বিনোদনবিনোদন

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে ‘গজনি’খ্যাত প্রদীপ রাওয়াত

ভারতের জনপ্রিয় চরিত্র অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত আর নেই। ‘লাগান’ ও ‘গজনি’সহ বহু আলোচিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেতা ৭৪ বছর বয়সে ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে মারা গেছেন।

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে ‘গজনি’খ্যাত প্রদীপ রাওয়াত
ছবি -সংগৃহীত

মঙ্গলবার অভিনেতা যশপাল শর্মা ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে প্রদীপ রাওয়াতের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। পরে তার ম্যানেজার সিদ্ধার্থ তিওয়ারি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে জানান, ক্যান্সার থেকে কিছুটা সুস্থ হওয়ার আশা দেখা দিলেও সম্প্রতি রোগটি আবার ফিরে আসে। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তিনি এক মাসেরও বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।


মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ছেলে বিক্রমাদিত্যকে রেখে গেছেন।

প্রদীপ রাওয়াতের অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল—তিনি কখনো প্রচলিত অর্থে নায়ক ছিলেন না, কিন্তু পর্দায় তার উপস্থিতি প্রায়ই নায়কের সমান শক্তিশালী হয়ে উঠত। কঠোর ব্যক্তিত্ব, দৃঢ় দেহভঙ্গি, গভীর কণ্ঠস্বর এবং তীক্ষ্ণ অভিব্যক্তির কারণে তিনি খলচরিত্র, ক্ষমতাবান নেতা, সামরিক কর্মকর্তা কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের ভূমিকায় বারবার দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন।

অনেক দর্শকের কাছে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত ২০০৮ সালের ব্লকবাস্টার ‘গজনি’-তে নির্মম ব্যবসায়ী গজেন্দ্র আহুজা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। ছবিটিতে আমির খানের বিপরীতে তার সংযত অথচ ভয়ংকর উপস্থিতি গল্পের নাটকীয়তাকে আরও গভীর করে তুলেছিল। এর আগে অস্কার মনোনীত ‘লাগান’-এও তিনি স্মরণীয় অভিনয় করেন। তবে তার অভিনয়জীবনের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল আরও আগে, বি. আর. চোপড়ার কালজয়ী টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘মহাভারত’-এ অশ্বত্থামা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। সেই চরিত্রই তাকে ঘরে ঘরে পরিচিত মুখে পরিণত করে।


চার দশকেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে তিনি শুধু হিন্দি চলচ্চিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তেলেগু, তামিল, কন্নড়, মালয়ালাম ও নেপালি চলচ্চিত্রেও সমান স্বাচ্ছন্দ্যে অভিনয় করেছেন। ভাষা ও শিল্পমাধ্যমের ভিন্নতা তার অভিনয়ের শক্তিকে কখনো সীমাবদ্ধ করতে পারেনি। বরং প্রতিটি শিল্পেই তিনি নিজস্ব অভিনয়ভঙ্গি দিয়ে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন।

ভারতীয় সিনেমায় প্রদীপ রাওয়াত এমন এক অভিনেতা, যিনি প্রমাণ করেছেন শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য সব সময় প্রধান চরিত্রে থাকা প্রয়োজন হয় না। পর্দায় সীমিত সময় উপস্থিত থেকেও কীভাবে একটি চরিত্রকে দর্শকের মনে দীর্ঘদিন জীবন্ত রাখা যায়, তার অন্যতম উদাহরণ তিনি।


তার মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গন হারাল অভিজ্ঞ, বহুমাত্রিক এবং নির্ভরযোগ্য এক অভিনেতাকে। তবে ‘গজনি’, ‘লাগান’, ‘মহাভারত’সহ অসংখ্য কাজের মাধ্যমে প্রদীপ রাওয়াত দর্শকের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবেন।

বিষয় : প্রদীপ রাও্যাত গজনী মহাভারত ক্যান্স্যার

কাল মহাকাল

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে ‘গজনি’খ্যাত প্রদীপ রাওয়াত

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মঙ্গলবার অভিনেতা যশপাল শর্মা ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে প্রদীপ রাওয়াতের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। পরে তার ম্যানেজার সিদ্ধার্থ তিওয়ারি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে জানান, ক্যান্সার থেকে কিছুটা সুস্থ হওয়ার আশা দেখা দিলেও সম্প্রতি রোগটি আবার ফিরে আসে। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তিনি এক মাসেরও বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।


মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ছেলে বিক্রমাদিত্যকে রেখে গেছেন।

প্রদীপ রাওয়াতের অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল—তিনি কখনো প্রচলিত অর্থে নায়ক ছিলেন না, কিন্তু পর্দায় তার উপস্থিতি প্রায়ই নায়কের সমান শক্তিশালী হয়ে উঠত। কঠোর ব্যক্তিত্ব, দৃঢ় দেহভঙ্গি, গভীর কণ্ঠস্বর এবং তীক্ষ্ণ অভিব্যক্তির কারণে তিনি খলচরিত্র, ক্ষমতাবান নেতা, সামরিক কর্মকর্তা কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের ভূমিকায় বারবার দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন।

অনেক দর্শকের কাছে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত ২০০৮ সালের ব্লকবাস্টার ‘গজনি’-তে নির্মম ব্যবসায়ী গজেন্দ্র আহুজা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। ছবিটিতে আমির খানের বিপরীতে তার সংযত অথচ ভয়ংকর উপস্থিতি গল্পের নাটকীয়তাকে আরও গভীর করে তুলেছিল। এর আগে অস্কার মনোনীত ‘লাগান’-এও তিনি স্মরণীয় অভিনয় করেন। তবে তার অভিনয়জীবনের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল আরও আগে, বি. আর. চোপড়ার কালজয়ী টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘মহাভারত’-এ অশ্বত্থামা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। সেই চরিত্রই তাকে ঘরে ঘরে পরিচিত মুখে পরিণত করে।


চার দশকেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে তিনি শুধু হিন্দি চলচ্চিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তেলেগু, তামিল, কন্নড়, মালয়ালাম ও নেপালি চলচ্চিত্রেও সমান স্বাচ্ছন্দ্যে অভিনয় করেছেন। ভাষা ও শিল্পমাধ্যমের ভিন্নতা তার অভিনয়ের শক্তিকে কখনো সীমাবদ্ধ করতে পারেনি। বরং প্রতিটি শিল্পেই তিনি নিজস্ব অভিনয়ভঙ্গি দিয়ে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন।

ভারতীয় সিনেমায় প্রদীপ রাওয়াত এমন এক অভিনেতা, যিনি প্রমাণ করেছেন শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য সব সময় প্রধান চরিত্রে থাকা প্রয়োজন হয় না। পর্দায় সীমিত সময় উপস্থিত থেকেও কীভাবে একটি চরিত্রকে দর্শকের মনে দীর্ঘদিন জীবন্ত রাখা যায়, তার অন্যতম উদাহরণ তিনি।


তার মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গন হারাল অভিজ্ঞ, বহুমাত্রিক এবং নির্ভরযোগ্য এক অভিনেতাকে। তবে ‘গজনি’, ‘লাগান’, ‘মহাভারত’সহ অসংখ্য কাজের মাধ্যমে প্রদীপ রাওয়াত দর্শকের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবেন।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত