প্রবাস
ইতালিতে উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার যুবক বুলবুল। কিন্তু সেই স্বপ্নের যাত্রার শেষ হলো হাঙ্গেরির একটি হাসপাতালে। মানবপাচার চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত বুলবুল উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের পূর্ব বারাহীগুনী এলাকার সফি ডাক্তার বাড়ির মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে। তিনি স্ত্রী, পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান এবং ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার ও এলাকায় শোকের আবহ নেমে এসেছে।
পরিবারের ভাষ্য, বুলবুল দীর্ঘদিন সৌদি আরবে একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করার পর প্রায় এক বছর আগে দেশে ফেরেন। পরে ইতালিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকার বাসিন্দা মো. দুলাল নামে এক মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অভিযোগ রয়েছে, সরাসরি বিমানে ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে ১৮ লাখ টাকায় চুক্তি করেন দুলাল। নগদ অর্থ ও চেকের মাধ্যমে পুরো টাকা পরিশোধও করে বুলবুলের পরিবার।
চুক্তি অনুযায়ী গত ১৬ জুন দেশ ছাড়লেও তাকে সরাসরি ইতালি নেওয়া হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, পরে সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়া হয়ে সড়কপথে হাঙ্গেরিতে নেওয়া হয়। দীর্ঘ যাত্রাপথে হাঙ্গেরির একটি জঙ্গলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছোট ভাই কাজী নজরুল ইসলাম জানান, ২৪ জুন বুলবুলের সঙ্গে তাদের শেষবার কথা হয়েছিল। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, দালাল প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিমানে না পাঠিয়ে বাস ও ট্রেনে বিভিন্ন দেশে ঘুরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ২৬ জুনের পর থেকে তার মোবাইলে কল গেলেও আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, দালালের কাছে ভাইয়ের অবস্থান জানতে চাইলে নানা অজুহাত দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত দালালের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
গত রোববার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রথমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করা হয়। পরে দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল বাড়িতে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করলে পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বুলবুলের মৃত্যুর খবর জানতে পারে।
ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে নিহতের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করা হয়েছে। বর্তমানে তার মরদেহ হাঙ্গেরির একটি হাসপাতালে রয়েছে।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ে প্রশাসন সহযোগিতা করবে।
2.png)
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
ইতালিতে উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার যুবক বুলবুল। কিন্তু সেই স্বপ্নের যাত্রার শেষ হলো হাঙ্গেরির একটি হাসপাতালে। মানবপাচার চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত বুলবুল উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের পূর্ব বারাহীগুনী এলাকার সফি ডাক্তার বাড়ির মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে। তিনি স্ত্রী, পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান এবং ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার ও এলাকায় শোকের আবহ নেমে এসেছে।
পরিবারের ভাষ্য, বুলবুল দীর্ঘদিন সৌদি আরবে একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করার পর প্রায় এক বছর আগে দেশে ফেরেন। পরে ইতালিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকার বাসিন্দা মো. দুলাল নামে এক মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অভিযোগ রয়েছে, সরাসরি বিমানে ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে ১৮ লাখ টাকায় চুক্তি করেন দুলাল। নগদ অর্থ ও চেকের মাধ্যমে পুরো টাকা পরিশোধও করে বুলবুলের পরিবার।
চুক্তি অনুযায়ী গত ১৬ জুন দেশ ছাড়লেও তাকে সরাসরি ইতালি নেওয়া হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, পরে সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়া হয়ে সড়কপথে হাঙ্গেরিতে নেওয়া হয়। দীর্ঘ যাত্রাপথে হাঙ্গেরির একটি জঙ্গলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছোট ভাই কাজী নজরুল ইসলাম জানান, ২৪ জুন বুলবুলের সঙ্গে তাদের শেষবার কথা হয়েছিল। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, দালাল প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিমানে না পাঠিয়ে বাস ও ট্রেনে বিভিন্ন দেশে ঘুরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ২৬ জুনের পর থেকে তার মোবাইলে কল গেলেও আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, দালালের কাছে ভাইয়ের অবস্থান জানতে চাইলে নানা অজুহাত দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত দালালের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
গত রোববার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রথমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করা হয়। পরে দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল বাড়িতে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করলে পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বুলবুলের মৃত্যুর খবর জানতে পারে।
ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে নিহতের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করা হয়েছে। বর্তমানে তার মরদেহ হাঙ্গেরির একটি হাসপাতালে রয়েছে।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ে প্রশাসন সহযোগিতা করবে।
2.png)