সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

সরকারি টাকায় বিদেশ সফর ও গাড়ি কেনায় নিষেধাজ্ঞা

২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। নতুন ভবন নির্মাণ ও গাড়ি কেনায় এসেছে নানামুখী কড়াকড়ি।

সরকারি টাকায় বিদেশ সফর ও গাড়ি কেনায় নিষেধাজ্ঞা
ছবি -সংগৃহীত

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের অর্থনীতির চাকা সচল ও স্থিতিশীল রাখতে সরকারি ব্যয়ে কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনের পথেই হাঁটছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি কোষাগার থেকে নতুন গাড়ি কেনা, বিলাসবহুল বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণসহ নানা খাতে খরচ বন্ধ বা সীমিত করার নির্দেশ দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন একটি পরিপত্র জারি করেছে। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিয়ম কার্যকর হবে।

অর্থ বিভাগ থেকে বুধবার জারি করা এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের অধীনে সব ধরনের নতুন গাড়ি (মোটরযান, জলযান ও আকাশযান) কেনা বন্ধ থাকবে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে, যেমন অ্যাম্বুলেন্স বা নিরাপত্তা কাজে ব্যবহৃত গাড়ির ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় মিলতে পারে। ১০ বছরের বেশি পুরোনো গাড়ি পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও এখন বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সরকারি দপ্তরের নতুন ভবন নির্মাণ ও ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও লাগাম টেনে ধরা হয়েছে। তবে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যদি ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশ এগিয়ে থাকে, তবে অর্থ বিভাগের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে তা শেষ করা যাবে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে যে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হতো, তা-ও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও সরকার বেশ কড়া অবস্থান নিয়েছে। সরকারি খরচে বিদেশের কোনো কর্মশালা, সেমিনার বা প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ আপাতত বন্ধ থাকবে। তবে কোনো বিদেশি সংস্থা বা সরকারের বৃত্তি বা ফেলোশিপ নিয়ে উচ্চশিক্ষার (স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট) জন্য বিদেশ যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে কারিগরি পণ্য পরিদর্শনের জন্য কেবল বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের বিষয়টি শর্তসাপেক্ষে বিবেচনা করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ধীরগতি এবং বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই ব্যয় নিয়ন্ত্রণের এই সিদ্ধান্ত এসেছে। সরকারি সব প্রতিষ্ঠানে এখন থেকে প্রতিটি টাকা খরচের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে, যাতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হয়।

বিষয় : সরকারি টাকা বিদেশ সফর গাড়ী ক্রয়

সরকারি টাকায় বিদেশ সফর ও গাড়ি কেনায় নিষেধাজ্ঞা
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬


সরকারি টাকায় বিদেশ সফর ও গাড়ি কেনায় নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের অর্থনীতির চাকা সচল ও স্থিতিশীল রাখতে সরকারি ব্যয়ে কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনের পথেই হাঁটছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি কোষাগার থেকে নতুন গাড়ি কেনা, বিলাসবহুল বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণসহ নানা খাতে খরচ বন্ধ বা সীমিত করার নির্দেশ দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন একটি পরিপত্র জারি করেছে। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিয়ম কার্যকর হবে।

অর্থ বিভাগ থেকে বুধবার জারি করা এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের অধীনে সব ধরনের নতুন গাড়ি (মোটরযান, জলযান ও আকাশযান) কেনা বন্ধ থাকবে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে, যেমন অ্যাম্বুলেন্স বা নিরাপত্তা কাজে ব্যবহৃত গাড়ির ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় মিলতে পারে। ১০ বছরের বেশি পুরোনো গাড়ি পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও এখন বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সরকারি দপ্তরের নতুন ভবন নির্মাণ ও ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও লাগাম টেনে ধরা হয়েছে। তবে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যদি ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশ এগিয়ে থাকে, তবে অর্থ বিভাগের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে তা শেষ করা যাবে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে যে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হতো, তা-ও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও সরকার বেশ কড়া অবস্থান নিয়েছে। সরকারি খরচে বিদেশের কোনো কর্মশালা, সেমিনার বা প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ আপাতত বন্ধ থাকবে। তবে কোনো বিদেশি সংস্থা বা সরকারের বৃত্তি বা ফেলোশিপ নিয়ে উচ্চশিক্ষার (স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট) জন্য বিদেশ যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে কারিগরি পণ্য পরিদর্শনের জন্য কেবল বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের বিষয়টি শর্তসাপেক্ষে বিবেচনা করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ধীরগতি এবং বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই ব্যয় নিয়ন্ত্রণের এই সিদ্ধান্ত এসেছে। সরকারি সব প্রতিষ্ঠানে এখন থেকে প্রতিটি টাকা খরচের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে, যাতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হয়।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত