সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

অনলাইন জুয়ায় দিনে ৫ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ, ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে বিপুলসংখ্যক এমএফএস-সংবলিত সিম, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ। তদন্তে উঠে এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাঠানোর তথ্য।

অনলাইন জুয়ায় দিনে ৫ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ, ৬ সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি - ডিএমপি

অনলাইন জুয়ার বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে ছয় সদস্যের একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ৬ হাজার ৬০০টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট-সংবলিত সিম কার্ড, ৭০টির বেশি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, ৬৭টি অতিরিক্ত সিম কার্ড এবং একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এই চক্রের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকার লেনদেন হতো।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটির নেতৃত্ব দিতেন মো. আরিফুল ইসলাম (২৩)। বুধবার রাতে গাজীপুরের একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট থেকে তাকে এবং আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে আরও তিন সদস্যকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন আরমান হোসেন (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আবদুল রাব্বী (২৩), কৌশিক আহমেদ (২৩) ও মশিউর রহমান (২০)।

ডিবি জানিয়েছে, জব্দ করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আরিফুল ইসলাম এর আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। অবৈধ আয়ের অর্থে তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন। সম্প্রতি পূর্বাচলে তার একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর তিনি আরেকটি বিএমডব্লিউ গাড়ি কিনেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ডিবি প্রধান আরও জানান, গ্রেপ্তারের সময় আরিফুল যে রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন, সেখানে তিনি তিনটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। তিনি যে কক্ষে ছিলেন, সেটির দৈনিক ভাড়া ছিল প্রায় ৫০ হাজার টাকা। কয়েক দিন পরপর অবস্থান পরিবর্তন করে বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে ওঠার মাধ্যমে দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলতেন বলে পুলিশের দাবি।

যেভাবে পরিচালিত হতো অর্থ লেনদেন

তদন্তে উঠে এসেছে, সাইবার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কয়েকটি অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ শনাক্ত করে ডিবি। এসব প্ল্যাটফর্মে লেনদেনের জন্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের এজেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো। দিন শেষে ওই অ্যাকাউন্টের অর্থ ব্যক্তিগত এমএফএস অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হতো।

পরে সেই অর্থ দিয়ে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম—যেমন বাইন্যান্স, বাইবিট ও বিটগেট—থেকে ডিজিটাল মুদ্রা কেনা হতো। এরপর তা অনলাইন জুয়ার মূল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ওয়ালেটে পাঠানো হতো। তদন্তে পে ক্যাশমা, গো পে, লাকি পে, এল কিউ পে, এক্সি পে ও কুল পে নামের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিবির দাবি, বাংলাদেশকেন্দ্রিক অনলাইন জুয়ার বেশির ভাগ প্ল্যাটফর্মের পেছনে চীনা নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে 'নাতান' নামে এক চীনা নাগরিককে এই নেটওয়ার্কের মূল সমন্বয়কারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, 'গো পে' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হতো।

দেশ থেকে প্রতিদিন কত অর্থ অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে পাচার হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে তারা ধারণা করছেন।

এদিকে, ডিবির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারের যুগ্ম কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনলাইন জুয়ার মূল সার্ভার ও নিয়ন্ত্রণ বিদেশ, বিশেষ করে চীন থেকে পরিচালিত হলেও বাংলাদেশে থাকা চক্রগুলো কমিশনের ভিত্তিতে স্থানীয় লেনদেন ও অর্থ সংগ্রহের কাজ করত।

বিষয় : অনলাইন জুয়া ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬


অনলাইন জুয়ায় দিনে ৫ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ, ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

অনলাইন জুয়ার বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে ছয় সদস্যের একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ৬ হাজার ৬০০টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট-সংবলিত সিম কার্ড, ৭০টির বেশি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, ৬৭টি অতিরিক্ত সিম কার্ড এবং একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এই চক্রের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকার লেনদেন হতো।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটির নেতৃত্ব দিতেন মো. আরিফুল ইসলাম (২৩)। বুধবার রাতে গাজীপুরের একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট থেকে তাকে এবং আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে আরও তিন সদস্যকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন আরমান হোসেন (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আবদুল রাব্বী (২৩), কৌশিক আহমেদ (২৩) ও মশিউর রহমান (২০)।

ডিবি জানিয়েছে, জব্দ করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আরিফুল ইসলাম এর আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। অবৈধ আয়ের অর্থে তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন। সম্প্রতি পূর্বাচলে তার একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর তিনি আরেকটি বিএমডব্লিউ গাড়ি কিনেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ডিবি প্রধান আরও জানান, গ্রেপ্তারের সময় আরিফুল যে রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন, সেখানে তিনি তিনটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। তিনি যে কক্ষে ছিলেন, সেটির দৈনিক ভাড়া ছিল প্রায় ৫০ হাজার টাকা। কয়েক দিন পরপর অবস্থান পরিবর্তন করে বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে ওঠার মাধ্যমে দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলতেন বলে পুলিশের দাবি।

যেভাবে পরিচালিত হতো অর্থ লেনদেন

তদন্তে উঠে এসেছে, সাইবার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কয়েকটি অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ শনাক্ত করে ডিবি। এসব প্ল্যাটফর্মে লেনদেনের জন্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের এজেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো। দিন শেষে ওই অ্যাকাউন্টের অর্থ ব্যক্তিগত এমএফএস অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হতো।

পরে সেই অর্থ দিয়ে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম—যেমন বাইন্যান্স, বাইবিট ও বিটগেট—থেকে ডিজিটাল মুদ্রা কেনা হতো। এরপর তা অনলাইন জুয়ার মূল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ওয়ালেটে পাঠানো হতো। তদন্তে পে ক্যাশমা, গো পে, লাকি পে, এল কিউ পে, এক্সি পে ও কুল পে নামের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিবির দাবি, বাংলাদেশকেন্দ্রিক অনলাইন জুয়ার বেশির ভাগ প্ল্যাটফর্মের পেছনে চীনা নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে 'নাতান' নামে এক চীনা নাগরিককে এই নেটওয়ার্কের মূল সমন্বয়কারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, 'গো পে' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হতো।

দেশ থেকে প্রতিদিন কত অর্থ অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে পাচার হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে তারা ধারণা করছেন।

এদিকে, ডিবির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারের যুগ্ম কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনলাইন জুয়ার মূল সার্ভার ও নিয়ন্ত্রণ বিদেশ, বিশেষ করে চীন থেকে পরিচালিত হলেও বাংলাদেশে থাকা চক্রগুলো কমিশনের ভিত্তিতে স্থানীয় লেনদেন ও অর্থ সংগ্রহের কাজ করত।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত