিলেমির বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, "জুলাই অভ্যুত্থানের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল, আমরা তার ধারে কাছেও যেতে পারিনি। মানুষ এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিভ্রান্তিতে আছে। সংসদে এক পক্ষ বলছে সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালিত হবে, অন্য পক্ষ বলছে টালবাহানা চলছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ কোনো সুরাহা দেখছে না।" মান্না অভিযোগ করেন, জনগণের জীবন বদলের জন্য যেসব প্রস্তাব ছিল, তার অনেকগুলোই এখনকার সংস্কার প্রক্রিয়ায় উপেক্ষিত। তিনি রাজনৈতিক কর্মীদের হতাশ না হয়ে ‘হতাশার মধ্যেও আশার চাষ’ করার আহ্বান জানান।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা রক্ত আর দুর্নীতির দায় নিয়ে পালিয়েছেন। তিনি ফিরতে পারবেন না। শেখ হাসিনার গোপালগঞ্জে যাওয়ার ইচ্ছা বা অনুশোচনা—সবই সাজানো গল্প। তিনি বলেন, ১৭ বছরের গড়ে তোলা ফ্যাসিবাদী কাঠামো চার মাসে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এটি সময়সাপেক্ষ। তবে ফ্যাসিবাদ যাতে আর ফিরতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ড. রিপন এ সময় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য ফ্যাসিবাদকেই খুশি করে। গণতন্ত্রের স্বার্থে সব দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, জুলাই আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিয়েছে। অথচ দুর্ভাগ্যজনকভাবে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, "সংসদে সমাধান না হলে আমরা রাজপথেই এর সুষ্ঠু সমাধান খুঁজব। জনতার আদালতেই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে।"

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, জুলাই শুধু শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন ছিল না, ছিল ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন থেকে মুক্তির লড়াই। এখন আদালতের দিকে তাকিয়ে না থেকে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নই হবে মূল লক্ষ্য।

সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, অনেকে জুলাইয়ের চেতনাকে অপমান করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা জুলাইকে বুকে ধারণ করেই লড়াই চালিয়ে যাবো। এ দেশে আমাদের পালানোর জায়গা নেই, এখানেই আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, শফিকুল আলম এবং সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। বক্তাদের সুর ছিল অভিন্ন—সংস্কারের গতি বাড়াতে হবে এবং জুলাইয়ের চেতনা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বিষয় : জুলাই সনদ মাহমুদুর রহমান মান্না

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬


জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা এখনো অধরা, বাস্তবায়নে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি মান্নার

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন ফিরে ফিরে আসছে একই প্রশ্ন—যে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল, তা কতটুকু অর্জিত হয়েছে? বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ (এবি পার্টি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই আক্ষেপই ধ্বনিত হলো দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের কণ্ঠে। ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক এই সভায় বক্তারা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ঢিলেমির বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, "জুলাই অভ্যুত্থানের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল, আমরা তার ধারে কাছেও যেতে পারিনি। মানুষ এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিভ্রান্তিতে আছে। সংসদে এক পক্ষ বলছে সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালিত হবে, অন্য পক্ষ বলছে টালবাহানা চলছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ কোনো সুরাহা দেখছে না।" মান্না অভিযোগ করেন, জনগণের জীবন বদলের জন্য যেসব প্রস্তাব ছিল, তার অনেকগুলোই এখনকার সংস্কার প্রক্রিয়ায় উপেক্ষিত। তিনি রাজনৈতিক কর্মীদের হতাশ না হয়ে ‘হতাশার মধ্যেও আশার চাষ’ করার আহ্বান জানান।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা রক্ত আর দুর্নীতির দায় নিয়ে পালিয়েছেন। তিনি ফিরতে পারবেন না। শেখ হাসিনার গোপালগঞ্জে যাওয়ার ইচ্ছা বা অনুশোচনা—সবই সাজানো গল্প। তিনি বলেন, ১৭ বছরের গড়ে তোলা ফ্যাসিবাদী কাঠামো চার মাসে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এটি সময়সাপেক্ষ। তবে ফ্যাসিবাদ যাতে আর ফিরতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ড. রিপন এ সময় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য ফ্যাসিবাদকেই খুশি করে। গণতন্ত্রের স্বার্থে সব দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, জুলাই আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিয়েছে। অথচ দুর্ভাগ্যজনকভাবে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, "সংসদে সমাধান না হলে আমরা রাজপথেই এর সুষ্ঠু সমাধান খুঁজব। জনতার আদালতেই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে।"

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, জুলাই শুধু শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন ছিল না, ছিল ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন থেকে মুক্তির লড়াই। এখন আদালতের দিকে তাকিয়ে না থেকে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নই হবে মূল লক্ষ্য।

সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, অনেকে জুলাইয়ের চেতনাকে অপমান করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা জুলাইকে বুকে ধারণ করেই লড়াই চালিয়ে যাবো। এ দেশে আমাদের পালানোর জায়গা নেই, এখানেই আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, শফিকুল আলম এবং সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। বক্তাদের সুর ছিল অভিন্ন—সংস্কারের গতি বাড়াতে হবে এবং জুলাইয়ের চেতনা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত