বিনোদনবিনোদন

বিইং হিউম্যান’-এর নামে কোটি টাকার জালিয়াতি, ফাঁসলেন সালমান।

জুয়েলারি শোরুম খোলার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে বলিউড ভাইজানকে আদালতে তলব। আগামী অক্টোবরে সলমন ও তাঁর বোন আলভিরাকে চণ্ডীগড় আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ।

বিইং হিউম্যান’-এর নামে কোটি টাকার জালিয়াতি, ফাঁসলেন সালমান।
সংগৃহীত

আইনি জটিলতা আর ভাইজান—যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ! কোনো না কোনো ইস্যুতে তাঁকে ঘিরে আইনি ঝামেলা লেগেই থাকে। এবার এক ব্যবসায়ীর ঝুলিয়ে দেওয়া প্রতারণার দায়ে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন বলিউড সুলতান সলমন খান। সঙ্গে জড়িয়ে গেছে তাঁর বোন আলভিরা খানের নামও। ৩ কোটি টাকার ব্যবসায়িক প্রতারণার অভিযোগে সালমন, তাঁর বোন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে ভারতের চণ্ডীগড়ের এক আদালত। আগামী ৫ অক্টোবর সালমন খানসহ সমস্ত অভিযুক্তদের আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের স্পষ্ট জবাব দিতে বলা হয়েছে।

​ঘটনার সূত্রপাত চণ্ডীগড়ের স্থানীয় ব্যবসায়ী অরুণ গুপ্তর দায়ের করা এক মামলাকে কেন্দ্র করে। অরুণ গুপ্তর দাবি, সালমনের বিখ্যাত ব্র্যান্ড 'বিইং হিউম্যান'-এর জুয়েলারি শোরুম খোলার জন্য তাঁকে নানা প্রলোভন ও আশ্বাসের ছক সাজানো হয়েছিল। সেই ভরসায় পা দিয়ে তিনি চোখ বন্ধ করে প্রায় ৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বসেন। চুক্তি অনুযায়ী 'স্টাইল অ্যান্ড কনটেন্ট জুয়েলারি প্রাইভেট লিমিটেড'-এর অধীনে চণ্ডীগড়ের মানিমাজরায় বেশ ধুমধাম করেই শোরুম চালু করেন তিনি। শোরুমের সাজসজ্জা ও কাঠামোগত কাজেই তাঁর পকেট থেকে খসে যায় প্রায় ১ কোটি টাকা।

​ব্যবসায়ী অরুণের অভিযোগ, চুক্তির সব শর্ত অক্ষরে অক্ষরে তিনি পালন করলেও উল্টো দিক থেকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো সাহায্যই মেলে নি। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই শোরুমে গয়নার সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় সংস্থাটি। ফলে দেখতে দেখতে হু হু করে লোকসানের মুখে পড়ে বন্ধের পথে চলে যায় তাঁর ব্যবসা। অরুণের স্পষ্ট কথা—সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছয় কর্তা মিথ্যা আশ্বাস আর মুখরোচক তথ্য দিয়ে তাঁকে এই বিশাল অংকের টাকা বিনিয়োগে বাধ্য করেছিলেন। এমনকি, স্বয়ং সালমন খান শোরুম উদ্বোধন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, শেষ পর্যন্ত ফিতা কাটতে হাজির করানো হয় অভিনেতার ভগ্নিপতি আয়ুষ শর্মাকে।

​এদিকে সমস্ত দায় এড়িয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে অভিযুক্ত সংস্থা ‘স্টাইল অ্যান্ড কনটেন্ট জুয়েলারি প্রাইভেট লিমিটেড’। তাদের সাফ দাবি, ২০১৫ সালে সলমন খান ফাউন্ডেশন থেকে তারা কেবল ‘বিইং হিউম্যান’ ব্র্যান্ডের নামটি ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছিল। জুয়েলারি ব্যবসার পুরো তদারকি ও বিপণনের দায়িত্বে ছিল তাদের নিজস্ব সংস্থা। অরুণের সঙ্গে ২০১৮ সালে যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে সলমন খানের কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না।

​সব মিলিয়ে আদালতের সমন ও কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় অস্বস্তির মেঘ জমছে খান পরিবারে। আগামী ৫ অক্টোবর আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে বলিপাড়ার ‘ভাইজান’ কীভাবে এই অভিযোগের খণ্ডন করেন, এখন সেটির ওপরই নজর আটকে নেটিজেন ও অনুরাগীদের।

বিষয় : সালমান খান বিয়িং হিউম্যান আলভিরা খান

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬


বিইং হিউম্যান’-এর নামে কোটি টাকার জালিয়াতি, ফাঁসলেন সালমান।

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

আইনি জটিলতা আর ভাইজান—যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ! কোনো না কোনো ইস্যুতে তাঁকে ঘিরে আইনি ঝামেলা লেগেই থাকে। এবার এক ব্যবসায়ীর ঝুলিয়ে দেওয়া প্রতারণার দায়ে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন বলিউড সুলতান সলমন খান। সঙ্গে জড়িয়ে গেছে তাঁর বোন আলভিরা খানের নামও। ৩ কোটি টাকার ব্যবসায়িক প্রতারণার অভিযোগে সালমন, তাঁর বোন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে ভারতের চণ্ডীগড়ের এক আদালত। আগামী ৫ অক্টোবর সালমন খানসহ সমস্ত অভিযুক্তদের আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের স্পষ্ট জবাব দিতে বলা হয়েছে।

​ঘটনার সূত্রপাত চণ্ডীগড়ের স্থানীয় ব্যবসায়ী অরুণ গুপ্তর দায়ের করা এক মামলাকে কেন্দ্র করে। অরুণ গুপ্তর দাবি, সালমনের বিখ্যাত ব্র্যান্ড 'বিইং হিউম্যান'-এর জুয়েলারি শোরুম খোলার জন্য তাঁকে নানা প্রলোভন ও আশ্বাসের ছক সাজানো হয়েছিল। সেই ভরসায় পা দিয়ে তিনি চোখ বন্ধ করে প্রায় ৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বসেন। চুক্তি অনুযায়ী 'স্টাইল অ্যান্ড কনটেন্ট জুয়েলারি প্রাইভেট লিমিটেড'-এর অধীনে চণ্ডীগড়ের মানিমাজরায় বেশ ধুমধাম করেই শোরুম চালু করেন তিনি। শোরুমের সাজসজ্জা ও কাঠামোগত কাজেই তাঁর পকেট থেকে খসে যায় প্রায় ১ কোটি টাকা।

​ব্যবসায়ী অরুণের অভিযোগ, চুক্তির সব শর্ত অক্ষরে অক্ষরে তিনি পালন করলেও উল্টো দিক থেকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো সাহায্যই মেলে নি। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই শোরুমে গয়নার সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় সংস্থাটি। ফলে দেখতে দেখতে হু হু করে লোকসানের মুখে পড়ে বন্ধের পথে চলে যায় তাঁর ব্যবসা। অরুণের স্পষ্ট কথা—সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছয় কর্তা মিথ্যা আশ্বাস আর মুখরোচক তথ্য দিয়ে তাঁকে এই বিশাল অংকের টাকা বিনিয়োগে বাধ্য করেছিলেন। এমনকি, স্বয়ং সালমন খান শোরুম উদ্বোধন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, শেষ পর্যন্ত ফিতা কাটতে হাজির করানো হয় অভিনেতার ভগ্নিপতি আয়ুষ শর্মাকে।

​এদিকে সমস্ত দায় এড়িয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে অভিযুক্ত সংস্থা ‘স্টাইল অ্যান্ড কনটেন্ট জুয়েলারি প্রাইভেট লিমিটেড’। তাদের সাফ দাবি, ২০১৫ সালে সলমন খান ফাউন্ডেশন থেকে তারা কেবল ‘বিইং হিউম্যান’ ব্র্যান্ডের নামটি ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছিল। জুয়েলারি ব্যবসার পুরো তদারকি ও বিপণনের দায়িত্বে ছিল তাদের নিজস্ব সংস্থা। অরুণের সঙ্গে ২০১৮ সালে যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে সলমন খানের কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না।

​সব মিলিয়ে আদালতের সমন ও কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় অস্বস্তির মেঘ জমছে খান পরিবারে। আগামী ৫ অক্টোবর আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে বলিপাড়ার ‘ভাইজান’ কীভাবে এই অভিযোগের খণ্ডন করেন, এখন সেটির ওপরই নজর আটকে নেটিজেন ও অনুরাগীদের।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত