রাজনীতিরাজনীতি

জুলাইয়ের অর্জন দলগুলোর মধ্যে ভাগ হয়েছে: নাহিদ

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলের বাইরের সাধারণ মানুষের অবদান স্মরণ করে পাঁচ শতাধিক ‘বিপ্লবীকে’ ব্যক্তিগত বার্তা পাঠিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, অভ্যুত্থানের পর জুলাইয়ের অর্জন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে গেছে।

সুবাস সোম
সুবাস সোম
জুলাইয়ের অর্জন দলগুলোর মধ্যে ভাগ হয়েছে: নাহিদ
ছবি -সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আন্দোলনের অর্জন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর ভাষায়, এখন হিসাব হচ্ছে—‘বিএনপির ভাগ কত, এনসিপির ভাগ কত, জামায়াতে ইসলামীর ভাগ কত।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আন্দোলনে যুক্ত পাঁচ শতাধিক মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে বার্তা পাঠিয়েছেন নাহিদ। তাঁদের কাছে তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। নাহিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ৫ আগস্ট তিনি এসব বার্তা পাঠান।

যাঁদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে, তাঁদের ‘এক দফার আসল ঘোষক ও জুলাইয়ের আসল মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন নাহিদ। একই সঙ্গে জুলাইয়ে তাঁদের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ লিখেছেন, জুলাইয়ের সময় এমন অসংখ্য মানুষ তাঁর পাশে ছিলেন, যাঁদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। কেউ তাঁর জন্য দোয়া করেছেন, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন, কেউ মুক্তির দাবিতে গান গেয়েছেন, আবার কেউ ছবি এঁকেছেন।

আন্দোলনের সময় রাস্তায় পানি এগিয়ে দেওয়া ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আহত মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া রিকশা-ভ্যানচালক এবং পুলিশের চোখ এড়িয়ে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসকদের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

নাহিদের মতে, জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল রাজনীতির বাইরে থাকা মানুষজনও। এমন অনেক তরুণ-তরুণী আন্দোলনে নেমেছিলেন, যাঁদের রাজনীতি নিয়ে কোনো আগ্রহ ছিল না। কেউ প্লেস্টেশন ও ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন, কেউ কখনো সরকারি চাকরি করার কথা ভাবেননি। তাঁদের অনেকে জুলাইয়ে রাজপথে নেমে আন্দোলনকে সফল করতে ভূমিকা রাখেন।

কিন্তু আন্দোলন শেষ হওয়ার পর এসব মানুষ আবার নিজেদের জীবনে ফিরে গেছেন বলে মনে করেন নাহিদ। তাঁর ভাষায়, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নেই। অথচ জুলাইয়ের অর্জন এখন দলগুলোর মধ্যে ভাগাভাগি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপির ভাগ কত, এনসিপির ভাগ কত, জামাতের ভাগ কত—এভাবেই জুলাইয়ের স্টেক ভাগাভাগি হয়েছে এবং হচ্ছে।’

নাহিদের বক্তব্য, জুলাই শুধু রাজনৈতিক দল বা নেতাকর্মীদের আন্দোলন ছিল না। এতে অংশ নিয়েছিলেন রাজনীতিবিমুখ মানুষ, ‘আই হেট পলিটিক্স’ ধরনের মানুষ এবং দোদুল্যমান ভোটারসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। তাঁদের অংশগ্রহণ ছাড়া আন্দোলন সফল করা সম্ভব হতো না।

অথচ এখন তাঁদের মিছিল-মিটিংয়ে দেখা যায় না। সভা-সেমিনারেও তাঁরা নেই। এমনকি সংবর্ধনা দিলেও অনেকে সেখানে আসেন না। নাহিদের মতে, তাঁরা ঘরেই ফিরে গেছেন।

এই মানুষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই গত দুই দিনে যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত বার্তা পাঠিয়েছেন বলে জানান নাহিদ। অনেকেই সেই বার্তা পেয়েছেন। কারও বার্তা স্প্যাম ফোল্ডারে চলে গেছে, আবার কারও মেসেজ অপশন বন্ধ থাকায় তিনি যোগাযোগ করতে পারেননি।

বাংলাদেশের ১৬ কোটি বিপ্লবীর সবার কাছে পৌঁছানোর ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন নাহিদ। তাঁদের সঙ্গে হাত মেলাতে এবং কৃতজ্ঞতা জানাতে চান তিনি। তবে একসঙ্গে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব নয় বলে যাঁরা বার্তা পাননি, তাঁদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

জুলাইয়ের পর মানুষের অনেক প্রত্যাশাই এখনো পূরণ হয়নি বলেও স্বীকার করেছেন নাহিদ। তিনি বলেছেন, তাঁদের প্রচেষ্টারও সীমাবদ্ধতা ছিল। বিভিন্ন পক্ষের বাধার কারণে অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক। দেশের প্রয়োজন হলে আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষগুলোকে আবারও সোচ্চার হওয়ার এবং জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর প্রশ্ন, ‘বিএনপির ভাগ কত, এনসিপির ভাগ কত, জামায়াতে ইসলামীর ভাগ কত’—এভাবেই জুলাইয়ের ‘স্টেক’ ভাগ করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পাঁচ শতাধিক আন্দোলনকারীকে ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ৫ আগস্ট তিনি এসব বার্তা পাঠান। যাঁদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে ‘এক দফার আসল ঘোষক ও জুলাইয়ের আসল মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বার্তাগুলোতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জুলাই আন্দোলনে ভূমিকার কথাও স্মরণ করা হয়েছে। এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে।

বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের আগে ও আন্দোলনের সময় অনেক অচেনা মানুষ তাঁর জন্য দোয়া করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন, মুক্তির দাবিতে গান গেয়েছেন এবং ছবি এঁকেছেন।

আন্দোলনের সময় রাস্তায় পানি এগিয়ে দেওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া রিকশা-ভ্যানচালক এবং পুলিশের নজর এড়িয়ে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসকদের কথাও তিনি স্মরণ করেন।

নাহিদ বলেন, এমন অনেক তরুণ-তরুণীও জুলাইয়ে রাজপথে নেমেছিলেন, যাঁদের রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না। কেউ প্লেস্টেশন ও ক্রিপ্টোকারেন্সির বাইরে অন্য কিছু নিয়ে ভাবতেন না, কেউবা সরকারি চাকরির কথা কখনো চিন্তাই করেননি। তাঁদের অনেকেই জুলাইয়ে আবাবিল পাখির মতো নেমে এসে ‘স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে আন্দোলনের পর এসব মানুষের অধিকাংশই ঘরে ফিরে গেছেন বলে উল্লেখ করেন নাহিদ। তাঁর ভাষ্য, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। অথচ জুলাইয়ের অর্জন এখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে।

নাহিদ লেখেন, জুলাই শুধু রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ছিল না। এটি ছিল সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের। রাজনীতিবিমুখ মানুষ, ‘আই হেট পলিটিক্স’ মানসিকতার মানুষ এবং দোদুল্যমান ভোটার—সবাই এই অভ্যুত্থানের অংশ ছিলেন। তাঁদের অংশগ্রহণ ছাড়া জুলাই সফল হতো না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কিন্তু অভ্যুত্থানের পর তাঁদের আর মিছিল-মিটিং, সভা-সেমিনার কিংবা সংবর্ধনায় দেখা যায় না। তাঁরা নিজেদের ঘরেই ফিরে গেছেন বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক।

এই মানুষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উপায় কী হতে পারে—এমন ভাবনা থেকেই গত দুই দিনে যতটা সম্ভব মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে বার্তা পাঠিয়েছেন বলে জানান নাহিদ। অনেকে বার্তাটি পেয়েছেন, আবার কারও মেসেজ স্প্যাম ফোল্ডারে চলে যাওয়ায় সেটি চোখে পড়েনি। কারও মেসেজ অপশন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করাও সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশের ১৬ কোটি ‘বিপ্লবী’কে ব্যক্তিগতভাবে বার্তা দেওয়া, তাঁদের সঙ্গে হাত মেলানো এবং কৃতজ্ঞতা জানানোর ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেন নাহিদ। তবে মানবিক সীমাবদ্ধতার কারণে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

জুলাইয়ের পর অনেক স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি এবং মানুষের প্রত্যাশিত পরিবর্তনও আসেনি বলে স্বীকার করেছেন নাহিদ। তিনি নিজেদের প্রচেষ্টার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, নানা পক্ষের বাধার কারণে অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আমৃত্যু চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, দেশ ও জাতির প্রয়োজন হলে এসব মানুষ যেন আবারও সরব হন এবং জুলাইয়ের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখেন।

এদিকে নাহিদের পাঠানো বার্তা পেয়ে অনেকে ফেসবুকে এর স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন। তাঁদের একজন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (পুনাব) সহসভাপতি লাবিব মুহাম্মদ। বার্তার স্ক্রিনশট দিয়ে প্রতিক্রিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘নাহিদ ইসলাম ভাই আমি লিটারেলি কানতেছি।’

বিষয় : নাহিদ ইসলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জুলাইয়ের অর্জন

কাল মহাকাল

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬


জুলাইয়ের অর্জন দলগুলোর মধ্যে ভাগ হয়েছে: নাহিদ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আন্দোলনের অর্জন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর ভাষায়, এখন হিসাব হচ্ছে—‘বিএনপির ভাগ কত, এনসিপির ভাগ কত, জামায়াতে ইসলামীর ভাগ কত।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আন্দোলনে যুক্ত পাঁচ শতাধিক মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে বার্তা পাঠিয়েছেন নাহিদ। তাঁদের কাছে তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। নাহিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ৫ আগস্ট তিনি এসব বার্তা পাঠান।

যাঁদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে, তাঁদের ‘এক দফার আসল ঘোষক ও জুলাইয়ের আসল মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন নাহিদ। একই সঙ্গে জুলাইয়ে তাঁদের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ লিখেছেন, জুলাইয়ের সময় এমন অসংখ্য মানুষ তাঁর পাশে ছিলেন, যাঁদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। কেউ তাঁর জন্য দোয়া করেছেন, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন, কেউ মুক্তির দাবিতে গান গেয়েছেন, আবার কেউ ছবি এঁকেছেন।

আন্দোলনের সময় রাস্তায় পানি এগিয়ে দেওয়া ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আহত মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া রিকশা-ভ্যানচালক এবং পুলিশের চোখ এড়িয়ে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসকদের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

নাহিদের মতে, জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল রাজনীতির বাইরে থাকা মানুষজনও। এমন অনেক তরুণ-তরুণী আন্দোলনে নেমেছিলেন, যাঁদের রাজনীতি নিয়ে কোনো আগ্রহ ছিল না। কেউ প্লেস্টেশন ও ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন, কেউ কখনো সরকারি চাকরি করার কথা ভাবেননি। তাঁদের অনেকে জুলাইয়ে রাজপথে নেমে আন্দোলনকে সফল করতে ভূমিকা রাখেন।

কিন্তু আন্দোলন শেষ হওয়ার পর এসব মানুষ আবার নিজেদের জীবনে ফিরে গেছেন বলে মনে করেন নাহিদ। তাঁর ভাষায়, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নেই। অথচ জুলাইয়ের অর্জন এখন দলগুলোর মধ্যে ভাগাভাগি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপির ভাগ কত, এনসিপির ভাগ কত, জামাতের ভাগ কত—এভাবেই জুলাইয়ের স্টেক ভাগাভাগি হয়েছে এবং হচ্ছে।’

নাহিদের বক্তব্য, জুলাই শুধু রাজনৈতিক দল বা নেতাকর্মীদের আন্দোলন ছিল না। এতে অংশ নিয়েছিলেন রাজনীতিবিমুখ মানুষ, ‘আই হেট পলিটিক্স’ ধরনের মানুষ এবং দোদুল্যমান ভোটারসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। তাঁদের অংশগ্রহণ ছাড়া আন্দোলন সফল করা সম্ভব হতো না।

অথচ এখন তাঁদের মিছিল-মিটিংয়ে দেখা যায় না। সভা-সেমিনারেও তাঁরা নেই। এমনকি সংবর্ধনা দিলেও অনেকে সেখানে আসেন না। নাহিদের মতে, তাঁরা ঘরেই ফিরে গেছেন।

এই মানুষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই গত দুই দিনে যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত বার্তা পাঠিয়েছেন বলে জানান নাহিদ। অনেকেই সেই বার্তা পেয়েছেন। কারও বার্তা স্প্যাম ফোল্ডারে চলে গেছে, আবার কারও মেসেজ অপশন বন্ধ থাকায় তিনি যোগাযোগ করতে পারেননি।

বাংলাদেশের ১৬ কোটি বিপ্লবীর সবার কাছে পৌঁছানোর ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন নাহিদ। তাঁদের সঙ্গে হাত মেলাতে এবং কৃতজ্ঞতা জানাতে চান তিনি। তবে একসঙ্গে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব নয় বলে যাঁরা বার্তা পাননি, তাঁদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

জুলাইয়ের পর মানুষের অনেক প্রত্যাশাই এখনো পূরণ হয়নি বলেও স্বীকার করেছেন নাহিদ। তিনি বলেছেন, তাঁদের প্রচেষ্টারও সীমাবদ্ধতা ছিল। বিভিন্ন পক্ষের বাধার কারণে অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক। দেশের প্রয়োজন হলে আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষগুলোকে আবারও সোচ্চার হওয়ার এবং জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর প্রশ্ন, ‘বিএনপির ভাগ কত, এনসিপির ভাগ কত, জামায়াতে ইসলামীর ভাগ কত’—এভাবেই জুলাইয়ের ‘স্টেক’ ভাগ করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পাঁচ শতাধিক আন্দোলনকারীকে ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ৫ আগস্ট তিনি এসব বার্তা পাঠান। যাঁদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে ‘এক দফার আসল ঘোষক ও জুলাইয়ের আসল মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বার্তাগুলোতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জুলাই আন্দোলনে ভূমিকার কথাও স্মরণ করা হয়েছে। এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে।

বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের আগে ও আন্দোলনের সময় অনেক অচেনা মানুষ তাঁর জন্য দোয়া করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন, মুক্তির দাবিতে গান গেয়েছেন এবং ছবি এঁকেছেন।

আন্দোলনের সময় রাস্তায় পানি এগিয়ে দেওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া রিকশা-ভ্যানচালক এবং পুলিশের নজর এড়িয়ে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসকদের কথাও তিনি স্মরণ করেন।

নাহিদ বলেন, এমন অনেক তরুণ-তরুণীও জুলাইয়ে রাজপথে নেমেছিলেন, যাঁদের রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না। কেউ প্লেস্টেশন ও ক্রিপ্টোকারেন্সির বাইরে অন্য কিছু নিয়ে ভাবতেন না, কেউবা সরকারি চাকরির কথা কখনো চিন্তাই করেননি। তাঁদের অনেকেই জুলাইয়ে আবাবিল পাখির মতো নেমে এসে ‘স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে আন্দোলনের পর এসব মানুষের অধিকাংশই ঘরে ফিরে গেছেন বলে উল্লেখ করেন নাহিদ। তাঁর ভাষ্য, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। অথচ জুলাইয়ের অর্জন এখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে।

নাহিদ লেখেন, জুলাই শুধু রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ছিল না। এটি ছিল সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের। রাজনীতিবিমুখ মানুষ, ‘আই হেট পলিটিক্স’ মানসিকতার মানুষ এবং দোদুল্যমান ভোটার—সবাই এই অভ্যুত্থানের অংশ ছিলেন। তাঁদের অংশগ্রহণ ছাড়া জুলাই সফল হতো না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কিন্তু অভ্যুত্থানের পর তাঁদের আর মিছিল-মিটিং, সভা-সেমিনার কিংবা সংবর্ধনায় দেখা যায় না। তাঁরা নিজেদের ঘরেই ফিরে গেছেন বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক।

এই মানুষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উপায় কী হতে পারে—এমন ভাবনা থেকেই গত দুই দিনে যতটা সম্ভব মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে বার্তা পাঠিয়েছেন বলে জানান নাহিদ। অনেকে বার্তাটি পেয়েছেন, আবার কারও মেসেজ স্প্যাম ফোল্ডারে চলে যাওয়ায় সেটি চোখে পড়েনি। কারও মেসেজ অপশন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করাও সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশের ১৬ কোটি ‘বিপ্লবী’কে ব্যক্তিগতভাবে বার্তা দেওয়া, তাঁদের সঙ্গে হাত মেলানো এবং কৃতজ্ঞতা জানানোর ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেন নাহিদ। তবে মানবিক সীমাবদ্ধতার কারণে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

জুলাইয়ের পর অনেক স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি এবং মানুষের প্রত্যাশিত পরিবর্তনও আসেনি বলে স্বীকার করেছেন নাহিদ। তিনি নিজেদের প্রচেষ্টার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, নানা পক্ষের বাধার কারণে অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আমৃত্যু চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, দেশ ও জাতির প্রয়োজন হলে এসব মানুষ যেন আবারও সরব হন এবং জুলাইয়ের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখেন।

এদিকে নাহিদের পাঠানো বার্তা পেয়ে অনেকে ফেসবুকে এর স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন। তাঁদের একজন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (পুনাব) সহসভাপতি লাবিব মুহাম্মদ। বার্তার স্ক্রিনশট দিয়ে প্রতিক্রিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘নাহিদ ইসলাম ভাই আমি লিটারেলি কানতেছি।’


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত