সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 মতামতমতামত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি, মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের ভয়

বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের বড় ধরনের হামলা হয়েছে। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন উত্তপ্ত, আর তার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি, মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের ভয়
ছবি -সংগৃহীত


মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার পর এবার ইরান সরাসরি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ চালিয়েছে। বাহরাইন, জর্ডান এবং কুয়েতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে বাহরাইনের গুরুত্বপূর্ণ ‘শেখ ঈসা এয়ারবেজ’-এ হামলার দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

কেন এই হামলা?

বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের এক ধরণের কৌশল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার চেষ্টা চলছিল, কিন্তু তার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের জবাবে ইরান এই পাল্টা আঘাত হেনেছে। ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালীসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল, তারই প্রতিবাদে এই হামলা।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব

এই যুদ্ধ শুধু ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এছাড়া এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলো এখন বড় ঝুঁকির মুখে। যদি হুতিদের মতো অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীও এই লড়াইয়ে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিমান চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্য এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

ট্রাম্পের সামনে চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এখন সময়টা কঠিন। একদিকে যুদ্ধের চাপ, অন্যদিকে দেশের ভেতর নিজের রাজনীতি। সামনেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন, আর জরিপ বলছে দেশটির বেশিরভাগ নাগরিক ইরানের সাথে যুদ্ধ চায় না। দেশে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। যুদ্ধের পরিবর্তে মার্কিন নাগরিকরা এখন অর্থনৈতিক স্বস্তি খুঁজছেন।

ভবিষ্যৎ কী?

হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে ইরান একেবারেই নারাজ। তারা একে যুদ্ধের বড় অস্ত্র হিসেবে দেখছে। ট্যাংকার চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে পুরো দুনিয়াকেই এর মাসুল দিতে হবে। আলোচনার রাস্তা প্রায় বন্ধ, আর আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যেই। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প প্রশাসন এই পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসে, নাকি পুরো অঞ্চল বড় কোনো যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যায়।

বিষয় : মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি, মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের ভয়

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬

featured Image


মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার পর এবার ইরান সরাসরি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ চালিয়েছে। বাহরাইন, জর্ডান এবং কুয়েতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে বাহরাইনের গুরুত্বপূর্ণ ‘শেখ ঈসা এয়ারবেজ’-এ হামলার দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

কেন এই হামলা?

বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের এক ধরণের কৌশল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার চেষ্টা চলছিল, কিন্তু তার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের জবাবে ইরান এই পাল্টা আঘাত হেনেছে। ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালীসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল, তারই প্রতিবাদে এই হামলা।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব

এই যুদ্ধ শুধু ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এছাড়া এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলো এখন বড় ঝুঁকির মুখে। যদি হুতিদের মতো অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীও এই লড়াইয়ে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিমান চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্য এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

ট্রাম্পের সামনে চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এখন সময়টা কঠিন। একদিকে যুদ্ধের চাপ, অন্যদিকে দেশের ভেতর নিজের রাজনীতি। সামনেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন, আর জরিপ বলছে দেশটির বেশিরভাগ নাগরিক ইরানের সাথে যুদ্ধ চায় না। দেশে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। যুদ্ধের পরিবর্তে মার্কিন নাগরিকরা এখন অর্থনৈতিক স্বস্তি খুঁজছেন।

ভবিষ্যৎ কী?

হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে ইরান একেবারেই নারাজ। তারা একে যুদ্ধের বড় অস্ত্র হিসেবে দেখছে। ট্যাংকার চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে পুরো দুনিয়াকেই এর মাসুল দিতে হবে। আলোচনার রাস্তা প্রায় বন্ধ, আর আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যেই। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প প্রশাসন এই পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসে, নাকি পুরো অঞ্চল বড় কোনো যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যায়।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত