সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 বিশ্বকাপ দামামাবিশ্বকাপ দামামা

২৮ বছরের অপেক্ষার শেষে ইংল্যান্ডের সামনে মেসি

১৯৯৮ বিশ্বকাপে টেলিভিশনের সামনে বসে আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড দেখেছিলেন ১১ বছরের লিওনেল মেসি। প্রায় তিন দশক পর সেই প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই প্রথমবার মাঠে নামতে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
২৮ বছরের অপেক্ষার শেষে ইংল্যান্ডের সামনে মেসি
ছবি -সংগৃহীত

১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো। ফ্রান্সের সেঁত এতিয়েনে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ম্যাচে ছিল সবকিছু—দিয়েগো সিমিওনের কৌশলে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড, মাইকেল ওয়েনের দুর্দান্ত গোল, আর শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার জয়।

সেই ম্যাচ টেলিভিশনের সামনে বসে দেখছিল আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের ১১ বছরের এক কিশোর। ম্যাচ শেষ হতেই সে বন্ধুদের নিয়ে রাস্তায় ফুটবল খেলতে বেরিয়ে যায়। অনেক বছর পর সেই স্মৃতি মনে করে লিওনেল মেসি বলেছিলেন, ‘মনে আছে, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমরা রাস্তায় ফুটবল খেলতে চলে গিয়েছিলাম।’

সেই কিশোরই এখন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। বয়স ৩৯। আর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে তাঁর সামনেই দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ড।

এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব অন্য জায়গায়। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি কখনোই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেননি। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৫টি ম্যাচ খেললেও একবারও এই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ হয়নি তাঁর। তাই এই সেমিফাইনাল শুধু দুই ফুটবল শক্তির লড়াই নয়, মেসি ও ইংল্যান্ডেরও প্রথম দেখা।

শৈশবের সেই ছেলেটির একটি স্বভাব আজও বদলায়নি। তখন যেমন ফুটবল খেলতে ভালোবাসতেন, এখনও তেমনি ভালোবাসেন। পার্থক্য শুধু, এখন তিনি শুধু খেলেন না, পুরো দলকেও সামনে থেকে টেনে নিয়ে যান।

একসময় বার্সেলোনাকে নিয়ে একটি শব্দ খুব শোনা যেত—‘মেসিডিপেনদেনসিয়া’, অর্থাৎ মেসিনির্ভরতা। এত বছর পর সেই একই ছবি দেখা যাচ্ছে আর্জেন্টিনা দলেও।

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ১৪ গোলের মধ্যে ৮টিই করেছেন মেসি। শুধু গোলই নয়, দলের আরও কয়েকটি গোল তৈরির পেছনেও ছিল তাঁর অবদান। কখনো অ্যাসিস্ট, কখনো কর্নার, আবার কখনো আক্রমণের শুরুটা এসেছে তাঁর পা থেকেই।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা দল হিসেবে খুব একটা নিখুঁত ফুটবল খেলতে পারেনি। রক্ষণে ভুল হয়েছে, মাঝমাঠেও গতি ও নিয়ন্ত্রণের অভাব দেখা গেছে। অনেক ম্যাচেই দলকে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।

তবে প্রতিবারই আর্জেন্টিনাকে বাঁচিয়েছেন মেসি। তাই সমালোচনা থাকলেও দলটি এখন সেমিফাইনালে। এর সবচেয়ে বড় কারণ, তাদের পাশে আছেন মেসি।

১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনা প্রায় একাই আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন। বর্তমান মেসি হয়তো আগের মতো দৌড়াতে পারেন না, কিন্তু খেলা বোঝার ক্ষমতা, সুযোগ তৈরি করা এবং সঠিক সময়ে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার দক্ষতায় এখনও তিনি বিশ্বের সেরাদের একজন।

চেলসির সাবেক কোচ জোসে মরিনিও একবার বলেছিলেন, ‘মেসিকে থামানো যায় না, শুধু তাঁর জন্য ম্যাচটা কঠিন করে তোলা যায়।’

ইংল্যান্ড এবার সেই চ্যালেঞ্জের মুখে। তারা হয়তো মেসিকে আটকে দিতে পারবে, হয়তো পারবে না। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত—এই ম্যাচের পর মেসি আর তাদের কাছে শুধু গল্পের কোনো কিংবদন্তি থাকবেন না। তাঁকে তারা দেখবে মাঠের বাস্তব প্রতিপক্ষ হিসেবে।

বিষয় : মেসি আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬


২৮ বছরের অপেক্ষার শেষে ইংল্যান্ডের সামনে মেসি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো। ফ্রান্সের সেঁত এতিয়েনে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ম্যাচে ছিল সবকিছু—দিয়েগো সিমিওনের কৌশলে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড, মাইকেল ওয়েনের দুর্দান্ত গোল, আর শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার জয়।

সেই ম্যাচ টেলিভিশনের সামনে বসে দেখছিল আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের ১১ বছরের এক কিশোর। ম্যাচ শেষ হতেই সে বন্ধুদের নিয়ে রাস্তায় ফুটবল খেলতে বেরিয়ে যায়। অনেক বছর পর সেই স্মৃতি মনে করে লিওনেল মেসি বলেছিলেন, ‘মনে আছে, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমরা রাস্তায় ফুটবল খেলতে চলে গিয়েছিলাম।’

সেই কিশোরই এখন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। বয়স ৩৯। আর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে তাঁর সামনেই দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ড।

এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব অন্য জায়গায়। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি কখনোই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেননি। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৫টি ম্যাচ খেললেও একবারও এই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ হয়নি তাঁর। তাই এই সেমিফাইনাল শুধু দুই ফুটবল শক্তির লড়াই নয়, মেসি ও ইংল্যান্ডেরও প্রথম দেখা।

শৈশবের সেই ছেলেটির একটি স্বভাব আজও বদলায়নি। তখন যেমন ফুটবল খেলতে ভালোবাসতেন, এখনও তেমনি ভালোবাসেন। পার্থক্য শুধু, এখন তিনি শুধু খেলেন না, পুরো দলকেও সামনে থেকে টেনে নিয়ে যান।

একসময় বার্সেলোনাকে নিয়ে একটি শব্দ খুব শোনা যেত—‘মেসিডিপেনদেনসিয়া’, অর্থাৎ মেসিনির্ভরতা। এত বছর পর সেই একই ছবি দেখা যাচ্ছে আর্জেন্টিনা দলেও।

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ১৪ গোলের মধ্যে ৮টিই করেছেন মেসি। শুধু গোলই নয়, দলের আরও কয়েকটি গোল তৈরির পেছনেও ছিল তাঁর অবদান। কখনো অ্যাসিস্ট, কখনো কর্নার, আবার কখনো আক্রমণের শুরুটা এসেছে তাঁর পা থেকেই।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা দল হিসেবে খুব একটা নিখুঁত ফুটবল খেলতে পারেনি। রক্ষণে ভুল হয়েছে, মাঝমাঠেও গতি ও নিয়ন্ত্রণের অভাব দেখা গেছে। অনেক ম্যাচেই দলকে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।

তবে প্রতিবারই আর্জেন্টিনাকে বাঁচিয়েছেন মেসি। তাই সমালোচনা থাকলেও দলটি এখন সেমিফাইনালে। এর সবচেয়ে বড় কারণ, তাদের পাশে আছেন মেসি।

১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনা প্রায় একাই আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন। বর্তমান মেসি হয়তো আগের মতো দৌড়াতে পারেন না, কিন্তু খেলা বোঝার ক্ষমতা, সুযোগ তৈরি করা এবং সঠিক সময়ে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার দক্ষতায় এখনও তিনি বিশ্বের সেরাদের একজন।

চেলসির সাবেক কোচ জোসে মরিনিও একবার বলেছিলেন, ‘মেসিকে থামানো যায় না, শুধু তাঁর জন্য ম্যাচটা কঠিন করে তোলা যায়।’

ইংল্যান্ড এবার সেই চ্যালেঞ্জের মুখে। তারা হয়তো মেসিকে আটকে দিতে পারবে, হয়তো পারবে না। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত—এই ম্যাচের পর মেসি আর তাদের কাছে শুধু গল্পের কোনো কিংবদন্তি থাকবেন না। তাঁকে তারা দেখবে মাঠের বাস্তব প্রতিপক্ষ হিসেবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত