বাংলাদেশবাংলাদেশ

জুলাই জাদুঘর গণতন্ত্রের সংগ্রামের স্মারক: তারেক রহমান

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জাদুঘর গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরবে। বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে জাদুঘরটি।

সুবাস সোম
সুবাস সোম
জুলাই জাদুঘর গণতন্ত্রের সংগ্রামের স্মারক: তারেক রহমান
ছবি -সংগৃহীত

রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই জাদুঘর শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং অতীতের দমন-পীড়নের ইতিহাস সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তাঁর ভাষায়, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে ফ্যাসিবাদের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে অসংখ্য মানুষ গুম, খুন, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বহু মানুষ রাজনৈতিক হয়রানি ও মিথ্যা মামলার কারণে বছরের পর বছর স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, বাংলাদেশ আর কখনো কোনো পরাশক্তির প্রভাবাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল সেই স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলন। তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের বীরদের মতোই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ দেওয়া শহীদদের অবদানও জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই বহু ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু নিহত হন এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। সেখানে সংরক্ষিত আলোকচিত্র, দলিল, স্মারক ও গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন নিদর্শন পরিদর্শন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেন। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ ও বিজয়ের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, উদ্বোধনের দিন জাদুঘরটি বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। আগামী ৬ আগস্ট থেকে সাধারণ দর্শনার্থীরা এটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।

জাদুঘরে প্রবেশের জন্য অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। ওই দিন গণভবনে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সেই সরকারের উদ্যোগেই গণভবনে সংরক্ষিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্মারক ও নিদর্শন নিয়ে এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিষয় : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই স্মৃতি জাদুঘর

কাল মহাকাল

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


জুলাই জাদুঘর গণতন্ত্রের সংগ্রামের স্মারক: তারেক রহমান

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই জাদুঘর শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং অতীতের দমন-পীড়নের ইতিহাস সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তাঁর ভাষায়, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে ফ্যাসিবাদের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে অসংখ্য মানুষ গুম, খুন, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বহু মানুষ রাজনৈতিক হয়রানি ও মিথ্যা মামলার কারণে বছরের পর বছর স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, বাংলাদেশ আর কখনো কোনো পরাশক্তির প্রভাবাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল সেই স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলন। তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের বীরদের মতোই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ দেওয়া শহীদদের অবদানও জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই বহু ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু নিহত হন এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। সেখানে সংরক্ষিত আলোকচিত্র, দলিল, স্মারক ও গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন নিদর্শন পরিদর্শন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেন। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ ও বিজয়ের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, উদ্বোধনের দিন জাদুঘরটি বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। আগামী ৬ আগস্ট থেকে সাধারণ দর্শনার্থীরা এটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।

জাদুঘরে প্রবেশের জন্য অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। ওই দিন গণভবনে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সেই সরকারের উদ্যোগেই গণভবনে সংরক্ষিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্মারক ও নিদর্শন নিয়ে এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত