ঢাকা
ঢাকার রাস্তায় গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা, বাসের রেষারেষি আর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে নগরবাসী। দীর্ঘদিনের এই অস্থিরতা নিরসনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এক বৈপ্লবিক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ২ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা অর্থায়নে রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জের রাস্তায় নামানো হচ্ছে ৫০০টি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস।
বাস সিন্ডিকেট ও রেষারেষির অবসান
ঢাকার গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বাসগুলোর নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। এতদিন চালক ও কন্ডাক্টররা দৈনিক চুক্তিতে বাস চালাতেন বলে বেশি যাত্রী পাওয়ার আশায় রাস্তায় অসুস্থ রেষারেষি চলত। নতুন পরিকল্পনায় চালু করা হচ্ছে 'ফিক্সড স্যালারি মডেল' বা নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো। এখন থেকে চালক-শ্রমিকরা কোনো কোম্পানির অধীনে নির্দিষ্ট বেতনে কাজ করবেন। ফলে যাত্রী তোলার জন্য রাস্তায় আর কোনো প্রতিযোগিতা বা যানজট তৈরির সুযোগ থাকবে না।
আধুনিক প্রযুক্তি ও যাত্রীসেবা
নতুন এই বাসগুলোতে থাকবে ই-টিকেটিং ও স্বয়ংক্রিয় দরজা (অটো ডোর) ব্যবস্থা। বাসের ভাড়ার নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ সরকারের হাতে থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অরাজকতা চিরতরে বন্ধ হবে। এছাড়া যাত্রী নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার গণপরিবহনকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।
পুরানো বাস বিদায় ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ
ঢাকার রাস্তা থেকে ধোঁয়া উদগিরণকারী ও লক্কড়ঝক্কড় বাসগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব বাস স্ক্র্যাপ (ধ্বংস) করে মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক বা ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে। এমনকি স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষও চাইলে এই শুল্কমুক্ত সুবিধা ব্যবহার করে নিজস্ব আধুনিক বাস আমদানি করতে পারবে।
পরিবহন খাতের নতুন দিন
গণপরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল রাজধানী বা নারায়ণগঞ্জ নয়, আধুনিক এই ইলেকট্রিক বাসের সুফল ছড়িয়ে দেওয়া উচিত দেশের প্রতিটি জেলায়। লক্কড়ঝক্কড় বাস নিষিদ্ধ করে ই-বাসের এই যাত্রা শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করবে না, বরং নগরবাসীর চলাচলে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।
যাত্রীরা বলছেন, নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে বাস চলাচল করলে প্রতিদিনের অসহনীয় যানজট ও বিড়ম্বনা বহুলাংশে কমে আসবে। এখন দেখার বিষয়, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও তদারকির মাধ্যমে এই মহাপরিকল্পনা কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।
বিষয় : ঢাকা, যানজট ইলেকট্রিক বাস
2.png)
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
ঢাকার রাস্তায় গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা, বাসের রেষারেষি আর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে নগরবাসী। দীর্ঘদিনের এই অস্থিরতা নিরসনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এক বৈপ্লবিক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ২ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা অর্থায়নে রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জের রাস্তায় নামানো হচ্ছে ৫০০টি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস।
বাস সিন্ডিকেট ও রেষারেষির অবসান
ঢাকার গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বাসগুলোর নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। এতদিন চালক ও কন্ডাক্টররা দৈনিক চুক্তিতে বাস চালাতেন বলে বেশি যাত্রী পাওয়ার আশায় রাস্তায় অসুস্থ রেষারেষি চলত। নতুন পরিকল্পনায় চালু করা হচ্ছে 'ফিক্সড স্যালারি মডেল' বা নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো। এখন থেকে চালক-শ্রমিকরা কোনো কোম্পানির অধীনে নির্দিষ্ট বেতনে কাজ করবেন। ফলে যাত্রী তোলার জন্য রাস্তায় আর কোনো প্রতিযোগিতা বা যানজট তৈরির সুযোগ থাকবে না।
আধুনিক প্রযুক্তি ও যাত্রীসেবা
নতুন এই বাসগুলোতে থাকবে ই-টিকেটিং ও স্বয়ংক্রিয় দরজা (অটো ডোর) ব্যবস্থা। বাসের ভাড়ার নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ সরকারের হাতে থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অরাজকতা চিরতরে বন্ধ হবে। এছাড়া যাত্রী নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার গণপরিবহনকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।
পুরানো বাস বিদায় ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ
ঢাকার রাস্তা থেকে ধোঁয়া উদগিরণকারী ও লক্কড়ঝক্কড় বাসগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব বাস স্ক্র্যাপ (ধ্বংস) করে মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক বা ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে। এমনকি স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষও চাইলে এই শুল্কমুক্ত সুবিধা ব্যবহার করে নিজস্ব আধুনিক বাস আমদানি করতে পারবে।
পরিবহন খাতের নতুন দিন
গণপরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল রাজধানী বা নারায়ণগঞ্জ নয়, আধুনিক এই ইলেকট্রিক বাসের সুফল ছড়িয়ে দেওয়া উচিত দেশের প্রতিটি জেলায়। লক্কড়ঝক্কড় বাস নিষিদ্ধ করে ই-বাসের এই যাত্রা শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করবে না, বরং নগরবাসীর চলাচলে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।
যাত্রীরা বলছেন, নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে বাস চলাচল করলে প্রতিদিনের অসহনীয় যানজট ও বিড়ম্বনা বহুলাংশে কমে আসবে। এখন দেখার বিষয়, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও তদারকির মাধ্যমে এই মহাপরিকল্পনা কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।
2.png)