জাতীয়
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কেক ও ব্রেডের দীর্ঘ শেলফ লাইফ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করা সচেতন নাগরিকদের একাংশ বলছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার আগে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফলই হওয়া উচিত চূড়ান্ত ভিত্তি। তবে ভোক্তাদের জানার অধিকার রয়েছে—পণ্যগুলোতে ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভের মাত্রা নির্ধারিত মানের মধ্যে আছে কি না, ঘোষণার বাইরে অন্য কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং পুরো মেয়াদকালে খাদ্যটি জীবাণুমুক্ত ও নিরাপদ থাকে কি না।
বাজারে পাওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কেক ও ব্রেডের মোড়কে দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত মেয়াদের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। সাধারণ দোকানে দীর্ঘ সময় সংরক্ষিত এসব পণ্য নিরাপদ থাকে কীভাবে—এ বিষয়ে কোম্পানিগুলোর উৎপাদন কৌশল বা বাণিজ্যিক গোপনীয়তা জানার আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তারা মনে করেন, খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে বৈজ্ঞানিক যাচাই অপরিহার্য।
তাদের দাবি, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) নির্ধারিত মান অনুযায়ী প্রিজারভেটিভের পরিমাণ ঠিক আছে কি না, অনুমোদনের বাইরে কোনো উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত খাদ্যে অনুজীব বা মাইক্রোবিয়াল লোড কত থাকে—এসব বিষয়ে নিয়মিত পরীক্ষার ফল জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআইকে বাজার থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কেক ও ব্রেড সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফল স্বচ্ছভাবে প্রকাশেরও দাবি তোলা হয়েছে, যাতে ভোক্তারা বাস্তব তথ্য জানতে পারেন।
তবে কেবল সরকারি পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে স্বাধীন গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং স্বীকৃত পরীক্ষাগারগুলো এ বিষয়ে পৃথক গবেষণা পরিচালনা করতে পারে। প্রিজারভেটিভের ধরন ও মাত্রা, শেলফ লাইফজুড়ে মাইক্রোবিয়াল কন্টামিনেশন এবং সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ হলে ভোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গবেষণা, পরীক্ষাগারভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং তথ্যের স্বচ্ছ প্রকাশই সবচেয়ে কার্যকর পথ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, কোনো পণ্য সম্পর্কে সন্দেহ বা গুজব নয়, বরং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতেই ভোক্তার আস্থা গড়ে উঠতে পারে এবং খাদ্য নিরাপত্তা আন্দোলন আরও শক্তিশালী হতে পারে।
বিষয় : প্যাকেটজাত কেক প্রিজার্রভেটিভ
2.png)
রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কেক ও ব্রেডের দীর্ঘ শেলফ লাইফ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করা সচেতন নাগরিকদের একাংশ বলছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার আগে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফলই হওয়া উচিত চূড়ান্ত ভিত্তি। তবে ভোক্তাদের জানার অধিকার রয়েছে—পণ্যগুলোতে ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভের মাত্রা নির্ধারিত মানের মধ্যে আছে কি না, ঘোষণার বাইরে অন্য কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং পুরো মেয়াদকালে খাদ্যটি জীবাণুমুক্ত ও নিরাপদ থাকে কি না।
বাজারে পাওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কেক ও ব্রেডের মোড়কে দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত মেয়াদের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। সাধারণ দোকানে দীর্ঘ সময় সংরক্ষিত এসব পণ্য নিরাপদ থাকে কীভাবে—এ বিষয়ে কোম্পানিগুলোর উৎপাদন কৌশল বা বাণিজ্যিক গোপনীয়তা জানার আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তারা মনে করেন, খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে বৈজ্ঞানিক যাচাই অপরিহার্য।
তাদের দাবি, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) নির্ধারিত মান অনুযায়ী প্রিজারভেটিভের পরিমাণ ঠিক আছে কি না, অনুমোদনের বাইরে কোনো উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত খাদ্যে অনুজীব বা মাইক্রোবিয়াল লোড কত থাকে—এসব বিষয়ে নিয়মিত পরীক্ষার ফল জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআইকে বাজার থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কেক ও ব্রেড সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফল স্বচ্ছভাবে প্রকাশেরও দাবি তোলা হয়েছে, যাতে ভোক্তারা বাস্তব তথ্য জানতে পারেন।
তবে কেবল সরকারি পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে স্বাধীন গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং স্বীকৃত পরীক্ষাগারগুলো এ বিষয়ে পৃথক গবেষণা পরিচালনা করতে পারে। প্রিজারভেটিভের ধরন ও মাত্রা, শেলফ লাইফজুড়ে মাইক্রোবিয়াল কন্টামিনেশন এবং সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ হলে ভোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গবেষণা, পরীক্ষাগারভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং তথ্যের স্বচ্ছ প্রকাশই সবচেয়ে কার্যকর পথ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, কোনো পণ্য সম্পর্কে সন্দেহ বা গুজব নয়, বরং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতেই ভোক্তার আস্থা গড়ে উঠতে পারে এবং খাদ্য নিরাপত্তা আন্দোলন আরও শক্তিশালী হতে পারে।
2.png)