সম্পাদকীয়
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে শেখ হাসিনাকে নিয়ে। তিনি কি আবার দেশে ফিরবেন? ফিরলে কী হবে? আর আওয়ামী লীগ কি আবার আগের মতো রাজনীতির মাঠে দাঁড়াতে পারবে? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
২০২৪ এর ৫ আগস্ট ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। এরপর বিভিন্ন সময়ে তার দেশে ফেরার খবর বা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টি এত সহজ করে ভাবতে চান না। কারণ দেশে ফিরলে তাকে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিদ্যমান মামলার রায়সহ নানা জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানও একই ধরনের মত দিয়েছেন।
তবে শুধু শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নয়, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন রয়েছে। অনেকের মতে, দলটি এখন তার সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে।
আওয়ামীলীগের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো তারা এখনো প্রকাশ্যে নিজেদের কৃতকর্মের ভুল নিয়ে কথা বলেনি। ক্ষমতায় থাকাকালে যেসব ঘটনার জন্য মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছিল, সেগুলো নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে দুঃখ প্রকাশ বা আত্মসমালোচনা দেখা যায়নি। ফলে সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশের ক্ষোভ এখনো রয়ে গেছে।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো নেতৃত্ব। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী এখনো শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বাইরে নতুন কোনো নেতৃত্ব কল্পনা করতে পারছেন না। কিন্তু একটি বড় রাজনৈতিক দলের টিকে থাকতে হলে বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
আওয়ামী লীগ এখন স্পষ্টতই নিজেদের রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দল হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। কিন্তু শুধু নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত বললেই মানুষের সমর্থন ফিরে পাওয়া যাবে না। অতীতের বিতর্কিত ঘটনাগুলো নিয়ে জনগণের প্রশ্নের উত্তরও দিতে হবে। বিশেষ করে জুলাইয়ের ঘটনাগুলো নিয়ে মানুষের মধ্যে যে প্রশ্ন রয়েছে, তার জবাব না দিলে আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে।
আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অনেকেই জামায়াতে ইসলামীর অতীত নিষেধাজ্ঞার তুলনা করেন। তবে দুটি ঘটনার পটভূমি এক নয়। আওয়ামীলীগ গণঅভ্যুত্থানে বিতাড়িত, গণহত্যার দায় কাঁধে। তাই একইভাবে দুই দলকে বিচার করাও ঠিক হবে না।
এদিকে বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রকাশ্যে বিভিন্ন বক্তব্য দিলেও, বাস্তবে তারা রাজনৈতিক পরিস্থিতি বুঝে নিজেদের কৌশল ঠিক করছে।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ শুধু শেখ হাসিনার দেশে ফেরা বা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে না। তার চেয়েও বড় বিষয় হলো—দলটি কি নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নেবে, নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলবে এবং মানুষের হারানো বিশ্বাস আবার ফিরিয়ে আনতে পারবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই ঠিক করে দেবে আগামী দিনে আওয়ামী লীগের রাজনীতির পথ কোন দিকে যাবে।
2.png)
মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে শেখ হাসিনাকে নিয়ে। তিনি কি আবার দেশে ফিরবেন? ফিরলে কী হবে? আর আওয়ামী লীগ কি আবার আগের মতো রাজনীতির মাঠে দাঁড়াতে পারবে? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
২০২৪ এর ৫ আগস্ট ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। এরপর বিভিন্ন সময়ে তার দেশে ফেরার খবর বা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টি এত সহজ করে ভাবতে চান না। কারণ দেশে ফিরলে তাকে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিদ্যমান মামলার রায়সহ নানা জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানও একই ধরনের মত দিয়েছেন।
তবে শুধু শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নয়, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন রয়েছে। অনেকের মতে, দলটি এখন তার সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে।
আওয়ামীলীগের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো তারা এখনো প্রকাশ্যে নিজেদের কৃতকর্মের ভুল নিয়ে কথা বলেনি। ক্ষমতায় থাকাকালে যেসব ঘটনার জন্য মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছিল, সেগুলো নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে দুঃখ প্রকাশ বা আত্মসমালোচনা দেখা যায়নি। ফলে সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশের ক্ষোভ এখনো রয়ে গেছে।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো নেতৃত্ব। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী এখনো শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বাইরে নতুন কোনো নেতৃত্ব কল্পনা করতে পারছেন না। কিন্তু একটি বড় রাজনৈতিক দলের টিকে থাকতে হলে বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
আওয়ামী লীগ এখন স্পষ্টতই নিজেদের রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দল হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। কিন্তু শুধু নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত বললেই মানুষের সমর্থন ফিরে পাওয়া যাবে না। অতীতের বিতর্কিত ঘটনাগুলো নিয়ে জনগণের প্রশ্নের উত্তরও দিতে হবে। বিশেষ করে জুলাইয়ের ঘটনাগুলো নিয়ে মানুষের মধ্যে যে প্রশ্ন রয়েছে, তার জবাব না দিলে আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে।
আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অনেকেই জামায়াতে ইসলামীর অতীত নিষেধাজ্ঞার তুলনা করেন। তবে দুটি ঘটনার পটভূমি এক নয়। আওয়ামীলীগ গণঅভ্যুত্থানে বিতাড়িত, গণহত্যার দায় কাঁধে। তাই একইভাবে দুই দলকে বিচার করাও ঠিক হবে না।
এদিকে বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রকাশ্যে বিভিন্ন বক্তব্য দিলেও, বাস্তবে তারা রাজনৈতিক পরিস্থিতি বুঝে নিজেদের কৌশল ঠিক করছে।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ শুধু শেখ হাসিনার দেশে ফেরা বা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে না। তার চেয়েও বড় বিষয় হলো—দলটি কি নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নেবে, নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলবে এবং মানুষের হারানো বিশ্বাস আবার ফিরিয়ে আনতে পারবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই ঠিক করে দেবে আগামী দিনে আওয়ামী লীগের রাজনীতির পথ কোন দিকে যাবে।
2.png)