জাতীয়জাতীয়

হাসিনার দেশত্যাগে কারা ছিলেন, মিলল নতুন তথ্য

গণ-অভ্যুত্থানের দিনে শেখ হাসিনার দেশত্যাগে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার, সামরিক বিমান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সামরিক সূত্রের বরাতে নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি বা সামরিক নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।

 বিপ্লব বড়ুয়া
বিপ্লব বড়ুয়া
হাসিনার দেশত্যাগে কারা ছিলেন, মিলল নতুন তথ্য
ছবি -সংগৃহীত

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত যাত্রা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা আলোচনা ও জল্পনার মধ্যে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে। বিভিন্ন সাবেক ও বর্তমান সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তাকে নিরাপদে দেশত্যাগে সহায়তা করতে দুই ধাপে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে সরকার কিংবা সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই দিনের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে শেখ হাসিনাকে অল্প সময়ের মধ্যে গণভবন ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর রাজধানীর বাণিজ্যমেলা এলাকার কাছাকাছি বিমানবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার অবতরণ করে। শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে সেটি নির্ধারিত গন্তব্যে রওনা হয়।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হেলিকপ্টারের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর আব্বাস এবং কো-পাইলট ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির। বিকেলের দিকে হেলিকপ্টারটি কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে পৌঁছায়। সেখানে আগে থেকেই পরবর্তী যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া ছিল।

আরও জানা যায়, পরবর্তী সময়ে এয়ার কমোডর আব্বাসকে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে পাকিস্তানে পাঠানো হয়। কোর্স শেষ করে দেশে ফিরে তিনি বর্তমানে বিমানবাহিনী সদর দপ্তরের একটি ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির বর্তমানে বাশার এয়ার বেইজে প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন।

সামরিক সূত্রগুলোর দাবি, পুরো অভিযানটি ছিল অত্যন্ত গোপনীয়। শেখ হাসিনাকে গণভবন থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার বিষয়ে মাত্র কয়েকজন বিশ্বস্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছিল। এই মিশনে বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইং ইউনিট অংশ নেয় এবং কুর্মিটোলা এয়ার বেইজের তৎকালীন কমান্ডারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে আগে থেকেই ইঞ্জিন চালু অবস্থায় একটি সি-১৩০ জুলিয়েট সামরিক পরিবহন বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বলে সূত্রগুলোর দাবি। সেই বিমানে শেখ হাসিনার তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও জামাতা অবস্থান করছিলেন।

বিমানঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর শেখ হাসিনা উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। তখন তাকে রাজধানীতে চলমান পরিস্থিতি ও গণভবনের দিকে অগ্রসর হওয়া জনতার বিষয়ে সংক্ষিপ্তভাবে অবহিত করা হয়।

তবে আরেকটি সামরিক সূত্রের দাবি, পরিবারের সদস্যরা বিমানে উঠলেও তারিক আহমেদ সিদ্দিকী নিজে ওই ফ্লাইটে যাননি। পরে তিনি চট্টগ্রাম হয়ে নৌপথে দেশত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তাকে দেশত্যাগে সহায়তার অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎকালীন চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভারতগামী সামরিক পরিবহন বিমানের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর শামীম রেজা এবং কো-পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার মাহফুজ। বিমানটি বিকেল ৬টা ১৫ মিনিটে ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে উড্ডয়নের সময় বিমানের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং প্রচলিত রুট এড়িয়ে বিকল্প পথে যাত্রা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশের পর কলকাতা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। হিন্দন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান বলে জানা গেছে।

ভারতে পৌঁছে দেওয়ার পর একই বিমান ক্রু ও নিরাপত্তা সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসে। পরে এয়ার কমোডর শামীম রেজাকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। আর উইং কমান্ডার মাহফুজ বর্তমানে বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা পরিদপ্তরে কর্মরত রয়েছেন।

একটি সামরিক সূত্রের দাবি, পুরো উদ্ধার অভিযানটি দুটি ধাপে পরিচালিত হয়। প্রথমে হেলিকপ্টারে করে শেখ হাসিনাকে কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে নেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে সামরিক বিমানে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার পুরো সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন বিমানবাহিনীর তৎকালীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সালেহ মান্নাফি।

সরকার পতনের পর আবু আহমেদ মান্নাফি ও তার পরিবারের সদস্যরা সেনানিবাসে আশ্রয় নেন এবং পরে বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত সরকারি আবাসনে অবস্থান করেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এদিকে, বিষয়টির আইনি দিক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর (অব.) এম সরোয়ার হোসেন বলেন, আইন অনুযায়ী পদত্যাগের পরও একজন সাবেক রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ও এসএসএফ সদস্যরা তাদের ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তিনি একই সঙ্গে মত দেন, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের আলোকে সে সময় শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে আইনের হাতে সোপর্দ করার সুযোগও ছিল।

বিষয় : শেখ হাসিনা শেখ রেহানা পলায়ন

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬


হাসিনার দেশত্যাগে কারা ছিলেন, মিলল নতুন তথ্য

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত যাত্রা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা আলোচনা ও জল্পনার মধ্যে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে। বিভিন্ন সাবেক ও বর্তমান সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তাকে নিরাপদে দেশত্যাগে সহায়তা করতে দুই ধাপে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে সরকার কিংবা সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই দিনের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে শেখ হাসিনাকে অল্প সময়ের মধ্যে গণভবন ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর রাজধানীর বাণিজ্যমেলা এলাকার কাছাকাছি বিমানবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার অবতরণ করে। শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে সেটি নির্ধারিত গন্তব্যে রওনা হয়।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হেলিকপ্টারের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর আব্বাস এবং কো-পাইলট ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির। বিকেলের দিকে হেলিকপ্টারটি কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে পৌঁছায়। সেখানে আগে থেকেই পরবর্তী যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া ছিল।

আরও জানা যায়, পরবর্তী সময়ে এয়ার কমোডর আব্বাসকে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে পাকিস্তানে পাঠানো হয়। কোর্স শেষ করে দেশে ফিরে তিনি বর্তমানে বিমানবাহিনী সদর দপ্তরের একটি ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির বর্তমানে বাশার এয়ার বেইজে প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন।

সামরিক সূত্রগুলোর দাবি, পুরো অভিযানটি ছিল অত্যন্ত গোপনীয়। শেখ হাসিনাকে গণভবন থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার বিষয়ে মাত্র কয়েকজন বিশ্বস্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছিল। এই মিশনে বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইং ইউনিট অংশ নেয় এবং কুর্মিটোলা এয়ার বেইজের তৎকালীন কমান্ডারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে আগে থেকেই ইঞ্জিন চালু অবস্থায় একটি সি-১৩০ জুলিয়েট সামরিক পরিবহন বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বলে সূত্রগুলোর দাবি। সেই বিমানে শেখ হাসিনার তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও জামাতা অবস্থান করছিলেন।

বিমানঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর শেখ হাসিনা উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। তখন তাকে রাজধানীতে চলমান পরিস্থিতি ও গণভবনের দিকে অগ্রসর হওয়া জনতার বিষয়ে সংক্ষিপ্তভাবে অবহিত করা হয়।

তবে আরেকটি সামরিক সূত্রের দাবি, পরিবারের সদস্যরা বিমানে উঠলেও তারিক আহমেদ সিদ্দিকী নিজে ওই ফ্লাইটে যাননি। পরে তিনি চট্টগ্রাম হয়ে নৌপথে দেশত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তাকে দেশত্যাগে সহায়তার অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎকালীন চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভারতগামী সামরিক পরিবহন বিমানের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর শামীম রেজা এবং কো-পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার মাহফুজ। বিমানটি বিকেল ৬টা ১৫ মিনিটে ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে উড্ডয়নের সময় বিমানের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং প্রচলিত রুট এড়িয়ে বিকল্প পথে যাত্রা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশের পর কলকাতা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। হিন্দন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান বলে জানা গেছে।

ভারতে পৌঁছে দেওয়ার পর একই বিমান ক্রু ও নিরাপত্তা সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসে। পরে এয়ার কমোডর শামীম রেজাকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। আর উইং কমান্ডার মাহফুজ বর্তমানে বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা পরিদপ্তরে কর্মরত রয়েছেন।

একটি সামরিক সূত্রের দাবি, পুরো উদ্ধার অভিযানটি দুটি ধাপে পরিচালিত হয়। প্রথমে হেলিকপ্টারে করে শেখ হাসিনাকে কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে নেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে সামরিক বিমানে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার পুরো সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন বিমানবাহিনীর তৎকালীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সালেহ মান্নাফি।

সরকার পতনের পর আবু আহমেদ মান্নাফি ও তার পরিবারের সদস্যরা সেনানিবাসে আশ্রয় নেন এবং পরে বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত সরকারি আবাসনে অবস্থান করেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এদিকে, বিষয়টির আইনি দিক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর (অব.) এম সরোয়ার হোসেন বলেন, আইন অনুযায়ী পদত্যাগের পরও একজন সাবেক রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ও এসএসএফ সদস্যরা তাদের ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তিনি একই সঙ্গে মত দেন, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের আলোকে সে সময় শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে আইনের হাতে সোপর্দ করার সুযোগও ছিল।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত