রাজনীতি
পর্ব-১ পড়তে ক্লিক করুন
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শুধু তাঁর দেশত্যাগ নয়, পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের অবস্থান নিয়েও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শেখ পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য সরকার পতনের আগে কিংবা পরপরই দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সরকার পতনের দুই দিন আগে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় আসেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি লন্ডনে বসবাস করতেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে রাষ্ট্রীয় সফর ও বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রায়ই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা যেত। দেশ ছাড়ার পর তিনি ভারত ও যুক্তরাজয়ের মধ্যে অবস্থান করছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এরপর অবশ্য তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
শেখ হাসিনার সঙ্গে একই সফরে ছিলেন তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক। পারিবারিকভাবে তিনি শেখ রেহানার দেবর।
শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকতেন। সরকার পতনের সময়ও তিনি সেখানেই ছিলেন। পরে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে তিনি ভারতে গেছেন বলে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিতে নিয়মিত দেশে আসতেন।
শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ ২০২৩ সালের নভেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক নির্বাচিত হন। সংস্থাটির আঞ্চলিক কার্যালয় নয়াদিল্লিতে হওয়ায় সরকার পতনের সময় তিনি সেখানেই ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানো হয়। তবে তিনি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে তিনি কখনো দিল্লি, আবার কখনো দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, যিনি ববি নামে পরিচিত, আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এর দায়িত্বে ছিলেন। সরকার পতনের সময় তিনি থাইল্যান্ডে ছিলেন বলে জানা গেছে। তাঁর স্ত্রী ফিনল্যান্ডের নাগরিক। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পেও কাজ করেছেন।
শেখ রেহানার বড় মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য। তাঁর ছোট মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীও যুক্তরাজ্যে থাকেন। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না এবং খুব কমই দেশে আসতেন।
শুধু পরিবারের সদস্যরাই নন, শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয়দের অনেকেও আওয়ামী লীগ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনাসহ তাঁর পরিবারের আটজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, শেখ হেলাল উদ্দীন, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, শেখ তন্ময়, নূর-ই-আলম চৌধুরী এবং মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী)।
এ ছাড়া বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন আবুল খায়ের আবদুল্লাহ। যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলেন শেখ ফজলে শামস পরশ। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও শেখ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন।
সরকার পতনের পর তাঁদের বেশির ভাগই দেশ ছেড়ে চলে যান বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অনেকে বর্তমানে ভারতের কলকাতাসহ বিভিন্ন শহরে অবস্থান করছেন। আবার কেউ সিঙ্গাপুর, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য দেশে চলে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন সময় তাঁদের বিদেশে অবস্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হয়েছে।
(চলবে—শেষ পর্বে: শেখ সেলিম, শেখ হেলাল, সাদিক আবদুল্লাহ, নিক্সন চৌধুরীসহ অন্য স্বজনদের দেশত্যাগ, গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক মন্ত্রী-এমপি এবং আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া।)
বিষয় : আমেরিকার পতন শেখ হাসিনা শেখ পরিবার
2.png)
শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬
পর্ব-১ পড়তে ক্লিক করুন
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শুধু তাঁর দেশত্যাগ নয়, পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের অবস্থান নিয়েও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শেখ পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য সরকার পতনের আগে কিংবা পরপরই দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সরকার পতনের দুই দিন আগে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় আসেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি লন্ডনে বসবাস করতেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে রাষ্ট্রীয় সফর ও বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রায়ই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা যেত। দেশ ছাড়ার পর তিনি ভারত ও যুক্তরাজয়ের মধ্যে অবস্থান করছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এরপর অবশ্য তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
শেখ হাসিনার সঙ্গে একই সফরে ছিলেন তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক। পারিবারিকভাবে তিনি শেখ রেহানার দেবর।
শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকতেন। সরকার পতনের সময়ও তিনি সেখানেই ছিলেন। পরে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে তিনি ভারতে গেছেন বলে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিতে নিয়মিত দেশে আসতেন।
শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ ২০২৩ সালের নভেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক নির্বাচিত হন। সংস্থাটির আঞ্চলিক কার্যালয় নয়াদিল্লিতে হওয়ায় সরকার পতনের সময় তিনি সেখানেই ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানো হয়। তবে তিনি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে তিনি কখনো দিল্লি, আবার কখনো দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, যিনি ববি নামে পরিচিত, আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এর দায়িত্বে ছিলেন। সরকার পতনের সময় তিনি থাইল্যান্ডে ছিলেন বলে জানা গেছে। তাঁর স্ত্রী ফিনল্যান্ডের নাগরিক। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পেও কাজ করেছেন।
শেখ রেহানার বড় মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য। তাঁর ছোট মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীও যুক্তরাজ্যে থাকেন। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না এবং খুব কমই দেশে আসতেন।
শুধু পরিবারের সদস্যরাই নন, শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয়দের অনেকেও আওয়ামী লীগ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনাসহ তাঁর পরিবারের আটজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, শেখ হেলাল উদ্দীন, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, শেখ তন্ময়, নূর-ই-আলম চৌধুরী এবং মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী)।
এ ছাড়া বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন আবুল খায়ের আবদুল্লাহ। যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলেন শেখ ফজলে শামস পরশ। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও শেখ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন।
সরকার পতনের পর তাঁদের বেশির ভাগই দেশ ছেড়ে চলে যান বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অনেকে বর্তমানে ভারতের কলকাতাসহ বিভিন্ন শহরে অবস্থান করছেন। আবার কেউ সিঙ্গাপুর, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য দেশে চলে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন সময় তাঁদের বিদেশে অবস্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হয়েছে।
(চলবে—শেষ পর্বে: শেখ সেলিম, শেখ হেলাল, সাদিক আবদুল্লাহ, নিক্সন চৌধুরীসহ অন্য স্বজনদের দেশত্যাগ, গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক মন্ত্রী-এমপি এবং আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া।)
2.png)