সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 রাজনীতিরাজনীতি

গাড়ী চালক চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভিডিও ধারন করে বলে গাজী নজরুলের বিবৃতি

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে থাকা নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। একই সঙ্গে গাড়িচালকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ষড়যন্ত্র ও চরিত্র হননের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

গাড়ী চালক চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভিডিও ধারন করে বলে গাজী নজরুলের বিবৃতি
ছবি -সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় থাকা সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলাম এবার নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।


সোমবার (২০ জুলাই) রাতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।

বিবৃতিতে গাজী নজরুল বলেন, তাঁর গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে গোপনে ধারণ করা সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর চরিত্র ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মারিয়াম বেগম এবং মারিয়ামের মামা ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মগবাজারে মাছুম বিল্লাহর একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে যান। সেখানে অবস্থানের সময় গাড়িচালক কয়েকবার বাইরে গিয়ে ফিরে এসে সতর্ক করেন। পরে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি কক্ষে ঢুকে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং একপর্যায়ে টাকা দাবি করেন।

গাজী নজরুলের দাবি, পরে তাঁদের একটি বিকাশের দোকানে নিয়ে গিয়ে এক লাখ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। টাকা দেওয়ার পর তাঁদের সেখান থেকে চলে যেতে দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ তাঁর কাছে পাঁচ লাখ এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাছুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। অন্যথায় গাড়ি ফেরত দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়। তাঁর অভিযোগ, পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন ওই গাড়িচালক।

তিনি আরও দাবি করেন, ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের সঙ্গে মাছুম বিল্লাহর দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। সেই বিরোধকে কাজে লাগিয়ে গাড়িচালক পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ফাঁদে ফেলেন এবং অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন।

বিবৃতিতে গাজী নজরুল উল্লেখ করেন, পরদিন রাতে মাছুম বিল্লাহর এক আত্মীয় ও পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) সহায়তায় গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। এরপর গাড়িচালক ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেন। তাঁর দাবি, সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় আগে থেকে সিসিটিভিতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

এমপির ভাষ্য, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে এ ধরনের ভিডিও প্রচার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি পরিকল্পিতভাবে তাঁর চরিত্র হননের চেষ্টা। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

তবে গাজী নজরুলের এ দাবির পাশাপাশি তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় একজন স্ত্রীর তথ্য উল্লেখ রয়েছে, যা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

বিষয় : গাজী নজরুল ইসলাম নারী কেলেংকারি

কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


গাড়ী চালক চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভিডিও ধারন করে বলে গাজী নজরুলের বিবৃতি

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

featured Image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় থাকা সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলাম এবার নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।


সোমবার (২০ জুলাই) রাতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।

বিবৃতিতে গাজী নজরুল বলেন, তাঁর গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে গোপনে ধারণ করা সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর চরিত্র ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মারিয়াম বেগম এবং মারিয়ামের মামা ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মগবাজারে মাছুম বিল্লাহর একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে যান। সেখানে অবস্থানের সময় গাড়িচালক কয়েকবার বাইরে গিয়ে ফিরে এসে সতর্ক করেন। পরে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি কক্ষে ঢুকে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং একপর্যায়ে টাকা দাবি করেন।

গাজী নজরুলের দাবি, পরে তাঁদের একটি বিকাশের দোকানে নিয়ে গিয়ে এক লাখ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। টাকা দেওয়ার পর তাঁদের সেখান থেকে চলে যেতে দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ তাঁর কাছে পাঁচ লাখ এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাছুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। অন্যথায় গাড়ি ফেরত দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়। তাঁর অভিযোগ, পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন ওই গাড়িচালক।

তিনি আরও দাবি করেন, ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের সঙ্গে মাছুম বিল্লাহর দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। সেই বিরোধকে কাজে লাগিয়ে গাড়িচালক পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ফাঁদে ফেলেন এবং অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন।

বিবৃতিতে গাজী নজরুল উল্লেখ করেন, পরদিন রাতে মাছুম বিল্লাহর এক আত্মীয় ও পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) সহায়তায় গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। এরপর গাড়িচালক ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেন। তাঁর দাবি, সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় আগে থেকে সিসিটিভিতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

এমপির ভাষ্য, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে এ ধরনের ভিডিও প্রচার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি পরিকল্পিতভাবে তাঁর চরিত্র হননের চেষ্টা। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

তবে গাজী নজরুলের এ দাবির পাশাপাশি তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় একজন স্ত্রীর তথ্য উল্লেখ রয়েছে, যা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত