মহাকালের আয়নামহাকালের আয়না

জুলাই-পরবর্তী রাজনীতি: কেন ভাঙছে অভ্যুত্থানের ঐক্য?

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর প্রশ্নে এখনও একমত বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি। তবে রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান, নির্বাচন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিয়ে তাদের অবস্থান ক্রমেই বিপরীত মেরুতে চলে যাচ্ছে; মাঠের রাজনীতিতেও বাড়ছে সংঘাত।

জুলাই-পরবর্তী রাজনীতি: কেন ভাঙছে অভ্যুত্থানের ঐক্য?
ছবি -সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যে রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলো একটি অভিন্ন লক্ষ্যকে সামনে রেখে একত্র হয়েছিল, দুই বছর পর তাদের মধ্যে সেই ঐক্যের জায়গাটি আর আগের মতো নেই। আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর প্রশ্নে এখনও বিস্তৃত রাজনৈতিক সমঝোতা থাকলেও রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান, নির্বাচন এবং অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার—এসব বিষয়ে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং অভ্যুত্থান-সমর্থক অন্যান্য শক্তি ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল অনুসরণ করছে। সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্র সংস্কারের ধরন, নির্বাচনের সময়সূচি এবং সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে। একেকটি দল একেক ধরনের প্রস্তাব সামনে আনায় ঐকমত্যের পরিধি ক্রমেই সংকুচিত হয়েছে।

রাজনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরতে গিয়ে অন্যদের অবদানকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সমাবেশ—সবখানেই এই বাগ্‌যুদ্ধ এখন স্পষ্ট। এতে পারস্পরিক অবিশ্বাস আরও বাড়ছে।

মাঠের রাজনীতিতেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা শুধু রাজনৈতিক সম্পর্ককে তিক্ত করছে না, গণঅভ্যুত্থানের সময় গড়ে ওঠা সহযোগিতার পরিবেশকেও দুর্বল করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থান এবং কিছু জাতীয় ইস্যুতে এখনও বিভিন্ন দলের মধ্যে মিল রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যত তীব্র হচ্ছে, ততই প্রত্যেক দল নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। ফলে একই আন্দোলনের অংশীদারদের মধ্যেও দূরত্ব বাড়ছে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে অভ্যুত্থান-পরবর্তী ঐক্যের জায়গা ক্রমেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার রাজনীতিতে রূপ নিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই বিভক্তি আরও গভীর হবে, নাকি জাতীয় স্বার্থে নতুন কোনো সমঝোতার পথ তৈরি হবে—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন।

বিষয় : জুলাই গণ অভ্যুত্থান ঐক্য

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬


জুলাই-পরবর্তী রাজনীতি: কেন ভাঙছে অভ্যুত্থানের ঐক্য?

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যে রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলো একটি অভিন্ন লক্ষ্যকে সামনে রেখে একত্র হয়েছিল, দুই বছর পর তাদের মধ্যে সেই ঐক্যের জায়গাটি আর আগের মতো নেই। আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর প্রশ্নে এখনও বিস্তৃত রাজনৈতিক সমঝোতা থাকলেও রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান, নির্বাচন এবং অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার—এসব বিষয়ে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং অভ্যুত্থান-সমর্থক অন্যান্য শক্তি ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল অনুসরণ করছে। সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্র সংস্কারের ধরন, নির্বাচনের সময়সূচি এবং সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে। একেকটি দল একেক ধরনের প্রস্তাব সামনে আনায় ঐকমত্যের পরিধি ক্রমেই সংকুচিত হয়েছে।

রাজনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরতে গিয়ে অন্যদের অবদানকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সমাবেশ—সবখানেই এই বাগ্‌যুদ্ধ এখন স্পষ্ট। এতে পারস্পরিক অবিশ্বাস আরও বাড়ছে।

মাঠের রাজনীতিতেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা শুধু রাজনৈতিক সম্পর্ককে তিক্ত করছে না, গণঅভ্যুত্থানের সময় গড়ে ওঠা সহযোগিতার পরিবেশকেও দুর্বল করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থান এবং কিছু জাতীয় ইস্যুতে এখনও বিভিন্ন দলের মধ্যে মিল রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যত তীব্র হচ্ছে, ততই প্রত্যেক দল নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। ফলে একই আন্দোলনের অংশীদারদের মধ্যেও দূরত্ব বাড়ছে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে অভ্যুত্থান-পরবর্তী ঐক্যের জায়গা ক্রমেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার রাজনীতিতে রূপ নিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই বিভক্তি আরও গভীর হবে, নাকি জাতীয় স্বার্থে নতুন কোনো সমঝোতার পথ তৈরি হবে—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত