আন্তর্জাতিক
ভারতে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন রাজধানী দিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পাটনা, সুরাট ও লখনউসহ একাধিক বড় শহরে বুধবারও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। আন্দোলনের বিস্তার এবং বিরোধী দলগুলোর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার একদিকে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা জোরদার করেছে। তবে এসব উদ্যোগের পরও রাজপথের উত্তেজনা কমার লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে পুলিশ আটক করে। তারা নিট পরীক্ষা নিয়ে বিতর্কের দায় স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। পাশাপাশি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপেরও তীব্র সমালোচনা করেন। এই ঘটনার পর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়ে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিরোধী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সংকট নিরসনের আশ্বাস দিলেও তাতে আন্দোলনের গতি থামেনি। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছে। জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কড়া নজরদারির পাশাপাশি প্রায় ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। মহারাষ্ট্রে মারাঠা আন্দোলনের নেতা মনোজ জারাঙ্গে পাতিল আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিরোধী নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা আন্দোলনকারীদের মনোবল আরও বাড়িয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
উত্তরপ্রদেশের লখনউতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত রূপ নেয়। কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অজয় রাইয়ের নেতৃত্বে দলীয় কর্মীরা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে অজয় রাইসহ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। এর জবাবে বিজেপিও পাল্টা কর্মসূচি পালন করে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে পাল্টা মিছিলের নেতৃত্ব দেন।
এদিকে আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আইনি প্রশ্নও সামনে এসেছে। ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে দায়ের করা তিনটি জনস্বার্থ মামলার প্রাথমিক শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্র সরকার ও দিল্লি পুলিশকে নোটিশ জারি করেছে। আদালত সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ, বডি-ক্যামেরার ভিডিও এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, কোনো সমাবেশ বেআইনি হলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বলপ্রয়োগের আগে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১১ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে ঘিরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন শুধু একটি শিক্ষা-সংক্রান্ত ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধীরে ধীরে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাত, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে জাতীয় বিতর্কে রূপ নিচ্ছে। ফলে আন্দোলনের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিষয় : নিট ইস্যু নরেন্দ্র মোদী
2.png)
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
ভারতে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন রাজধানী দিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পাটনা, সুরাট ও লখনউসহ একাধিক বড় শহরে বুধবারও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। আন্দোলনের বিস্তার এবং বিরোধী দলগুলোর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার একদিকে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা জোরদার করেছে। তবে এসব উদ্যোগের পরও রাজপথের উত্তেজনা কমার লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে পুলিশ আটক করে। তারা নিট পরীক্ষা নিয়ে বিতর্কের দায় স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। পাশাপাশি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপেরও তীব্র সমালোচনা করেন। এই ঘটনার পর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়ে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিরোধী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সংকট নিরসনের আশ্বাস দিলেও তাতে আন্দোলনের গতি থামেনি। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছে। জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কড়া নজরদারির পাশাপাশি প্রায় ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। মহারাষ্ট্রে মারাঠা আন্দোলনের নেতা মনোজ জারাঙ্গে পাতিল আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিরোধী নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা আন্দোলনকারীদের মনোবল আরও বাড়িয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
উত্তরপ্রদেশের লখনউতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত রূপ নেয়। কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অজয় রাইয়ের নেতৃত্বে দলীয় কর্মীরা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে অজয় রাইসহ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। এর জবাবে বিজেপিও পাল্টা কর্মসূচি পালন করে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে পাল্টা মিছিলের নেতৃত্ব দেন।
এদিকে আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আইনি প্রশ্নও সামনে এসেছে। ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে দায়ের করা তিনটি জনস্বার্থ মামলার প্রাথমিক শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্র সরকার ও দিল্লি পুলিশকে নোটিশ জারি করেছে। আদালত সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ, বডি-ক্যামেরার ভিডিও এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, কোনো সমাবেশ বেআইনি হলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বলপ্রয়োগের আগে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১১ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে ঘিরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন শুধু একটি শিক্ষা-সংক্রান্ত ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধীরে ধীরে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাত, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে জাতীয় বিতর্কে রূপ নিচ্ছে। ফলে আন্দোলনের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
2.png)