সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হবে নিরপেক্ষভাবে: প্রধানমন্ত্রী

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার পর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা রাজনৈতিকভাবে করা হয়েছিল। এবার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা তৈরিতে কাজ করছে সরকার।

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হবে নিরপেক্ষভাবে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি -সংগৃহীত

স্বাধীনতার পর প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর অভিযোগ, সে সময় তালিকা তৈরির কাজ নিরপেক্ষভাবে না হয়ে রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হয়েছিল। বর্তমান সরকার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় একটি গ্রহণযোগ্য ও নির্ভুল তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শেষে যাঁরা শহীদ হয়েছেন এবং যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের একটি নির্ভুল তালিকা তখনই তৈরি হওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্তরা তা নিরপেক্ষভাবে না করে রাজনৈতিক বিবেচনায় উপস্থাপন করেছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এ তালিকা নিয়ে নানা বিতর্ক ও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে। তাদের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

একাত্তরের শহীদ পরিবার এবং গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের বিষয়ে সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলালের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা করছে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। সেই পরিকল্পনার ভিত্তিতেই পরবর্তী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগ সফল হলে গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া সব মানুষের একটি নির্ভুল ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য তালিকা তৈরি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তাঁদের আত্মত্যাগের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদাও নিশ্চিত করা যাবে।

পরে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধার প্রতিষ্ঠিত একটি দল হিসেবে বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি নিজেদের নৈতিক দায়িত্বে বিশ্বাস করে। সে কারণেই বর্তমান সরকার দলীয় প্রভাবমুক্ত, পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে একটি গ্রহণযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক তালিকা প্রস্তুতের চেষ্টা চলছে।

এর আগে বিকেল তিনটায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। কার্যসূচি অনুযায়ী প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ সময় তাঁর জন্য নির্ধারিত সাতটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের মধ্যে তিনটির উত্তর এবং সংশ্লিষ্ট সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিষয় : প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬


প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হবে নিরপেক্ষভাবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

স্বাধীনতার পর প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর অভিযোগ, সে সময় তালিকা তৈরির কাজ নিরপেক্ষভাবে না হয়ে রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হয়েছিল। বর্তমান সরকার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় একটি গ্রহণযোগ্য ও নির্ভুল তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শেষে যাঁরা শহীদ হয়েছেন এবং যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের একটি নির্ভুল তালিকা তখনই তৈরি হওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্তরা তা নিরপেক্ষভাবে না করে রাজনৈতিক বিবেচনায় উপস্থাপন করেছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এ তালিকা নিয়ে নানা বিতর্ক ও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে। তাদের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

একাত্তরের শহীদ পরিবার এবং গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের বিষয়ে সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলালের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা করছে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। সেই পরিকল্পনার ভিত্তিতেই পরবর্তী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগ সফল হলে গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া সব মানুষের একটি নির্ভুল ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য তালিকা তৈরি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তাঁদের আত্মত্যাগের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদাও নিশ্চিত করা যাবে।

পরে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধার প্রতিষ্ঠিত একটি দল হিসেবে বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি নিজেদের নৈতিক দায়িত্বে বিশ্বাস করে। সে কারণেই বর্তমান সরকার দলীয় প্রভাবমুক্ত, পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে একটি গ্রহণযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক তালিকা প্রস্তুতের চেষ্টা চলছে।

এর আগে বিকেল তিনটায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। কার্যসূচি অনুযায়ী প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ সময় তাঁর জন্য নির্ধারিত সাতটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের মধ্যে তিনটির উত্তর এবং সংশ্লিষ্ট সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত