সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

  বানিজ্য বানিজ্য

মুনাফা কমলেও ১,৪১৮ কোটি টাকা লভ্যাংশ দিল গ্রামীণফোন

বছরের প্রথম ছয় মাসে গ্রামীণফোনের মুনাফা কমেছে ৬ শতাংশের বেশি। তবে একই সময়ে অর্জিত প্রায় পুরো মুনাফাই অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ারধারীদের মধ্যে বিতরণের ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।

মুনাফা কমলেও ১,৪১৮ কোটি টাকা লভ্যাংশ দিল গ্রামীণফোন
ছবি -সংগৃহীত

দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন (জিপি) চলতি বছরের প্রথমার্ধে আয় ও মুনাফা—দুই ক্ষেত্রেই নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধির মুখে পড়েছে। ব্যবসায়িক আয় কমার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়, কর্মীদের বেতন-ভাতা এবং আর্থিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিটির নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৯২ কোটি টাকা বা ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।

কোম্পানির প্রকাশিত অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে গ্রামীণফোনের নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৪২১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল ১ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা।

সোমবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ছয় মাসের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি শেয়ারধারীদের জন্য ১০৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। ফলে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা ১০ টাকা ৫০ পয়সা করে নগদ লভ্যাংশ পাবেন।

এই লভ্যাংশ বিতরণে কোম্পানির মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অর্জিত নিট মুনাফার প্রায় সমান।

আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বছরের প্রথম ছয় মাসে গ্রামীণফোনের মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির আয় ছিল ৭ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আয় কমেছে ১৯৮ কোটি টাকা, যা প্রায় আড়াই শতাংশ।

আয় কমার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধিও মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচ গত বছরের ২৭৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এ বছর ৩২৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ফলে এ খাতে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৪৬ কোটি টাকা।

এ ছাড়া কর্মীদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় বেড়েছে ২০ কোটি টাকা এবং পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়েছে আরও ১৬ কোটি টাকা। এসব কারণ মিলিয়েই কোম্পানির মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ঘোষিত লভ্যাংশের বড় অংশই যাবে উদ্যোক্তা ও পরিচালক শেয়ারধারীদের হাতে। কারণ, কোম্পানির প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে মোট ১ হাজার ৪১৮ কোটি টাকার লভ্যাংশের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা পাবেন উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা।

অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা। জুন শেষে তাদের হাতে ছিল কোম্পানির প্রায় পৌনে ৭ শতাংশ শেয়ার। সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা পাবেন প্রায় ৪১ কোটি টাকা, যাদের দখলে ছিল প্রায় ৩ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের মালিকানাধীন শেয়ারের বিপরীতে প্রায় ৫ কোটি টাকা লভ্যাংশ পাবেন।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, আগামী ১২ আগস্ট রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন যেসব বিনিয়োগকারীর নামে গ্রামীণফোনের শেয়ার থাকবে, তারাই ঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য হবেন। রেকর্ড ডেট উপলক্ষে সেদিন শেয়ারবাজারে গ্রামীণফোনের শেয়ার লেনদেনও বন্ধ থাকবে।

বিষয় : গ্রামীণফোন লভ্যাংশ

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬


মুনাফা কমলেও ১,৪১৮ কোটি টাকা লভ্যাংশ দিল গ্রামীণফোন

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন (জিপি) চলতি বছরের প্রথমার্ধে আয় ও মুনাফা—দুই ক্ষেত্রেই নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধির মুখে পড়েছে। ব্যবসায়িক আয় কমার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়, কর্মীদের বেতন-ভাতা এবং আর্থিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিটির নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৯২ কোটি টাকা বা ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।

কোম্পানির প্রকাশিত অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে গ্রামীণফোনের নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৪২১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল ১ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা।

সোমবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ছয় মাসের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি শেয়ারধারীদের জন্য ১০৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। ফলে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা ১০ টাকা ৫০ পয়সা করে নগদ লভ্যাংশ পাবেন।

এই লভ্যাংশ বিতরণে কোম্পানির মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অর্জিত নিট মুনাফার প্রায় সমান।

আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বছরের প্রথম ছয় মাসে গ্রামীণফোনের মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির আয় ছিল ৭ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আয় কমেছে ১৯৮ কোটি টাকা, যা প্রায় আড়াই শতাংশ।

আয় কমার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধিও মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচ গত বছরের ২৭৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এ বছর ৩২৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ফলে এ খাতে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৪৬ কোটি টাকা।

এ ছাড়া কর্মীদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় বেড়েছে ২০ কোটি টাকা এবং পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়েছে আরও ১৬ কোটি টাকা। এসব কারণ মিলিয়েই কোম্পানির মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ঘোষিত লভ্যাংশের বড় অংশই যাবে উদ্যোক্তা ও পরিচালক শেয়ারধারীদের হাতে। কারণ, কোম্পানির প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে মোট ১ হাজার ৪১৮ কোটি টাকার লভ্যাংশের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা পাবেন উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা।

অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা। জুন শেষে তাদের হাতে ছিল কোম্পানির প্রায় পৌনে ৭ শতাংশ শেয়ার। সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা পাবেন প্রায় ৪১ কোটি টাকা, যাদের দখলে ছিল প্রায় ৩ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের মালিকানাধীন শেয়ারের বিপরীতে প্রায় ৫ কোটি টাকা লভ্যাংশ পাবেন।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, আগামী ১২ আগস্ট রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন যেসব বিনিয়োগকারীর নামে গ্রামীণফোনের শেয়ার থাকবে, তারাই ঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য হবেন। রেকর্ড ডেট উপলক্ষে সেদিন শেয়ারবাজারে গ্রামীণফোনের শেয়ার লেনদেনও বন্ধ থাকবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত