লাইফ স্টাইল
ডিম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে হার্টের রোগ, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রশ্ন থাকে—প্রতিদিন ডিম খাওয়া আদৌ নিরাপদ কি না। এ বিষয়ে নিজের মতামত ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন প্রখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জন ডা. কুনাল সরকার।
তার মতে, ডিম প্রকৃতির অন্যতম পরিপূর্ণ পুষ্টিকর খাবার। একটি ডিমে প্রায় ৬ থেকে ৮ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে, যা শরীরের পেশি গঠন, টিস্যু মেরামত এবং দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডিমের সাদা অংশে থাকা অ্যালবুমিন বিশুদ্ধ প্রোটিনের একটি উৎকৃষ্ট উৎস।
ডিমের কুসুম নিয়ে প্রচলিত ভীতির প্রসঙ্গ টেনে ডা. সরকার বলেন, সুস্থ একজন মানুষের জন্য প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়ায় সাধারণত কোনো সমস্যা হয় না। কেবল যাদের হাইপারলিপিডিমিয়া বা লিভারের নির্দিষ্ট জটিলতা রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ঠিক করা উচিত। তিনি আরও বলেন, বাজারে যে ডিম পাওয়া যায় সেগুলো অধিকাংশই নিষিক্ত নয়। তাই এগুলো খাওয়াকে ভ্রূণ ধ্বংসের সঙ্গে তুলনা করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে পেশি ক্ষয়ের প্রবণতা বাড়ে। এ কারণে প্রবীণ ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন—এমন মানুষের জন্য ডিম অত্যন্ত মূল্যবান খাদ্য হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। সহজলভ্য ও তুলনামূলক কম খরচে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার অন্যতম উপায় হিসেবেও তিনি ডিমকে গুরুত্ব দেন।
যারা নিরামিষভোজী এবং ডিম খান না, তাদের প্রোটিন ঘাটতির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। এ ক্ষেত্রে দুধ, পনির, সয়াবিন এবং বিভিন্ন ধরনের ডাল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দেন ডা. কুনাল সরকার।
সরকারি মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে ডিম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও তিনি বলেন, শুধু ডিম যোগ করাই যথেষ্ট নয়। শিশুদের জন্য পরিবেশিত খাবারের পর্যাপ্ত ক্যালরি, পুষ্টিমান এবং স্বাস্থ্যসম্মত প্রস্তুতি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ডিম খেলে ওজন বেড়ে যায়—এমন ধারণাকেও পুরোপুরি সঠিক মনে করেন না তিনি। তার ভাষ্য, ওজন বৃদ্ধি মূলত নির্ভর করে সারাদিনে মোট কত ক্যালরি গ্রহণ করা হচ্ছে তার ওপর। তাই অতিরিক্ত তেলে ভাজা ডিমের পরিবর্তে হাফ-বয়েল বা হালকা সেদ্ধ ডিম খাওয়াই বেশি উপকারী। অতিরিক্ত তাপে রান্না বা গভীর তেলে ভাজার ফলে খাবারের পুষ্টিগুণ কমে যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সবশেষে ডা. কুনাল সরকার বলেন, ডিম নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, বয়স ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
2.png)
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
ডিম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে হার্টের রোগ, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রশ্ন থাকে—প্রতিদিন ডিম খাওয়া আদৌ নিরাপদ কি না। এ বিষয়ে নিজের মতামত ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন প্রখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জন ডা. কুনাল সরকার।
তার মতে, ডিম প্রকৃতির অন্যতম পরিপূর্ণ পুষ্টিকর খাবার। একটি ডিমে প্রায় ৬ থেকে ৮ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে, যা শরীরের পেশি গঠন, টিস্যু মেরামত এবং দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডিমের সাদা অংশে থাকা অ্যালবুমিন বিশুদ্ধ প্রোটিনের একটি উৎকৃষ্ট উৎস।
ডিমের কুসুম নিয়ে প্রচলিত ভীতির প্রসঙ্গ টেনে ডা. সরকার বলেন, সুস্থ একজন মানুষের জন্য প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়ায় সাধারণত কোনো সমস্যা হয় না। কেবল যাদের হাইপারলিপিডিমিয়া বা লিভারের নির্দিষ্ট জটিলতা রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ঠিক করা উচিত। তিনি আরও বলেন, বাজারে যে ডিম পাওয়া যায় সেগুলো অধিকাংশই নিষিক্ত নয়। তাই এগুলো খাওয়াকে ভ্রূণ ধ্বংসের সঙ্গে তুলনা করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে পেশি ক্ষয়ের প্রবণতা বাড়ে। এ কারণে প্রবীণ ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন—এমন মানুষের জন্য ডিম অত্যন্ত মূল্যবান খাদ্য হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। সহজলভ্য ও তুলনামূলক কম খরচে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার অন্যতম উপায় হিসেবেও তিনি ডিমকে গুরুত্ব দেন।
যারা নিরামিষভোজী এবং ডিম খান না, তাদের প্রোটিন ঘাটতির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। এ ক্ষেত্রে দুধ, পনির, সয়াবিন এবং বিভিন্ন ধরনের ডাল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দেন ডা. কুনাল সরকার।
সরকারি মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে ডিম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও তিনি বলেন, শুধু ডিম যোগ করাই যথেষ্ট নয়। শিশুদের জন্য পরিবেশিত খাবারের পর্যাপ্ত ক্যালরি, পুষ্টিমান এবং স্বাস্থ্যসম্মত প্রস্তুতি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ডিম খেলে ওজন বেড়ে যায়—এমন ধারণাকেও পুরোপুরি সঠিক মনে করেন না তিনি। তার ভাষ্য, ওজন বৃদ্ধি মূলত নির্ভর করে সারাদিনে মোট কত ক্যালরি গ্রহণ করা হচ্ছে তার ওপর। তাই অতিরিক্ত তেলে ভাজা ডিমের পরিবর্তে হাফ-বয়েল বা হালকা সেদ্ধ ডিম খাওয়াই বেশি উপকারী। অতিরিক্ত তাপে রান্না বা গভীর তেলে ভাজার ফলে খাবারের পুষ্টিগুণ কমে যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সবশেষে ডা. কুনাল সরকার বলেন, ডিম নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, বয়স ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
2.png)