খেলা
তিন বছর পর টি–টোয়েন্টি দলে ফিরে ব্যাট হাতে লড়াই করলেন ইয়াসির আলী। নাহিদ রানা বল হাতে নিলেন চার উইকেট। তবু কোনো অর্জনই বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির কারণ হতে পারল না। বুলাওয়েতে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ১৭০ রানের সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে ১৩৮ রানে অলআউট হয়ে ৩২ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা।
১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৩৪ রান তুলতেই সাজঘরে ফিরে যান তিন ওপেনিং ব্যাটার—সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন। নতুন বলে জিম্বাবুয়ের পেসারদের বাড়তি বাউন্স ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকেই ছন্দ হারায় বাংলাদেশের টপ অর্ডার।
বিপর্যয়ের মধ্যে চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ও ইয়াসির আলী। দুজন মিলে ২৯ বলে যোগ করেন ৩৯ রান। তবে দলকে পথ দেখানোর আগেই মিল্টন সুম্বার শিকার হন হৃদয়। ১৩ বলে ১৪ রান করে ক্যাচ দিলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৭৩।
এর পরের ধাক্কা আসে আরও দ্রুত। ইনিংসের পরের ওভারেই রানআউট হয়ে ফেরেন নুরুল হাসান। তখন থেকেই ম্যাচ ক্রমশ জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে থাকে।
এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান ইয়াসির। ষষ্ঠ উইকেটে মেহেদী হাসানকে নিয়ে ৩৭ বলে ৫২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তুললেও প্রয়োজনীয় রানরেট কমানো সম্ভব হয়নি। শেষ তিন ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৪১ রান, হাতে ছিল পাঁচ উইকেট।
১৭তম ওভারে ১৯ রান করা মেহেদী বিদায় নেওয়ার পরও আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন ইয়াসির। কিন্তু ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই রিচার্ড এনগারাভার বাউন্সারে বড় শট খেলতে গিয়ে কাভারে ধরা পড়েন তিনি। ৩৮ বলে ৫৪ রানের ইনিংসটি ছিল তিন বছর পর টি–টোয়েন্টিতে তার প্রথম অর্ধশতক। ইয়াসির ফেরার পর বাংলাদেশের ইনিংস দ্রুত ভেঙে পড়ে। শেষ পাঁচ উইকেট হারায় মাত্র ৮ রানে, ফলে ১৩৮ রানেই শেষ হয় সফরকারীদের ইনিংস।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে তোলে ৬ উইকেটে ১৭০ রান। উদ্বোধনী জুটিতেই স্বাগতিকরা ম্যাচের ভিত গড়ে দেয়। ব্রায়ান বেনেট ৩০ বলে ৪৪ রান এবং তাদিওয়ানাসে মারুমানি ৯ বলে ১৪ রান করে দ্রুত সূচনা এনে দেন।
বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র ধারাবাহিক প্রভাব ফেলেন নাহিদ রানা। নিজের প্রথম তিন ওভারে মাত্র ৮ রান খরচ করে চার উইকেট তুলে নেন এই গতিতারকা। শেষ ওভারে ১৮ রান দিলেও ৪ ওভারে ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ছিলেন দলের সেরা বোলার। এছাড়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।
মধ্য ও শেষ দিকে রায়ান বার্লের ২৫ বলে ৩০ এবং ক্লাইভ মাদান্দে? (ইভান্স) অপরাজিত ১০ বলে ১৯ রানের কার্যকর ইনিংসে ১৭০ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে। কোনো ব্যাটার অর্ধশতক না পেলেও সম্মিলিত ব্যাটিং পারফরম্যান্সই স্বাগতিকদের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়।
এই জয়ে টেস্ট ও ওয়ানডের পর টি–টোয়েন্টি সিরিজেও এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে। একই ভেন্যু বুলাওয়েতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৭ জুলাই।
বিষয় : বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি জিম্বাবুয়ে বুলাওয়ে
2.png)
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
তিন বছর পর টি–টোয়েন্টি দলে ফিরে ব্যাট হাতে লড়াই করলেন ইয়াসির আলী। নাহিদ রানা বল হাতে নিলেন চার উইকেট। তবু কোনো অর্জনই বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির কারণ হতে পারল না। বুলাওয়েতে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ১৭০ রানের সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে ১৩৮ রানে অলআউট হয়ে ৩২ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা।
১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৩৪ রান তুলতেই সাজঘরে ফিরে যান তিন ওপেনিং ব্যাটার—সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন। নতুন বলে জিম্বাবুয়ের পেসারদের বাড়তি বাউন্স ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকেই ছন্দ হারায় বাংলাদেশের টপ অর্ডার।
বিপর্যয়ের মধ্যে চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ও ইয়াসির আলী। দুজন মিলে ২৯ বলে যোগ করেন ৩৯ রান। তবে দলকে পথ দেখানোর আগেই মিল্টন সুম্বার শিকার হন হৃদয়। ১৩ বলে ১৪ রান করে ক্যাচ দিলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৭৩।
এর পরের ধাক্কা আসে আরও দ্রুত। ইনিংসের পরের ওভারেই রানআউট হয়ে ফেরেন নুরুল হাসান। তখন থেকেই ম্যাচ ক্রমশ জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে থাকে।
এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান ইয়াসির। ষষ্ঠ উইকেটে মেহেদী হাসানকে নিয়ে ৩৭ বলে ৫২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তুললেও প্রয়োজনীয় রানরেট কমানো সম্ভব হয়নি। শেষ তিন ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৪১ রান, হাতে ছিল পাঁচ উইকেট।
১৭তম ওভারে ১৯ রান করা মেহেদী বিদায় নেওয়ার পরও আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন ইয়াসির। কিন্তু ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই রিচার্ড এনগারাভার বাউন্সারে বড় শট খেলতে গিয়ে কাভারে ধরা পড়েন তিনি। ৩৮ বলে ৫৪ রানের ইনিংসটি ছিল তিন বছর পর টি–টোয়েন্টিতে তার প্রথম অর্ধশতক। ইয়াসির ফেরার পর বাংলাদেশের ইনিংস দ্রুত ভেঙে পড়ে। শেষ পাঁচ উইকেট হারায় মাত্র ৮ রানে, ফলে ১৩৮ রানেই শেষ হয় সফরকারীদের ইনিংস।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে তোলে ৬ উইকেটে ১৭০ রান। উদ্বোধনী জুটিতেই স্বাগতিকরা ম্যাচের ভিত গড়ে দেয়। ব্রায়ান বেনেট ৩০ বলে ৪৪ রান এবং তাদিওয়ানাসে মারুমানি ৯ বলে ১৪ রান করে দ্রুত সূচনা এনে দেন।
বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র ধারাবাহিক প্রভাব ফেলেন নাহিদ রানা। নিজের প্রথম তিন ওভারে মাত্র ৮ রান খরচ করে চার উইকেট তুলে নেন এই গতিতারকা। শেষ ওভারে ১৮ রান দিলেও ৪ ওভারে ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ছিলেন দলের সেরা বোলার। এছাড়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।
মধ্য ও শেষ দিকে রায়ান বার্লের ২৫ বলে ৩০ এবং ক্লাইভ মাদান্দে? (ইভান্স) অপরাজিত ১০ বলে ১৯ রানের কার্যকর ইনিংসে ১৭০ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে। কোনো ব্যাটার অর্ধশতক না পেলেও সম্মিলিত ব্যাটিং পারফরম্যান্সই স্বাগতিকদের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়।
এই জয়ে টেস্ট ও ওয়ানডের পর টি–টোয়েন্টি সিরিজেও এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে। একই ভেন্যু বুলাওয়েতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৭ জুলাই।
2.png)